০২:০৪ এম
আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নেওয়া তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের উদ্দেশ্যে আইআইইউসি প্রধান ফটক এলাকায় বসানো অস্থায়ী গতিরোধক (রাম্বল স্ট্রিপ) তীব্র যানজট সৃষ্টি করায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ তা অপসারণ করেছে। তবে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ করার জন্য স্থায়ী ও বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সওজের কেন্দ্রীয় ‘রোড সেফটি উইং’-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল সরেজমিনে পরিদর্শনে আসছে।
গত ৩ নভেম্বর সীতাকুণ্ডের কুমিরায় আইআইইউসির প্রধান ফটকের সামনে একটি দ্রুতগতির লরির ধাক্কায় মিনিবাস উল্টে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত। এই দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। দুর্ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপদ সড়ক, ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি ও অবৈধ পার্কিং বন্ধের দাবিতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রায় সাত ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাৎক্ষণিক গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে রাম্বল স্ট্রিপ বসানো হয়। কিন্তু দেশের প্রধান এই অর্থনৈতিক ধমনীতে দূরপাল্লার ভারী কনটেইনারবাহী লরি ও ট্রেইলার চলাচলের কারণে এসব গতিরোধকের মুখে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এর ফলে, যানজট এড়াতে অনেক চালক উল্টো পথে যান চালানোর ফলে সড়ক নিরাপত্তার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: হবিগঞ্জের মাধবপুরে গরু চুরির অভিযোগে চার বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ
পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে সওজ কর্তৃপক্ষ আইআইইউসি গেটসংলগ্ন এলাকা থেকে রাম্বল স্ট্রিপগুলো অপসারণের কাজ শুরু করে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জরুরি ভিত্তিতে রাম্বল স্ট্রিপগুলো বসানো হয়েছিল। তবে জাতীয় মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের ধরন বিবেচনায় এটি দীর্ঘমেয়াদি বা বিজ্ঞানসম্মত সমাধান ছিল না। এর ফলে যানজটের পাশাপাশি চালকদের মধ্যে উল্টো পথে চলার মতো আইন অমান্যের প্রবণতা তৈরি হচ্ছিল।
তিনি আরও জানান, অস্থায়ী গতিরোধক অপসারণের স্থানে দৃশ্যমান থার্মোপ্লাস্টিক জেব্রা ক্রসিং এবং 'ধীরে চলুন' নির্দেশক প্রতিফলক সাইনবোর্ড বসানো হচ্ছে। স্থায়ী সমাধানের জন্য ঢাকা থেকে সওজের কেন্দ্রীয় রোড সেফটি উইং ও অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে গঠিত বিশেষজ্ঞ দল দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করবে। এই দলটি মহাসড়কের জ্যামিতিক নকশা, যানবাহনের চাপ ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সময়সূচি কারিগরিভাবে বিশ্লেষণ করে নকশা তৈরি করবে।
সওজের এই কর্মকর্তা মহাসড়কের অন্যান্য কাঠামোগত ঝুঁকির কথা তুলে ধরে বলেন, শুভপুর সেতু থেকে সীতাকুণ্ড অংশ পর্যন্ত বিদ্যমান ফুটওভারব্রিজ ব্যবহারে পথচারীদের অনিচ্ছা এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানা কর্তৃক অবৈধভাবে মহাসড়কের ডিভাইডার কেটে ফেলাও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সওজ ইতিমধ্যে এসব অবৈধ ডিভাইডার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে।
আরও পড়ুন: প্লাস্টিক দূষণ বন্ধের এখনই সময়: বরিশালে বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আলোচনা
এদিকে, আইআইইউসি গেট এলাকায় অবৈধ পার্কিং নিয়ন্ত্রণে ৪ নভেম্বর বিআরটিএর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১৫টি মামলায় ৫৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি অনুযায়ী একটি আধুনিক ফুটওভারব্রিজ দ্রুত নির্মাণের আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) প্রেরণ করেছেন।
সড়ক পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো বড় দুর্ঘটনার পর কেবল সাময়িক গতিরোধক বা বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়। কার্যকর অবকাঠামো নির্মাণ, গতি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং পুরোপুরি বন্ধ এবং নিয়মিত নজরদারির সমন্বিত পদক্ষেপই কেবল এই ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টটিকে নিরাপদ করতে পারে। বিশেষজ্ঞ দলের পরিদর্শন শেষে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত এই পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই এখন নজর স্থানীয় বাসিন্দা ও আইআইইউসি শিক্ষার্থীদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন