ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যত্রতত্র ময়লা ফেলায় আরিচার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে


যত্রতত্র ময়লা ফেলায় আরিচার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আরিচা বন্দর এলাকায় ময়লা ফেলার জন্য কোন নির্দিষ্ট ভাগার বা ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বাসা-বাড়ির ময়লা যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। বিশেষ করে রাস্তার পাশে এবং নদীর পাড়ে অসংখ্য ময়লার ভাগাড় গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন আরিচা বন্দর এলাকায় বসবাসরত লোকজন রাতের অন্ধকারে মাছের বিসটাসহ ময়লা আবর্জনা ড্রেনের উপর ও বিভিন্ন রাস্তার পাশে, নদীর ধারে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ফেলে দিচ্ছে। এর ফলে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও নানা ধরনের রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।

ময়লার দুর্গন্ধ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ডেঙ্গু, শ্বাস কষ্ট, নিউমোনিয়া, হাপানি সহ বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এলাকাবাসীরা রাস্তার ধারে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার দাবি জানাচ্ছে। শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন আলাল অচিরেই এর একটি সুরাহার আশ্বাস দিয়েছেন।

শিবালয় উপজেলার ৩ নং শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত আরিচা নদী বন্দর এলাকা। এখানে বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ড্রেজার বেইজ, শিবালয় থানা, আবহাওয়া অফিস, স্কুল, কলেজসহ নানা স্থাপনা গড়ে উঠেছে। আবাসিক চাহিদার সাথে সাথে বাসাবাড়ির সংখ্যা বেড়েছে এবং মানুষের বসবাসও বৃদ্ধি পেয়েছে। শিবালয় ১নং ওয়ার্ড বর্তমানে অত্যন্ত ঘণবসতিপূর্ণ এলাকা। এখানে ভোটার সংখ্যা ৬ হাজার এবং তিন হাজার পরিবারের ১২ হাজার লোক বসবাস করে। ১৯৬৩ সালে আরিচায় ফেরি সার্ভিস চালু হওয়ার পর ১৯৮৩ সালে আরিচা নদী বন্দর প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর থেকে এখানে চাকুরির সুবাদে ও ব্যবসার উদ্দেশ্যে মানুষ বসতি স্থাপন করতে শুরু করে।

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

দুঃখজনকভাবে, অত্যন্ত ঘণবসতিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে আরিচা বন্দর এলাকায় ময়লা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোন ডাম্পিং স্টেশন বা ময়লার ভাগার গড়ে উঠেনি। ফলে আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে, পোস্ট অফিস রোডের মোড়ে আজাদের বাড়ির সামনে এবং বন্দর বাজারের পশ্চিম পাশে যমুনা নদীর তীরে বাজার ঘেঁষে, ভূমি অফিসের সামনে ময়লার ভাগার গড়ে উঠেছে। এখানে প্রতিদিন বিভিন্ন বাসাবাড়ি, হোটেল ও দোকান পাটের নানা ধরনের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। রাতের অন্ধকারে শিবালয় নতুন পাড়া ড্রেন কাম রাস্তার উপর যেখানে সেখানে বাসা-বাড়ির ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে।

প্রতিদিনের কাজের তাগিদে এই রাস্তা দিয়ে ময়লার ভাগারের পাশ দিয়ে এলাকার লোকজনসহ আশপাশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো মানুষ যাতায়াত করে। বিশেষ করে শিবালয় নতুন পাড়ায় যেখানে ময়লা ফেলা হচ্ছে, সেখানে মানুষের যাতায়াতের রাস্তা, একটি স্কুল ও একাধিক বাসাবাড়ি রয়েছে। পঁচা-ময়লা আবর্জনার দুর্গন্ধে এখানে যাতায়াত ও বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ডেঙ্গুসহ নানা ধরনের রোগ-ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে এখানকার মানুষ। ময়লার ভাগাড় থেকে ভেসে আসা উৎকট দুর্গন্ধে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে এবং জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের শ্বাসকষ্টসহ মশাবাহিত রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আরিচা বন্দর বাজারের অন্যতম প্রবেশপথ হচ্ছে পোস্ট অফিস রোড। এই রাস্তার পাশেই পচনশীল ও অপচনশীল নানা ধরনের বর্জ্য ফেলে ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে উৎকট দুর্গন্ধ। পথচারীরা এই দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাক-মুখে হাত চেপে ধরে দ্রুত ভাগাড়ের স্থান ত্যাগ করছেন। স্থানীয়রা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এছাড়া বন্দর বাজারের পশ্চিমে বাজার ঘেঁষে যমুনা নদীর তীরে ময়লা ফেলতে ফেলতে এখন ভাগারে পরিণত হয়েছে। মাংস ব্যবসায়ীর বা কসাইয়ের গরু জবায়ের বর্জ্য, বাজারের ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের বর্জ্য এবং বাসা-বাড়ির ময়লা-আবর্জনা নদীর পাড়ে নিয়ে ফেলা হচ্ছে। এতে ময়লার দুর্গন্ধে সেখানে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার

আরিচা লঞ্চ ঘাটের পাশে নদীর তীরে ব্যবসায়ীরা দোকানপাটের ময়লা-আবর্জনা ফেলে ময়লার ভাগারে পরিণত করেছে। ময়লার দুর্গন্ধে দোকানপাটে বসে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

স্যালুন ব্যবসায়ী রিপন বলেন, "দিনের অধিকাংশ সময় ময়লার স্তুপ থেকে ভেসে আসা দুর্গন্ধে বসে থাকা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। অনেক সময় কাস্টমার চলে যান। ফলে কাস্টমার কমেছে, বাড়ছে আর্থিক ক্ষতি। এ একটা বিহীত করা দরকার।"

আরিচা বন্দরের ব্যবসায়ী তরুণ ভোজ বলেন, "পুরো বাজারের পঁচা-ময়লা আবর্জনা এখানে এনে ফেলে যায়। এতে পরিবেশ চরমভাবে দুষিত হচ্ছে। মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়ে রোগ-জীবানুর সৃষ্টি হচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন।"

প্রতিদিন পোস্ট অফিস রোড দিয়ে চলাচলকারী ঔষুধ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, "আরিচা বন্দর বাজারের আশপাশে বসবাসকারীরা প্রতিদিন বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা রাস্তার ধারে ফেলে স্তূপ করায় দুর্গন্ধে বাজারে ঢোকার এই রাস্তাটি দিয়ে প্রবেশ করতে অনেক কষ্ট হয়ে পড়ে। এগুলো যেন দেখার কেউ নেই!"

আরও পড়ুন: রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত

আরিচা বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল হোসেন বলেন, "আরিচা বন্দর এলাকা অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া অনেক লোকের বসবাস। কিন্তু ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোন জায়গা না থাকাতে যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে ময়লা। দুষিত হচ্ছে পরিবেশ। এতে জনস্বাস্থ্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুলের পাশে ময়লা ফেলায় দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীসহ অসংখ্য মানুষ স্কুলের পাশে গড়ে ওঠা ময়লার স্তুপের পাশ দিয়ে অনেক বিড়ম্বনা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা, তারা সরকারি অন্য কোনো জায়গায় ময়লা নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করে জনসাধারণসহ ছাত্র-ছাত্রীদের স্বস্তি ফিরিয়ে আনার দাবী জানান তিনি।"

মানিকগঞ্জ মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, "ময়লার দূষিত দুর্গন্ধে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, হাঁপানি, কাশি ও শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগ হয়ে থাকে। এ থেকে বেঁচে থাকতে হলে আমাদের প্রয়োজন নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করা।"

এব্যাপারে ৩ নং শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মোহাম্মদ আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, "ইউনিয়নের মধ্যে ১নং ওয়ার্ড আরিচা বন্দর এলাকায় মানুষের বসবাসের সংখ্যা বেশী। বিশেষ করে শিবালয় নতুন পাড়া অত্যন্ত ঘণবসতিপূর্ণ এলাকা। কিন্তু এখানে ময়লা ফেলার নির্ধারিত কোন জায়গা নেই। বিধায় মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেলে পরিবেশ দুষিত করছে। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি পেয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে। ইউনিয়ন পরিষদেরও ওই রকম সক্ষমতা নেই যে, ময়লা ফেলার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ভাগার বা ডাম্পিং স্টেশন বানিয়ে দেয়ার। তবে স্থানীয় এলাকারবাসির সহযোগিতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে কথা বলে উক্ত সমস্যার সমাধান করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উজিরপুরে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন, যোগাযোগ সুবিধা বাড়বে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


উজিরপুরে সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন, যোগাযোগ সুবিধা বাড়বে

বরিশালের উজিরপুরে ৮ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে, যার ব্যয় প্রায় ১৪ কোটি ২১ লাখ টাকা। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় সংসদ সদস্য এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু সানুহার আরএইচডি–ধামুরা জিসি–জল্লা–সাতলা জিসি সড়কের উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন।

উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্র জানায়, ‘বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় সড়কটির চেইনেজ ০.০০ থেকে ৮,০০০ মিটার পর্যন্ত উন্নয়ন করা হবে। এই প্রকল্পের চুক্তিমূল্য ১৪ কোটি ২০ লাখ ৯৯ হাজার ২৬০ টাকা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে মেসার্স মনিরুল হক, ভৈরব, কিশোরগঞ্জ।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আলী সুজা, উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায়, উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ সাইফুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন খান, যুগ্ম সম্পাদক সরদার সিদ্দিকুর রহমান, বামরাইল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন যুগলু, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান শাহিন শিকদার, উপজেলা যুবদল সভাপতি আ প ম সামসুদ্দোহা আজাদ, উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি জিয়াউল আমিন রাড়ি, সাধারণ সম্পাদক শাহাদুজ্জামান কমরেড, বরিশাল বাস মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন ডালিম শিকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও সেখানে ছিলেন।

স্থানীয়দের মতে, সানুহার–ধামুরা–জল্লা–সাতলা সড়কটি উজিরপুরের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। সড়কটি প্রশস্ত ও শক্তিশালী হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে, পাশাপাশি যানবাহন চলাচল আরও নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হবে। তারা আশা করছেন, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এই অঞ্চলের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাঁচবিবিতে সরকারি গাছ কাটার দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


পাঁচবিবিতে সরকারি গাছ কাটার দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আয়মারসুলপুর ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামে অবস্থিত লাল ব্রিজের পাশে সড়কের ধারে সরকারি গাছ অবৈধভাবে কাটার অভিযোগে তিনজনকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার সময় পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাশফিয়া তাসরিন এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, সরকারি গাছ অবৈধভাবে কাটার জন্য ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ১১ ধারায় তিনজনকে তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অর্থদণ্ড পরিশোধ না করলে তাদের আরও এক দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—রামনগর (আয়মারসুলপুর) গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে মো. আলম (৫০), ছোটমানিক গ্রামের মৃত নবীন উদ্দিনের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম (৫২) এবং রামনগর গ্রামের হবিবরের ছেলে আব্দুল মতিম।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাশফিয়া তাসরিন মন্তব্য করেন, "সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।" তিনি আরও বলেন, "ভবিষ্যতে সরকারি গাছ কিংবা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে দখল বা ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০১ পি.এম


সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি

সাইবার অপরাধের প্রকৃতি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিকল্প নেই।

রোববার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্ত বিষয়ক ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

আইজিপি বলেছেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো প্রযুক্তিগুলো নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে, এসব প্রযুক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জও নিয়ে এসেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রযুক্তির অপব্যবহার করে অপরাধীরা সাইবারভিত্তিক প্রতারণা, অনলাইন আর্থিক অপরাধ, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, অনলাইনে হয়রানি এবং ডিজিটাল চাঁদাবাজির মতো অপরাধ সংঘটিত করছে। ক্রমবর্ধমান এসব অপরাধের মোকাবেলায় পুলিশের প্রচলিত কার্যক্রমে পরিবর্তন আনা এখন সময়ের দাবি। সাইবার অপরাধ তদন্তে সক্ষমতা অর্জন আধুনিক পুলিশিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, এই কোর্সের মাধ্যমে কর্মকর্তারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, বরং প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগের দক্ষতাও অর্জন করবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্যান্য তদন্তকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। কার্যকরভাবে অন্যান্য তদন্তকারীকে প্রশিক্ষণ দিতে পারলে সাইবার মামলা তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।

তিনি এ ধরনের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ আয়োজনের জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং উইং এবং পুলিশ স্টাফ কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ উপকরণ ও মডিউল হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজি কাজী মো. ফজলুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিআইডি প্রধান ও অতিরিক্ত আইজি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব।

অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত ডিআইজি (ট্রেনিং-২) ড. মোছা. শেহেলা পারভীন সাইবার অপরাধ তদন্ত প্রশিক্ষণের রোডম্যাপ ও বাস্তবায়ন কৌশল উপস্থাপন করেন। এ সময় পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের অনুষদ সদস্য ও রিসোর্স পারসনরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ট্রেনিং শাখার উদ্যোগে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে ১০ দিনের এই প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে টিওটি কোর্সে অংশ নেওয়া ৩৩২ জন পুলিশ কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ের সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তকারীদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উন্নয়নের স্বার্থে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারিদের কোন ছাড় দেয়া হবেনা: মনোয়ার হোসেন খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


উন্নয়নের স্বার্থে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারিদের কোন ছাড় দেয়া হবেনা: মনোয়ার হোসেন খান

মাগুরা জেলার আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভা রবিবার সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ।

সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা এবং মাগুরা ১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।

সভায় পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার থান্ডার খায়রুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডাঃ শামীম কবীর, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাশ্বতী শীল, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আখতার হোসেন, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সহ সভাপতি এড, আহম্মেদ হেসেন, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ফারুকুজ্জামান ফারুক, মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোল্লা আবু সাইদ, জেলা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর অধ্যাপক আবু সাঈদ, মাগুরা বারের সাধারণ সম্পাদক এড, শাহেদ হাসান টগর, জেলা ইসলামী আন্দোলনের মোস্তফা কামাল প্রমুখ জেলার সার্বিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর বিস্তারিত বক্তব্য রাখেন।

সভায় বাল্যবিবাহ, ধর্ষণ প্রতিরোধে সচেতনতা, খাদ্যে ভেজাল রোধ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, মাদক চোরাচালান, যৌন হয়রানি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ধর্ষণ প্রতিরোধসহ খুন, ডাকাতি, এসিড নিক্ষেপসহ সকল অপরাধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পরে জেলার আইন শৃঙ্খলার উন্নয়নে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

সভায় সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান বলেন, "দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে উন্নত আইন শৃঙ্খলার উপর, দেশের স্বার্থে যে কোন মূল্যে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে।" তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের দেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্রের প্রতি আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, মাগুরা জেলার আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য সকলকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে সার নিয়ে বা যে কোন ষড়যন্ত্রের প্রতি সজাগ থাকার জন্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি গত সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্কুলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল মোটর সাইকেল নিয়ে প্রবেশ করার কোন সুযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%