সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২০ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেছেন যে, সরকার মেজরিটির ভূতে আক্রান্ত হয়েছে। একদলীয় কর্তৃত্ববাদী কায়দায় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল গঠন করে নিজেদের পছন্দের লোক দিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের আটকের অযৌক্তিক পথ থেকে সরকারকে ফিরে আসার জন্য তিনি আহ্বান জানান।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত ‘সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬: নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রণ নাকি বাকস্বাধীনতা দমন?’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই সেমিনারটির আয়োজন করে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অতীতে অনেক সরকার মেজরিটির জোরে ফ্যাসিবাদী হয়ে পড়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার ইতিহাস ভুলে গিয়ে মেজরিটির জোরে ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে উপেক্ষা করছে এবং গণরায় বাতিল করার চেষ্টা করছে।
সাইবার আইনের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ২০ বছরে আইসিটি আইন, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন, সাইবার সিকিউরিটি আইন, সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স এবং সর্বশেষ সাইবার প্রোটেকশন অ্যাক্টসহ আমরা সাইবার ইস্যুতে পঞ্চম স্তর অতিক্রম করছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা সাইবার প্রোটেকশন অর্ডিন্যান্স-২০২৫ আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত স্ট্যান্ডার্ডের দিক থেকে মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে অতিদ্রুত এতে নতুন কিছু ভয়াবহ সংশোধনী এনেছে। তিনি মাত্র ১০ দিনের মধ্যে জনগণের মতামত চাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে ‘মেজরিটির ভূত’ বলে অভিহিত করেন।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের ২৬ ও ৩৪ ধারায় মানহানি, গুজব, অসত্য, তল্লাশি ও জব্দের মতো পরিভাষার অসংগতির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক নেতা ও সাংবাদিকদের আটক ও সাজা দেওয়া হবে। অতীতে মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী ও মাওলানা নিজামীকে প্রথমে ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে পরে যুদ্ধাপরাধের মামলায় ফাঁসির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল স্পষ্টভাবে বলেন, আমাদের পরিষ্কার কথা—বর্তমান আইনই বহাল থাকুক, প্রস্তাবিত সমস্ত সংশোধনী প্রত্যাহার করুন। তা না হলে দেশের জনগণের ভাষা ও রাজপথের স্লোগান বুঝে সরকারের বোধোদয় হওয়া উচিত। অন্যথায় জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার কারণে সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবিত সাইবার প্রোটেকশন কাউন্সিলে মন্ত্রী ও সরকারি কর্তাব্যক্তিরা থাকলেও সেখানে কোনো সাংবাদিক প্রতিনিধি বা পার্লামেন্টের বিরোধী দলের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের অঙ্গীকার লঙ্ঘন করে একদলীয় কর্তৃত্ববাদী কায়দায় এই কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী ও আইন প্রণয়নের পাশাপাশি নৈতিকতা, আল্লাহর ভয় এবং নাগরিকদের নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দৈনিক সংগ্রামের সাবেক সম্পাদক, লেখক ও সাংবাদিক আবুল আসাদের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুজ্জামান রুমান।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি এলাহি নেওয়াজ খান সাজু, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম. আব্দুল্লাহ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ড. রেজাউল করিম, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাজমুন নাহার নিলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি কর্মচারীদের বহুদিনের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে স্কেলের সরকারি আদেশ বা গেজেট প্রকাশিত হয়েছে, তবে আনন্দের সঙ্গে কিছু চিন্তার ভাজও দেখা দিয়েছে। বেতন-ভাতার নতুন কাঠামো হাতে আসার পর কর্মচারীদের মনে একের পর এক নতুন প্রশ্ন দানা বাঁধছে। বিশেষত, গ্রেড পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়িভাড়া ভাতার অদ্ভুত হিসাব দেখে তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ।
কাগজে-কলমে পদোন্নতি পেয়ে ওপরের গ্রেডে উঠলে মূল বেতন বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু বাড়িভাড়ার হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে উলটো দৃশ্য— পকেটে আসা মোট টাকা যেন কমে যাওয়ার জোগাড়! নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রাজধানী ও বড় শহরগুলোর বাইরে অর্থাৎ দেশের অন্যান্য এলাকায় কর্মরত ১৬ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ৪৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা পাবেন। কিন্তু বিপত্তি বেঁধেছে এর ঠিক ওপরের ধাপে গিয়ে! ১০ থেকে ১৫তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এ বাড়িভাড়ার হার কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৩৫ শতাংশ।
এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য। যখন কোনো কর্মচারী ১৬তম গ্রেড থেকে পদোন্নতি পেয়ে ১৫তম গ্রেডে উঠছেন, তখন তার মূল বেতন সামান্য একটু বাড়লেও বাড়িভাড়ার হারের এই ১০ শতাংশ ব্যবধানের কারণে দিনশেষে তার ভাতার অংকটাই ছোট হয়ে আসছে। ফলে পদোন্নতির আনন্দ ফিকে হয়ে সেখানে স্থান করে নিচ্ছে একরাশ হতাশা।
নতুন পে স্কেলে ১৬তম গ্রেডের শুরুতেই মূল বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা। এর ৪৫ শতাংশ হিসাবে বাড়িভাড়া দাঁড়ায় ৯ হাজার ৮৫৫ টাকা। অন্যদিকে ১৫তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু ৩৫ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া হবে সাত হাজার ৯৮০ টাকা। অর্থাৎ ১৫তম গ্রেডে মূল বেতন ৯০০ টাকা বেশি হলেও বাড়িভাড়া কমে যাচ্ছে এক হাজার ৮৭৫ টাকা। ফলে শুধু মূল বেতন নয়, গ্রেড পরিবর্তনের পর মোট আর্থিক সুবিধার কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন কর্মচারীরা। তবে বাড়িভাড়ার এই হিসাব দিয়ে দুই গ্রেডের মোট বেতন-ভাতার চূড়ান্ত তুলনা করা যাবে না।
কারণ একজন কর্মচারীর মোট আর্থিক সুবিধার সঙ্গে চিকিৎসা, শিক্ষা, উৎসব, মোবাইলসহ বিভিন্ন প্রযোজ্য ভাতা যুক্ত থাকে। ফলে প্রকৃত আর্থিক পার্থক্য নির্ধারণে পুরো বেতন-ভাতা কাঠামো বিবেচনা করা প্রয়োজন। নতুন পে স্কেলের নিয়মকানুন ঘেঁটে বেরিয়ে আসছে আরও কিছু পরিবর্তনের খবর, যা নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চলছে জোর আলোচনা।
সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের একটি এসেছে বাংলা নববর্ষ ভাতার ক্ষেত্রে। এতদিন মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে এ উৎসব ভাতা দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোতে তা কমিয়ে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে এখনই এই কোপ পড়ছে না কর্মচারীদের পকেটে। গেজেটের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুরনো নিয়মেই অর্থাৎ ২০ শতাংশ হারেই বৈশাখী ভাতা মিলবে। আর কমানো এই ১৫ শতাংশের নতুন নিয়মটি কার্যকর করা হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
সন্তানদের লেখাপড়ার খরচের বাবদ যে ‘শিক্ষা সহায়ক ভাতা’ রাখা হয়েছে, তা নিয়েও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে কর্মচারীদের একাংশের মধ্যে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দুই সন্তানের জন্য মাসে মোট এক হাজার টাকা দেওয়া হবে। তবে বর্তমান যুগে আকাশছোঁয়া শিক্ষা খরচের রাজত্বে এ সামান্য টাকা কতটুকু স্বস্তি দেবে, তা নিয়ে কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন তুলছেন।
তবে সব খবরের মধ্যে একটি স্বস্তির বার্তাও এসেছে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে। আগে পদোন্নতি না পেয়ে একটানা ১০ বছর অপেক্ষা করার পর শর্তসাপেক্ষে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার যে নিয়ম ছিল, নতুন পে স্কেলে সেই সময়টা দুই বছর কমিয়ে আট বছরে আনা হয়েছে। অর্থাৎ, পদোন্নতি না হলেও যদি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা যায়, তবে আট বছর পার হলেই মিলবে উচ্চতর গ্রেড। তবে স্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে একটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে— এ উচ্চতর গ্রেড পাওয়াকে কোনোভাবেই নিয়মিত ‘পদোন্নতি’ হিসেবে গণ্য করা হবে না।
নতুন পে স্কেলে মোট ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০ টাকা। সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডে মূল বেতন এক লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুন বেতনের পুরো সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর হচ্ছে না। কাঠামোটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১০ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা নতুন মূল বেতনের বাড়তি অংশের ৫০ শতাংশ পাবেন। নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে এই হার ৪০ শতাংশ। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে পুরো বেতন কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আজ সোমবার সারা দেশের অন্তত ১৩টি সংগঠনের নেতারা নতুন পে স্কেলের বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে করণীয় নির্ধারণে বৈঠক ডেকেছেন। পরিষদের সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "এত দিন পরে একটি নতুন পে স্কেল পেলাম। সেটাতেও বৈষম্য। এই বৈষম্য আগেও ছিল। নতুন বেতন কাঠামোতেও থেকে গেল। যা আমাদের জন্য মেনে নেওয়া কষ্টসাধ্য এবং অসম্মানের।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর রাজধানীর পল্টন মডেল থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এই দিন কারাগার থেকে হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতেই গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর আবেদন জানান।
আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম বলেন, "হেলাল উদ্দিন ইতিমধ্যে সাতটি মামলায় জামিন পেয়েছেন।" এরপরও নতুন করে এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। তিনি জানান, সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া যাতে তাকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করা হয়, এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রুলসহ নির্দেশনা রয়েছে। তবে আদালত এসব আইনগত বিষয় আমলে না নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শুনানি শেষে আদালত পল্টন মডেল থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল ঢাকার একটি স্থান থেকে হেলাল উদ্দিন মিয়াজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন পল্টন মডেল থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্টন মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আবু সালেহ তাকে হত্যাচেষ্টার এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন আদালত।
মামলার অভিযোগ
২০২৫ সালের ২৯ এপ্রিল মুশফিকুর রহমান আবির বাদী হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯৮ জনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির মহাসমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু হয়। এর অংশ হিসেবে ওই বছরের ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের পক্ষ থেকে কলাবাগান এলাকায় প্রচারণা চালানো হয়।
এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, প্রচারণা শেষে বাসায় ফেরার পথে কলাবাগান লেক সার্কাস ১ নম্বর রোডের মাথা থেকে তাকে একটি গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করে অচেতন করা হয়। পরে হাজারীবাগের একটি ট্যানারি গোডাউনে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বাদীর বাবার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর ৫ ডিসেম্বর সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে বাদী জানতে পারেন, ওই ব্যক্তিরা মেয়র তাপসের সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য ছিলেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে আরো বলা হয়, বিএনপির সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে ৭ ডিসেম্বর সকাল থেকেই নয়াপল্টন এলাকায় স্লোগান ও প্রচারণা চলছিল। বাদীও সেখানে যোগ দেন। সমাবেশ পণ্ড করতে ওইদিন পুলিশ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা হামলা চালায় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় সমাবেশস্থলে গুলি, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদী আরো অভিযোগ করেন, ওই ঘটনায় তিনি আহত হয়ে ৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে কলাবাগানের বাসায় ফেরার পরদিন স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার বাসায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং তাকে মারধর করে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরো বলা হয়, পরে বাদীকে কলাবাগান থানার হাজতে নেওয়া হয়। সেখানে তার বাবার সঙ্গে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কথা বলেন এবং টাকা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন বাদী। পরদিন আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠান। পরে ২২ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্ত হন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। এতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় বিভাগের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের কার্যক্রম ও পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ সুদানের সীমান্তের কাছে পশ্চিম ইথিওপিয়ার গাম্বেলা অঞ্চলে সংঘর্ষের ফলে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু লোক আহত হয়েছে। এই তথ্যটি আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সহায়তা সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) প্রকাশ করেছে।
এমএসএফ জানিয়েছে, ১৮ সেপ্টেম্বর ইতাং স্পেশাল ওরেডায় সংঘর্ষের পর আহতদের চিকিৎসার জন্য গাম্বেলার কুলে অবস্থিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাদের চিকিৎসক ও কর্মীরা কাজ করছেন।
সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, শুক্রবারের সহিংসতার পর মোট ৮৮ জন রোগীকে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আটজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরে আরো চারজনের মৃত্যু হয়। এমএসএফের ইথিওপিয়া অপারেশন্স ম্যানেজার গুল বাদশাহ সংঘর্ষে জড়িত সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি একইসাথে বেসামরিক নাগরিকদের আরও সহিংসতা থেকে রক্ষা করার জন্যও আহ্বান জানান। তবে এই সহিংসতার জন্য দায়ী পক্ষগুলো সম্পর্কে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
গাম্বেলা অঞ্চলে প্রায়শই আন্তঃসাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই অঞ্চলে চার লাখেরও বেশি শরণার্থী বসবাস করছেন, যাদের অধিকাংশই প্রতিবেশী দক্ষিণ সুদানের নাগরিক। তারা দেশটিতে চলমান সহিংসতা থেকে পালিয়ে ইথিওপিয়ায় আশ্রয় নিয়েছেন।
২০২৫ সালের রিফ্ট ভ্যালি ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অর্থনৈতিক সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা এবং শরণার্থীদের আগমন গাম্বেলায় সংঘাত বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলোর মধ্যে একটি। এদিকে, ইথিওপিয়ার সবচেয়ে জনবহুল দুটি অঞ্চল ওরোমিয়া ও আমহারাতেও দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘাত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ