ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর জাপানি স্ত্রী ও দুই কন্যার তথ্য প্রকাশিত


আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর জাপানি স্ত্রী ও দুই কন্যার তথ্য প্রকাশিত

চট্টগ্রামের শিল্পপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। জাপানি সরকারি নথি, ব্যাংকিং কাগজপত্র, আলোকচিত্র এবং সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯২ সালে যুক্তরাজ্যে জাপানি নাগরিক মিনাকো কাওয়ারাজাকিকে তিনি বিয়ে করেছিলেন। তাঁদের দুই কন্যাসন্তান রয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, গণপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। বাংলাদেশে প্রকাশিত বিভিন্ন জীবনীতে তাঁর স্ত্রী হিসেবে চট্টগ্রামের শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর কন্যা নূর নাহার জামানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তাঁদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের কথা বলা হলেও জাপানি পরিবারের তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি ওয়াদার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করা জাপানি নথি অনুযায়ী, ১৯৯২ সালের ২১ আগস্ট যুক্তরাজ্যে আখতারুজ্জামান চৌধুরী ও মিনাকো কাওয়ারাজাকির বিয়ে সম্পন্ন হয়। ২০০৭ সালের ১৫ মার্চ ঢাকায় জাপানি দূতাবাস থেকে দেওয়া একটি বিবাহ সনদে এই তথ্যের উল্লেখ রয়েছে। সনদটি জাপানের কানাগাওয়া প্রিফেকচারের চিগাসাকি শহরের সরকারি পারিবারিক নিবন্ধনের সত্যায়িত কপির ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রযুক্তি হস্তান্তর চায় বাংলাদেশ

জাপানি নথিতে আখতারুজ্জামানের জন্মতারিখ ১৯৪৫ সালের ৩ মে উল্লেখ রয়েছে। তবে বাংলাদেশে প্রকাশিত বিভিন্ন জীবনীতে তাঁর জন্মতারিখ ১ মে ১৯৪৫ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে প্রকাশিত নথিতে পার্থক্য রয়েছে।

নথি অনুযায়ী, তাঁদের জ্যেষ্ঠ কন্যা নীনা কাওয়ারাজাকি ১৯৯২ সালের ১৯ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। চলতি বছরের ৮ এপ্রিল হংকংয়ে জাপানের কনস্যুলেট-জেনারেল থেকে দেওয়া জন্মসনদে তাঁর বাবা হিসেবে আখতারুজ্জামান চৌধুরী এবং মা হিসেবে মিনাকো কাওয়ারাজাকির নাম উল্লেখ রয়েছে। মিনাকো তাঁদের দুই কন্যাসন্তান থাকার কথা নিশ্চিত করলেও তাঁদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।

প্রতিবেদনে প্রকাশিত একটি ছবিতে আখতারুজ্জামানকে মিনাকো ও দুই শিশুর সঙ্গে একটি হোটেলের বাইরে দেখা যায়। ছবিতে থাকা নারীকে মিনাকো হিসেবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে বলে ডেইলি ওয়াদা জানিয়েছে।

সম্প্রতি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের একটি নথির মাধ্যমে এই পরিবারের তথ্য নতুন করে সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর নীনা কাওয়ারাজাকি (জামান চৌধুরী) ইউসিবির গুলশান করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপকের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে জানান, ২০১২ সাল থেকে তাঁর প্রয়াত বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর নামে একটি স্থায়ী আমানত রয়েছে। তিনি ওই আমানত ভাঙিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চারটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি অনুদান চুক্তি সই

বাংলাদেশে না থাকায় তাঁর পক্ষে অর্থ গ্রহণের জন্য মা মিনাকো কাওয়ারাজাকিকে অনুমতি দেওয়ার কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেন নীনা। চিঠিতে ২৩ সেপ্টেম্বর ইউসিবির প্রাপ্তি সিল রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডেইলি ওয়াদা পর্যালোচনা করা ২০১২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির একটি ইউসিবি স্থায়ী আমানতের রসিদেও আখতারুজ্জামান চৌধুরী ও নীনা কাওয়ারাজাকির নাম রয়েছে। ওই আমানতের পরিমাণ ছিল ১ কোটি টাকা এবং তিন মাস মেয়াদি আমানতের বার্ষিক সুদের হার ছিল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১২ সালের ওই রসিদের হিসাব নম্বরটি নীনার ২০২৬ সালের আবেদনে উল্লেখ করা হিসাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে আমানতটির বর্তমান স্থিতি, পরবর্তী সময়ে এটি নিয়মিত নবায়ন করা হয়েছিল কি না, মাঝখানে কোনো অর্থ তোলা হয়েছিল কি না কিংবা নীনার আবেদনের বিষয়ে ইউসিবি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

মিনাকো ডেইলি ওয়াদাকে জানান, বাংলাদেশে আখতারুজ্জামানের আরেকটি পরিবার থাকার বিষয়টি তিনি পরে জানতে পারেন। তবে দুই পরিবারের জীবন কখনো একীভূত হয়নি বলেও জানান তিনি। কীভাবে তাঁদের পরিচয় হয়েছিল বা কী পরিস্থিতিতে বিয়ে হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি মিনাকো।

আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান মানিকগঞ্জের ডিসির

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ব্যবসায়িক জীবনের সঙ্গে ইউসিবি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। তবে ব্যাংকটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক ও আইনি অভিযোগও ওঠে। ডেইলি ওয়াদার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠানের নেওয়া ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদ থেকে সরিয়ে দেয়।

১৯৯৩ সালের এপ্রিলে ইউসিবির পরিচালক হুমায়ুন জহির ঢাকার ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। ওই হত্যা মামলায় আখতারুজ্জামানসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রও দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে আদালতের চূড়ান্ত রায় হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।

১৯৯৯ সালে ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদের একটি সভায় আখতারুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিচালকদের পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগের পর বাংলাদেশ ব্যাংক ওই পর্ষদ ভেঙে দেয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০১০ সালে আখতারুজ্জামান আবার ইউসিবির পরিচালনা পর্ষদে ফিরে আসেন।

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু ২০১২ সালের ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর কয়েক মাস আগে করা স্থায়ী আমানতের রসিদে নীনার নাম থাকার বিষয়টি এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আরও পড়ুন: বিএনপিকে যারা ভোট দিয়েছে ও দেয়নি, তারা নিরাপদে থাকবে: নয়ন

আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করেন তাঁর ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ। তিনি চট্টগ্রামের একটি আসনের সংসদ সদস্য এবং পরবর্তীতে ভূমিমন্ত্রী ছিলেন।

সাইফুজ্জামানের বিদেশি সম্পদ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে তদন্ত ও অনুসন্ধান হয়েছে। ২০২৪ সালে আল জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তাঁর যুক্তরাজ্যসহ বিদেশে বিপুল সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়। সাইফুজ্জামান এসব সম্পত্তি বৈধ বিদেশি ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থে কেনা হয়েছে বলে দাবি করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার একটি আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের আবেদনের পর সাইফুজ্জামানের যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮টি সম্পত্তি জব্দের বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, এসব সম্পত্তির মূল্য প্রায় ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড। বিষয়টি অর্থপাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ। এসব অভিযোগের এখনো বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।

মিনাকো জানান, আখতারুজ্জামানের বাংলাদেশি পরিবারের সঙ্গে তাঁর কখনো দেখা হয়নি। তাঁর দুই মেয়ের সঙ্গেও ওই পরিবারের কোনো সদস্যের যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। জাপানি পরিবারটি সাইফুজ্জামানের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিল—এমন তথ্য কিছু সূত্র ডেইলি ওয়াদাকে দিলেও মিনাকো তা সরাসরি অস্বীকার করেছেন।

আরও পড়ুন: দুর্যোগে বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলোকে মেলানোর মানবিক কারিগর রেড ক্রিসেন্ট: মো. মোস্তাক মিয়া

আখতারুজ্জামানের মৃত্যুর খবরও তিনি পরিবারের কাছ থেকে নয়, সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলেন বলে জানান। তাঁর দুই মেয়ে বাবার সম্পত্তিতে কোনো অংশ পেয়েছেন কি না জানতে চাইলে মিনাকো বলেন, তাঁরা কিছু পাননি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে রাজি হননি তিনি।

নীনার সাম্প্রতিক ইউসিবি-যোগাযোগের উদ্দেশ্য এবং স্থায়ী আমানতের বিষয়ে মিনাকো মন্তব্য করতে চাননি। একইভাবে আমানতের বর্তমান অবস্থা বা নীনার আবেদনের বিষয়ে ব্যাংকের সিদ্ধান্তও প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা যায়নি। তথ্যসূত্র: ডেইলি ওয়াদা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নোয়াখালীতে যুবদল কর্মী রনি হত্যা: পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নোয়াখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪২ পি.এম


নোয়াখালীতে যুবদল কর্মী রনি হত্যা: পরিকল্পনাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি

নোয়াখালীর কবিরহাটে মৎস্য খামারি ও যুবদলের সক্রিয় কর্মী মিজানুর রহমান রনি হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে মো.আব্দুল বাছেত হিরন ও এনামুল হক মাসুদের নাম উল্লেখ করে তাদেরসহ জড়িত সব আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি দাবি করেছেন তারা।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ের একটি দৈনিক পত্রিকার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত যুবদল কর্মী মিজানুর রহমান রনির পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন তার মা লাইলী বেগম, স্ত্রী সীমা আক্তার, মামা মোশারেফ হোসেন ও বোন শ্রাবণী আক্তার।

নিহতের পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমান রনি কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার এলাকার মৃত মো. শহিদ উল্যার ছেলে। তিনি মাছের প্রজেক্ট ও মুরগির খামারের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং স্থানীয় ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এলাকায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানো, ফসলি জমির মাটি বিক্রি ও জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্থানীয় কিছু  রাজনৈতিক ব্যক্তির সঙ্গে আওয়ামী সরকার পতনের পর তার বিরোধ দেখা দেয়।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক কারণে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং তিনি কারাগারে ছিলেন। ৫ আগস্টের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি এলাকায় ফিরে আসেন। ওই সময় কবিরহাট উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো.আব্দুল বাছেত হিরন ও নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদসহ কয়েকজন বিএনপির নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাটি কাটা ও সালিশ-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন।

পরিবারের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন মিজানুর রহমান রনি। এমনকি স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়েও কথিত ‘হাইব্রিড বিএনপি’র বিরুদ্ধে তিনি বক্তব্য দেন। এ কারণে হিরন ও মাসুদসহ একটি পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১০ জানুয়ারি জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রনির শ্বশুর ও শ্যালক আরাফাত হোসেন ওরফে জামালের সঙ্গে একই এলাকার নূর মোহাম্মদ ওরফে বাচ্ছুর বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে বিরোধ মীমাংসার কথা বলে তাদের ডেকে নিয়ে মারধর করা হলে তারা গুরুতর আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় রনির সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরোধ আরও বেড়ে যায়।

তারা আরও জানান, ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি মাছের প্রজেক্টের কাজের কথা বলে রনিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। ওই দিন রাত ৯টা ৫৯ মিনিটের দিকে রনির ভায়রা আবু তাহেরকে ফোন করে মাসুদ হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। রনিকে কোনো ধরনের বাধা দিতে নিষেধ না করলে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রনির মাছের প্রজেক্টের স্ট্যাম্প এনামুল হক মাসুদের কাছে ছিল। ওই স্ট্যাম্প ফেরত চাওয়া এবং তা ফেরত না দিলে বিনিয়োগ করা ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি করাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় ‘আলেম’ নামের এক ব্যক্তি রনিকক মারধর করেন।

পরিবারের দাবি, মারধরের পর প্রাণ বাঁচাতে রনি কালিরহাট বাজারের পেছনের উত্তর পাশের সড়কের দিকে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হিরন ও মাসুদের যোগসাজশে একটি পক্ষ তার মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাটিকে গণপিটুনি হিসেবে প্রচার করা হয়। তাদের আরও দাবি, রনির মাথা ও মুখমণ্ডল ছাড়া শরীরের অন্য কোথাও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এমনকি তার পরনের শার্টের বোতামও ছেঁড়া ছিল না।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সীমা আক্তার বাদী হয়ে চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি কবিরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে আব্দুল বাচেত হিরন ও এনামুল হক মাসুদসহ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের মাধ্যমে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

অভিযোগ অস্বীকার করে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদ বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি আশ্রয় নেওয়ার অধিকার আছে। তবে আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ মিথ্যা।’

কবিরহাট উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মো. আব্দুল বাছেত হিরন বলেন, ‘এ ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী। একটি পক্ষ রাজনৈতিক ফায়দা নিতে এসব মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করাচ্ছে।’

এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোমেল বড়ুয়া বলেন, মামলাটি বর্তমানে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে তারা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ : ইইউ রাষ্ট্রদূত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ পি.এম


২০৩০ সালের মধ্যে শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির একটি হতে পারে বাংলাদেশ : ইইউ রাষ্ট্রদূত

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার মন্তব্য করেছেন যে, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি অর্থনীতির একটি হতে যাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশ হল বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতি। দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল এবং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পরিধি, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও গুরুত্ব অনেক বড়।

রবিবার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ তার উন্নয়ন যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়টিও রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে রাজনৈতিক রূপান্তর সামাল দেওয়া, জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ুগত ঝুঁকি এবং একটি জটিল বাহ্যিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এই পটভূমিতে আমরা বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের একটি অংশীদার হিসেবে দেখছি। দাতা ও সাহায্যগ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়—বরং এখন একটি ভিন্ন মাত্রার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আমরা সম্পর্ককে দেখতে চাই।’

মাইকেল মিলার আরও বলেন, এলডিসি মর্যাদা থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে একসঙ্গে কাজ করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা পরীক্ষা করে দেখতে চায়।

বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের আগেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এ ধরনের প্রস্তাব দেওয়াকে তিনি তাদের ইতিহাসে প্রথম ও অনন্য উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘মূল বার্তাটি হলো—বাংলাদেশ যে গতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা দেখাবে, আমরা তার সঙ্গে তাল মেলাতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

তবে সম্ভাব্য এফটিএর ক্ষেত্রে দুই পক্ষের মধ্যে পর্যাপ্ত অভিন্ন ভিত্তি রয়েছে কি না, তা আগে দেখতে হবে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেত্রে ভারতের ও ভিয়েতনামের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদাহরণ তুলে ধরেন মাইকেল মিলার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তির সফলতা নির্ভর করবে জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, শ্রম অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সুশাসনের ওপর।

এই বিষয়গুলোই আসল মূল বিষয়, এগুলো মোটেও গৌণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশকে যদি বাহ্যিক চাপ, ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত চাপ সামলে এগিয়ে যেতে হয়, তাহলে দেশটির শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং পূর্বাভাসযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন।

সাংবিধানিক সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। এ জন্য রাজনীতিতে আরো বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি, সবুজ প্রবৃদ্ধি, আরো বৈচিত্র্যময় রপ্তানি খাত এবং নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো প্রয়োজন।

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের জন্য অর্থবহ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

মাইকেল মিলার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষিত রাখা এবং ডেটা বা তথ্য স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে। এসব বিষয় বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের জন্য ইইউর বিশেষ প্রস্তাব তুলে ধরে তিনি বলেন, ইউরোপীয় মূল্যবোধের সঙ্গে ইউরোপীয় বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রযুক্তি, মানদণ্ড, দীর্ঘমেয়াদি মূলধন ও উদ্ভাবন নিয়ে আসতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

এ ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং ‘গ্রিন বন্ড’ ইস্যুর মতো উদ্যোগের উদাহরণ দেন তিনি।

ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রস্তাবের বড় একটি মূল্য সংযোজন হলো সরকারি প্রশাসন সংস্কারের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণ এবং রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজকে নতুনভাবে সংগঠিত করার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চায় ইইউ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সামলে এগিয়ে যেতে পারে, আধুনিক হতে পারে এবং একই সঙ্গে উন্মুক্ত, সার্বভৌম, সহনশীল ও সংযুক্ত থাকতে পারে—সেই লক্ষ্যেই এই প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে বক্তব্যে বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশলগত অবস্থান তুলে ধরে মাইকেল মিলার বলেন, কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন মানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বা নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে নেওয়া নয়। বরং উন্মুক্ত থাকা, তবে অসচেতন না হওয়া; যুক্ত থাকা, তবে নির্ভরশীল না হওয়া এবং সহযোগিতামূলক ও বাস্তববাদী হওয়াই ইইউর অবস্থান।

তিনি বলেন, আজকের আরো লেনদেনমুখী বিশ্বে নির্ভরযোগ্যতা, পূর্বাভাসযোগ্যতা এবং নীতির গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সে কারণেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদের নীতিমালা, ন্যায্য ও নিয়মভিত্তিক বাণিজ্য, মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত বহুপাক্ষিকতার পক্ষে দাঁড়িয়েছে।

মাইকেল মিলার বলেন, অনিশ্চয়তার সময়ে দেশ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমন অংশীদার প্রয়োজন, যারা নির্ভরযোগ্য, প্রতিটি সম্পর্ককে শুধু একটি লেনদেন হিসেবে দেখে না এবং দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতায় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। পারস্পরিক স্বার্থ, শ্রদ্ধা, ন্যায্যতা ও সবার জন্য সমান সুযোগের ভিত্তিতে এমন অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায় ইইউ।

তিনি জানান, জলবায়ু, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ডিজিটাল রূপান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নেও সহযোগিতা করতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ‘গ্লোবাল গেটওয়ে’ উদ্যোগের মাধ্যমে বুদ্ধিমান, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা অংশীদারত্বের একটি ব্যবহারিক মডেল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৭ পি.এম


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম মারা গেছেন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম মারা গেছেন। তিনি রোববার (৪ অক্টোবর) ভোর পাঁচটার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এ তথ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক শোকবার্তায় জানানো হয়েছে। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন মাঠে তার জানাজা সম্পন্ন হয়।

অধ্যাপক সাইফুল ইসলামের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রুটিন দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন উপাচার্যের নির্দেশক্রমে স্বাক্ষরিত শোকবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লাটভিয়ার নির্বাচনে ইউরোপপন্থী অবস্থান অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৪ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


লাটভিয়ার নির্বাচনে ইউরোপপন্থী অবস্থান অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত

ঢাকা, ৪ অক্টোবর, ২০২৬ : লাটভিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনের রোববার প্রকাশিত আংশিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রিস কুলবার্গসের মধ্য-ডানপন্থী দল এগিয়ে রয়েছে। এই ফলাফল দেশটির ইউরোপপন্থী ও ইউক্রেনপন্থী নীতির অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়।

তবে, প্রতিবেশী রাশিয়ার হুমকি এবং দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কারণে জনতুষ্টিবাদী দলগুলোও নির্বাচনী প্রচারে ভালো ফল করেছে।

রিগা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানায়।

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, ভোট গণনার অর্ধেকের বেশি সম্পন্ন হওয়ার পর কুলবার্গসের মধ্য-ডানপন্থী দল ইউনাইটেড লিস্ট ৩৫ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

কুলবার্গস সাংবাদিকদের বলেন, “এখনো শেষ হয়নি। তবে ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ভালো।”

তিনি আরও বলেন, “এর অর্থ হলো মানুষ সত্যিই পরিবর্তন চায়।” তার মতে, এর অর্থ হলো “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি” এবং “লাটভিয়ার শিশুদের জন্য একটি ভবিষ্যৎ।”

কুলবার্গস গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে নির্বাচনের আগে জনমত জরিপে দুর্বল হয়ে পড়ার ইঙ্গিত পাওয়া তার জোটের বর্তমান কাঠামোয় টিকে থাকার সম্ভাবনা কম।

জোটের অন্যতম শরিক ইউনিয়ন অব গ্রিনস অ্যান্ড ফার্মার্স পার্লামেন্টে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমার কাছাকাছি রয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রকাশিত আংশিক ফলে দলটি ৫ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়েছে।

জোটের অন্য শরিক দলগুলোর সম্ভাব্য ফলাফল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, কুলবার্গসকে নতুন করে সরকার গঠন করতে হবে।

কুলবার্গসের দল এগিয়ে রয়েছে—এমন ইঙ্গিত দেওয়া বুথফেরত জরিপ সাধারণত নির্ভরযোগ্য। তবে আরও কট্টরপন্থী দলকে সমর্থনের কথা ভোটাররা প্রকাশ্যে বলতে অনাগ্রহী হওয়ায় জনতুষ্টিবাদী দলগুলো প্রত্যাশার চেয়ে ভালো করতে পারে।

লাটভিয়ার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান লাসের-এর বিশ্লেষক রবার্টস কিটস এএফপিকে বলেন, “বুথফেরত জরিপের তুলনায় প্রকৃত ফলাফলে সবচেয়ে বড় ব্যবধান হবে রুশভাষী ভোটারদের সমর্থন পাওয়া দলগুলোর ক্ষেত্রে। এগুলো হলো সার্বভৌম শক্তি ও লাটভিয়া ফার্স্ট।”

লাটভিয়ার ট্রান্সআটলান্টিক অ্যাসোসিয়েশন লাটো-এর মহাসচিব সিগিতা স্ট্রুবার্গা বলেন, ভবিষ্যৎ জোটের কাঠামো এখনই নির্ভুলভাবে অনুমান করার সময় হয়নি।

তিনি এএফপিকে বলেন, “আমাদের প্রকৃত শতাংশের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই মুহূর্তে আমরা যে ফল দেখছি, তা থেকে সেটি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।”

জনতুষ্টিবাদী দলগুলোর উত্থান-

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য এবং উভয় জোটের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত লাটভিয়ায় নির্বাচনী প্রচারে নিরাপত্তা ইস্যুই ছিল প্রধান বিষয়।

তবে জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয় সামনে এনে জনতুষ্টিবাদী দলগুলোও জনসমর্থন বাড়িয়েছে।

আংশিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিরোধীদের রুশপন্থী বলে সমালোচিত সার্বভৌম শক্তি ১১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

দলটি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় আরও বাড়ানোর বিরোধিতা করেছে। এর পরিবর্তে তারা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যার ওপর জোর দিয়েছে।

ভালো ফল করলেও দলটির সরকারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বেশিরভাগই তাদের সঙ্গে কাজ না করার কথা জানিয়েছে।

আরেক জনতুষ্টিবাদী দল লাটভিয়া ফার্স্ট আংশিক ফলে ১৩ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছে। ব্যবসায়ী আইনরস স্লেসেরসের নেতৃত্বাধীন দলটি তুলনামূলকভাবে জোটের সম্ভাব্য অংশীদার হতে পারে।

ইউরোপপন্থী সামাজিক গণতান্ত্রিক দল দ্য প্রগ্রেসিভস সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার পক্ষে। আংশিক ফলাফলে দলটি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে পঞ্চম হয়েছে।

ভূরাজনীতি ও অর্থনীতি-

রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর চার বছর পরও লাটভিয়ার রাজনৈতিক বিতর্কে নিরাপত্তা ইস্যুই প্রধান হয়ে আছে।

২০০৪ সাল থেকে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য লাটভিয়া রাশিয়াকে তার প্রধান নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখে। এ কারণে দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

২০২২ সালে মস্কো ইউক্রেনে হামলা শুরুর পর থেকে লাটভিয়া প্রতিরক্ষা ব্যয় ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। বর্তমানে দেশটি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করছে।

পার্লামেন্টে প্রবেশের সম্ভাবনা থাকা অধিকাংশ দলই উচ্চ প্রতিরক্ষা ব্যয় বজায় রাখা এবং কিয়েভকে সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে।

তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, কম মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ এবং দীর্ঘদিন ধরে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়গুলোও নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্ব পেয়েছে।

লাটভিয়ার বড় রুশভাষী সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোটের ধরনও বদলাচ্ছে।

একসময় পার্লামেন্টে ২০২২ সালে প্রতিনিধিত্ব হারানো হারমনি দলের পেছনে এই ভোটারদের বড় অংশের সমর্থন ছিল। এখন তাদের অনেকেই শুধু পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ভোট দিচ্ছেন।

রোববার প্রাথমিক সরকারি ফলাফল প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপরই সরকার গঠনে জোটের আলোচনা শুরু হবে। এসব আলোচনা দীর্ঘ ও জটিল হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%