ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রেসিডেন্টের নিজ জেলায় আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ, নানা রঙয়ে সাজছে ঠাকুরগাঁও


প্রেসিডেন্টের নিজ জেলায় আগমন ঘিরে উৎসবের আমেজ, নানা রঙয়ে সাজছে ঠাকুরগাঁও

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো ঠাকুরগাঁও সফরে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পুরো জেলাজুড়ে তার সফরকে কেন্দ্র করে উৎসবের আবহ বিরাজ করছে। শহরের সড়ক, ডিভাইডার এবং বিভিন্ন স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ, যাতে তাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজও চলছে। প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।

আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসার কথা রয়েছে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজানোর কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজও চলমান রয়েছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। প্রেসিডেন্টকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হেলাল মন্তব্য করেন, "রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। শহর সাজানো হচ্ছে তাকে স্বাগত জানাতে, এবং মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।"

ব্যবসায়ী প্রশান্ত জানান, "প্রেসিডেন্টের আগমন উপলক্ষ্যে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।"

গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই জেলার মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন। এবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রেসিডেন্টের সফরের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

শিক্ষক সীমা আক্তার বলেন, "রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।"

স্থানীয় বাসিন্দা সারোয়ার বাবু মন্তব্য করেন, "ইতোমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালীন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিমানবন্দর চালু সহ আরও অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সেগুলোর কাজ চলমান আছে। তারপরেও আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।"

রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, "রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তিনাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।"

আরও পড়ুন: নওগাঁয় ভাড়া বাসায় জাল টাকার কারবার, ডিবির হাতে গ্রেপ্তার জব্বার

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের উৎসব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন মানুষের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়া ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য গর্বের বিষয়।

সচেতন নাগরিক ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, "মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার এই সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন।"

তিনি আরও বলেন, "জনগণ মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেন শুধু রাষ্ট্রপতি হননি, বরং তার মাধ্যমে সাধারণ জনগণই রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কারণ তিনি রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তার মতো একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ মানুষকে রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন করা মানে সাধারণ জনগণকেই মূল্যায়ন করা। তিনি কোনোভাবেই উড়ে এসে জুড়ে বসা মানুষ নন; দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়েই আজ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই একজন সাধারণ, খেটে খাওয়া ও সংগ্রামী মানুষের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে মানুষ তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষেরই সম্মান হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

আরও পড়ুন: মাগুরায় বিএনপি নেতা হত্যা মামলায় সাবেক ওসি ও এসআইকে কারাগারে পাঠাল আদালত

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, "রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাব। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে।"

সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।

রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। শহরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা-সব মিলিয়ে এখন উৎসবের আমেজে অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।

তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও -১ আসনে উপনির্বাচন সরকারি দলকে সমর্থন, গভীর রাতে প্রত্যাহার হলেন ৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুনামগঞ্জে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শোভাযাত্রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১১ পি.এম


সুনামগঞ্জে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শোভাযাত্রা

সুনামগঞ্জ, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : আজ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়েছে জেলায়।

শুক্রবার সকাল ১০টায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরে বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।

শোভাযাত্রাটি কালিবাড়ি মন্দির থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শ্রীশ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দও ছিলেন। ধর্মীয় সংগীত, কীর্তন ও ভক্তদের নানা আয়োজনে শোভাযাত্রাটি একটি মিলন মেলায় পরিণত হয়।

এ সময় বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি পরিমল তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কুশল রাজ পাল, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ব-খ্রিস্ট্রান কল্যাণ ফ্রন্টের আহ্বায়ক অশোক তালুকদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাড. মলয় চক্রবর্তী রাজু এবং জেলা শাখার সভাপতি দীপক রঞ্জন ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমল বণিক, অ্যাড. গৌরাঙ্গ পদ দাস, চন্দন কুমার দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালুচিস্তানে সামরিক অভিযানে ভারতের মদদপুষ্ট ১২ সন্ত্রাসী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


বালুচিস্তানে সামরিক অভিযানে ভারতের মদদপুষ্ট ১২ সন্ত্রাসী নিহত

পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের কাল্যাট জেলায় পাকিস্তান নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বিশেষ গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) অন্তত ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইএসপিআরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীদের উপস্থিতির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাল্যাট জেলার একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সন্ত্রাসীদের গোপন আস্তানা চিহ্নিত করে সেখানে সুনির্দিষ্ট হামলা বা ‘সার্জিক্যাল অ্যাকশন’ পরিচালনা করে। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই ১২ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহত সন্ত্রাসীরা ভারতের মদদপুষ্ট গোষ্ঠী ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’-এর সাথে যুক্ত ছিল।

অভিযান শেষে উক্ত আস্তানা থেকে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, অস্ত্র এবং আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) উদ্ধার করা হয় এবং সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলেই তা ধ্বংস করে দেয়। এলাকায় আরও কোনো সন্ত্রাসী লুকিয়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আইএসপিআর পুরো এলাকায় তল্লাশি অভিযান জোরদার করার কথা জানিয়েছে।

এদিকে, একই সময়ে বালুচিস্তানের ভাগ (Bhagh) শহরে একটি থানায় বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলা ব্যর্থ করে দিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল রকেট ও হ্যান্ড গ্রেনেড নিয়ে থানায়, ব্যাংকে এবং সহকারী কমিশনারের কার্যালয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। এতে পুলিশ ও সাধারণ নাগরিকসহ অন্তত ৫ জন আহত হলেও হামলাকারীরা ব্যাংক থেকে কোনো অর্থ লুট বা থানায় দখল নিতে সক্ষম হয়নি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও বালুচিস্তান অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা ও সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সামগ্রিক সহিংসতার প্রায় ৯৬ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে এই দুই অঞ্চলে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মদনে পাচারকালে ১০০বস্তা সরকারি চাল জব্দ, আটক ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৯ পি.এম


মদনে পাচারকালে ১০০বস্তা সরকারি চাল জব্দ, আটক ২

মদন থানার পুলিশ পাচারের সময় দুইটি হ্যান্ডট্রলি ভর্তি ১০০ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করেছে। এই ঘটনায় চালক দুইজনকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে নেত্রকোনা জেলার মদন-তিয়শ্রী সড়কের রুদ্রশ্রী এলাকা দিয়ে চালগুলো পাচার হচ্ছিল, তখন হ্যান্ডট্রলিগুলো আটক করা হয়।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে উপজেলার দেওসহিলা বড়বাড়ি গ্রামের মামুন মিয়া (২৮) এবং একই গ্রামের আকাল্লাহ (২৪)।

মদন থানার পরিদর্শক অসীম চন্দ্র সরকার জানিয়েছেন, ফতেপুর গ্রামের দিক থেকে সরকারি চাল বোঝাই দুইটি হ্যান্ডট্রলি মদনের দিকে আসছিল।

পুলিশ খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে রুদ্রশ্রী এলাকায় হ্যান্ডট্রলিগুলোতে তল্লাশি চালায় এবং সরকারি চাল উদ্ধার করে। চালের সঠিক তথ্য দিতে না পারায় এবং কোন কাগজপত্র দেখাতে না পারায় দুই চালককে আটক করা হয়। সেইসাথে ১০০ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়। তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং এই ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।

মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম নাদির হোসেন শামীম জানিয়েছেন, পুলিশ কর্তৃক জব্দকৃত সরকারি চালের বিষয়ে থানায় মামলা দায়েরের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোপালপুরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ আমিনুল ইসলাম টাঙ্গাইল গোপালপুর উপজেলা প্রতিনিধি

শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:২০ পি.এম


গোপালপুরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গোপালপুর কেন্দ্রীয় আনন্দময়ী দেব মন্দির প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা শেষে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়।

শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় কালীমন্দির প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

এতে অংশগ্রহণ করেন বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ ও ভক্তরা।

পরে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও পুরাণ অনুযায়ী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে মথুরার রাজা কংসের অত্যাচার থেকে পৃথিবীকে রক্ষা এবং ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য।

ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে তাঁর জন্মকে স্মরণ করেই জন্মাষ্টমী পালিত হয়।

শ্রীকৃষ্ণের জীবন ও শিক্ষায় ধর্ম, ন্যায়, কর্তব্য ও মানবকল্যাণের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।

গোপালপুরের এই আয়োজন শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার একটি সুন্দর প্রকাশও।

এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবিতে: গোপালপুরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর মঙ্গল শোভাযাত্রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%