১১:১৩ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন। আগামী ১১-১২ নভেম্বর তিনি তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনে (কপ-৩১) অংশগ্রহণ করবেন।
সফরের সময় বাংলাদেশ তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি জলবায়ু ইস্যুতে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর স্বার্থ তুলে ধরবে।
ঢাকা ও আঙ্কারার কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর তুরস্ক সফরের সময় বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল
তুরস্কের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
কপ-৩১ আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। ১১ ও ১২ নভেম্বর জলবায়ু সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানরা অংশগ্রহণ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর এই দুই দিনে উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আগামী ১০ নভেম্বর ঢাকা ত্যাগ করবেন এবং সফর শেষে ১২ নভেম্বর ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন।
বাংলানিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কপ-৩১ এ প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেলায় অনুদানভিত্তিক অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেবেন। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো যাতে নতুন ঋণের বোঝায় না পড়ে, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করবেন।
আরও পড়ুন: ২০২৭ সালে ২ ঈদে কতদিন ছুটি, জানা গেল
প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. সায়মুম পারভেজ জানিয়েছেন, কপ-৩১ এ জলবায়ু ঝুঁকির লস অ্যান্ড ড্যামেজের অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি জানানো হবে। ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো যাতে এ তহবিল থেকে অর্থ পায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ দাবি জোটবদ্ধভাবে তুলে ধরা হবে বলেও তিনি জানান।
বন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর বাংলাদেশ ১৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়ছে। কপ-৩১ সম্মেলনে এই ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরে লস অ্যান্ড ড্যামেজ বা ক্ষয়ক্ষতি বাবদ অর্থ সহায়তার দাবি জানাবে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এবার সংক্ষিপ্ত সফরে তুরস্ক যাবেন। তিনি বিশ্বনেতাদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন কেবল জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার আয়োজন নয়, বরং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় দেশের স্বার্থ, অর্থায়নের দাবি এবং উন্নত দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আনার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মঞ্চ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শামা ওবায়েদ আরো বলেন, তুরস্ক সম্মেলনে জলবায়ু সহনশীলতা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের অর্জন তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর প্রতি উন্নত বিশ্বের দায়িত্ব পালনের দাবি জানানো হবে।
আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব দিবস নানা আয়োজনে পালিত
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব
কূটনৈতিক সূত্র জানাচ্ছে, জলবায়ু সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তুরস্কের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে এরদোয়ান বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগতভাবে আরো বিস্তৃত অংশীদারিতে যুক্ত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণ জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শহীদ জিয়ার লক্ষ্য-আদর্শে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে: উপাচার্য
ওই আলোচনার ধারাবাহিকতায় আনতালিয়া সফরে দুই দেশের সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক যোগাযোগ হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশের সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন হুমায়ুন কবির। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কপ-৩১ এ অংশগ্রহণ, উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, নবায়নযোগ্য ও সবুজ জ্বালানি এবং বাংলাদেশে তুরস্কের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশে ২০২৭ সালের শুরুতে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সম্মেলনে তুরস্ককে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানান হুমায়ুন কবির।
আরও পড়ুন: মাদক সংশ্লিষ্টদের প্রতি কঠোর বার্তা দিলেন মির্জা ফয়সল
এর আগে গত ২৭ আগস্ট সৌদি আরবের জেদ্দায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। ওই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তুরস্ক সফরের বিষয়টি আলোচনায় আসে। দুই পক্ষ অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।
এর আগে গত ৬ জুন ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। ওই সফরে দুই দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে একটি যৌথ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি নিয়মিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়।
তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা, সামরিক সরঞ্জাম, প্রযুক্তি বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র। ফলে প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।
আরও পড়ুন: আনসার-ভিডিপি সদস্যদের বিদেশে কর্মসংস্থানে সরকারের নতুন উদ্যোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন