ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চ্যাম্পিয়ন ‘অ্যাডভেঞ্জার্স’, প্রথম রানার্সআপ ‘আর্ক ক্রু’


চ্যাম্পিয়ন ‘অ্যাডভেঞ্জার্স’, প্রথম রানার্সআপ ‘আর্ক ক্রু’

 

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ইয়াং এন্টারপ্রেনার্স সোসাইটির আয়োজনে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় মার্কেটিং ও বিজ্ঞাপন প্রতিযোগিতা ‘অ্যাড মেকার বাংলাদেশ ২০২৬’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে, চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আইবিএ-এর ‘অ্যাডভেঞ্জার্স’। প্রথম রানার্সআপ হয়েছেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ‘আর্ক ক্রু’ এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিম ‘মাথা নষ্ট’।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেনে গ্র্যান্ড ফিনাল অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত

আয়োজকরা জানায়, এটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আয়োজিত অন্যতম বৃহৎ মার্কেটিং প্রতিযোগিতা। তরুণদের মধ্যে মার্কেটিং, বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড যোগাযোগের ক্ষেত্রে সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতা ছড়িয়ে দিতে এটি আয়োজন করা হয়েছে। শিল্পখাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সরাসরি কাজের সুযোগ তৈরি করে ভবিষ্যৎ মার্কেটার ও ব্যবসায় নেতৃত্ব তৈরিতে প্রতিযোগিতাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তারা জানায়, এবারের একাদশতম আসরে সারা দেশের ৩৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯০০টির বেশি দল অংশ নেয়। কয়েকটি ধাপে প্রতিযোগিতা শেষে ছয়টি দল গ্র্যান্ড ফিনালে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়। চ্যাম্পিয়ন দলকে তিন লাখ, প্রথম রানার্সআপকে দুই লাখ এবং দ্বিতীয় রানার্সআপকে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

প্রতিযোগিতাটির প্রেজেন্টিং পার্টনার ছিল ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি।

মায়া ছিল কো-স্পনসর এবং এসকিউ অ্যাগ্রিকালচার লিমিটেড অ্যাসোসিয়েট পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত ছিল দৈনিক কালের কণ্ঠ।

আরও পড়ুন: নিছিদ্র নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি পরিদর্শন করলেন শতাধিক মণ্ডপ

অতিথি হিসেবে উপলব্ধ ছিলেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী, ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও. রশিদ, একাত্তর মিডিয়া লিমিটেডের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেলস স্ট্র্যাটেজির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শফিক মুশাররফ, প্রাইম ব্যাংক ফিনটেক লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ আমিনুর রহমান ও পারটেক্স স্টার গ্রুপের হেড অব বিজনেস সৈয়দুল আজহার সারওয়ার।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, অ্যাড মেকার প্রতিযোগিতা একটি ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন। এখানে ক্লাসরুমের বাহিরে এসে শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের ব্যবহারিক জ্ঞান সম্পর্কে ধারণা নিতে পারছেন।

পণ্যের বিপণন কৌশল, ভোক্তার চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি, সৃজনশীলতা ও কৌশলগত চিন্তার সমন্বয় ঘটাচ্ছেন। এর ফলে তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে ধরনের জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, এ ধরনের আয়োজন সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরও পড়ুন: ঢাকায় আগামী শনিবার অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ইমাম সম্মেলন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাওনা টাকার দাবিতে মহেন্দ্রনগর বাফার গোডাউনে শ্রমিকদের কর্মবিরতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জামিরুল হক সুজন লালমনিরহাট প্রতিনিধি

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৫৮ এম


পাওনা টাকার দাবিতে মহেন্দ্রনগর বাফার গোডাউনে শ্রমিকদের কর্মবিরতি

 

পাওনা টাকা পরিশোধ ও পারিশ্রমিক কমানোর অভিযোগে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর বাফার গোডাউনে শতাধিক শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করছেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুর থেকে শ্রমিকরা সার ওঠানামার কাজ বন্ধ করে দিলে গোডাউনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। এতে সার নিতে আসা ট্রাকচালক ও ডিলাররা ভোগান্তিতে পড়েন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি পারিশ্রমিক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত দেড় বছরে বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত ১ টাকা করে নিয়ে কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগও করেছেন তারা।

তবে শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার আব্দুল মজিদ মন্ডল। তিনি দাবি করেন, কয়েকজন শ্রমিক অন্যদের উসকানি দিয়ে কাজ বন্ধ করাচ্ছেন।

বিসিআইসির উপ-মহাব্যবস্থাপক আবু সাইদ রব্বানী জানান, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সমাধান না হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

শ্রমিকরা দ্রুত পাওনা পরিশোধ, ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত ও অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছুরিকাঘাতে গোয়ালন্দে শরিফুল ইসলাম হীরা হত্যা, দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০১ এম


ছুরিকাঘাতে গোয়ালন্দে শরিফুল ইসলাম হীরা হত্যা, দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর গােয়ালন্দে মাদক বিক্রির পাওনা টাকা নিয়ে বিরােধের জেরে শরিফুল ইসলাম (হিরা) (৪০) নামে এক যুবলীগ নেতাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযােগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কামরুল ফকির (৩৬)কে হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে রাজবাড়ী জেলা গােয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও গােয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে গােয়ালন্দ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তােরাইড় মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরিফুল ইসলাম (হিরা) গােয়ালন্দ পৌর যুবলীগের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। তিনি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি গােয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাহাদুরপূর গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত জাবেদ ভূইয়ার ছেলে। পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরিফুল ইসলাম হিরা ও কামরুল ফকির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। মাদক বিক্রির পাওনা ৬ হাজার টাকা নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোেধ চলছিল বলে পুলিশের ভাষ্য। এর মধ্যে সপ্তাহখানেক আগে শরিফুল ৩ হাজার টাকা পরিশােধ করেন। বাকি ৩ হাজার টাকা নিয়ে দুই দিন আগে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার সকালে গােয়ালন্দ বাজার থেকে কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন শরিফুল। তিনি তারাইড় মােড় এলাকায় পৌঁছালে কামরুল ফকির তাঁর ওপর ছুরি দিয়ে হামলা করেন বলে জানা গেছে । এ সময় শরিফুলের বুকের পাঁজরে ছুরিকাঘাত করা হয়। হামলার পর কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। স্থানীয় লােকজন গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুলকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎ্সেক তাঁকে মৃততে ঘােষণা করেন ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে রাজবাড়ী জেলা গোেয়েন্দা শাখা ও গােয়ালন্দ ঘাট থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে গ্রপ্তার করে । গ্রেপ্তার কামরুল ফকির গােয়ালন্দ পৌরসভায় চলাচলকারী ইজিবাইকের টোল আদায়ের কাজ করতেন। তিনি গােয়ালন্দ পৌরস- ভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুমড়াকান্দি গ্রামের মৃত সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলাম বলেন, সকালে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ফকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পাওনা টাকা না পাওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি শরিফুলকে ছুরিকাঘাত করেন। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানাে হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘লোভী’ কবিতায় পাঠকের হৃদয় ছুঁয়েছেন তরুণ কবি ইয়াহিয়া আহমেদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শরীফ উদ্দিন

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৮ এম


‘লোভী’ কবিতায় পাঠকের হৃদয় ছুঁয়েছেন তরুণ কবি ইয়াহিয়া আহমেদ

 

অল্প বয়সেই সাহিত্যচর্চায় নিজের প্রতিভার পরিচয় দিচ্ছেন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের তরুণ লেখক ইয়াহিয়া আহমেদ। ভালোবাসা, প্রকৃতি, মানুষের আবেগ, না-পাওয়ার বেদনা ও জীবনের নানা অনুভূতিকে সহজ-সরল ভাষায় তুলে ধরে ইতোমধ্যে পাঠকদের নজর কেড়েছেন তিনি।

সম্প্রতি ইয়াহিয়া আহমেদের লেখা ‘লোভী’ কবিতাটি সামাজিক মাধ্যমে পাঠকদের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা, না-পাওয়ার আক্ষেপ, আত্মঅনুশোচনা এবং মনের গভীর অনুভূতিকে আঞ্চলিক ভাষার আবহে তুলে ধরায় কবিতাটি পাঠকের কাছে আলাদা আবেদন তৈরি করেছে।

তবে ‘লোভী’ কবিতার সাফল্যের পেছনে রয়েছে ইয়াহিয়ার দীর্ঘদিনের নীরব সাহিত্যচর্চার গল্প।


ইয়াহিয়া আহমেদের সাহিত্যপ্রেমের শুরু ছোটবেলা থেকেই। নিজের পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গল্পের বই পড়তে পছন্দ করতেন। গল্প পড়ার পাশাপাশি ছোটবেলা থেকেই নিজের মতো করে লেখালেখিও করতেন তিনি। তবে সেই লেখাগুলো প্রকাশ করার সাহস ছিল না। নিজের লেখা কাউকে না দেখিয়ে ব্যক্তিগত ডায়েরির পাতায় লিখে রাখতেন।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে লেখালেখির আগ্রহও বাড়তে থাকে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পরিচয়ে লেখার সাহস তখনো হয়ে ওঠেনি। লোকলজ্জা ও পরিচিতজনদের প্রতিক্রিয়ার ভয় থেকেই নিজের পরিচয় গোপন রাখতে একটি ফেক অ্যাকাউন্ট খুলে সেখানে লেখালেখি চালিয়ে যান তিনি।

অর্থাৎ, প্রকাশ্যে লেখক হিসেবে পরিচিত হওয়ার অনেক আগেই নীরবে একজন লেখক হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন ইয়াহিয়া।


সাহিত্য পড়ার ক্ষেত্রে ইয়াহিয়ার পছন্দের লেখকদের মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক আহমদ ছফা। বিশেষ করে তাঁর ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’ ইয়াহিয়াকে লেখালেখির প্রতি আরও গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।

বই পড়া, নিজের অনুভূতিকে ভাষায় প্রকাশ করার চেষ্টা এবং নিয়মিত লেখালেখি—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে সাহিত্য তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।


দীর্ঘদিন নিজের পরিচয় গোপন রেখে লিখলেও তাঁর এই নীরব সাহিত্যচর্চার কথা জানতেন অল্প কয়েকজন। তাদের মধ্যে দুজন লেখকের অনুপ্রেরণা ইয়াহিয়ার সাহিত্যজীবনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের একজন তাঁর বড় ভাইতুল্য লেখক S.H. সইকত। তাঁর লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ইয়াহিয়ার মধ্যেও লেখক হওয়ার স্বপ্ন আরও দৃঢ় হয়। তবে সেই স্বপ্নের কথা প্রকাশ্যে না এনে নিজের মতো করেই লিখে যেতে থাকেন তিনি।

অন্যদিকে, ইয়াহিয়ার মায়ের সমতুল্য আন্টি রাবেয়া পারভিন মুক্তা তাঁকে প্রকাশ্যে লেখালেখি করার জন্য উৎসাহ দেন। তাঁর অনুপ্রেরণা ইয়াহিয়ার জন্য ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ইয়াহিয়াকে বলেছিলেন—ভবিষ্যতে তিনি অনেক বড় লেখক হবেন।

এই উৎসাহই ইয়াহিয়ার দীর্ঘদিনের গোপন লেখালেখিকে ধীরে ধীরে প্রকাশ্যের পথে নিয়ে আসার অন্যতম শক্তি হয়ে দাঁড়ায়।

ইয়াহিয়া আহমেদ অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। এরপর প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা আর চালিয়ে যাননি। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

তবে ব্যবসার ব্যস্ততার মধ্যেও বই পড়া ও লেখালেখির অভ্যাস ছাড়েননি তিনি। সময় পেলেই বই পড়েন, নিজের অনুভূতিগুলোকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করেন এবং সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যান।

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা থেমে গেলেও বই ও সাহিত্য থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেননি ইয়াহিয়া। বরং নিজের আগ্রহ ও ভালোবাসা থেকেই সাহিত্যকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরে রেখেছেন।

‘লোভী’ কবিতায় আঞ্চলিক ভাষার স্বতন্ত্র ব্যবহার

ইয়াহিয়ার ‘লোভী’ কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এতে প্রচলিত প্রমিত ভাষার পাশাপাশি স্বতন্ত্র কথ্য ও আঞ্চলিক শব্দের ব্যবহার দেখা যায়।

‘দূর থেইকা’, ‘ভালোবাসা জানাইতে গিয়া’, ‘লোভ করলাম তোমারে নিজের করার জন্য’—এ ধরনের শব্দ ও বাক্যরীতি কবিতাটিকে পাঠকের কাছে সহজ ও স্বাভাবিক করে তুলেছে।

প্রকৃতির বিভিন্ন উপমার মাধ্যমেও নিজের অনুভূতিকে প্রকাশ করেছেন ইয়াহিয়া। কখনো লজ্জাবতী গাছ, কখনো কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফে সূর্যের আলো, আবার কখনো বাতাসে দোলা কৃষ্ণচূড়া ফুলের সঙ্গে মনের আবেগের তুলনা করেছেন তিনি। ফলে কবিতার অনুভূতিগুলো পাঠকের কল্পনায় আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে।

এর আগে ইয়াহিয়ার ‘চিত্তরঞ্জনের ঘাট’ ও ‘উল্কাপাত’ কবিতাও পাঠকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে। ধারাবাহিকভাবে তাঁর লেখা বিভিন্ন কবিতা পাঠকের কাছে পৌঁছানোয় নবীন এই লেখককে ঘিরে সাহিত্যপ্রেমীদের আগ্রহও বাড়ছে।


সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি এবার গান লেখার ক্ষেত্রেও নিজের লেখা নিয়ে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইয়াহিয়া আহমেদ।

তালাশ বিডির প্রতিনিধি তাঁর কাছে জানতে চাইলে সামনে নতুন কোনো গল্প, কবিতা বা সৃষ্টিশীল কাজ আসছে কি না, উত্তরে ইয়াহিয়া জানান, খুব শিগগিরই তাঁর লেখা একটি গান প্রকাশ হতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ইয়াহিয়া বলেন, “খুব শিগগির আমার লেখা একটি গান রিলিজ হবে। একজন নব্বইয়ের দশকের নামকরা শিল্পীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করছি, দর্শক-শ্রোতাদের ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।”

ইয়াহিয়া জানান, গানটির দুটি লাইন তিনি নিজের ব্যক্তিগত ব্লগে প্রকাশ করেছিলেন। এরপর ওই শিল্পীর একজন প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গানটি নিয়ে চুক্তির বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন।

গানটির প্রকাশিত দুটি লাইন হলো—

“তুই তাকালে জোয়ার ভাটা,
চমকে উঠি আমি,
মহাকাশের চাঁদনী রে,
তুই আমি কি তুই হবি?”

গানটি নিয়ে ইয়াহিয়া আরও বলেন, এটি তাঁর জন্য নতুন একটি অভিজ্ঞতা। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সংগীতের জগতেও নিজের লেখা পৌঁছে দিতে চান তিনি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শ্রোতাদের জন্য ভালো কিছু উপহার দিতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এই নবীন লেখক।

হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ইয়াহিয়া আহমেদ। তাঁর পিতা মোহাম্মদ শওকত আকবর এবং মাতা শারমিন আক্তার শিরিন।

ছোটবেলা থেকে বই পড়া, ব্যক্তিগত ডায়েরিতে গোপনে লেখালেখি, পরিচয় গোপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে নিজের পরিচয়ে প্রকাশ্যে আসা—ইয়াহিয়ার সাহিত্যযাত্রা মূলত দীর্ঘদিনের নীরব সাধনার ফল।

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা অষ্টম শ্রেণিতে থেমে গেলেও সাহিত্যচর্চা থামেনি। ব্যবসার পাশাপাশি বই পড়া, কবিতা লেখা এবং নতুন সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

তাঁর সাহিত্যচর্চার গল্পটি তাই শুধু একটি কবিতার জনপ্রিয়তার গল্প নয়; বরং একজন কিশোরের দীর্ঘদিনের লুকিয়ে রাখা স্বপ্ন ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসার গল্প।

নবীন এই লেখকের সাহিত্যচর্চা নিয়ে পাঠকদের প্রত্যাশা—সঠিক দিকনির্দেশনা, নিয়মিত পাঠাভ্যাস ও লেখালেখির মাধ্যমে ইয়াহিয়া ভবিষ্যতে আরও পরিণত ও মানসম্মত সাহিত্য সৃষ্টি করবেন।

‘লোভী’ কবিতার জনপ্রিয়তা যেন সেই দীর্ঘ নীরব সাহিত্যযাত্রারই একটি সুন্দর প্রকাশ্য সূচনা।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:০৮ এম


তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শিগগিরই শুরু: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরুতে টেকনিক্যাল কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এ প্রকল্পে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হচ্ছে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ জানান, অল্প কিছুদিনের মধ্যে মহাপরিকল্পনার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী ও রাজীবপুরের নদীভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘তিস্তা একটি বড় প্রকল্প। একদিনে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। আমাদের সরকারের বয়স মাত্র পাঁচ মাস। কিছুদিন সময় দিন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পাইলট প্রকল্প হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করব।’

তিনি জানান, কুড়িগ্রামে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধে দুটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার প্রায় ১০০টি ভাঙনকবলিত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে। নদীভাঙন রোধে কোনো রাজনৈতিক বিবেচনা করা হবে না।

এই পরিদর্শনের সময় কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান হাসিব ও শফিকুল ইসলাম বেবু এবং জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%