ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক


বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বৈদেশিক ঋণে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন নির্দেশনা প্রদান করেছে বিশেষায়িত অঞ্চলে স্থাপিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে। এখন থেকে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষে (সাবেক বিডা) নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের বৈদেশিক ঋণ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে না।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করেছে। সার্কুলারে দেশের সব অনুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংককে নির্দেশনাটি জানানো হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ-১-এর ৩২ নম্বর সার্কুলারের পার্ট-বির ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়ার বিধান ছিল।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সম্ভাবনা

নতুন নির্দেশনায় উক্ত বিধান সংশোধন করে বলা হয়েছে, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষে নিবন্ধিত নয় এমন বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এর মানে হলো, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষে নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, এই সংশোধনের প্রেক্ষিতে সাবেক অর্থনৈতিক অঞ্চলের (ইজেড) কোম্পানিগুলোর বৈদেশিক ঋণ প্রস্তাব ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের বৈদেশিক ঋণ ও সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট সংক্রান্ত যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে জমা দিতে হবে। তবে ২ সেপ্টেম্বর জারি করা ৩২ নম্বর সার্কুলারের অন্যান্য বিধান অপরিবর্তিত থাকবে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করেছে।

নতুন নির্দেশনার ফলে বিশেষায়িত অঞ্চলে বিনিয়োগকারী এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষে নিবন্ধিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক অর্থায়ন গ্রহণের প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ হবে। অন্যদিকে, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষে নিবন্ধিত নয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা বহাল থাকবে।

আরও পড়ুন: জনমত জরিপে নেতানিয়াহুর চেয়ে আরও এগিয়ে গাডি আইজেনকট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ‘একা পেয়ে’ আনারুলের কাণ্ড, আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে ‘একা পেয়ে’ আনারুলের কাণ্ড, আটক

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে রাতের অন্ধকারে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে এক বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে। ওই যুবককে শেষ পর্যন্ত হল এলাকার নিরাপত্তাকর্মীরা আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করেন। পরে তাকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত যুবকের নাম আনারুল মিয়া (২৭)। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতে গাড়ি না পেলে অনেক শিক্ষার্থীকে হেঁটে হলে ফিরতে হয়। এতে নারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, টিউশন শেষে হেঁটে হলে ফেরার সময় ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে মোটরসাইকেল থামিয়ে তার কাছে মোবাইল নম্বর চান এবং বন্ধুত্বের প্রস্তাব দেন। তখন তিনি বলেন, ‘আমি তো আপনাকে চিনি না।’

পরে গোলচত্বর পেরিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের হলের দিকে যাওয়ার সময় ওই যুবক আবারও শিস দেন। তিনি বিভিন্ন অশালীন অঙ্গভঙ্গি ও মন্তব্য করে তাকে অনুসরণ করতে থাকেন।

ভুক্তভোগী বলেন, তখন আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম। পরে ফোন করে বিষয়টি বন্ধুদের জানাই। এরপর হল এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের বিষয়টি জানালে তারা ওই যুবককে আটক করে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান।

ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ব্যাচমেট এহসান ফেরদৌস মাহিন বলেন, রাত ১১টার দিকে এক বন্ধু আমাকে ফোন দেন। পরে কল ব্যাক করলে তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, একজন মোটরসাইকেল নিয়ে তাকে উত্ত্যক্ত করছেন। আমরা তখন যারা ছিলাম, দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে যাই। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি হলের নিরাপত্তাকর্মীরা ওই যুবককে ধরে রেখেছেন। পরে তাকে প্রক্টরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী শোয়াইবুর রহমান জানান, আমরা টিচার্স কোয়ার্টারের সামনে তাকে আটকাই। পরে আরও অনেক শিক্ষার্থী সেখানে আসেন। এরপর তাকে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে দিয়েছি। দেশের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। তার নিরাপত্তার বিষয়টিও আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জ্যোতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আল্লাহর কাছে বিচার দেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


‘জ্যোতি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, আল্লাহর কাছে বিচার দেই’

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নিগার সুলতান জ্যোতির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ক্রিকেটার। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার মন্তব্য করেছেন, জ্যোতির আচরণ ‘স্বৈরাচারী’। তিনি বলেন, “সে তো অধিনায়ক না, স্বৈরাচার। তার কথার বাইরে গেলে বা বিপরীত মত দিলেই রোষানলে পড়তে হয়।”

অন্য এক ক্রিকেটারের অভিযোগ, জ্যোতির অতিরিক্ত চিৎকার ও আচরণের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, “এক ম্যাচে বল আমার কাছে আসার আগেই চিল্লানো শুরু করেন অধিনায়ক। এরপর ঘাবড়ে গিয়ে মিস করি আমি। তখন উনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিলেন। শুধু তাই নয়, মাঠের বাইরেও উনি যেভাবে মানসিক নিপীড়ন করেন, আমি মাঝেমাঝে আল্লাহর কাছে বিচার দিই। বলি, অভিশাপ লাগে যেন।”

অভিযোগ রয়েছে, জ্যোতির কঠোর আচরণে দলের কয়েকজন ক্রিকেটার এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন যে তারা স্রষ্টার কাছে তার বিরুদ্ধে মোনাজাত করে অভিশাপও চেয়েছেন।

জ্যোতি ২০২১ সালে বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অভিযোগকারীদের মতে, দায়িত্ব পাওয়ার এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই তিনি নিজের প্রভাববলয় তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেন। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের সরিয়ে একের পর এক নতুন মুখকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে।

এরপর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ক্রমেই বিষাক্ত হয়ে ওঠে, এমন দাবি করেছেন দল সংশ্লিষ্টরা। এমনকি মারামারি ও গালাগালির ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা নিয়ে বিচার-সালিশ পর্যন্ত হয়েছে বলেও জানা যায়।

গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে স্পিনার জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনার বাদ পড়া নিয়েও আলোচনা কম হয়নি। দল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র তখন দাবি করেছিলেন, অফ-স্পিনার সুমনাকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না রাখার পেছনে জ্যোতির ভূমিকা ছিল।

পারফরম্যান্স ও স্মার্টনেসের কারণে সুমনা দীর্ঘদিন ধরেই নজর কাড়ছিলেন। অভিযোগকারীদের মতে, তাকে নিজের জন্য সম্ভাব্য হুমকি মনে করেই দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে দলের এক তরুণ অলরাউন্ডারকে জ্যোতি হুমকি হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের দাবি, ওই ক্রিকেটারের সঙ্গে অধিনায়কের সাম্প্রতিক সময়ে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

এর আগে জ্যোতির একচ্ছত্র আধিপত্য ও মানসিক চাপের মুখে নিজের আত্মসম্মান রক্ষায় পেসার জাহানারা আলম একপর্যায়ে দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন, এমন দাবিও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় দলের সাবেক এক অধিনায়ক বলেছেন, “মাঠের অধিনায়কত্ব আর বাইরের অধিনায়কত্ব আবার ভিন্ন। এখানে ওর কিছু জিনিস আছে, যেগুলো না করলেও পারতো। সেই জিনিসটা হচ্ছে, অধিনায়ক হয়েই তখনকার নির্বাচক কাম ম্যানেজার মঞ্জু (বর্তমানে নিষিদ্ধ মঞ্জুরুল ইসলাম) ভাইকে নিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করা। এই জিনিসটা আসলে আমার মতে ও ঠিক করেনি।”

তিনি আরও বলেন, “একটানা সিনিয়রদের সবাইকে বসিয়ে দিয়ে জুনিয়র যারা ওর কথা শুনছে বা ওর কথা মান্য করছে, সেই ধরনের জুনিয়রদের নিয়েছে। এমনও আছে, যারা অভিষেক পর্যন্ত করেনি, সেই নতুনদেরও ওর কথা অনুযায়ী দলে ঢুকিয়েছে। দল তো এভাবে করে কোনোদিন ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারে না। একটা সময় এর প্রতিফলন ঘটবেই। এখন যেটা ঘটছে, সেটাই তার প্রতিফলন। সে যেভাবে চেয়েছিল, সবাইকে ভয় দেখিয়ে চলবে বা সবাই ওর কথা শুনবে, জিনিসগুলো সেরকমই হচ্ছে; কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সটা আর পাওয়া যাচ্ছে না। সেই আগের ক্রিকেটটা আর নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মোহাম্মদপুরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থান থেকে উদ্ধার হলো দেশি শুটারগান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


মোহাম্মদপুরে বুদ্ধিজীবী কবরস্থান থেকে উদ্ধার হলো দেশি শুটারগান

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা থেকে একটি দেশি শুটারগান উদ্ধার করেছে র‌্যাব-২।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব-২-এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান তাপস এ তথ্য জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, র‌্যাব-২ নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, রায়েরবাজার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকায় একটি শুটারগান পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এরপর, তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি অভিযানিক দল সেখানে বিশেষ তল্লাশি পরিচালনা করে। এই তল্লাশির সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা শুটারগানটি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেমের নৃশংস পরিণতি: প্রেমিক ও তার মায়ের হাতে প্রেমিকাকে দ্বিখণ্ডিত করা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


প্রেমের নৃশংস পরিণতি: প্রেমিক ও তার মায়ের হাতে প্রেমিকাকে দ্বিখণ্ডিত করা

গাজীপুরের জয়দেবপুরে খালের পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, পাঁচ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ে নিয়ে বিরোধ ও পূর্বের ক্ষোভের জেরে ডলি আক্তার (৩০) নামে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পরিচয় গোপন ও লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তার লাশ কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করে একাংশ সুটকেসে এবং অন্য অংশ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।

এই ঘটনার সাথে জড়িত হিসেবে নিহতের প্রেমিক মিশন ইসলাম (২২), তার মা বানু আক্তার (৪৩) এবং সহযোগী মিজানুর রহমান মিল্টনকে (২৪) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গাজীপুর মহানগরের রাজদীঘির উত্তর পাড়ে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার।

পুলিশ জানায়, ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় একা থাকতেন। বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকার হামজা অ্যাপারেলস লিমিটেডের উত্তর পাশে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পশ্চিম পাশের একটি খালে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুটকেস ও বস্তার ভেতর থেকে এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে।

ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিম ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। তথ্যপ্রযুক্তি, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে অনুসন্ধান শুরু হয়।

তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনাও উদ্ঘাটন করে পিবিআই।

৫ বছরের প্রেম, বিয়ে নিয়ে বিরোধ

পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাতে জানা গেছে, ডলি আক্তারের সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একই গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে তাদের পরিচয় হয়। ডলি নিয়মিত মিশনের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।

পুলিশের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ডলি মিশনের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে রাতের খাবার খান। পরে বানু আক্তার পাশের কক্ষে ঘুমাতে গেলে মিশন ও ডলি একই কক্ষে থাকেন।

পিবিআই জানায়, পূর্বের বিভিন্ন বিষয় ও বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে মিশনের মধ্যে ডলির প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়। একপর্যায়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন মিশন।

যেভাবে হত্যা

আসামির জবানবন্দির বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, ওই রাতে ডলিকে ঘুমের ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ানো হয়। তিনি ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক ২টার দিকে মিশন লুঙ্গি দিয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে এবং পরে বালিশ দিয়ে মুখ চেপে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।

এরপর লাশটি চৌকির নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। পরদিন সকালে ঘর পরিষ্কার করার সময় বানু আক্তার চৌকির নিচে ডলির লাশ দেখতে পান। পরে লাশ গুমের পরিকল্পনা করা হয়।

মিশন একটি সুটকেস সংগ্রহ করেন। কিন্তু পুরো লাশ সুটকেসে না ধরায় ব্লেড ও বঁটি-দা দিয়ে কোমর থেকে লাশ দ্বিখণ্ডিত করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। লাশের একাংশ সুটকেসে এবং অপরাংশ পলিথিনে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা হয়।

এরপর মিশন তার বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনকে বাসা পরিবর্তনের কথা বলে ডেকে আনেন। মিল্টন এসে সুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় তুলে দিতে সহযোগিতা করেন।

পিবিআই জানায়, পরে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও মিল্টন মিলে সুটকেস ও বস্তা নিয়ে প্রথমে রাজেন্দ্রপুরে যান। সেখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় ভবানীপুর এলাকায় যান তারা।

পরে ভবানীপুর ব্রিজ এলাকার কাছ থেকে মিশন ও মিল্টন সুটকেস ও বস্তা খালের পানিতে ফেলে দেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় মিল্টনের হাতে রক্ত লাগলে সুটকেস ও বস্তার ভেতরে কী রয়েছে জানতে চান তিনি। একপর্যায়ে মিশন তাকে জানান, সেখানে তার প্রেমিকা ডলি আক্তারের লাশ রয়েছে। এরপর তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যান।

নিহতের বড় ভাই সোহেল (৪৪) গত ১২ সেপ্টেম্বর জয়দেবপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও লাশ গুমের অভিযোগে মামলা করেন।

মামলাটি তদন্তে নিয়ে পিবিআই দ্রুত সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে গাজীপুর মহানগরের সদর মেট্রো থানাধীন বাহাদুরপুর তুলসীভিটা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মিজানুর রহমান মিল্টনকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক একটি ভাড়া বাসা থেকে মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পিবিআই জানায়, আসামিদের দেওয়া তথ্য ও তাদের দেখানো মতে মিশনের ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি বটি দা, লাশ প্যাকেজিংয়ে ব্যবহৃত স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, নিহত ডলি আক্তারের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যবহৃত বাটন মোবাইল ফোন ও এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া সুটকেস কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে।

পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, লাশটি অজ্ঞাত ও অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় শুরুতে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন ছিল। তবে পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে মৃতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদেরও আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, তদন্তে পাওয়া আলামত, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আসামিদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে হত্যাকাণ্ডের ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার করা আলামত ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%