ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কঙ্গোর সরকার পতনে নতুন জোট গঠন করলেন কাবিলা


কঙ্গোর সরকার পতনে নতুন জোট গঠন করলেন কাবিলা

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) বর্তমান সরকারকে উৎখাত করার উদ্দেশ্যে গঠিত নতুন বিদ্রোহী জোটের নেতা হিসেবে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলাকে মনোনীত করা হয়েছে। ফ্রন্ট ফর দ্য রিফাউন্ডেশন অব দ্য নেশন (এফআরএন) নামক এই জোটটি জানায়, তাদের লক্ষ্য হলো দেশটিতে ‘স্বৈরশাসনের’ অবসান ঘটাতে বিভিন্ন ‘প্রতিরোধী শক্তিকে’ একত্রিত করা। তারা জানায়, এই উদ্দেশ্য অর্জনে শক্তি প্রয়োগসহ সকল ধরনের উপায় অবলম্বন করা হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, গতকাল সোমবার গোমা শহরের কাবিলার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়। পূর্বাঞ্চলীয় ডিআর কঙ্গোর সবচেয়ে বড় শহর গোমা গত বছর থেকে এম২৩ (মার্চ ২৩ মুভমেন্ট) সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

নতুন জোটের উপপ্রধান হিসেবে এম২৩ নেতা সুলতানি মাকেঙ্গা থাকবেন, যিনি কাবিলার চারজন উপপ্রধানের একজন। অন্য তিনজনও এএফসি-এম২৩ জোটের সদস্য। গত বছর এই জোট খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ পূর্ব ডিআর কঙ্গোর বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়।

আরও পড়ুন: ভারত-চীন সম্পর্কের মোড় ঘোরেনি মোদি-শি বৈঠকেও

এদিকে, কাবিলার নতুন বিদ্রোহী জোটের নেতৃত্ব গ্রহণের ঘোষণা তার সশস্ত্র আন্দোলনে সরাসরি সম্পৃক্ততার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে তিনি এম২৩ বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। যদিও গত বছর রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে তার অনুপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে নতুন জোট গঠন নিয়ে কঙ্গো সরকার এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

জোট গঠনের কয়েক দিন আগে এক ভাষণে কাবিলা বলেছিলেন, তিনি কঙ্গোর জনগণের জন্য দেশকে ‘উদ্ধার’ করার কী করা উচিত তা তুলে ধরবেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদির সরকারের বিরুদ্ধে গত বছর তার দেওয়া প্রস্তাবগুলো উপেক্ষা করার অভিযোগ তোলেন। ওই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে পূর্বাঞ্চলের সংঘাত নিরসনের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কাবিলা আরো অভিযোগ করেন, সরকার সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থা দুর্বল করছে, অর্থনীতি পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারছে না। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও সামরিক কর্মকর্তাদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের অভিযোগও তোলেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকার প্রকাশ্যে কোনো জবাব দেয়নি।

৫৫ বছর বয়সী কাবিলা ২০০১ সাল থেকে ২০১৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ডিআর কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। বিতর্কিত নির্বাচনের পর ফেলিক্স শিসেকেদি ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কয়েক বছর জনসমক্ষে কম উপস্থিত থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরসূরির সরকারের সমালোচনা বৃদ্ধি পেয়েছে কাবিলার।

আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ৩১ শতাংশে নেমেছে

দীর্ঘদিনের সহিংসতায় জর্জরিত দেশটির পূর্বাঞ্চলে জাতিগত উত্তেজনা, রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘাত চলছে। সেখানে শতাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে শিসেকেদির দ্বিতীয় মেয়াদ ২০২৮ সালে শেষ হওয়ার কথা। তবে সংঘাতের কারণে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন নাও হতে পারে বলে গত মে মাসে তিনি মন্তব্য করেন। জনগণ চাইলে তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে পার্লামেন্টে এমন একটি বিল পাস হয়েছে, যা সংবিধানে প্রেসিডেন্টের দুই মেয়াদের সীমা তুলে দিতে গণভোটের পথ তৈরি করতে পারে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বিরুদ্ধে গত মাসে রাজধানীতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরাকে যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে নারীদের হত্যার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


ইরাকে যৌন সহিংসতার প্রতিবাদে নারীদের হত্যার হুমকি

ইরাকের রাজধানী বাগদাদের একটি ব্যস্ত সড়কে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া এক নারী প্রতিবাদ জানালে তাকে গাড়ির দরজা খুলতে বাধা দেন এক চালক। এই ঘটনাটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন নারী অধিকারকর্মী সারা জাসিম। তার ইনস্টাগ্রাম পেজে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে ইরাকে নারীদের প্রতি যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে।

জাসিমের উদ্দেশ্য হলো, নারীদের প্রতি হয়রানির ঘটনা আড়ালে না রেখে ভুক্তভোগীদের কথা সামনে আনা এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জোরালো করা। তবে এই কাজ করতে গিয়ে তিনি নানা ধরনের হুমকি ও সামাজিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। জাসিমের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে হত্যার পাশাপাশি এসিড হামলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। নারীদের নীরব থাকার সামাজিক প্রত্যাশার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে জনসমক্ষে অশালীনতা ছড়ানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।

নিরাপত্তাজনিত কারণে এখন তিনি খুব কমই বাড়ির বাইরে বের হন। দিনের অনেকটা সময় কাটে পোষা কুকুরের সঙ্গে। নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে সরব হওয়ার কারণে তার স্বাভাবিক জীবনযাপনও সীমিত হয়ে পড়েছে বলে তিনি জানান।

ইরাকে যৌন হয়রানি ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবেলায় কঠোর আইন প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন জাসিম। তার মতে, দেশটির প্রচলিত দণ্ডবিধিতে এসব অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা ও স্বীকৃতির ঘাটতি রয়েছে। ফলে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কার্যকর আইনি পদক্ষেপ জরুরি।

জাসিমের মতে, সমস্যা সমাধানের প্রথম ধাপ হলো তা স্বীকার করা। ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধীদের এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যৌন হয়রানির শিকার নারীদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে গিয়ে জাসিম নিজেও এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তিনি বলেন, এসব ভিডিও প্রকাশ করা তার নিজের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। ইরাকে যৌন নির্যাতনের শিকার অনেক নারী অভিযোগ করেছেন, সমাজে প্রায়ই নির্যাতনকারীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই দোষারোপ করা হয়। এ ধরনের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের অভিযোগ জানানো ও ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করে।

‘তোমাকে মেরে ফেললে কেউ শুনবে না’

ইরাকে যৌন নির্যাতনের শিকার অনেক নারী অভিযোগ করেছেন, তাদের সুরক্ষা দিতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে। অধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মতে, যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। এ ছাড়া মামলার ফলাফল কী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা থাকে।

নারীদের প্রতি বৈষম্যবিষয়ক জাতিসংঘের একটি কমিটির মে মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরাকে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ব্যাপক, তবে অনেক ঘটনাই নথিভুক্ত হয় না। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আরো শক্তিশালী আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে কমিটি। প্রতিবেদনে বৈষম্যমূলক আইন বাতিলেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব আইনের আওতায় ধর্ষক ভুক্তভোগীকে বিয়ে করলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারে। পাশাপাশি তথাকথিত ‘সম্মান রক্ষার’ নামে হত্যার ঘটনায় শাস্তি কমানোর সুযোগও রয়েছে।

ইরাকের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার উদাহরণ আমালের ঘটনা। নিরাপত্তার কারণে তার আসল নাম প্রকাশ করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেছেন, তার সাবেক স্বামী অস্ত্রের মুখে তাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে বারবার ধর্ষণ করেছেন। এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রায় পাঁচ বছর ধরে আদালতে লড়ছেন তিনি। আমাল মেয়ের কাছ থেকে শোনা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে জানান, একবার তার সাবেক স্বামী মেয়ের ঘরে ঢুকে বিছানায় অস্ত্র রেখেছিলেন। এরপর মেয়েকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোকে মেরে ফেললেও কেউ তোর চিৎকার শুনতে পাবে না।’

ইরাকে যৌন নির্যাতন এখনো সামাজিকভাবে নিষিদ্ধ একটি বিষয়। এ কারণে অনেক ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিক্রিয়া, সামাজিক অপমান ও হয়রানির ভয়ে নির্যাতনের কথা গোপন রাখেন। কেউ কেউ পুলিশের কাছেও যেতে সাহস পান না। তবে মেয়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের বিচার পেতে আমাল শুরু থেকেই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

আমাল জানান, তার মেয়ের কবজিতে অসংখ্য কালশিটে দাগ ছিল। সাবেক স্বামী মেয়েটির হাত শক্ত করে ধরে রাখতেন এবং চিৎকার করতে গেলে মুখ চেপে ধরতেন। আমাল তার অভিযোগের সমর্থনে ডিএনএ পরীক্ষার প্রমাণসহ চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিও দেখিয়েছেন।

আমালের দাবি, তার সাবেক স্বামী পরিবারের এক সদস্যকে বলেছিলেন, গ্রেপ্তার হলে যেন কেউ ‘কলঙ্ক মুছে ফেলে’। ইরাকে এ ধরনের কথা কখনো কখনো তথাকথিত ‘সম্মান রক্ষার’ নামে হত্যার ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আমালের আশঙ্কা, চিকিৎসা প্রতিবেদনে যৌন নির্যাতনের প্রমাণ প্রকাশ ঠেকাতেই তার মেয়েকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমাল বলেন, ‘আমি একাই লড়েছি।’ শেষ পর্যন্ত তার চাওয়া একটাই, ‘আমি শুধু চাই, সে যেন চিরদিনের জন্য আমার পথ থেকে সরে যায়।’

হত্যা

ইরাকে নিজ বাড়িতে যৌন নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া কঠিন। অনেকের নিজস্ব আয় নেই, আবার নির্যাতন থেকে বাঁচতে যাওয়ার মতো জায়গাও নেই। এর মধ্যে নারী অধিকারকর্মীদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

ইরাকে নির্যাতিত নারীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা খুবই কম। যেসব আশ্রয়কেন্দ্রের কথা জানা যায়, সেগুলোর কয়েকটির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত নারী অধিকারকর্মী ইয়ানার মোহাম্মদ। গত মার্চে বাগদাদে নিজের বাড়ির বাইরে সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলায় তিনি নিহত হন। এখন পর্যন্ত তার হত্যাকারীদের শনাক্ত করা যায়নি।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বিশেষজ্ঞরা গত এপ্রিলে জানান, ইয়ানার মোহাম্মদ বছরের পর বছর ধরে প্রাণনাশের হুমকি ও অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। এসব হুমকি চরমপন্থী ধর্মীয় মিলিশিয়াদের কাছ থেকে এসেছিল বলে ধারণা করা হয়।

নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সহকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বেড়েছে। বিশিষ্ট নারী অধিকারকর্মী হানা এডওয়ার জানান, নিহত হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে তিনি ইয়ানার মোহাম্মদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তিনিও হুমকি পেয়েছেন বলে জানান।

হানা এডওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইরাকে নারীদের জন্য কোনো আইন নেই, কোনো সুরক্ষা নেই, কোনো ন্যায়বিচারও নেই।’

ইরাকি মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থার প্রধান মুস্তফা সাদুনের মতে, ইরাকের মূল সমস্যা নারীদের নীরব থাকা নয়, বরং তারা কথা বললেও তাদের অভিযোগ শোনার ও প্রতিকার দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নেই।

তিনি বলেন, যৌন সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে একজন নারীকে প্রথমে পরিবারের, এরপর পুলিশের এবং সবশেষে আদালতের মুখোমুখি হতে হয়। প্রতিটি পর্যায়েই তাকে অনেক সময় বিষয়টি প্রকাশ না করে আপস করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে নির্যাতিত নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, আইনি সহায়তা এবং কার্যকর বিচার নিশ্চিত করার দাবি জোরালো হচ্ছে। নারী অধিকারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

গাড়িতে করে অনুসরণ

রাস্তায় হাঁটা কিংবা গণপরিবহনে যাতায়াত, ইরাকের অনেক নারীর কাছে এখন এসবও উদ্বেগের কারণ। যৌন হয়রানির শিকার হয়েও সামাজিক লজ্জা, পরিবারের বাধা ও পুলিশের কাছ থেকে সহায়তা না পাওয়ার আশঙ্কায় অনেকে মুখ খুলতে চান না। ফলে দেশটিতে নারীদের নিরাপত্তা ও বিচার পাওয়ার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিবিসিকে সামিরা (ছদ্মনাম) নামের এক নারী জানান, একবার গণপরিবহনে এক ব্যক্তি তার সামনে ফোনে পর্নোগ্রাফি দেখান। আরেক দিন বাগদাদে এক ব্যক্তি গাড়ি নিয়ে ১০ মিনিটেরও বেশি সময় তাকে অনুসরণ করেন। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েও তিনি সহায়তা পাননি বলে দাবি করেন।

পরিবারের কাছেও এসব ঘটনা প্রকাশ করতে ভয় পান সামিরা। তার আশঙ্কা, বিষয়টি জানালে নিরাপত্তার অজুহাতে তাকে বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করা হতে পারে। অনেক পুরুষ এমনকি কিছু পুলিশ কর্মকর্তাও যৌন হয়রানিকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখেন না।

তবে ইরাকের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মুকদাদ মিরি বলেছেন, ‘পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও চাকরি থেকে বরখাস্তের বিধান রয়েছে।’ তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে পুলিশ প্রায় ৩০০টি যৌন সহিংসতার অভিযোগ পেয়েছে। তবে সামাজিক রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের কারণে অনেক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে না বলেও স্বীকার করেন তিনি।

নারী অধিকারকর্মীদের মতে, সামাজিক কলঙ্ক, ভুক্তভোগীকে দোষারোপ এবং বিচার পাওয়ার অনিশ্চয়তা নারীদের ন্যায়বিচার চাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা হানা এডওয়ারও দেশটিতে নারীদের অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তবু হাল ছাড়তে রাজি নন নারী অধিকারকর্মীরা। নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি বলে মনে করেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ এবং ভূমি দখলবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জানান, এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।

মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত ডিএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।

কমিশনার উল্লেখ করেন, অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় অপরাধের কারণ চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বিট পুলিশিংকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় ঢাকা মহানগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা পর্যালোচনা করা হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন ডিএমপি কমিশনার। তিনি ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি থানা এলাকায় বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। স্থানীয় নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে বিট পুলিশিং কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক অপরাধ কমানোর নির্দেশনা দেন তিনি।

সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার বিস্তারিত পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়।

অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রটেকশন অ্যান্ড ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি) মো. আবুল বাশার তালুকদার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. মাসুদ করিম, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম) মোহাম্মদ শামসুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি), অতিরিক্ত দায়িত্বে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান, সব যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সহকারী পুলিশ কমিশনার, ডিএমপির সব থানার অফিসার ইনচার্জ এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রের উদাসীনতায় অগ্নিকাণ্ডে মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে : সাদিক কায়েম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


রাষ্ট্রের উদাসীনতায় অগ্নিকাণ্ডে মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে : সাদিক কায়েম

রাজধানীর চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম। তিনি মঙ্গলবার বিকেলে এই পরিদর্শনে যান।

এ সময় সিটি করপোরেশনের অব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রের উদাসীনতার কারণে অগ্নিকাণ্ডে মানুষ সর্বস্ব হারাচ্ছে উল্লেখ করে সাদিক কায়েম বলেন, "এসব অগ্নিকাণ্ডের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী হচ্ছে সিটি করপোরেশন।" তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড মেনে চলছে কি না, তা যথাযথভাবে তদারকি করছে না। অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ড ঘটলে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাপণের জন্য ফায়ার সার্ভিস স্টেশনগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নেই এবং ফায়ার ফাইটারদের উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। এর ফলে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে থাকে।

তিনি আরও বলেন, "এ ছাড়া প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত উন্নত যন্ত্রপাতি না থাকায় এবং প্রশিক্ষণ ও জনবলের অভাবে ফায়ার ফাইটারদের জীবন ঝুঁকিতে পড়ছে।" সাদিক কায়েম জানান, অনেক ফায়ার ফাইটার অগ্নি নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন, আবার অনেকেই হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন।

সাদিক কায়েম বলেন, সোমবার রাতে চকবাজারে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের সময় চারজন ফায়ার ফাইটার আহত হন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের অভাবে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার ফাইটাররা আহত ও নিহত হচ্ছেন। তিনি এটি অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত উন্নত যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত ফায়ার ফাইটার গড়ে তোলার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান।

তিনি উপস্থিত নগরবাসীর উদ্দেশে বলেন, "আগামীতে যদি নগরবাসী আমাদের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব দেয়, তবে ঢাকাকে পরিকল্পিত নগর হিসেবে গড়ে তুলে অগ্নিদুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করাসহ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।"

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী নেতা হাজী হাফেজ এনায়েত উল্লাহ, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, চকবাজার-বংশাল জোনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যক্ষ এস এম আহসান উল্লাহ, চকবাজার দক্ষিণ থানা আমির আনিছুর রহমান, পূর্ব থানা আমির রফিকুল ইসলাম সিকদারসহ চকবাজার থানা জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও ব্যবসায়ীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রক্তদান ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৬ পি.এম


যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রক্তদান ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওস্থ জিয়া উদ্যানে স্বাধীনতার মহান ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, জাতীয়তাবাদী যুবদলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্রের মা মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

এতে কেন্দ্রীয় যুবদল ও মহানগর উত্তর এবং ঢাকা দক্ষিণ যুবদল উক্ত কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।

একই দিন বেলা ১২টায় জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উদ্যোগে নয়াপল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় রক্তদান কর্মসূচি ও ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হবে।

এছাড়া, দেশব্যাপী জেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলোচনা সভা, র‌্যালি, সমাবেশ, স্বেচ্ছায় রক্তদান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিট কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।

ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২৮ অক্টোবর বুধবার উপজেলা, থানা, পৌর ও অধস্তন ইউনিটসমূহ তাদের সুবিধাজনক সময়ে নিজ নিজ ইউনিটে আলোচনা সভা, র‌্যালি, সমাবেশ, স্বেচ্ছায় রক্তদান, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপির নির্দেশনানুযায়ী এ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%