বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:২৭ পি.এম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারের অনিয়মের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ পাঁচ দাবিতে প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা (সিএমও) ড. শামসুর রহমানকে অবরুদ্ধ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তার কক্ষে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হুসাইন মুবারক বলেন, ‘প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এ ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো হলো—আগামী সাত দিনের মধ্যে চার জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, ছয় জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ, মেডিক্যালের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ আরো ১০টি কক্ষ বৃদ্ধি, অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকায়ন, নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স চালু এবং মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক হিসেবে একজন শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান।’
হুসাইন মুবারক আরো বলেন, ‘প্রশাসন এসব বিষয়ে তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা না পেলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে পুরো মেডিক্যাল সেন্টার তালাবদ্ধ করে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাবাকে হারানো এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইসমাইল ইকের পাশে দাঁড়িয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ইসমাইল ইকনের হাতে নগদ অর্থ, চেক ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় তিনি সংগ্রাম করে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসমাইল ইকনের বিষয়ে জানতে পেরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে জেলা প্রশাসন সব সময় থাকবে। ইতোমধ্যে ইসমাইলকে নগদ অর্থ, চেক ও খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ভবিষ্যতে তার পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কাইসার কামাল, বাগেরহাটের লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনও ইসমাইল ইকন ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের দেওয়া আর্থিক ও মানবিক সহায়তা পরিবারটিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।
এইচএসসি শিক্ষার্থী ইসমাইল ইকন বলেন, আমাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি জানান, পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকের চাকরিতে ছুটির ব্যবস্থা করে দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বাবার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে ইকনের ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রামের গল্প দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। সংবাদটি প্রকাশের পর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও হৃদয়বান মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের সহায়তায় ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন ইসমাইল ইকন ও তার পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়-২ (বোদা-দেবীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ আজ নিজে সরকারি বেতনের অর্থ থেকে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দুই পরিবারের দুই সদস্যের চাকরির ব্যবস্থা করে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি সরকারি বেতনের একটি অংশ জেলা ছয়টি জুলাই শহীদ পরিবারের মধ্যে চারটি পরিবারকে নিয়মিতভাবে প্রদান করে আসছেন।
এসব পরিবারকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক নিয়োগের ক্ষেত্রে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। তার সুপারিশের কারণে বোদা ও দেবীগঞ্জ উপজেলার সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে দুই জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে বোদা উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যের পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক হিসেবে সাকোয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ সুমনের বোন যোগদান করেছেন।
একইভাবে, দেবীগঞ্জ উপজেলার পরিদর্শন কক্ষে অফিস সহায়ক হিসেবে মারেয়া ইউনিয়নের জুলাই শহীদ আবু সাইদের ছেলে মামুন ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বশীল ও মানবিক নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীৎ শাহ বলেছেন, ‘প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের নির্দেশনা ও সুপারিশে জুলাই শহীদ আবু সাইদের ছেলে মামুন ইসলামকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেছেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সুপারিশে জুলাই শহীদ সুমনের বোনকে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, ‘আমরা যেমন ১৯৭১-এর চেতনাকে ধারণ করি, তেমনি ২০২৪-কেও ধারণ করি। সেই জায়গা থেকে শপথ নেওয়ার পর সরকারি সম্মানী (বেতন) থেকে জেলার ছয়টি জুলাই শহীদ পরিবারের মধ্যে চারটি পরিবারকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে সহায়তা দিচ্ছি। পাশাপাশি দুই পরিবারের দুই সদস্যকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অফিস সহায়ক পদে চাকরির ব্যবস্থা করেছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের ফাইনালে বদলি হিসেবে খেলতে নামেন আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেস। ম্যাচ শেষে তিনি মেজাজ হারিয়ে স্পেনের এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এই বিবাদের মধ্যে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে গাভি উপস্থিত হন।
একপর্যায়ে স্প্যানিশ মিডফিল্ডার গাভি পারেদেসের ক্ষোভের মূল শিকার হন। তাদের ঝগড়ার একপর্যায়ে পারেদেস গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। এর পর ফিফার পক্ষ থেকে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে স্পেনের গাভি মনে করেন, পারেদেসের ক্ষুব্ধ আচরণের জন্য তাকে নিষিদ্ধ করা উচিত নয়।
ফিফা জানিয়েছে, তারা একজন প্রসিকিউটরের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করবে। এর পর গাভি মন্তব্য করেন, পারেদেসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ঠিক হবে না। স্পেনের এক স্থানীয় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, "আমার মনে হয় না তাকে নিষিদ্ধ করা উচিত। আমি বুঝি শিশুদের সামনে এটি ভালো কোনো দৃষ্টান্ত নয়, তবে ফুটবলের একটি দিক এমনও আছে যা কিছুটা বেশি শারীরিক ও আক্রমণাত্মক।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, "সবচেয়ে যৌক্তিক পদক্ষেপ হবে ম্যাচের মধ্যেই তাকে মাঠ থেকে বের করে দেওয়া। বিষয়টি ওখানেই শেষ হয়ে যেত। দিনশেষে আমার মতে এসবই ফুটবলের অংশ এবং খেলাটা এমনই হওয়া উচিত।"
গাভি সতীর্থ এরিক গার্সিয়ার সঙ্গে এক বিবাদে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে এই ঘটনার মধ্যে জড়িয়ে পড়েন। ম্যাচের পর পারেদেসকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, "ম্যাচের পর আমি তাদের সঙ্গে কথা বলছিলাম। তাদের সতীর্থরা আক্রমণাত্মক হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাদের এভাবে শারীরিক হওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। এটা ছিল ছেলেমানুষি।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সালথায়, ৯ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে, শওকত মিয়া (৩৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। একই সঙ্গে, তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে, ফরিদপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আবুল বাসার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণের সময়, আসামি উপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত শওকত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায় যে, ২০২০ সালের ২২ মে বিকেলে, সালথা উপজেলার বড় বাংরাইল গ্রামের, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া ৯ বছরের ওই শিশুটি বাড়ির পাশে নিজেদের শাক-সবজির (ডাটা) ক্ষেত দেখতে গিয়েছিল। এই সময়, আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী শওকত শিশুটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি নির্জন পাটক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি সৃষ্টি হওয়া রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু অবস্থায় দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করে এবং দ্রুত ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ‘ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার’ (ওসিএসি)-এ ভর্তি করে। ঘটনার পরের দিন, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সালথা থানায় শওকতকে আসামি করে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত শেষে, ২০২০ সালের ৫ অক্টোবর সালথা থানা পুলিশ আসামি শওকত মিয়াকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে, দীর্ঘ ৬ বছর পর আদালত আজ বৃহস্পতিবার এই রায় প্রদান করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট অর্চনা দাস বলেন, ‘একটি অবুঝ শিশুকে নির্যাতন করে যে নৃশংসতা চালানো হয়েছিল, আজকের এই রায়ের মাধ্যমে তার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই শাস্তি সমাজে অপরাধীদের মনে ভীতি সঞ্চার করবে এবং শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ