ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অবশেষে মুখ খুললেন এমপি গাজী নজরুল


অবশেষে মুখ খুললেন এমপি গাজী নজরুল

দল থেকে বহিষ্কারের দুই মাস পর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী মো. নজরুল ইসলাম নিজেকে এখনও এমপি হিসেবে দাবি করেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের। অন্যদিকে, জামায়াতের দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, তিনি বহিষ্কারের পর আর জামায়াতের সদস্য নন।

৭৫ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্য, যিনি সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত, গণমাধ্যমের কাছে বলেন, "আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে সদস্যপদ আল্লাহর রহমতে এখনো আছে। খাতা-কলমে সব জায়গায় আমি জামায়াতের সদস্য হিসেবেই আছি।" তিনি আরও জানান, দল তার বিষয়ে কী বলেছে, তা তার জানা নেই।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইজ্জতুল্লাহ জানান, "বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।"

আরও পড়ুন: রাজধানীতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের প্রাণহানি

এছাড়া, দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, "আমরা তাকে দল থেকে বহিষ্কার করার পর স্পিকার ও ইলেকশন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি।"

গাজী মো. নজরুল ইসলামকে গত ২২ জুলাই নৈতিক স্খলনের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করে, যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। পরে, তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়।

দল থেকে বহিষ্কারের পর, জাতীয় সংসদে তার সদস্যপদ বহাল থাকবে কিনা অথবা তিনি স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে গণ্য হবেন কিনা, এই বিষয়টি এখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে জামায়াতের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে, স্পিকার কিংবা নির্বাচন কমিশন থেকে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর পুলিশের গাড়িতে হামলা ও বাসে আগুন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুপেয় পানি থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়: প্রতিমন্ত্রী সাকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


সুপেয় পানি থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়: প্রতিমন্ত্রী সাকি

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এমপি বলেছেন, দেশের সকল মানুষের কাছে নিরাপদ ও সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের একটি অংশ। সরকার কাজ করছে যাতে কেউ নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত না হয়।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ভাসিয়ানি-কৃষ্টপুর এলাকায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের আওতায় পানির উৎস স্থাপন কাজ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন। পরিদর্শনের পর তিনি উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী ভাসিয়ালি-কৃষ্টপুর এলাকার আব্দুর রহমানের বাড়িতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে স্থাপিত একটি গভীর নলকূপ পরিদর্শন করেন। তিনি গভীর নলকূপের কার্যক্রম ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে নিরাপদ পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শোনেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানিকগঞ্জ জেলায় এ প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো মানুষ যেন বাদ না পড়ে, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের চাহিদা ও প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। যেসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে, সেসব এলাকায় অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পানি সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো মানুষ বা কোনো এলাকা যেন বাদ না পড়ে, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে হবে।

পরিদর্শন ও মতবিনিময়কালে ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ প্রকল্পের পরিচালক মো. হানিফ, উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. খায়রুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মানিকগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী ফাতিমা ফেরদৌস, সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম, সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন, বিএনপি নেতা আব্দুল কুদ্দুস খান মাখনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজধানীতে কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট, ভোগান্তিতে ক্রেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


রাজধানীতে কাটছে না সয়াবিন তেলের সংকট, ভোগান্তিতে ক্রেতারা

রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট এখনও কাটেনি। দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও অনেক মুদি দোকানে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু দোকানে ২ বা ৫ লিটারের বোতল পাওয়া গেলেও আধা লিটার ও এক লিটারের বোতল নেই বললেই চলে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার পরিদর্শন করে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

খুচরা বিক্রেতা ও তেলের পাইকারি সরবরাহকারীদের মতে, গত ২ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি করেছে কোম্পানিগুলো। কিন্তু তারপরও তারা সরবরাহ স্বাভাবিক করেনি। মূলত, বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে কম পরিমাণে ছাড়ছে ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো।

বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের তীব্র সংকটের কারণে সাধারণ ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে অনেক বিক্রেতা এখন খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি শুরু করেছেন।

তেল কেনার জন্য ক্রেতাদের ৪-৫টি দোকান ঘুরে একটিতে তেল পাওয়া যাচ্ছে, তাও কাঙ্খিত পরিমাণের বোতল মিলছে না।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, বাজারে সয়াবিনের আধা লিটার ও এক লিটার বোতলের সরবরাহ একেবারেই নেই। পরিবেশকদের কাছে বারবার তাগাদা দিয়েও তারা তেল পাচ্ছেন না। বর্তমানে শুধুমাত্র দু-তিনটি কোম্পানি বোতলজাত সয়াবিন তেল বাজারে ছাড়ছে, যা চাহিদার তুলনায় সামান্য। তাও ২ ও ৫ লিটারের বোতলে।

বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এখন প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ২০৪ টাকা। অর্থাৎ, ২ লিটার তেল কিনতে ক্রেতাকে একসঙ্গে গুনতে হচ্ছে ৪০৮ টাকা এবং পাঁচ লিটার তেলের জন্য ১০২০ টাকা।

অন্যদিকে, খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, তেল কোম্পানিগুলো তাদের বিক্রির কমিশন একবারে কমিয়ে দিয়েছে। এখন প্রতি লিটারে মাত্র এক টাকা কমিশন দেওয়া হচ্ছে।

রামপুরা এলাকার ভাই ভাই স্টোরের দোকানি আফজাল হোসেন বলেন, ৫ লিটার তেল কিনলে মানুষ ৫-১০ টাকা কম দিতে চায়। এখন আমাদের মুনাফা ৫ টাকা। অর্থাৎ, হাজার টাকা ইনভেস্ট করে লাভ হচ্ছে ৫ টাকা। তাও কোম্পানি তেল দিচ্ছে না। সবাইকে জিম্মি করে রেখেছে।

এদিকে, বোতলজাত তেলের সংকটে খোলা তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে। প্রতি লিটার সয়াবিন এখন ২০৫-২০৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া, পাম তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা দরে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজা যুদ্ধের বাস্তবতা নিয়ে তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ঘিরে ইসরায়েলে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


গাজা যুদ্ধের বাস্তবতা নিয়ে তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ঘিরে ইসরায়েলে বিতর্ক

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিভিন্ন দিক নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ (NAZA) ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বিশেষ জুরি পুরস্কার পাওয়ার পর ইসরায়েলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। ছবিটির নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র‌্যাচেল সোরের বিরুদ্ধে সরকারি পর্যায় থেকে কঠোর পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।

এই তথ্যচিত্রটি গাজায় সামরিক হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ ও বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে ২৪ জন ইসরায়েলি সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার বেনামি সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। ছবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ এবং বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা জানা থাকা সত্ত্বেও কিছু হামলা অনুমোদনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এসব অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

১০ সেপ্টেম্বর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১২ সেপ্টেম্বর ছবিটি বিশেষ জুরি পুরস্কার লাভ করে। প্রদর্শনের পর প্রায় ২৫ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে অভিবাদন পাওয়ার খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

পুরস্কার পাওয়ার পর ইসরায়েলে ছবিটি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া আরও তীব্র হয়ে ওঠে। দেশটির সংস্কৃতিমন্ত্রী মিকি জোহার নির্মাতাদের ইসরায়েলি নাগরিকত্ব বাতিলের আহ্বান জানান এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও ছবিটির সমালোচনা করেন।

এদিকে, ছবিটির নির্মাতারা ইসরায়েলেই ‘নাজা’ প্রদর্শনের চেষ্টা করছেন। ইউভাল আব্রাহাম জানিয়েছেন, ছবিটি ইসরায়েলি দর্শকদের জন্য দেখানো গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে ছবিটির সাংবাদিকতার মান, বেনামি সূত্রের ব্যবহার এবং এতে উপস্থাপিত অভিযোগ যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

আল জাজিরার বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধে লেখক ইয়েহুদা শেনহাভ-শাহরাবানি যুক্তি দিয়েছেন, ইসরায়েলি সমাজের একটি অংশ ছবিটির বিষয়বস্তু দেখার আগেই তা প্রত্যাখ্যান করছে। তাঁর মতে, গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ ধারাবাহিকতার কারণে অনেক ইসরায়েলি নতুন সমালোচনাকেও বিদেশি চাপ বা ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণা হিসেবে দেখছেন।

নিবন্ধটিতে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সেখানে সাংবাদিক রাভিভ দ্রুকারের সঙ্গে ইউভাল আব্রাহামের একটি সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ছবিতে উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কেন আরও হয়নি, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে ছবিটির সাংবাদিকতার মান ও নির্মাতাদের উদ্দেশ্য নিয়ে ইসরায়েলি সাংবাদিকদের একাংশের সমালোচনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ‘নাজা’ নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা অনেক অভিযোগ এর আগে বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের লক্ষ্য নির্ধারণ ও বেসামরিক হতাহতের বিষয়ে আগে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনগুলোর ওপরও ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে।

ছবিটির নাম ‘নাজা’ ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত একটি পরিভাষা থেকে নেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাব্য হামলায় বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহৃত হয় বলে ছবিটির নির্মাতা ও উৎসগুলো জানিয়েছেন। তথ্যচিত্রটির প্রদর্শনী এখন ইসরায়েলের বাইরেও অব্যাহত রয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে নিউইয়র্ক চলচ্চিত্র উৎসবেও ছবিটির উত্তর আমেরিকা প্রিমিয়ার হওয়ার কথা রয়েছে।

আল জাজিরার ওই বিশ্লেষণে মূলত যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ‘নাজা’ নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া শুধু একটি চলচ্চিত্রের বিতর্ক নয়; বরং গাজা যুদ্ধের সামরিক কর্মকাণ্ড, বেসামরিক হতাহত এবং এসব নিয়ে আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি সমাজের একটি অংশ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, সেটিও এর মাধ্যমে সামনে এসেছে। এটি লেখকের বিশ্লেষণ, সর্বজনীনভাবে প্রতিষ্ঠিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভরা মৌসুমেও পদ্মা-যমুনায় ইলিশের সংকট, হতাশ জেলেরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৮ পি.এম


ভরা মৌসুমেও পদ্মা-যমুনায় ইলিশের সংকট, হতাশ জেলেরা

এবার ইলিশের ভরা মৌসুমেও পদ্মা-যমুনা নদীতে কাঙ্খিত ইলিশের দেখা মিলছে না। নদীতে জাল ফেলে হতাশ হয়ে ফিরছেন জেলেরা। দাদনের বেড়া জালে চিন্তিত দরিদ্র জেলেরা। ভাদ্র-আশ্বিন এই দুই মাস ইলিশের ভরা মৌসুম হিসেবে পরিচিত। এ সময় জেলের জালে ঝাকে ঝাকে চকচকে রূপালী ইলিশ ধরা পড়ার কথা। মাছের আড়তগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় সরগরম হয়ে উঠার কথা ছিল।

কিন্তু এ বছর আরিচা ঘাটের যমুনা নদীর তীরে মাছের আড়তে ইলিশের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। স্থানীয় বাজারগুলোতেও ইলিশের চরম সংকট চলছে এবং দামও অনেক চড়া। যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কাঙ্খিত ইলিশ না পাওয়ায় জেলেরা দিন-রাত নদী চষে বেড়ালেও তাদের জ্বালানি খরচ উঠছে না। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তারা। পদ্মা-যমুনার তীরবর্তী মাছের আড়তগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন আরিচা ঘাটের আড়তদার ও পদ্মা-যমুনা মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত জেলেরা।

ইলিশের এমন সংকটের পেছনে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, নদী ভরাট হয়ে গভীরতা কমে যাওয়া, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে নির্বিচারে মাছ ধরা, নদীর তলদেশে খাদ্য সংকট এবং নদীর পানি দূষণসহ অন্যান্য কারণে ইলিশের সংকট দেখা দিয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বর্ষাকাল চলছে। পদ্মা-যমুনায় পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। নদীতে মাছ শিকারি জেলে নৌকার আনাগোনা রয়েছে। কিন্তু এ দৃশ্যের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে দীর্ঘশ্বাস এবং হতাশার কালো মেঘ। কারণ ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে কাঙ্খিত চকচকে রূপালী ইলিশ উঠছে না। দিন-রাত নদীতে জাল ফেলে ইলিশের দেখা মিলছে না। এতে জেলেদের জ্বালানি খরচসহ খোরাকিই উঠছে না। হতাশায় হাবু-ডুবু খাচ্ছেন ঋণগ্রস্থ্য জেলেরা।

এদিকে মৌসুমের শুরুতেই মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়েছিলেন যেসব জেলেরা, তাদের ঋণের বোঝা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এ প্রতিনিধিকে এমন তথ্যই জানিয়েছেন শিবালয় উপজেলার পদ্মা-যমুনায় মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত জেলেরা।

শুক্রবার সকালে আরিচা ঘাটের আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, পদ্মা-যমুনার অল্প কিছু মাছ উঠেছে। কাক ডাকা ভোরে জেলেদের নৌকা তীরে এসে ভীড়া দেখে আড়তদাররা আশায় বুক বাঁধেন। কিন্তু নদীতে টানা ১০-১২ ঘণ্টা জাল ফেলে দু’/একজন ১/২টি ইলিশ মাছ নিয়ে আসেন। বাকীরা কেউ শূন্য হাতে ফিরেন, না হয় অন্য মাছ নিয়ে আসেন। একটি জেলে নৌকায় ৩ থেকে ৫ জনের একটি টিম থাকে। এতে অনেক খরচ হয়। এর মধ্যে জ্বালানিসহ অন্যান্য খরচ তুলতে জেলেরা আড়তে এনে ইলিশ মাছের চড়া দাম হাঁকেন। চড়া দামে মাছ ক্রয়ের পরে পাইকাররাও চড়া দামে কিনে নিয়ে আবার চড়াদামেই বিক্রি করেন সাধারণ মানুষের কাছে।

আরিচা ঘাটের আড়ৎদারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গতবছর ১ কেজি ইলিশের দাম ছিল ১ হাজার টাকা। বর্তমানে সেই একই ইলিশের দাম ২৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুদিন আগে পদ্মা-যমুনার প্রতি কেজি ইলিশ ৩৮শ’ থেকে ৪হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে।

শিবালয় উপজেলা মৎস্য বিভাগের তথ্যমতে, শিবালয়ের জাফরগঞ্জ পাল পাড়া থেকে বাল্লা মালুচি পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের বিশেষ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বর্ষার এ সময় শিবালয় উপজেলার পদ্মা-যমুনার উক্ত এলাকাজুড়ে ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। উপজেলায় নিবন্ধিত কার্ডধারী জেলে রয়েছে ৪ হাজার ২শ’ জন এবং এর বাইরেও আরো অনেক জেলে রয়েছে। শিবালয়ে পর্যাপ্ত মাছের চাহিদা থাকলেও উৎপাদন অনেক কম। গত ২০২৪ -২০২৫ অর্থ বছরে শিবালয় উপজেলায় ৪শ’ ৯৯ মেট্রিন টন ইলিশ মাছ উৎপাদন হয়েছে। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বছরে দুইবার জেলেদের খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়ে থাকে। গত অর্থবছরে মা ইলিশ সংরক্ষণের সময় ২ হাজার ১শ ১৪ জন জেলে পরিবারকে মাসে ২৫ কেজি করে দুই মাসের খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ঝাটকা সংরক্ষণের সময় ৬শ’ ৫০জন জেলে পরিবারকে প্রতি পরিবারকে ৮০কেজি করে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। এছাড়া, এসব জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যে প্রকল্পের মাধ্যমে গরু, বাছুরসহ বিভিন্ন ধরনের উপকরণ দেওয়া হয়েছে। এ বছর ইলিশ উৎপাদন কমে যাওয়ার পিছনে প্রয়োজনের তুলনায় নদীর নাব্যতা কম, পানি দূষণ, অবৈধ জাল ব্যবহার, অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং জলবায়ু পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য কারণ। নদীর নাব্যতা সংকট এবং ইলিশের খাদ্যের অভাবও মাছের উপর প্রভাব ফেলছে।

শিবালয় উপজেলার আরিচা ঘাট এলাকার আড়তদার হাজী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ইলিশ গভীর পানির মাছ। স্রোতের বিপরীতে এরা চলে। নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে পদ্মা-যমুনায় দিন দিন ইলিশের বিচরণ কমে যাচ্ছে। ইলিশ শূন্য হয়ে পড়ছে পদ্মা-যমুনা। এতে অনেক আড়তদারদেরও বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকের আড়ত বন্ধ হয়ে গেছে আবার অনেক আড়ত বন্ধ হওয়ার পথে। এই আড়তে আগে অনেক বেচাকেনা হতো, সেই তুলনায় এখন বেচাকেনা নেই বললেই চলে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে তা সবার কল্পনার বাইরে ছিল। জেলেদের জালে যেই ইলিশ ধরা পড়ছে, তা বিক্রি করে আড়তের ঋণ পরিশোধ করার সামর্থ্য তাদের নেই। নদীতে এমন ইলিশ শুন্য থাকলে অনেক পরিবারের পথে বসা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না।

চৌহালির জেলে ইউসুফ আলী বলেন, আমরা নৌকায় ৬ জন জেলে মিলে নদীতে দিনরাত মাছ ধরি। প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পরিশ্রম করে ইলিশ পাই ২ থেকে ৩ হাজার টাকার, কিন্তু আমাদের খরচ হয় তার থেকে অনেক বেশি। গত বছরের তুলনায় এই বছর নদীতে ইলিশ নেই বললেই চলে। গতবার নদীতে এক খেও দিলেই ১০-১২ হাজার টাকার ইলিশ পেতাম। এবছর তিন খেও দিলেও ১০ হাজার টাকার ইলিশ পাই না। দুই তিন বছর আগেও ইলিশের এ মৌসুমে ৩-৪ লাখ টাকা ইলিশ বিক্রি করতে পেরেছি, কিন্তু এবার প্রতিদিনের খরচ উঠানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। আড়তদার থেকে হাজার হাজার টাকার দাদন নিয়ে নদীতে নেমেছি, এখন এই দাদনের টাকা কিভাবে পরিশোধ করব, এই চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

আরিচা অঞ্চলের যমুনার জেলে অজিত হলদার বলেন, ভোর থেকে আমরা পাঁচজন জেলে এই দুপুর পর্যন্ত পরিশ্রম করে ছোট সাইজের ২টি ইলিশ পেয়েছি। বিক্রি করেছি ৪ হাজার টাকা। এতে আমাদের জ্বালানি খরচও ওঠেনি। বাড়িতে চাল-ডাল এখন কষ্ট করে কিনতে হয়। কীভাবে সামনে দিনে চলবে, তা ভাবলে ঘুম আসে না।

শিবালয় উপজেলার ছোটবোয়ালী গ্রামের জেলে প্রেমো হলদার বলেন, গতবছর দুই মাসে প্রতি নৌকায় ৩-৪ লাখ টাকা করে কামাই হয়েছিল। সেই তুলনায় এবছর নদীতে ইলিশ মাছ একবারেই নেই। এজন্যই আমাদের জেলেদের না খেয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নাই। কিন্তু আমরা রাত দিন ২৪ ঘণ্টা নদীতে মাছ ধরে সকালে আড়তে এসে মাছ বিক্রি করি ৩-৪ হাজার টাকা। এইজন্য অনেক জেলে মাছ ধরতে আসে না, অন্য কাজে চলে যাচ্ছে। এবছর দাদনের টাকাও পরিশোধ করতে পারবো না। ইঞ্জিন এবং নৌকার খরচ উঠানোই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির বলেন, ইলিশ আসলে সমুদ্রের গভীর পানির মাছ। ইলিশ এই বর্ষা মৌসুমে ডিম ছাড়ার জন্য পদ্মা-যমুনায় আসে। কিন্তু ফারাক্কা বাধের কারণে নদীতে নাব্যতা সংকটে নদীর গভীরতা কমে গেছে। এছাড়া নদীতে অপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং নদীতে অসংখ্য ডুবোচর আছে। এতে নাব্যতা একেবারেই কমে গিয়ে গতিপথ দিন দিন পরিবর্তন হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের একটি ব্যাপার আছে। এছাড়া নদী দূষণ, পলিশন, কারেন্ট জাল দিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরা এবং নিষেধাজ্ঞার সময় অসাধু জেলেদের মাছ ধরাসহ নানাবিধ কারণে ইলিশ মাছ কমে যাচ্ছে। তবে এখনও যে সময় আছে, তাতে ইলিশ নদীতে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%