ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বালিয়াকান্দিতে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে স্বামীর আত্মহত্যা


বালিয়াকান্দিতে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে স্বামীর আত্মহত্যা
 
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে মোহাম্মদ আলী (৫২) নামে এক ব্যক্তি আ/ত্মহ/ত্যা করেছেন।
 
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা থেকে ৬টা ৫০ মিনিটের মধ্যে উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোহাম্মদ আলী ওই গ্রামের মৃ/ত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
 
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাট ধোয়া নিয়ে স্ত্রী মঞ্জিলা খাতুনের সঙ্গে মোহাম্মদ আলীর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী ঘর থেকে বাইরে চলে গেলে তার ওপর অ'ভিমান করে মোহাম্মদ আলী নিজ ঘরে খাটের ওপর দাঁড়িয়ে বাসের আড়ার সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি গ'লায় পেঁ'চিয়ে ঝু'লে পড়েন।
 
কিছুক্ষণ পর মঞ্জিলা খাতুন বাইরে থেকে ঘরে ফিরে দরজা আটকানো দেখতে পান। সন্দেহ হলে জানালা দিয়ে তাকিয়ে তিনি স্বামীকে গ'লায় প্লাস্টিকের রশি পেঁচানো অবস্থায় ঝু'ল'তে দেখেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে কাঁচি দিয়ে রশি কেটে মোহাম্মদ আলীকে নিচে নামান।
 
পরে দ্রুত একটি অটোভ্যানে করে তাকে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ/ত ঘোষণা করেন।
 
খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ ঘটনাস্থল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যায়। বালিয়াকান্দি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর আলী ভূঁইয়া নি/হতের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
 
বালিয়াকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রব তালুকদার বলেন, “আমরা খবর পেয়েছি। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালিয়াকান্দিতে গোয়ালঘর থেকে বৃদ্ধের ঝুলন্ত ম'রদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১২:৫৯ পি.এম


বালিয়াকান্দিতে গোয়ালঘর থেকে বৃদ্ধের ঝুলন্ত ম
 
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে জয়নুদ্দিন শেখ (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
 
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের পাটকিয়াবাড়ি গ্রামের নিজ বাড়ির গোয়ালঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মৃত তালেব শেখের ছেলে।
 
পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা যায়, জয়নুদ্দিন শেখ দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যাসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। রোগের যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে পরিবারের ধারণা।
 
পরিবারের লোকজন ভোরে তাকে খুঁজে না পেয়ে গোয়ালঘরে গেলে তার মেজ ছেলে হাবিবুর রহমান তাকে বাঁশের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে নিচে নামান। তবে ততক্ষণে তিনি মারা গেছেন।
 
খবর পেয়ে বালিয়াকান্দি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
বালিয়াকান্দি থানার এসআই সুকদেব ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাইজেরিয়ায় তেল চুরির সময় বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪৩ জনের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০০ পি.এম


নাইজেরিয়ায় তেল চুরির সময় বিষাক্ত ধোঁয়ায় ৪৩ জনের মৃত্যু

দক্ষিণাঞ্চলীয় রিভার্স রাজ্যে অবৈধভাবে পেট্রোলিয়াম পণ্য চুরি করার সময় বিষাক্ত ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে নেওয়ার ফলে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

 

রাতের অন্ধকারে রিভার্স রাজ্যের ওক্রিকা স্থানীয় সরকার এলাকার ওকারি জেটিতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সেখানে একটি জাহাজে রপ্তানির জন্য পেট্রোলিয়াম পণ্য তোলা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্ধৃত করে তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, ওক্রিকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ২০০ জনের বেশি তরুণ কাঠের নৌকায় করে সেখানে গিয়েছিলেন। তারা একটি পাইপলাইনে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে পেট্রোলিয়াম পণ্য চুরি করার চেষ্টা করছিলেন।

 

স্থানীয়দের মতে, নৌকায় পেট্রোলিয়াম পণ্য তোলার সময় হঠাৎ করে ঘন বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে উপস্থিত অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছু ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। আরও কিছু লোক নদীতে পড়ে গিয়ে ডুবে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।

 

নদীতে কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে। স্থানীয় একটি পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠনের সূত্রে আরও কয়েকজন নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গেছে। রিভার্স রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ব্লেসিং আগাবে বলেন, ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য তদন্ত চলছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার ভয়াবহতা এবং প্রকৃত কারণ বের করার জন্য তদন্ত করা হচ্ছে।

নাইজার ডেল্টাভিত্তিক পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠন ইয়ুথস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাডভোকেসি সেন্টার (ইয়েক-নাইজেরিয়া) একাধিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

 

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ফাইনফেস ডুমনামেনে ফাইনফেস জানান, নিহত ব্যক্তিরা একটি পাইপলাইনে অবৈধভাবে সংযোগ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই পাইপলাইনের মাধ্যমে ইন্দোরামা এলেমে পেট্রোকেমিক্যালস এলাকা থেকে পোর্ট হারকোর্ট শোধনাগার করিডোর হয়ে রপ্তানির জন্য পেট্রোলিয়াম পণ্য বহনকারী জাহাজে পণ্য সরবরাহ করা হয়। ফাইনফেসের বক্তব্য অনুযায়ী, তরুণেরা অপেক্ষমাণ নৌকাগুলোতে পেট্রোলিয়াম পণ্য তুলছিলেন। একই সময়ে পাইপলাইনের ভেতর দিয়ে উচ্চচাপে পেট্রোলিয়াম পণ্য পাঠানো হচ্ছিল। এতে উপস্থিত লোকজন বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসেন। তিনি বলেন, নদীতে কয়েকটি মরদেহ ভাসতে দেখা গেছে এবং আরও কিছু লোক নিখোঁজ রয়েছে।

রিভার্স রাজ্যের এই ঘটনা নাইজেরিয়ার তেলসমৃদ্ধ নাইজার ডেলটা অঞ্চলে তেল চুরি ও অবৈধভাবে তেল সংগ্রহের ঝুঁকি আবারও সামনে এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে নাইজার ডেল্টায় অপরিশোধিত তেল চুরি, অবৈধভাবে তেল পরিশোধন এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য অবৈধভাবে পরিবহনের ঘটনা ঘটে আসছে। এসব প্রতিরোধে রিভার্স ও আশপাশের রাজ্যগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। নাইজেরিয়ার সেনাবাহিনী জানায়, গত এপ্রিল মাসে তারা ১০টি অবৈধ তেল পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংস করেছে। এসব অভিযানে রিভার্স, ডেল্টা ও আকওয়া ইবোম রাজ্যে তেল চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে ১ লাখ ৩০ হাজার লিটারের বেশি চুরি করা অপরিশোধিত তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া যানবাহনে ব্যবহারের জন্য রাখা ২৬ হাজার লিটারের বেশি ডিজেলও উদ্ধার করা হয়। এরপর গত ২৮ আগস্ট নাইজেরিয়ার নৌবাহিনী রিভার্স রাজ্যে দুটি অবৈধ তেল পরিশোধন কেন্দ্র ধ্বংস করার খবর দেয়। ওই অভিযানে অবৈধভাবে পরিশোধন করা হয়েছে বলে সন্দেহ করা ৩৪ হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ মক্কা-মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে জুমা পড়াবেন যারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০১ পি.এম


আজ মক্কা-মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে জুমা পড়াবেন যারা

আজ শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮। আজ জুমার নামাজের ইমামতি করবেন দুই বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব সৌদি আরবের মক্কার পবিত্র মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীতে।

 

পবিত্র মসজিদুল হারামে জুমার নামাজের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শায়খ উসামাহ বিন আবদুল্লাহ খাইয়াত। অপরদিকে, মসজিদে নববীতে ইমামতি করবেন শায়খ আবদুল বারী বিন আওয়াদ আস-সুবাইতি।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক্সের মাধ্যমে পবিত্র দুই মসজিদ তত্ত্বাবধানকারী কর্তৃপক্ষ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। জানা গেছে, আজকের জুমার খুতবাও প্রতিবারের মতো সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

 

মসজিদুল হারামে শায়খ উসামাহ খাইয়াত

মসজিদুল হারামে আজকের জুমার নামাজের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শায়খ উসামাহ বিন আবদুল্লাহ খাইয়াত। তিনি মক্কায় জন্মগ্রহণকারী একজন বিশিষ্ট আলেম, যিনি দীর্ঘকাল ধরে মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব হিসেবে কাজ করছেন। ১৯৯৭ সালে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

শায়খ উসামাহ খাইয়াত ১৯৫৬ সালে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন।

 

তিনি মসজিদুল হারামের সাবেক ইমাম ও খতিব শায়খ আবদুল্লাহ খাইয়াতের সন্তান। ফলে, তার ছোটবেলা থেকেই ইসলামী জ্ঞানচর্চা এবং পবিত্র দুই মসজিদের আধ্যাত্মিক পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তিনি মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শরিয়াহ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন। পরবর্তীতে তিনি হাদিস ও ইসলামী জ্ঞান বিষয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি সৌদি আরবের শুরা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

দীর্ঘ ইমামতি জীবনে তার সুমধুর কোরআন তেলাওয়াত, হৃদয়স্পর্শী খুতবা এবং জ্ঞানগর্ভ বক্তব্য মুসল্লিদের মাঝে বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে।

মসজিদে নববীতে আজ জুমার নামাজের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শায়খ আবদুল বারী বিন আওয়াদ আস-সুবাইতি। তিনিও দীর্ঘকাল ধরে মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব হিসেবে কাজ করছেন। ১৯৯৪ সালে তিনি মসজিদে নববীর ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পান।

এর আগে ১৯৯০-এর দশকে তিনি মসজিদুল হারামে রমজানের তারাবির নামাজের ইমাম হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পবিত্র দুই মসজিদে ইমামতির এই অভিজ্ঞতা তার দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইসলামী সেবাজীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।

শায়খ আবদুল বারী আস-সুবাইতি ১৯৬০ সালে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবেই তিনি পবিত্র কোরআন হিফজ করেন এবং অল্প বয়স থেকেই কোরআন শিক্ষা ও শিক্ষাদানের সঙ্গে যুক্ত হন। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে ইসলামী ফিকহ বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পবিত্র মক্কা ও মদিনার দুই মসজিদে জুমার নামাজ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। প্রতি শুক্রবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসল্লিরা সরাসরি অথবা বিভিন্ন মাধ্যমে মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর জুমার খুতবা ও নামাজের সঙ্গে যুক্ত হন।

দীর্ঘকাল ধরে পবিত্র দুই মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী শায়খ উসামাহ খাইয়াত ও শায়খ আবদুল বারী সুবাইতি ইসলামী জ্ঞান, কোরআন তেলাওয়াত ও খুতবার জন্য মুসল্লিদের কাছে সুপরিচিত। আজ তাদের ইমামতিতে পবিত্র দুই মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করবেন দেশ-বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য মুসল্লি।

সূত্র : দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ইউক্রেনের সঙ্গে গোলাবারুদের চুক্তি বিতর্ক

এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৪ পি.এম


এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ

এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হানো পেভকুর পদত্যাগ করেছেন, কারণ সাত কোটি ইউরোর বেশি মূল্যের গোলাবারুদ কেনার চুক্তি বড় ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

 

চুক্তিটি ভারতের মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত হয়েছিল, যার পূর্বে কামানের গোলা বিক্রির অভিজ্ঞতা ছিল না। গোলাবারুদ সরবরাহে দেরি হওয়া এবং সরবরাহ করা গোলাবারুদের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর, ২০২২ সাল থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা পেভকুর বুধবার তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

 

জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের একাধিক সমালোচনামূলক প্রতিবেদনের পর তিনি প্রতিরক্ষা চুক্তির রাজনৈতিক দায় নিজের কাঁধে নিতে চান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পেভকুর উল্লেখ করেন, "এস্তোনিয়ার নিরাপত্তা কোনো একজনের দায়িত্ব নয়। এটি সবার যৌথ দায়িত্ব।" তিনি জানান, উপযুক্ত সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।

এই ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালে, যখন এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র ইতালিতে নিবন্ধিত দাতাসেল এসআরএল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোলাবারুদ কেনার চুক্তি করে।

 

চুক্তির কিছুদিন আগে ভারতের মালিকানাধীন নেকো ডিফেন্স মিউনিশনস দাতাসেলকে অধিগ্রহণ করে। ইউক্রেনের জন্য কামানের গোলা সংগ্রহ করাই ছিল চুক্তির মূল উদ্দেশ্য।

এসময় ইউক্রেন তীব্র গোলাবারুদ সংকটে ভুগছিল। এস্তোনিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম ইআরআর এবং দেশটির সংবাদপত্র এসতি এক্সপ্রেস ও পোস্টিমিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোলাবারুদ কেনার অর্থের একটি অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরোপীয় শান্তি তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছিল।

এস্তোনিয়া চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে কয়েক দফায় অগ্রিম অর্থ দেয়। পরে অগ্রিম দেওয়া অর্থের মোট পরিমাণ প্রায় সাত কোটি ইউরোতে পৌঁছায়। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রথম চুক্তির সময় প্রায় এক কোটি ৫০ লাখ ইউরো অগ্রিম দেওয়া হয়। একই বছরের অক্টোবরে দ্বিতীয় চুক্তিতে আরো এক কোটি ইউরোর বেশি দেওয়া হয়। বছরের শেষ নাগাদ আরো কয়েকটি চুক্তি হয়। সব মিলিয়ে অগ্রিম দেওয়া অর্থের পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি ইউরোতে পৌঁছে যায়।

প্রথমে কয়েক মাসের মধ্যে ইউক্রেনে গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উৎপাদনসংক্রান্ত সমস্যার কারণে সরবরাহ বারবার পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে কিছু গোলাবারুদ সরবরাহ করা হয়। তবে এসতি এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব গোলাবারুদ নির্ধারিত মানের শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

গোলাবারুদ কেনার এই চুক্তির সঙ্গে জড়িত দাতাসেল দাবি করেছে, চুক্তি বাতিলের আগে তারা এস্তোনিয়াকে পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ইউরো মূল্যের গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে। চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এস্তোনিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক সালিশেও গড়িয়েছে।

আইনজীবীর মাধ্যমে এসতি এক্সপ্রেসকে দাতাসেল জানিয়েছে, এই চুক্তির কারণে তাদের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চুক্তি বাতিলের জন্য এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র যে কারণ দেখিয়েছে, সেগুলো পরস্পরবিরোধী এবং যুক্তিহীন।

দাতাসেল আরো জানিয়েছে, এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র তাদের মোট পাঁচ কোটি ৯০ লাখ ইউরো অগ্রিম দিয়েছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে করা চুক্তির মোট মূল্য ছিল প্রায় সাত কোটি ইউরো। এ কারণে বাকি অর্থ কোথায় গেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এসতি এক্সপ্রেস। তবে পত্রিকাটি জানিয়েছে, অর্থটির বিষয়ে এখনো পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যায়নি।

দাতাসেলের দাবি, তারা বিপুল পরিমাণ পণ্য সরবরাহ করেছে এবং মোট পাঁচ কোটি ৮০ লাখ ইউরোর চালান জমা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহে দেরি হওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে গোলাবারুদের মান খারাপ ছিল- এই অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছে। দাতাসেল জানিয়েছে, পরে তাদের জানানো হয়, এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র বাকি পণ্য আর গ্রহণ করতে পারবে না।

তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন করত, তাহলে তারা এখনো চুক্তিটি শেষ করতে প্রস্তুত ছিল।

গত শরতে এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্র দাতাসেলের সঙ্গে করা চুক্তিগুলো বাতিল করে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কাছে আগে দেওয়া অর্থ ফেরত চাওয়া হয়। এরপর এস্তোনিয়া বিষয়টি ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে অবস্থিত ইউরোপীয় সালিস ও মধ্যস্থতা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক বিরোধ মেটানোর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এস্তোনিয়া প্রায় সাত কোটি ইউরোর অর্থ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছে।

এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্রের মহাপরিচালক এলমার ভাহের বলেছেন, দাতাসেলের সঙ্গে এ চুক্তি করা উচিত হয়নি। তিনি বলেন, "কোনো প্রতিষ্ঠান আগে কখনো একটি বাড়ি না বানালে তাকে দিয়ে বাড়ি বানানোর কাজ করানো হলে সেটি শেষ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।" তার মতে, দাতাসেলের সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রেও একই ধরনের ঝুঁকি ছিল। পেভকুরের পদত্যাগের পেছনে আরেকটি বড় কারণ হলো এস্তোনিয়ার জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের সমালোচনা।

প্রতিরক্ষা তহবিল ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে দপ্তরটি একাধিকবার প্রশ্ন তুলেছে। ইআরআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ আগস্ট প্রকাশিত একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতি এবং সম্পদের হিসাব রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। এর আগেও একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছিল নিরীক্ষা দপ্তর।

দপ্তরটি সতর্ক করে বলেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ ফেরত পাওয়া না গেলে শেষ পর্যন্ত এস্তোনিয়াকে নিজস্ব বাজেট থেকে প্রায় সাত কোটি ইউরো পরিশোধ করতে হতে পারে। তবে পেভকুর বলেছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি সামরিক সরঞ্জাম কেনার চুক্তি দেখভাল করেন না।

তিনি বলেন, "একজন মন্ত্রী প্রতিটি সরঞ্জাম বা গোলাবারুদ গুনে দেখেন না এবং প্রতিটি চুক্তি নিয়ে সরাসরি আলোচনা করেন না।" তবে জাতীয় নিরীক্ষা দপ্তরের সমালোচনা প্রতিরক্ষা বাহিনী ও প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ কেন্দ্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে হওয়ায় রাজনৈতিক দায়ের প্রশ্ন উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থ নিয়ে তৈরি হওয়া বিরোধের বিষয়ে এস্তোনিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ইউরোপীয় কমিশন।

কমিশনের মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান উইগান্ড বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের করদাতাদের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য কমিশনের বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনে অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

এস্তোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিখাল এর আগে বলেছিলেন, গোলাবারুদ কেনার ঘটনায় পেভকুর ব্যক্তিগতভাবে দোষী- এমন কিছু তিনি দেখছেন না। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে রাজনৈতিক দায় তার ওপর বর্তাতে পারে বলে স্বীকার করেছিলেন তিনি। পেভকুর বলেন, এস্তোনিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করতে সরকার যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে, সেগুলো সঠিক ছিল- এই বিশ্বাস থেকেই তিনি পদত্যাগ করছেন।

তিনি আরো বলেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ হামলা শুরুর পর এস্তোনিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যয় অনেক বেড়েছে। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে পেভকুর দাবি করেন, এস্তোনিয়া আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি নিরাপদ। ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার ওপরও জোর দেন তিনি। তার মতে, ইউক্রেনকে সহায়তা করা মানে এস্তোনিয়ার নিজের নিরাপত্তায়ও অবদান রাখা।

প্রায় ১২ লাখ মানুষের দেশ এস্তোনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য। দেশটির সঙ্গে রাশিয়ার স্থলসীমান্ত রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে এস্তোনিয়া ও বাল্টিক অঞ্চলের অন্যান্য দেশ নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে। রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ডকে তারা সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে। এস্তোনিয়া ইউক্রেনের অন্যতম শক্তিশালী ইউরোপীয় সমর্থক। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছে দেশটি।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%