০২:৪০ পি.এম
ঈদের ছুটিকে ঘিরে পদ্মা ও যমুনাসহ দেশের প্রধান সেতুগুলোতে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে, দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ কর্ণফুলী টানেলটিতে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। উৎসব কিংবা দীর্ঘ ছুটির সময় অন্যান্য সড়ক অবকাঠামোয় যান চলাচল বাড়লেও কর্ণফুলী টানেলে সেই তুলনায় গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় না।
এবার পবিত্র ঈদুল আজহার সাত দিনের ছুটিতে পদ্মা সেতুতে ২ লাখ ৪৪ হাজার গাড়ি পার হয়েছে। এবং টোল আদায় হয়েছে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে যমুনা সেতু দিয়ে চলাচল করেছে ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি গাড়ি, যেখান থেকে টোল আদায় হয় ১৭ কোটি টাকা। তদুপরি, একই সময়ে কর্ণফুলী টানেল দিয়ে ৩১ হাজার ৮৮৯টি গাড়ি চলাচল করেছে, যার থেকে টোল আদায় হয় ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে চলেছে ৪ হাজার ৫৫৫টি গাড়ি। স্বাভাবিক সময়ে টানেলে গাড়ি আসা-যাওয়া করে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৯০০ করে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে জেলার আনোয়ারা পর্যন্ত নির্মিত এই টানেলটি ২০২৩ সালে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হয়। ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা ব্যয়সহ নির্মিত এই টানেলটিতে প্রতিদিন গড়ে ১৯ হাজার ৬৬৯টি যানবাহন চলাচলের প্রক্ষেপণ ছিল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে। তবে, চালুর পর থেকে সেই লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারছে না যান চলাচল। স্বাভাবিক সময়ের মতো ঈদের দীর্ঘ ছুটিতেও টানেলে গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না।
আরও পড়ুন: বাগাতিপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাহরিয়ার মাহমুদ স্বাধীন বহিষ্কার
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণফুলী টানেল চালুর পর থেকে গত ২৩ মে পর্যন্ত মোট ৩৬ লাখ ২৮ হাজার ২২২টি যান চলাচল করেছে। এতে প্রতিদিন গড়ে গাড়ি চলাচল করেছে ৩ হাজার ৮৬৮টি এবং মোট টোল আদায় হয়েছে ১০৫ কোটি ১ লাখ টাকা, যার মধ্যে প্রতিদিন গড়ে টোল আদায়ের পরিমাণ ১১ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
ঈদের ছুটিতেও টানেলে কেন গাড়ির পরিমাণ বাড়ে না- তা নিয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের সময় মহাসড়কে ভারী পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে টানেলে গাড়ির পরিমাণ আরও কমে যায়। টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে এখনো বড় আকারের শিল্পায়ন হয়নি। কল-কারখানা গড়ে ওঠেনি। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরও চালু হয়নি। টানেলকে কেন্দ্র করে ওয়ান সিটি টু টাউনের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। এছাড়া আনোয়ারা থেকে চন্দনাইশ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করা হয়নি, যা টানেলে গাড়ির চলাচলের পরিমাণ বাড়াবে। তবে, আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে গাড়ি চলাচল বাড়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
সড়ক পরিবহন মালিকদের মতে, টানেল ব্যবহারের এখনো উপযোগিতা তৈরি হয়নি। ঢাকা থেকে কক্সবাজার-বান্দরবানমুখী গাড়িগুলোও বাস্তবতার কারণে টানেল ব্যবহার করছে না। কারণ টানেল ব্যবহার করলে গাড়িগুলো চট্টগ্রামের যাত্রী নেওয়ার সুযোগ পাবে না।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ঢাকা থেকে কক্সবাজার, বান্দরবানমুখী যেসব গাড়ি চলে তাদের কাউন্টার রয়েছে জিইসি মোড়, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ এলাকায়। তাই তারা গন্তব্যে যেতে টানেল ব্যবহার না করে চট্টগ্রাম নগরের ভেতর দিয়ে এসে শাহ আমানত সেতু ব্যবহার করে। এতে শাহ আমানত সেতুতে গাড়ি চলাচলের পরিমাণ ঈদে বাড়ে। কিন্তু যদি টানেল দিয়ে যায়, তাদের বাড়তি পথে ঘুরতে হবে এবং যাত্রীও পাবে না। তবে পাশের আনোয়ারা থেকে চন্দনাইশ বাইপাস সড়ক হয়ে গেলে পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের মধ্যে গণপরিবহনের জন্য কয়েকটি নতুন রুট চালু করতে হবে।
আরও পড়ুন: বোয়ালখালীতে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আ. লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ৩ নেতা গ্রেপ্তার
ঈদুল আজহায় ৩১ হাজার ৮৮৯টি গাড়ি থেকে টোল আদায় হয় ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত বছর ঈদুল আজহায় চলাচল করেছিল ৩১ হাজার ৩৬৬টি গাড়ি। তবে গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কম গাড়ি চলাচল করেছে। চলতি বছরের ১৮ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত রমজানের ঈদের ছুটিতে ২৬ হাজার ৬৫৮টি গাড়ি পার হয়েছে টানেল দিয়ে। গত বছর চলেছিল ৩২ হাজার গাড়ি। ২০২৪ সালে গাড়ির পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ৭৭৩টি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন