মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৩ পি.এম
চট্টগ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে সাংগঠনিক সব পদ হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন জামায়াত নেতা মোহাম্মদ ইসমাইল। সম্প্রতি তাকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘সার্বিক দিক বিবেচনায় মহানগর সংগঠন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এদিকে, ইসমাইলকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তার স্ত্রীর মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ওই নারীর স্বামী। এ নিয়ে প্রবাসী ও তার স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইসমাইলের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করে ওই নারী প্রাণের ভয়ে ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর তাদের ডিভোর্স সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, ২০২৩ সাল থেকে ওই নারীর ব্যবহৃত ডিভাইসগুলো নজরদারিতে রেখেছিলেন তার সিঙ্গাপুরপ্রবাসী স্বামী। সেই প্রবাসীর আত্মীয়-স্বজনরা তাদের অনৈতিক সম্পর্কের যাবতীয় প্রমাণাদি মহানগর জামায়াতকে সরবরাহ করেন।
জামায়াতের দলীয় তদন্ত কমিটি সব অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের প্রতিবেদন মহানগরকে প্রদান করে। এর পর ৭ অক্টোবর ইসমাইলকে চান্দগাঁও থানা আমিরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ৮ অক্টোবর ইসমাইলের পরিবর্তে অধ্যাপক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানা আমিরের দায়িত্ব দেওয়া হয় জামায়াত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
এদিকে, ইসমাইল এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে নিজেকে নির্দোষ বলে উল্লেখ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের প্রস্তাব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এই বিষয়টির তদন্তের জন্য জেলা শিক্ষা দফতর একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট সদর উপজেলার বড়বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. সাদিকুল ইসলাম এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের নাম সরদার একরামুল করিম।
বিদ্যালয় ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক সরদার একরামুল করিমের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এক অভিভাবক। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১২ সালে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। সম্প্রতি তিনি এক শিক্ষার্থীকে নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে নিজের বাসায় যাওয়ার অনৈতিক প্রস্তাব দেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় সপ্তাহ আগে প্রধান শিক্ষক তাকে প্রশ্নপত্র দিয়ে বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন এবং মোবাইলে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পাঠান। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নৃপেন্দ্রনাথ রায় জানান, ওই শিক্ষার্থী বিষয়টি শিক্ষকদের জানালে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বলেন। পরে প্রধান শিক্ষকের পাঠানো আপত্তিকর বার্তা ও নগ্ন ছবির প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের বহু অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বড়বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সরদার একরামুল করিম তার বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. সাদিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমান সরকার জনগণের কষ্টার্জিত অর্থ অপচয় করে অযোগ্য তোষামোদকারী ও সুযোগসন্ধানীদের রাষ্ট্রীয় খরচে বিদেশ সফরের সুযোগ প্রদান করে দেশকে বিশ্বদরবারে হাস্যকর ও লজ্জিত করে তুলেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আজ পৃথিবীর মানচিত্রে অপমানিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
বক্তব্যে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ সরকারি খরচে বিদেশগামী প্রতিনিধিদলের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘টাকা খরচ করে তথাকথিত মিথ্যা সম্পাদক, সহকারী এবং তাদের আশপাশের তেলবাজদের বিদেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারা নিজেরাও জানে না কেন সেখানে যাচ্ছে! তারা দম্ভভরে বলছে—জীবনে প্রথম বিমানে উঠছি, জীবনে আর কী পাওয়ার আছে!’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আজ বিশ্ববাসীর সামনে একটি নির্লজ্জ ও হাস্যকর রাষ্ট্র হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে। আপনি তারেক রহমান, এই বাংলাদেশকে পৃথিবীর মানচিত্রে লজ্জিত ও অপমানিত করেছেন।’
তিনি অবিলম্বে রাষ্ট্রীয় অর্থের এমন অপচয় ও দলীয়করণ বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং যোগ্য ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের সম্মান সমুন্নত রাখার জন্য দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজীপুরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সময় টেলিভিশনের চিত্রসাংবাদিকের ওপর হামলা চালিয়ে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে জেলা শহরের শিববাড়ি মোড় এলাকায় সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার চিত্রসাংবাদিকের নাম মো. আরিফ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে একদিক থেকে মিছিল নিয়ে আসেন মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান রাজু এবং বিপরীত দিক থেকে নেতাকর্মীদের বহর নিয়ে আসেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান রেজা। যখন দুটি মিছিল শিববাড়ি মোড়ে এসে পৌঁছায়, তখন সামনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
এ ঘটনার একপর্যায়ে তা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় সময় টেলিভিশনের চিত্রসাংবাদিক মো. আরিফ সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন যুবদলের একদল কর্মী হঠাৎ করে তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে মারধর করে এবং ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেয়। যদিও পরবর্তীতে ক্যামেরাটি ফেরত দেয়া হয়, তবে ডিভাইসের মেমোরি কার্ড পাওয়া যায়নি।
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সংবাদকর্মীর ওপর এমন ন্যক্কারজনক হামলা ও ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গাজীপুরের সাংবাদিক সমাজ তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বিবির বাগিচা ডেমরা রোড এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহে জনতার গণপিটুনিতে ৩২ বছর বয়সী জনি নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী নিশাত মিয়া নামের আরেক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে যাত্রাবাড়ী থানাধীন বিবির বাগিচা ৪ নম্বর গেটের কাছে ডেমরা রোডে এই ঘটনা ঘটে।
যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সকালে কয়েকজন যুবক মিলে ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায়। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে গণধোলাই দেয়, বাকি দুজন পালিয়ে যায়। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই জনির মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ গুরুতর আহত অবস্থায় নিশাতকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে সেখানে পুলিশি পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশ জানায়, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর নিহত জনির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত জনি যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় মাতবর গলি এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। অন্যদিকে আটক ও আহত নিশাতের বাসা একই থানার কলাপট্টি এলাকায়; তার বাবার নাম মহসিন মিয়া। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ