রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৫৬ পি.এম
ফরাসি উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে বর্তমানে জার্মান জায়ান্ট এফসি বায়ার্ন মিউনিখের অন্যতম প্রধান তারকা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এবং নতুন আক্রমণের চাবিকাঠি হয়ে উঠেছেন। ক্লাবে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি বায়ার্ন সমর্থকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন এবং ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতেই দলের নতুন "নায়ক" হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
স্প্যানিশ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম মার্কার রিপোর্ট অনুযায়ী, গত বছর বায়ার্নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পায় এই ফরাসি উইঙ্গার। চলতি মৌসুমের শুরুতে তার দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপ জুড়ে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ক্রমবর্ধমান আলোড়ন সৃষ্টি করছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ পুনরায় শুরু হওয়ায়, অলিসে এই প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান তারকা হয়ে ওঠার সক্ষমতা ক্রমশই প্রদর্শন করছেন।
মাত্র ২৪ বছর বয়সে বায়ার্নের এই আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা হয়ে উঠছেন। প্রাথমিক লক্ষণগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তিনি নিজের খেলাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত।
গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর মাঠে ফিরে প্রভাব ফেলতে একদমই সময় নেননি ওলিসে। ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার সুপারকাপে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের নতুন মৌসুমের প্রথম ট্রফি জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ম্যাচটিতে ওলিসে নিজে একটি গোল করার পাশাপাশি অন্য একটি গোলে সহায়তা (অ্যাসিস্ট) করেন এবং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। তার এই খেলা ভক্তদের মনে করিয়ে দিয়েছে, ঠিক কয়েক মাস আগেই কেন তিনি বায়ার্নের ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’ বা মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বুন্দেসলিগায় ভিএফবি স্টুটগার্টের বিপক্ষে বায়ার্নের ৫-১ ব্যবধানের বিশাল জয়েও গোল করেন তিনি। তার বর্তমান ফর্ম এতটাই বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে যে, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য তাকে আটকে রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। আগস্ট মাসে মাত্র দুটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেই ওলিসে দুটি গোল এবং একটি অ্যাসিস্টের দেখা পান। যা বায়ার্নকে প্রত্যাশামতোই জয়ের মধ্য দিয়ে মৌসুম শুরু করতে সাহায্য করেছে। তাই মিউনিখের সমর্থকরা এখন তাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী।
আরো পড়ুন
শ্রীলঙ্কার ‘স্পিন ফাঁদ’ পেরিয়ে ট্রফি পুনরুদ্ধারে মরিয়া ভারত
মিউনিখে যোগ দেওয়ার পর দ্রুততম সময়ে মানিয়ে নিয়ে ওলিসে ‘আগস্ট মাসে’র সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। ক্লাবের সমর্থকদের ভোটে ৪৩.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে এই স্বীকৃতি লাভ করেন এই ফরাসি উইঙ্গার। তিনি সতীর্থ ন্যাথানিয়েল ব্রাউন এবং লুইস দিয়াজকে পেছনে ফেলে এই পুরস্কার জেতেন। এর আগে তিনি ক্লাবের 'গোল অব দ্য মান্থ' পুরস্কারও নিজের করে নেন।
আরো পড়ুন
আলভারেজকে নিয়ে আতলেতিকোর অভিযোগের জবাব দিলেন বার্সার ডেকো
বিশ্বমানের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের সাধারণত গোল এবং অ্যাসিস্ট দিয়েই বিচার করা হয়। ওলিসে ক্রমান্বয়ে অত্যন্ত ধারাবাহিকতার সাথে এই দুটিই করে যাচ্ছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগের মতো জায়গায় এই ধরনের উন্নতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নকআউট পর্বের ম্যাচগুলোর ভাগ্য প্রায়শই হাতেগোনা কয়েকটি মুহূর্তের ওপর নির্ভর করে।
মিউনিখে ইতিমধ্যেই ইউরোপের অন্যতম সেরা স্কোয়াড রয়েছে। সেই সমীকরণে সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী এবং ফর্মে থাকা একজন ওলিসের সংযোজন প্রতিপক্ষের জন্য তাদের বিপদের মাত্রাকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি স্লিপার নাইট কোচে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে আড়াইটার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার হোটেল নুরজাহানের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কক্সবাজার থেকে নওগাঁগামী ‘শাহ ফাতিহা স্লিপার কোচ’ পরিবহণের বাসটি রাত আড়াইটার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার হোটেল নুরজাহানের সামনে যাত্রাবিরতি করে। কিছুক্ষণ পরই বাসটির মধ্যে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, "খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে, চাহিদা অনুযায়ী সার না পাওয়ার কারণে স্থানীয় কৃষকেরা ডিলার পয়েন্ট ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। রোববার সকালে উপজেলার জামাল ইউনিয়নের দুধরাজপুর গ্রামে, ডিলার শহিদুল ইসলামের বিক্রয়কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে। পরে উপজেলা কৃষি প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে গুদামে পাওয়া সার তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা অভিযোগ করেন, রোববার সকালে সার বিক্রির কথা বলা হলেও ডিলার পয়েন্টে পৌঁছানোর পর জানানো হয়, শুক্র ও শনিবারেই সার বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা তালাবদ্ধ গুদাম খুলে ভেতরে আরও ৬০ বস্তা সার দেখতে পান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৬৪ টন চাহিদার বিপরীতে ৫৮ টন (প্রায় ১ হাজার ২০০ বস্তা) সার উত্তোলন করেছিলেন ডিলার শহিদুল ইসলাম। কিন্তু বিতরণ রেজিস্টারে দেখা যায়, গ্রাহকদের নামের পাশে মাত্র ৫ শতাংশ ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা ৯ জন কৃষকের নম্বরে যোগাযোগ করলে কেবল একজন সার পাওয়ার কথা জানান এবং বাকি ৮টি নম্বরই বন্ধ পাওয়া যায়। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে ডিলার শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, উত্তোলিত সারের পুরোটাই নিয়ম মেনে বিতরণ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আরাফাত জামিল জানান, গোডাউনে থাকা সার কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত সার আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি সার বিতরণের রেজিস্টারে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে কর্মকর্তা পাঠিয়ে উপস্থিত কৃষকদের মাঝে সার নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গার বাফার গোডাউন ইনচার্জ অহিদুর রহমান জানান, চলতি মাসে ১২৬ জন ডিলারের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, ফলে কোনো ঘাটতি নেই।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুব আলম রনি জানান, সংবাদ পেয়ে আমরা সেখানে দ্রুত কৃষি কর্মকর্তাদের পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং উপস্থিত কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ করা হচ্ছে। আরো সার সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে; কিছু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আরিচা বন্দর এলাকায় ময়লা ফেলার জন্য কোন নির্দিষ্ট ভাগার বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাসা-বাড়ির ময়লা যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তার পাশে এবং নদীর পাড়ে অসংখ্য ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন আরিচা বন্দর এলাকায় বসবাসরত লোকজন রাতের অন্ধকারে মাছের বিসটাসহ ময়লা আবর্জনা ড্রেনের উপর ও বিভিন্ন রাস্তার পাশে, নদীর ধারে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ফেলে দিচ্ছে। এর ফলে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও নানা ধরনের রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।
ময়লার দুর্গন্ধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু, শ্বাস কষ্ট, নিউমোনিয়া, হাপানি সহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এলাকাবাসীরা রাস্তার ধারে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার দাবি জানাচ্ছে। শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন আলাল অচিরেই এর একটি সুরাহার আশ্বাস দিয়েছেন।
শিবালয় উপজেলার ৩ নং শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত আরিচা নদী বন্দর এলাকা। এখানে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ড্রেজার বেইজ, শিবালয় থানা, আবহাওয়া অফিস, স্কুল, কলেজসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। আবাসিক চাহিদার সাথে সাথে বাসাবাড়ির সংখ্যা বেড়েছে এবং মানুষের বসবাসও বৃদ্ধি পেয়েছে। শিবালয় ১নং ওয়ার্ড বর্তমানে অত্যন্ত ঘণবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার এবং তিন হাজার পরিবারের ১২ হাজার লোক বসবাস করে। ১৯৬৩ সালে আরিচায় ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার পর ১৯৮৩ সালে আরিচা নদী বন্দর প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর থেকে এখানে চাকুরির সুবাদে ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে মানুষ বসতি স্থাপন করতে শুরু করে।
দুঃখজনকভাবে, অত্যন্ত ঘণবসতিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে আরিচা বন্দর এলাকায় ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন ডাম্পিং স্টেশন বা ময়লার ভাগার গড়ে উঠেনি। ফলে আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে, পোস্ট অফিস রোডের মোড়ে আজাদের বাড়ির সামনে এবং বন্দর বাজারের পশ্চিম পাশে যমুনা নদীর তীরে বাজার ঘেঁষে, ভূমি অফিসের সামনে ময়লার ভাগার গড়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন বাসাবাড়ি, হোটেল ও দোকান পাটের নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে শিবালয় নতুন পাড়া ড্রেন কাম রাস্তার উপর যেখানে সেখানে বাসা-বাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।
প্রতিদিনের কাজের তাগিদে এই রাস্তা দিয়ে ময়লার ভাগারের পাশ দিয়ে এলাকার লোকজনসহ আশপাশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। বিশেষ করে শিবালয় নতুন পাড়ায় যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে, সেখানে মানুষের যাতায়াতের রাস্তা, একটি স্কুল ও একাধিক বাসাবাড়ি রয়েছে। পঁচা-ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে এখানে যাতায়াত ও বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুসহ নানা ধরনের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে এখানকার মানুষ। ময়লার ভাগাড় থেকে ভেসে আসা উৎকট দুর্গন্ধে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্টসহ মশাবাহিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আরিচা বন্দর বাজারের অন্যতম প্রবেশপথ হচ্ছে পোস্ট অফিস রোড। এই রাস্তার পাশেই পচনশীল ও অপচনশীল নানা ধরনের বর্জ্য ফেলে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে উৎকট দুর্গন্ধ। পথচারীরা এই দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাক-মুখে হাত চেপে ধরে দ্রুত ভাগাড়ের স্থান ত্যাগ করছেন। স্থানীয়রা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া বন্দর বাজারের পশ্চিমে বাজার ঘেঁষে যমুনা নদীর তীরে ময়লা ফেলতে ফেলতে এখন ভাগারে পরিণত হয়েছে। মাংস ব্যবসায়ীর বা কসাইয়ের গরু জবায়ের বর্জ্য, বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের বর্জ্য এবং বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা নদীর পাড়ে নিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে ময়লার দুর্গন্ধে সেখানে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরিচা লঞ্চ ঘাটের পাশে নদীর তীরে ব্যবসায়ীরা দোকানপাটের ময়লা-আবর্জনা ফেলে ময়লার ভাগারে পরিণত করেছে। ময়লার দুর্গন্ধে দোকানপাটে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
স্যালুন ব্যবসায়ী রিপন বলেন, "দিনের অধিকাংশ সময় ময়লার স্তুপ থেকে ভেসে আসা দুর্গন্ধে বসে থাকা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। অনেক সময় কাস্টমার চলে যান। ফলে কাস্টমার কমেছে, বাড়ছে আর্থিক ক্ষতি। এ একটা বিহীত করা দরকার।"
আরিচা বন্দরের ব্যবসায়ী তরুণ ভোজ বলেন, "পুরো বাজারের পঁচা-ময়লা আবর্জনা এখানে এনে ফেলে যায়। এতে পরিবেশ চরমভাবে দুষিত হচ্ছে। মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়ে রোগ-জীবানুর সৃষ্টি হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।"
প্রতিদিন পোস্ট অফিস রোড দিয়ে চলাচলকারী ঔষুধ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, "আরিচা বন্দর বাজারের আশপাশে বসবাসকারীরা প্রতিদিন বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা রাস্তার ধারে ফেলে স্তূপ করায় দুর্গন্ধে বাজারে ঢোকার এই রাস্তাটি দিয়ে প্রবেশ করতে অনেক কষ্ট হয়ে পড়ে। এগুলো যেন দেখার কেউ নেই!"
আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন বলেন, "আরিচা বন্দর এলাকা অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া অনেক লোকের বসবাস। কিন্তু ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকাতে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা। দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। এতে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুলের পাশে ময়লা ফেলায় দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ অসংখ্য মানুষ স্কুলের পাশে গড়ে ওঠা ময়লার স্তুপের পাশ দিয়ে অনেক বিড়ম্বনা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা, তারা সরকারি অন্য কোনো জায়গায় ময়লা নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করে জনসাধারণসহ ছাত্র-ছাত্রীদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবী জানান তিনি।"
মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, "ময়লার দূষিত দুর্গন্ধে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, হাঁপানি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে। এ থেকে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের প্রয়োজন নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা।"
এব্যাপারে ৩ নং শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, "ইউনিয়নের মধ্যে ১নং ওয়ার্ড আরিচা বন্দর এলাকায় মানুষের বসবাসের সংখ্যা বেশী। বিশেষ করে শিবালয় নতুন পাড়া অত্যন্ত ঘণবসতিপূর্ণ এলাকা। কিন্তু এখানে ময়লা ফেলার নির্ধারিত কোন জায়গা নেই। বিধায় মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ দুষিত করছে। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। ইউনিয়ন পরিষদেরও ওই রকম সক্ষমতা নেই যে, ময়লা ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ভাগার বা ডাম্পিং স্টেশন বানিয়ে দেয়ার। তবে স্থানীয় এলাকারবাসির সহযোগিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে উক্ত সমস্যার সমাধান করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের উজিরপুরে ৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে, যার ব্যয় প্রায় ১৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ সদস্য এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু সানুহার আরএইচডি–ধামুরা জিসি–জল্লা–সাতলা জিসি সড়কের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন।
উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ‘বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় সড়কটির চেইনেজ ০.০০ থেকে ৮,০০০ মিটার পর্যন্ত উন্নয়ন করা হবে। এই প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ১৪ কোটি ২০ লাখ ৯৯ হাজার ২৬০ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে মেসার্স মনিরুল হক, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা, উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়, উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন খান, যুগ্ম সম্পাদক সরদার সিদ্দিকুর রহমান, বামরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন যুগলু, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান শাহিন শিকদার, উপজেলা যুবদল সভাপতি আ প ম সামসুদ্দোহা আজাদ, উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি জিয়াউল আমিন রাড়ি, সাধারণ সম্পাদক শাহাদুজ্জামান কমরেড, বরিশাল বাস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন ডালিম শিকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও সেখানে ছিলেন।
স্থানীয়দের মতে, সানুহার–ধামুরা–জল্লা–সাতলা সড়কটি উজিরপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। সড়কটি প্রশস্ত ও শক্তিশালী হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে, পাশাপাশি যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে। তারা আশা করছেন, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এই অঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ