মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৭ পি.এম
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়ক অবরোধ করেছে এলাকাবাসী, আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার হাতিয়া এলাকায় এই অবরোধের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই অবরোধের ফলে মহাসড়কের দুই লেনে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়। এর ফলে যাত্রী ও চালকদের ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, হাতিয়া এলাকায় স্কুল-কলেজ, যমুনা কলেজ এবং বাজার থাকায় প্রতিদিন বহু মানুষকে মহাসড়ক পারাপার হতে হয়। এই কারণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পার হতে হচ্ছে। নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য দ্রুত একটি আন্ডারপাস নির্মাণের দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আক্তার জানান, আন্ডারপাস নির্মাণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে এলাকাবাসীকে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলন এখন নতুন দিক নিয়েছে, যা ভোটার তালিকা সংশোধন ও কারচুপির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে। ক্ষমতাসীন মোদি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে বাংলাদেশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়কার প্রতিবাদী গানগুলোও যোগ দিয়েছে।
গতকাল সোমবার (১২ অক্টোবর) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ত্রিপুরা শাখার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, বিরোধী জোটের নেতা-কর্মীরা মোদি সরকারের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন ও ভোট চুরির অভিযোগের বিরুদ্ধে স্লোগান ও মিছিল নিয়ে রাজপথে এগিয়ে যাচ্ছেন। মিছিলের আবহে বাংলাদেশের প্রতিবাদী গান ‘দেশটা তোমার বাপের নাকি’ শোনা যায়।
এই গানটি সংগীতশিল্পী মৌসুমী চৌধুরীর কণ্ঠে এবং ইথুন বাবুর গীতিকথা ও সুরে রচিত, যা মূলত ২০২২ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়ন ও বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে খুনি হাসিনা সরকারের পতনের আন্দোলনে গানটি নতুনভাবে প্রাণ পায় এবং আন্দোলনকারীদের কাছে এক প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে।
গণতন্ত্র ও অধিকার রক্ষার তাগিদে রচিত এই প্রতিরোধ সুরের তীব্রতা এবার সীমানা ছাড়িয়ে ভারতীয় রাজনীতির উত্তপ্ত ময়দানেও প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন নাগরিক আন্দোলনের পর এবার বিরোধী জোটের কেন্দ্রীয় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে গানটির এই সংযোজন কেবল ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিবাদের বৈচিত্র্যকেই ফুটিয়ে তোলে না, বরং শাসকগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের একই সুর ও লড়াইকে নির্দেশ করে।
গানটি মূলত শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতার অপব্যবহার, কণ্ঠরোধ এবং স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভকে তুলে ধরে। গানে স্পষ্ট ও কড়া ভাষায় প্রশ্ন তোলা হয়েছে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তির নিজস্ব সম্পত্তি কি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুনভাবে ৮০টি লোকোমোটিভ আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর মধ্যে ৩০টি লোকোমোটিভ ক্রয়ের প্রস্তাব জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বিধি অনুযায়ী দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এসব লোকোমোটিভ ক্রয় করা হবে। তিনি জানান, এগুলো দেশে পৌঁছাতে আরও দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগতে পারে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দ্রুততম সময়ে এসব লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা গেলে রেলওয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব হবে।
রেলওয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, বিগত সরকার ১৮ বছরে রেল খাতে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। কিন্তু এ সময়ে প্রত্যাশিত উন্নয়ন হয়নি। অপচয়, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও লুটপাটের কারণে রেলওয়ের যে অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে রেলওয়ে পিছিয়ে পড়েছে এবং কোথাও কোথাও রেলসম্পদ ধ্বংস হয়েছে।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে রেলসেবার মানের প্রত্যাশিত পরিবর্তন হয়নি। গত ১৮ বছরে রেলওয়ে বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাব ছিল। বর্তমান সরকার এ অবস্থা থেকে উত্তরণের চেষ্টা করছে। তবে রেলওয়ের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ও যাত্রীদের প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগবে। রেলওয়ের সেবার মান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সক্রিয় রয়েছেন।
রেল যোগাযোগকে আরও যাত্রীবান্ধব করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে রেলওয়ে বিভাগকে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রেলভিত্তিক যাত্রী পরিবহন সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গে রেল যোগাযোগের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে।
তিনি বলেন, ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে সকালে ঢাকায় এসে রাতে ফিরে যাওয়ার সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার কাজ করছে। যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং রেলসেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে রেলওয়েকে আরও জনবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এ সময় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলামসহ রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি, এমপি, আট দিনের সরকারি সফরে বরগুনা ও বরিশাল যাচ্ছেন। এই সফরটি ১৪ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। সফরের সময় তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, প্রশাসনিক মতবিনিময় সভা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রকাশিত চিফ হুইপের একান্ত সচিব মো. রিয়াজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত সফরসূচি থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, ১৪ অক্টোবর বুধবার সকাল ৮টায় ঢাকা থেকে সড়কপথে বরগুনার পাথরঘাটার উদ্দেশে যাত্রা করবেন চিফ হুইপ। পিরোজপুর ও বামনায় সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে, বামনার ডৌয়াতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত শহীদ জিয়া স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি। সফরকালে বরগুনা সার্কিট হাউসে অবস্থান করবেন।
সফরের বিভিন্ন পর্যায়ে, বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী উপজেলা পরিষদে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করবেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। এছাড়াও, বিভিন্ন উন্নয়নকাজ ও নবনির্মিত অবকাঠামোর উদ্বোধন করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে, বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী উপজেলার পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সরকারি ত্রাণ সহায়তার বরাদ্দপত্র বিতরণ করবেন তিনি। তাছাড়া, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, অসচ্ছল পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং রায়হানপুর ইউনিয়নে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
সফরসূচিতে নিহত ও নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের মধ্যে চাল বিতরণের কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ সময় বরগুনা ও পাথরঘাটার স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন চিফ হুইপ। বামনা ও বেতাগীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) কর্মী সভায় প্রধান অতিথি হিসেবেও তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এছাড়া, বরগুনা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন তিনি। এসব কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
সফরের শেষ দিন ২১ অক্টোবর বুধবার বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী জিয়া মঞ্চের বরিশাল বিভাগীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। ওই দিন রাতে ঢাকায় সংসদ ভবন এলাকার নিজ বাসভবনে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কেন্দ্রীয় বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢাকা মহানগর বিএনপি এবং ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির জ্যেষ্ঠ সদস্য, ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তিনি এক শোকবার্তায় উল্লেখ করেন, সাবেক সফল সংসদ সদস্য, ঢাকা মহানগর বিএনপির অন্যতম শীর্ষ কাণ্ডারি ও কেন্দ্রীয় বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাউদ্দিন আহমেদের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে স্তব্ধ ও শোকাচ্ছন্ন। ডেমরা, শ্যামপুর ও কদমতলী এলাকার মাটি ও মানুষের উন্নয়ন এবং মহানগর বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে তাঁর অবদান কখনো ভুলবার নয়।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রাজপথের প্রতিটি গণআন্দোলনে তাঁর অকুতোভয় নেতৃত্ব এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য সর্বদা প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমাদের অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই রাজনৈতিক অভিভাবকের চলে যাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বিশেষ করে ঢাকা মহানগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি সৃষ্টি করেছে।
শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে প্রার্থনা জানান যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করা হয়।
একই সাথে তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এই কঠিন শোক সহ্য করার ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ