ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইউজিসি: তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন তিন সদস্য নিয়োগ


ইউজিসি: তিন সদস্যকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন তিন সদস্য নিয়োগ

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তিনজন নতুন পূর্ণকালীন সদস্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনের বর্তমান তিন পূর্ণকালীন সদস্যকে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রবিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নতুন সদস্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র সহকারী নাঈমা খন্দকার।

নিযুক্ত নতুন সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী খান, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক ড. আসলাম হোসেন এবং বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব ভাস্কুলার সার্জারির অধ্যাপক প্রফেসর ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরী।

আরও পড়ুন: সাত মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল চীনের তিব্বত

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, তাদের নিয়োগের মেয়াদ হবে চার বছর। তবে সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া যাবে। তারা অব্যবহিত পূর্ববর্তী পদে সর্বশেষ প্রাপ্ত বেতন-ভাতা বহাল রাখবেন এবং কমিশনের সদস্য হিসেবে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তাদের নিয়োগ কার্যকর হবে যোগদানের তারিখ থেকেই।

অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন জানায়, জনস্বার্থে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ইউজিসির তিন পূর্ণকালীন সদস্যকে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

অব্যাহতি প্রাপ্ত সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম।

প্রজ্ঞাপন উল্লেখ করে, ‘বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আদেশ, ১৯৭৩ (রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর-১০/৭৩)-এর সংশোধিত আইন, ১৯৯৮-এর ৪(১)(বি) ধারা অনুযায়ী’ নতুন তিন সদস্যকে পূর্ণকালীন সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: নিছিদ্র নিরাপত্তায় দুর্গাপূজা, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি পরিদর্শন করলেন শতাধিক মণ্ডপ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচি পালিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


ময়মনসিংহে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচি পালিত

জেলায় আজ দুই হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচির আওতায় পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে, পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতাকে একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার উদ্দেশ্যে জেলা প্রশাসন এই কর্মসূচি পরিচালনা করেছে।

আজ রোববার নগরীর পাটগুদাম উচ্চ বিদ্যালয় এবং মহিলা সমিতি উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহের প্রতি রোববার জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এই অভিযান পরিচালিত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে ২ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

এতে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী সহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহের প্রতি রোববার ‘ক্লিন সানডে’ নামে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রাত্যহিক জীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়াও, প্রতিটি বিদ্যালয়ে পরিবেশ ক্লাব গঠন এবং স্যানিটেশন অ্যাম্বাসেডর নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। প্রতিমাসে পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে ভালো কাজ করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ‘ক্লিন আপ বাংলাদেশ’র স্বেচ্ছাসেবক দল, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতের অভিযোগে শ্রীলেখাকে গ্রেপ্তারের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃতের অভিযোগে শ্রীলেখাকে গ্রেপ্তারের দাবি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ছবি বিকৃত করার অভিযোগে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে একটা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

একই সঙ্গে, বিজেপির কিছু কর্মী ও সমর্থক অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবিও তুলেছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আনন্দপুর ও বিধাননগর সাইবার থানায় শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

এই অভিযোগের সূত্রপাত শুক্রবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত নিট-সংক্রান্ত আন্দোলনের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে। ওই মিছিলে অভিনেত্রীর হাতে থাকা একটি পোস্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিকৃত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে শ্রীলেখাকে সরব হতে দেখা গেছে। অতীতে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের নিয়ে মন্তব্য করে বিতর্কও সৃষ্টি করেছেন। তবে বর্তমানে বিদ্যমান অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, এফআইআর দায়ের হওয়ার পর শ্রীলেখা মিত্র তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দাবি করেছেন, বিতর্কিত ছবিটি নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা মূলত ভুল-বোঝাবুঝির ফল।

অভিনেত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিকভাবে বিজেপির বিরোধিতা করতেই পারি, কিন্তু তাই বলে ইচ্ছাকৃত ভাবে প্রধানমন্ত্রীর ছবি বিকৃত করার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা ঠিক নয়।’

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তদন্ত এখনো চলছে। অভিযোগের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কমনওয়েলথ গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বক্সার রাকিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


কমনওয়েলথ গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের বক্সার রাকিব

কমনওয়েলথ গেমসে ছেলেদের ৫৫ কেজি ব্যান্টামওয়েট বিভাগের দ্বিতীয় রাউন্ডের লড়াইয়ে বাংলাদেশের বক্সার রাকিব হোসেন সাফল্যের সাথে হাজির হয়েছেন।

আজ রবিবার (২৬ জুলাই) স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোয় পাপুয়া নিউ গিনির মাইকেল ইনোইনোকে পরাজিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে প্রবেশ করেছেন রাকিব।

এত কিছুর পর, জয়ের পর রাকিবকে অবিলম্বে পুরস্কৃত করেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব জোবায়েদুর রহমান রানা। তিনি রাকিবকে অভিনন্দন জানিয়ে আরো ভালো করার জন্য উৎসাহিত করেন।

তবে সাঁতারে বাংলাদেশের দুই প্রতিযোগী বিশেষ কৃতিত্ব দেখাতে পারেননি।

নারীদের ১০০ মিটার ফ্রি-স্টাইলের প্রতিযোগিতায় সোনিয়া আক্তার ১ মিনিট ৭.৭০ সেকেন্ড সময় নিয়ে শেষ করেন। তার আগের সেরা টাইমিং ছিল ১ মিনিট ৫.০৫ সেকেন্ড। ৭১ জন প্রতিযোগীর মধ্যে তিনি ৬১তম স্থান অর্জন করেন।

অপরদিকে, পুরুষদের ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে সুকুমার রাজবংশী ৩০.৯০ সেকেন্ড সময় নিয়েছেন। এর আগে তার সেরা টাইমিং ছিল ২৯.৯২ সেকেন্ড। সুকুমার তাঁর হিটে দ্বিতীয় স্থান পেয়ে মোট ৫৮ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ৪৪তম অবস্থান অর্জন করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্ণাঢ্য আয়োজনে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬-এর প্রথম দিনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাব্বির হাসনাত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ পি.এম


বর্ণাঢ্য আয়োজনে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬-এর প্রথম দিনের অনুষ্ঠান সম্পন্ন

'সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি—গড়ে উঠুক মানবিক পৃথিবী'—এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে দুই দিনব্যাপী রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬ উদযাপনের প্রথম দিনের কর্মসূচি শনিবার (২৫ জুলাই) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানের সূচনায় শনিবার বিকেল ৫টায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের অস্থায়ী একাডেমিক ভবন-৩-এ রিসোর্স অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার-এর শুভ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, এমপি।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা ও বক্তৃতা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, এমপি। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম এবং জেড নিউজের সম্পাদক আমিরুল ইসলাম কাগজী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া।

প্রধান অতিথি মাননীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, এমপি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ট্রেজারার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিসহ উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বলেন, আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং শাহজাদপুরের একজন সন্তান হিসেবে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই তিনি এ উদ্যোগকে সমর্থন করে আসছেন। তাঁর প্রত্যাশা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুরে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় একদিন একটি আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় যেমন শিক্ষার্থীরা হতাশ, তেমনি শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীরাও একই সমস্যার মুখোমুখি। দীর্ঘদিন দেশ-বিদেশে, বিশেষ করে বিদেশে শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক দশক পরও নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা ভবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা একটি বড় ধরনের অব্যবস্থাপনার প্রতীক এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের পথে অন্যতম অন্তরায়। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠার ১০ বছরে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যে অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। বিগত বছরগুলোতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন না হওয়ায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতেও এর প্রতিফলন দেখা গেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে রাজপথে তরুণদের অংশগ্রহণ সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি বলেন, বর্তমান সময় পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এসেছে এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে।

প্রধান অতিথি বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বারবার আলোকবর্তিকার কথা বলেছেন। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই তাঁদের স্বপ্ন—রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে শাহজাদপুরকে নতুনভাবে আলোকিত করা এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশকে জ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোয় সমৃদ্ধ করা। তিনি এ লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, জনগণ তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তিনি এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রীয় নীতিমালা ও প্রচলিত নিয়ম অনুসরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের অনুমোদন এবং শাহজাদপুরে এর বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। তবে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বা তারিখ ঘোষণা করে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিতে চান না উল্লেখ করে বলেন, জনগণকে মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যা যা করণীয়, সরকার তা-ই করবে। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতারের আন্তরিকতা, অগ্রগতি ও সক্রিয় উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস বক্তা হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ "প্রযুক্তির যুগে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষা দর্শন: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট ও সমকালীন পর্যালোচনা" শীর্ষক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার বলেন, "রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবতাবাদ, মুক্তচিন্তা, সাহিত্য-সংস্কৃতি এবং জ্ঞানচর্চার আদর্শকে ধারণ করে একটি আলোকিত সমাজ বিনির্মাণের স্বপ্নযাত্রা। প্রতিষ্ঠা দিবস আমাদের জন্য শুধু উৎসবের দিন নয়; এটি আত্মমূল্যায়নের দিন, নতুন অঙ্গীকারের দিন এবং ভবিষ্যতের পথরেখা নির্ধারণের দিন।" তিনি বলেন, "আমাদের লক্ষ্য শুধু ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থী তৈরি করা নয়; বরং এমন মানবিক, সৃজনশীল, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ গড়ে তোলা, যারা জ্ঞান, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং সমাজসেবার মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের কল্যাণে নেতৃত্ব দেবে। শিক্ষার প্রকৃত সাফল্য কেবল পরীক্ষার ফলাফলে নয়; তা প্রতিফলিত হয় একজন শিক্ষার্থীর চরিত্র, মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা এবং সমাজের প্রতি তার দায়বদ্ধতায়।"উপাচার্য মহোদয় আরও বলেন, "একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত শক্তি তার গবেষণা, জ্ঞানসৃষ্টি এবং উদ্ভাবনে। গবেষণাবিহীন বিশ্ববিদ্যালয় কখনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হতে পারে না। তাই আমরা গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, উদ্ভাবনী সংস্কৃতি এবং শিল্প-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করছি।"

তিনি বলেন, "'সাহিত্য-সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি—গড়ে উঠুক মানবিক পৃথিবী'—এই প্রতিপাদ্য শুধু একটি স্লোগান নয়; এটি আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার ভিত্তি। আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মানবিক মূল্যবোধ পরস্পরের পরিপূরক হয়ে শিক্ষার্থীদের বিশ্বনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। আমাদের স্বপ্ন—Local Roots, Global Wings; অর্থাৎ শিকড় থাকবে বাংলাদেশের মাটিতে, আর জ্ঞান ও সক্ষমতার বিস্তার হবে বিশ্বজুড়ে।" উপাচার্য মহোদয় সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করে বলেন, "স্থায়ী ক্যাম্পাস, আধুনিক গবেষণা অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সমাজের সকল অংশীজনের সম্মিলিত সহযোগিতা অপরিহার্য। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের অঙ্গীকার।" বক্তব্যের শেষে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবিক দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, "চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির—এই চেতনাকেই ধারণ করে আমরা এমন এক বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ করতে চাই, যেখান থেকে শুধু ডিগ্রিধারী নয়, বরং আলোকিত মানুষ, দক্ষ গবেষক, সৃজনশীল উদ্যোক্তা এবং দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে উঠবে।

এসময় মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রিসোর্স অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার-এর উদ্বোধন এবং মূল্যবান দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদানের জন্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, এমপি-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বক্তা জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, বিশেষ অতিথি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম, জেড নিউজের সম্পাদক আমিরুল ইসলাম কাগজী এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল সম্মানিত অতিথি, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা, শুভকামনা ও অংশীদারিত্বই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, গবেষণামুখী ও আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রেরণা ও শক্তি জোগাবে। আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা ৭টায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সংগীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টায় ক্লোজআপ ওয়ান তারকা সংগীতশিল্পী মিজান মাহমুদ রাজীব-এর প্রাণবন্ত পরিবেশনায় মুখরিত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

প্রসঙ্গত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি রবিবার (২৬ জুলাই) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বেলুন উড্ডয়ন, পায়রা অবমুক্তকরণ এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
পরে অনুষ্ঠিত হবে নবীনবরণ ও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠান। এতে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, এমপি-এর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সংরক্ষিত মহিলা আসন-৯-এর মাননীয় সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩০-এর মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা-র।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা উপহার প্রদান এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় বৃত্তি-২০২৬ প্রদান করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%