০৭:৪৬ পি.এম
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহের চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে ১৮টি কোচ ভারতীয় রেলওয়ে পাঠিয়েছে। গত ১২ অক্টোবর, ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি থেকে কোচগুলো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিসেস লিমিটেডের (রাইটস) সঙ্গে ২০২৪ সালের ২০ মে বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০০টি লিংকে-হফম্যান-বুশ (এলএইচবি) ব্রডগেজ কোচ সরবরাহের চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে এসব কোচের সরবরাহ, পরীক্ষণ ও চালুর কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রথম চালানের ১৮টি কোচের মধ্যে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কার, তিনটি এসি চেয়ার কার, দুটি এসি স্লিপার কার এবং দুটি এসি পাওয়ার কার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাওয়ার কার দুটিতে গার্ডের কক্ষ ও মালপত্র রাখার জায়গা রয়েছে।
আরও পড়ুন: পুরাতন রমনা থানার সামনের সড়কে ককটেল বিস্ফোরণ
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভারত-বাংলাদেশের গেদে-দর্শনা আন্তদেশীয় রেল সংযোগের মাধ্যমে কোচগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। পরে বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে হস্তান্তরের পর ভারতীয় রেলওয়ের একটি কারিগরি দল সৈয়দপুর ওয়ার্কশপে কোচগুলো চালুর প্রস্তুতি ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে।
ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি এসব কোচ বাংলাদেশের রেলওয়ের পরিচালনব্যবস্থা ও যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনায় বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে রয়েছে একাধিক অবস্থানে হেলানো যায় এমন বিশেষ আসন, স্টেইনলেস স্টিলের হাতল এবং পায়ের বিশ্রাম রাখার ব্যবস্থা। কোচগুলোর কাঠামোতে স্টেইনলেস স্টিল ব্যবহার করা হয়েছে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলার উপযোগী করে এগুলো নকশা করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য কোচগুলোতে দুর্ঘটনার অভিঘাত মোকাবেলার বিশেষ ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে। পরিবেশবান্ধব বায়ো-টয়লেটের পাশাপাশি ইলেকট্রো-নিউম্যাটিক চাপযুক্ত ফ্লাশিং ব্যবস্থাও যুক্ত করা হয়েছে।
রাইটসের সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে ৩০টি এবং ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর আরো ১০টি ব্রডগেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সরবরাহ করে। পরে ২০১৮ সালের ১ জুন সরবরাহ করা হয় ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ। এসব লোকোমোটিভ ও কোচ ভারত সরকারের ঋণসহায়তার আওতায় বাংলাদেশকে প্রদান করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন: যমুনা ফিউচার পার্কে ব্যারিয়ার ভেঙে জেমসের গান উপভোগ করলেন হাজারো মানুষ
সম্প্রতি সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন, সেতু ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, একটি প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আরও জানান, কোচগুলো দেশে আসার পর নতুন ট্রেনের রুট নির্ধারণ করা হবে।
রেলওয়ে সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কোচ সরবরাহের ভিত্তিতে ঢাকা-পাবনা ও ঢাকা-খুলনা ব্রডগেজ রুটে দুটি নতুন আন্তনগর ট্রেন চালুর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এতে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্রগুলো জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে যমুনা সেতু-পাবনা, ঢাকা-পদ্মা সেতু এবং খুলনা-মোংলা রেলপথসহ বেশ কয়েকটি রেলপথ চালু হয়েছে। তবে ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের সংকটের কারণে এসব পথে পর্যাপ্ত ট্রেন চালু করা সম্ভব হয়নি। ভারত থেকে ২০০টি কোচ এলে নতুন রেলসেবা চালুর ক্ষেত্রে সেই সংকট কিছুটা কাটতে পারে।
আরও পড়ুন: বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারতের চেয়ে ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন