০৫:৫৭ পি.এম
স্বল্পোন্নত (এলডিসি) দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পরেও যুক্তরাজ্য ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা বজায় রাখবে। উত্তরণের পর প্রথম তিন বছরের জন্য বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা লাভ করবে। রবিবার (৪ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজের আয়োজনে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ বক্তব্য দেয়ার সময় এই তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
সারাহ কুক উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্যের ‘ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম’-এর আওতায় বর্তমানে বাংলাদেশের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর তিন বছরের একটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে এই সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে, যার মধ্যে তৈরি পোশাকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের ধারাবাহিকতা নিয়ে এই বক্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তৈরি পোশাক বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত হওয়ায়, যুক্তরাজ্যের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত থাকা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক এখন আর শুধুমাত্র উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি একটি আধুনিক কৌশলগত অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে, যা বিশ্বে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন ঘটায়।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যুক্তরাজ্য এই উত্তরণে সহযোগিতা করতে চায়, যা হবে নির্বিঘ্ন ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই।
ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে সারাহ কুক বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে যুক্তরাজ্য নিন্দা জানায় এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। তবে তিনি বলেন, ওই হামলা গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দিতে পারে না। এসব এলাকায় অনেক বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি জানান, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান কার্যকর রাখতে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে। অবৈধ বসতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি জাতিসংঘে ন্যায়সংগত ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দক্ষিণ আফ্রিকায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশিসহ ৭ নিহত
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমার বিষয়ে নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ ও জবাবদিহির জন্য কাজ করছে। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান হলো পরিস্থিতি অনুকূল হলে তাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া।
এ ছাড়া জলবায়ু অর্থায়ন বাড়ানো এবং উচ্চমানের কার্বন বাজার গড়ে তুলতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার কথাও জানান সারাহ কুক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন