ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাঁদপুরের যমজ বোনের কৃতিত্ব


চাঁদপুরের যমজ বোনের কৃতিত্ব

চাঁদপুরের যমজ বোন এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এই সাফল্য পৃথক দুটি বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়ে এসেছে।

যমজ দুই বোনের একজনের নাম নাহিয়ান এবং অপর বোন তাসনুবা। তাদের ফলাফলে পরিবারে আনন্দ বিরাজ করছে।

তাদের বাবা আবুল বারাকাত লিজন পাটোয়ারী একজন ব্যবসায়ী এবং মা নিগার পিংকি গৃহিণী। নাহিয়ান তাসনিম চাঁদপুর শহরের কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে, আর তাসনুবা নুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে।

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে লালন সাঁইজির ১৩৬তম তিরোধান দিবসে সাধুসঙ্গ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নাহিয়ান তাসনিম বলেন, "আমরা দুই বোন সবসময় মা-বাবার কথামত আচরণ করেছি। পড়ালেখার প্রয়োজন ছাড়া আমরা তেমন বাইরে যেতাম না।"

অপরদিকে, তাসনুবা নুর এ সাফল্যের পেছনে পরিবারের সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে জানান, "বাবা-মা যেভাবে আমাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে, এজন্যই আমরা ভালো ফল করতে পেরেছি। বিশেষ করে মা এখনো আমাদের মোবাইল কিনে দেননি। ফুফু একটি ট্যাব দিয়েছিলেন, সেটিও আম্মু আলমারিতে রেখেছেন। এর ফলে আমরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পেরেছি।"

দুই বোনের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন প্রকৌশলী হওয়ার। তাদের মা, নিগার পিংকি, বলেন, "আমি সবসময় মেয়েদের পাশে থেকে সাহস ও উৎসাহ জুগিয়েছি। দুজনের বিষয়ে সবসময় চিন্তায় থাকতাম যেন তারা ভালো ফল করে। তাই কখনো তাদের মোবাইল ফোন দেননি।"

তাদের সাফল্যের পেছনে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বড় বলে মন্তব্য করেন বাবা আবুল বারাকাত। এরপর আসে তাদের মায়ের অবদান। দুজনকে পৃথক স্কুলে নিয়ে যাওয়ার এবং পড়াশোনায় কিছুটা কষ্ট হয়েছে। তবে ভালো ফলাফলে সেই কষ্ট সার্থক প্রমাণিত হয়েছে। দুই বোন শহরের খ্যাতনামা রাজনীতিবিদ মরহুম লুৎফর রহমান পাটওয়ারীর নাতনি।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুব জমিয়তের নতুন কমিটি, সভাপতি ইসহাক সম্পাদক চৌধুরী নাসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৮ এম


যুব জমিয়তের নতুন কমিটি, সভাপতি ইসহাক সম্পাদক চৌধুরী নাসির

যুব জমিয়ত বাংলাদেশের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে মাওলানা ইসহাক কামাল, সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা সোলাইমান মাদানী এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা চৌধুরী নাসির আহমদ নির্বাচিত হয়েছেন।

এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মাওলানা আতাউর রহমান নিয়োগ লাভ করেছেন। একইসঙ্গে সংগঠনটির ৬১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও কাউন্সিলে এই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কমিটি ঘোষণা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন যুব জমিয়তের সভাপতি মাওলানা তাফহীমুল হক। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মাওলানা সুলাইমান মাদানী ও মাওলানা চৌধুরী নাসির আহমদ।

প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। তিনি বলেন, ‘ইলমে ওহী সংরক্ষণ ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রথম দায়িত্ব।’

ব্যক্তিগত জীবনে দ্বীনদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতির জন্য দ্বীনের হালাল-হারাম বিসর্জন দেওয়া যাবে না এবং বাতিলের সঙ্গে আপস করা হবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, যুব জমিয়ত শুধুমাত্র ওলামায়ে কেরামের সংগঠন নয়; বরং আলেমদের নেতৃত্বে ব্যবসায়ী, তরুণ ও সাধারণ দ্বীনদার মানুষদেরকে সম্পৃক্ত করে জেলা, উপজেলা ও ইউনিট পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।

সম্মেলনে উপস্থিত আরও বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী। তিনি বলেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের শহীদদের অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে।

তিনি বৈষম্য, জুলুম ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের আহ্বান জানান এবং দেশে নতুন করে স্বৈরতন্ত্র ফিরে আসার আশঙ্কা নাকচ করার দাবি জানান।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ, মাওলানা মতিউর রহমান গাজীপুরী, মাওলানা আব্দুল মালেক চৌধুরী, সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি নাসিরুদ্দিন খান, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মুফতি মাহবুবুল আলম, দফতর সম্পাদক মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম, মাওলানা মোস্তফা মাহমুদী, ছাত্র জমিয়তের সাবেক সভাপতি মুফতি এখলাসুর রহমান রিয়াদ এবং ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাস সংকটের অজুহাতে কাপ্তাই সড়কে ভাড়ার নৈরাজ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩০ এম


গ্যাস সংকটের অজুহাতে কাপ্তাই সড়কে ভাড়ার নৈরাজ্য

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা থেকে জেলা শহরে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান সড়ক কাপ্তাই সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, নির্ধারিত ভাড়া তালিকা কার্যকর না থাকায় বিভিন্ন স্টেশনে চালকেরা নিজেদের মতো করে ভাড়া আদায় করছেন।

গ্যাসের সংকট ও দাম বাড়ার অজুহাতে কিছু কিছু স্থানে যাত্রী ওঠানামার ভাড়া ২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান পর্যন্ত যাত্রী চলাচলও বেশি। তাই সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টে সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী পরিবহণের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্টেশন থেকে যাত্রী ওঠানামার সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত বেশিদিন কার্যকর থাকে না। কিছুদিন পর চালকরা ১০ টাকা করে নেওয়া শুরু করেন। বর্তমানে গ্যাসের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে কোথাও কোথাও ওই ভাড়া ২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিয়মিত যাতায়াতকারী কয়েকজন যাত্রী বলেন, একই সড়কে একেক জায়গায় একেক ধরনের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। বাড়তি ভাড়া দিতে আপত্তি জানালে কোনো কোনো চালকের সঙ্গে যাত্রীদের বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। কখনো কখনো দুর্ব্যবহারেরও শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাহাবুব হোসেন নামে একজন নিয়মিত যাত্রী বলেন, প্রতিদিন একই পথে যাতায়াত করতে হয়; কিন্তু ভাড়া কত হবে, সেই বিষয় নিশ্চিত হওয়া দুষ্কর। অল্প দূরত্বের জন্যও বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে। ভাড়া নিয়ে কথা বলতে গেলে অনেক সময় চালকের সঙ্গে তর্কে জড়াতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন পয়েন্টে যেমন চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান, মরিয়মনগর, রোয়াজার হাট, গোডাউন, গোচরা, শান্তির হাট ও পাহাড়তলী ইত্যাদিতে ভাড়া নিয়ে আলাদা আলাদা নিয়ম চালু রয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসনের নির্ধারিত একটি ভাড়া তালিকা না থাকায় এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছেন কিছু চালক ও পরিবহণসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, অতীতেও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সিএনজি ভাড়া নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়েছিল। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সিএনজি মালিক-চালক কমিটি এবং স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা করে সর্বনিম্ন ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের সম্মতি দেওয়া হয়েছিল; তবে পরে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সিএনজি চালকদের দাবি, যদি শুধু যাত্রীদের দিকটি বিবেচনা করা হয় তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না। গ্যাসের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি, গাড়ির যন্ত্রাংশ এবং মেরামত খরচ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত খরচের কারণে তাদের পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। ফলে পুরোনো ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে দৈনিক আয়-ব্যয়ের হিসাব মেলানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

এছাড়া একজন সিএনজিচালক বলেন, গ্যাসের জন্য অনেক সময় অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এতে গাড়ি চালানোর সময় কমে যায় এবং আয়ও কমে যায়। আবার গ্যাস, যন্ত্রাংশ এবং মেরামতের খরচ বেড়েছে। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো ভাড়া নেওয়াও ঠিক নয়। প্রশাসন চালক এবং যাত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি ভাড়া নির্ধারণ করলে তারা তা মেনে চলবেন।

ভাড়া নিয়ে চলমান বিরোধ নিরসনে দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন যাত্রী এবং স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। তাদের মতে, যাত্রী ও চালক উভয়ের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করা দরকার। পাশাপাশি প্রতিটি স্টেশনে সেই ভাড়ার তালিকা প্রকাশ্যে টাঙিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

তারা আরও জানিয়েছেন, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পেলে নিয়মিত তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে যাত্রী হয়রানি কমবে, এবং চালকদের সঙ্গেও অযথা বিরোধ এড়ানো সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেছেন, সিএনজি ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। চালকেরা নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে পারবেন না। যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবসম্মত ভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্যাস ও যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় বিবেচনা করা হবে। কেউ ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ করতে পারবেন না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার পাওয়ার অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল জানিয়েছেন, কাপ্তাই সড়কে সিএনজির ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের এই অনিয়ম বন্ধ করতে দ্রুত একটি নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক ভাড়া তালিকা প্রণয়ন করে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি ভাড়া আদায়ের অনিয়ম বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যে কাবা দেখার আকাঙ্ক্ষায় ছুটে গেলেন মক্কায়, সেই কাবার সামনেই মৃত্যু!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৩ এম


যে কাবা দেখার আকাঙ্ক্ষায় ছুটে গেলেন মক্কায়, সেই কাবার সামনেই মৃত্যু!

মাত্র চার দিন আগে হঠাৎ আবদুল লতিফের মনে হলো—আল্লাহর ঘর একবার নিজ চোখে দেখবেন। এই দৃঢ় আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি দ্রুত সব প্রস্তুতি গ্রহণ করে ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পাড়ি জমালেন পবিত্র মক্কার পথে। অবশেষে বহু কাঙ্ক্ষিত কাবা শরিফের দেখা পেলেন, কিন্তু আর ফিরে যাওয়ার সৌভাগ্য হলো না।

পবিত্র কাবার দিকে তাকিয়ে ‘আল্লাহু আকবার’ ও ইস্তিগফার পড়তে পড়তে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের হাজি আবদুল লতিফ, যিনি ‘বাও’ নামেও পরিচিত।

হৃদয়স্পর্শী এই ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১২ আগস্ট) ভোরে মসজিদুল হারামে। আবদুল লতিফ ফয়সালাবাদের লায়লপুর কলোনির লাল মিলস চকের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি বেসরকারি স্কুলগুলোতে বই সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে হঠাৎ আবদুল লতিফ ওমরা পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর ছেলে আরসালানকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত ওমরা ভিসার জন্য পাসপোর্ট জমা দেন তিনি।

১১ আগস্ট ফয়সালাবাদ বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন বাবা-ছেলে। প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্বের পর বিমানটি রাতে জেদ্দায় পৌঁছায়। সেখান থেকে তারা মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করেন।

জেদ্দা থেকে মক্কার পথে বারবার সময় দেখছিলেন আবদুল লতিফ। যত দ্রুত সম্ভব মক্কায় পৌঁছানোর জন্য চালককেও অনুরোধ করছিলেন। ছেলে আরসালানকে তিনি বলছিলেন, ‘আমার শরীর একদম ভালো আছে। শুধু আল্লাহর ঘরটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেখতে চাই।’

বিশ্রাম নয়, ছুটলেন হারামের পথে। বুধবার ভোরে তাহাজ্জুদের সময় তারা মক্কার হোটেলে পৌঁছান। দীর্ঘ সফরের ক্লান্তি থাকলেও বিশ্রাম নিতে রাজি হননি আবদুল লতিফ। বরং ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত মসজিদুল হারামে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন।

আরসালানের ভাষ্য অনুযায়ী, হারাম শরিফে পৌঁছানোর পর বাবার অস্থিরতা আরও বেড়ে যায়। তিনি উচ্চস্বরে কালেমা ও ইস্তিগফার পড়ছিলেন। শরীর ঘামে ভিজে যাচ্ছিল। যেন বহুদিনের লালিত সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের মুহূর্তটির জন্য তার হৃদয় ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল।

অবশেষে মাতাফে পৌঁছে প্রথমবারের মতো নিজের চোখের সামনে পবিত্র কাবা শরিফ দেখতে পান আবদুল লতিফ। কাবার দিকে তাকিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তখনও তার মুখে ছিল ‘আল্লাহু আকবার’ ও ইস্তিগফার।

একপর্যায়ে তিনি বসে পড়েন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ঘটনাস্থলে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত তার কাছে ছুটে আসেন। শুরু হয় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও উদ্ধার তৎপরতা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

চার দিন আগে যে কাবা দেখার আকাঙ্ক্ষা তাকে ঘর থেকে বের করে এনেছিল, সেই কাবার সামনেই শেষ হলো তার জীবনের সফর।

ওমরা আদায় করে দেশে ফেরার সুযোগ হয়নি। তবে জীবনের শেষ আকাঙ্ক্ষা—আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ নিজের চোখে দেখা—পূরণ করেই দুনিয়ার সফর শেষ করলেন আবদুল লতিফ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রেপ্তার সাবেক দুই চীনা সামরিক কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ এম


গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ায় গ্রেপ্তার সাবেক দুই চীনা সামরিক কর্মকর্তা

দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সাবেক দুই চীনা সামরিক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে।

তাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক যোগাযোগে আড়িপাতা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃতি দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৬০ বছরের কোঠায় থাকা এক চীনা নাগরিক এবং সাবেক পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) সদস্য ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে একাধিকবার দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবেশ করেন পর্যটন ভিসায়।

তিনি দক্ষিণাঞ্চলীয় গুনসানের একটি বিমানবন্দরের কাছে একটি হোটেলে অবস্থান করে বিশেষ যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে যুদ্ধবিমান এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারের মধ্যে যোগাযোগে আড়ি পাততেন।

পুলিশের দাবি, তার অবস্থান এবং কার্যক্রমের সময় দক্ষিণ কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত বিমান মহড়ার সময়ের সঙ্গে মেলে।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, বিমান যোগাযোগ শুনে তিনি শখ পালন করতেন। তবুও পুলিশ তদন্ত করছে, এসব তথ্য চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে কিনা।

অন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তি ৪৫ বছর বয়সী চীনা নাগরিক এবং সাবেক পিএলএ কর্মকর্তা।

তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংটেকে অবস্থিত ক্যাম্প হামফ্রিসের কাছে একটি মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের দোকান পরিচালনা করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি ঘাঁটিতে কর্মরত একজন দক্ষিণ কোরীয় নারীকে কাজে লাগিয়ে যৌথ সামরিক মহড়া, সেনা চলাচল এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন।

দুই সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে শত্রুকে সহায়তা, সামরিক তথ্য সুরক্ষা এবং যোগাযোগের গোপনীয়তা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ কোরিয়ায় চীনা সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্যদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া অস্বাভাবিক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%