মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫১ পি.এম
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ন্যাম ভবনে এমপি নজরুলের শয়নকক্ষের বারান্দায় ঘুমাতে হতো, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আদালতে জানিয়েছেন যে, প্রথমে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন গাজী নজরুল।
মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গাজী নজরুলকে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মরিয়ম মাঝে মাঝে বারান্দায় ঘুমাতেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল ইসলাম রিমান্ডে বলেছেন যে, মামলার বাদী (মরিয়মের বাবা) তার আত্মীয় এবং সম্পর্কের দিক থেকে ভাগনে। মরিয়ম আসামির নাতনি। নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলেই বাদীর বাসায় রাত্রিযাপন করতেন এবং সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। এই সম্পর্কের সুবাদে মরিয়মের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে এবং নজরুল ইসলাম মরিয়মকে বিয়ে করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, গত ১৭ জুন নজরুল ইসলাম ধর্মীয় নিয়মে মরিয়মকে বিয়ে করেন। পরে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম এবং মামলার ২ নম্বর আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনে গাজী নজরুল বসবাস করতেন। মোছা. মাকছুদা ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী।
‘প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাসের সময় মরিয়ম মাঝে মাঝে নজরুলের শয়নকক্ষের পাশে ব্যালকনিতে ঘুমাতেন,’ এ কথা উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে "আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য" পাওয়া গেছে।
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের (৭৫) দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন ও মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। গত বুধবার এ মামলার তৃতীয় আসামি ভুক্তভোগীর মামা ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি–২। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, গোপনে নাশকতাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার সকালে, জিয়া পরিষদের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উল্লেখ করেন, ‘যারা গোপনে বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার মানে হচ্ছে রাস্তায় মারামারি করা নয়।’
তিনি আরও বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সম্পূর্ণ আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সংগ্রাম ও আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হয়েছে এবং জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্টরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন। তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া গ্রামে সকাল ১০টায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর শহীদ আবু সাঈদের মা-বাবা এবং অন্যান্য স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং শহীদ পরিবারের প্রতি বিএনপি সরকারের সমর্থনের কথা জানান।
কবর জিয়ারত শেষে, শহীদ আবু সাঈদের মা-বাবাকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রংপুর হচ্ছে বীর সন্তানের জেলা। এ জেলা নিয়ে পুরো দেশ গর্ব করে। শহীদ আবু সাঈদ শুধু ইতিহাস নন, তিনি অনুপ্রেরণার নাম। আবু সাঈদ জাতীয় সম্পদ এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের সূতিকাগার।’
তিনি আরও বলেন, “শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। তাকে শুধু গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হবে। আবু সাঈদ আমাদের প্রেরণা, আবু সাঈদ আমাদের শক্তির উৎস।”
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন অবহেলিত উত্তরাঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার কাজ করছে। রংপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলকে বদলে দেওয়া হবে।’
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড সম্পর্কে তিনি জানান, ‘দেশের সব পরিবার ফ্যামিলি কার্ড এবং সব কৃষক কৃষক কার্ড পাবে। এ নিয়ে কোনো তদবির বা টাউট-বাটপারের খপ্পরে না পড়তে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তেল-গ্যাস সংকটের কথা বলে লং মার্চে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পোড়ানো হয়েছে।’ সংসদের বাইরে বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সারের সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের নির্বাচিত কিছু এলাকায় কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে জনগণের সরকারকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ সময় আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুর সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনা এখনও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সফরের জন্য তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই। উভয় দেশের সরকারপ্রধানের সুবিধাজনক সময়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, "হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ব্যক্তিগত পর্যায়ে গড়ে উঠেছে।" তিনি জানান, বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি এবং বৈঠক নিয়ে তিনি ইতিবাচক অনুভূতি প্রকাশ করেন।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই যথাযথ সময় দিতে হবে। ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণ এখনও উন্মুক্ত রয়েছে। যখনই দুই প্রধানমন্ত্রী মনে করবেন, তখনই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ম্যানচেস্টার সিটির সাফল্যমণ্ডিত অধ্যায় শেষ করে বর্তমানে কিছুটা অবসর কাটাচ্ছেন পেপ গার্দিওলা। কোচিং ক্যারিয়ারে বিরতি নেওয়া এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ডকে নিয়ে ফুটবল বিশ্বে চলছে নানা গুঞ্জন। ইতালি জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর কিছুদিন তিনি ছিলেন নীরব। কিন্তু হঠাৎ করেই জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে তার ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি গার্দিওলার একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বায়ার্নের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট উলি হোয়েনেসের সঙ্গে, যা এই গুঞ্জনের সূচনা করেছে। হোয়েনেস, যিনি মিউনিখ ক্লাবের অভিভাবক ও পরামর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন, সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’-কে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেখা হয়েছে—এটি সত্যি। পেপ, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে এবং আমার মধ্যে বেশ গভীর বন্ধুত্ব রয়েছে। আমরা সবাই মিলে এক দারুণ সন্ধ্যা উপভোগ করেছি।’
বায়ার্নের বর্তমান প্রধান কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানিকেও ওই নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যা গার্দিওলার অনুরোধে করা হয়েছিল। তবে স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত কোচদের সম্মেলনের কারণে তিনি সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। হোয়েনেস এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘পরে সুযোগ পেলে আমরা ভিনসেন্ট ও পেপকে নিয়ে আনন্দের সঙ্গেই আরেকটি নৈশভোজের আয়োজন করব।’
তবে ক্লাবটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই নৈশভোজে সৌজন্য সাক্ষাত ছাড়া বায়ার্নের কোচ পদে ফেরার ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। উল্লেখ্য, গার্দিওলা ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বায়ার্ন মিউনিখের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সময় তিনি ক্লাবের হয়ে তিনটি বুন্দেসলিগা ও দুটি কাপ ট্রফি জিতেছিলেন এবং পরে তিনি যোগ দেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। ৫৫ বছর বয়সী এই স্প্যানিশ কোচ গত মৌসুম শেষে সিটি ছেড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কোচিং থেকে বিরতি নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ