বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১০:৩৫ পি.এম
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন যে, বাংলাদেশকে করদ রাজ্য বানানোর জন্য ভারত সরকার সর্বদাই আওয়ামী লীগকে ব্যবহার করেছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগকে হারিয়ে এখন তারা বিএনপিকে ব্যবহার করতে চায়। রাশেদ প্রধান এটি দুর্ভাগ্যজনক বলেও উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতার আশায় বাংলাদেশের রাজনীতিবিদরা ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান। তবে, পিলখানা, শাপলা চত্বর, মোদি-বিরোধী আন্দোলন এবং জুলাইয়ের সকল গণহত্যার জন্য প্রত্যক্ষভাবে আওয়ামী লীগ এবং পরোক্ষভাবে ভারত দায়ী বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার, জাগপা আয়োজিত খুনি হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দুই বছর আশ্রয় প্রদানের প্রতিবাদে এবং ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ র্যালি শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিক্ষোভ র্যালিটি বিকেল ৪টায় বিজয়নগর থেকে শুরু হয়ে প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।
রাশেদ প্রধান আরও বলেন, যে ভারত গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দুই বছর আশ্রয় দেয়, সেই ভারত তার বন্ধু নয়। যে ভারত সীমান্তে হত্যা করে, অবৈধ পুশ-ইন করে এবং ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দেয় না ও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জাতীয় নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করে, সেই ভারতও তার বন্ধু নয়। তিনি উল্লেখ করেন, যে ভারত ওসমান হাদির হত্যাকারীদের আশ্রয় দেয়, সেই ভারতও তাঁর বন্ধু নয়।
জাগপা মুখপাত্র বলেন, দিল্লিতে আওয়ামী লীগের প্রেস কনফারেন্স হয়। ভারত সরকার তাদের দায় এড়িয়ে যেতে পারে না বলে তিনি দাবি করেন। দিল্লি থেকে আওয়ামী লীগকে দিয়ে বাংলাদেশ অস্থিতিশীল করার ভারতীয় ষড়যন্ত্র বাংলার জনগণ মেনে নেবে না। রাশেদ প্রধান বলেন, খুনি হাসিনাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য তারা ফুলের মালা এবং ফাঁসির দড়ি নিয়ে প্রস্তুত আছেন। ভারতকে যারাই প্রভু মানবে, তাদের বিরুদ্ধেই সংগ্রাম চলবে এবং কথাবার্তা পরিষ্কার যে, ভারতীয় আধিপত্যবাদ চলবে না, আগ্রাসন চলবে না।
ঢাকা মহানগর জাগপা সভাপতি এস এম জিয়াউল আনোয়ারের সঞ্চালনায় এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন জাগপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ শফিকুল ইসলাম, ভিপি মুজিবুর রহমান, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নাদিম মাহমুদ, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবুল, যুব জাগপা সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জি. সিরাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ওলিউল আনোয়ার, জাগপা ছাত্রকাফেলা সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, দপ্তর সম্পাদক আরিয়ান শরীফ ও ঢাকা মহানগর সভাপতি ইমরান হুসাইন রাহুল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডস্থ ভাড়াটিয়া বাসা থেকে মোঃ হারুন বেপারির ছেলে মোঃ তাজুল ইসলামকে (তাজ কম্পিউটারারের স্বত্বাধিকারী) ৮০ পিস ইয়াবাসহ আটক করেছে বরিশাল মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সার্কেল (ক)-এর একটি টিম।
জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের একটি টিম ৬ আগস্ট সকাল ৮.৫০ ঘটিকায় তার নিজ ভাড়াটিয়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পরে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে, তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ মাদকদ্রব্য এ্যামফিটামিন ইয়াবা ট্যাবলেট নিজ বসত করে বিক্রয় করার উদ্দেশ্যে সংরক্ষণ করার দায়ে বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক জসীম উদ্দীন স্বাক্ষরিত এজাহারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক) এর ধারামতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বানারীপাড়া থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে যে, তাজুল ইসলাম ইতিপূর্বে মাদক ব্যবসার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলো। তার কারণে, উঠতি বয়সী কিশোর ও যুবক শ্রেণির সন্তানদের নিয়ে ওই এলাকার প্রত্যেকটি পরিবার চিন্তিত ছিল। তাজুল ইসলাম গ্রেপ্তার হওয়ায়, ওই এলাকার বসরত সাধারণ মানুষের মনে শান্তি বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মুজিবুর রহমান জানান, বরিশাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সার্কেল (ক)-এর একটি টিম তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে মামলা দায়ের করে বানারীপাড়া থানায় সোপর্দ করার পরে বানারীপাড়া থানা পুলিশ তাকে বরিশাল কোর্ট হাজতে প্রেরণ করে। তিনি আরো জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি বানারীপাড়া থানা পুলিশও যারা মাদকের সাথে জড়িত তাদের গ্রেপ্তারে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। তারা জানিয়েছে যে, তারা রাজ্য সরকারের সাথে আলোচনার বিষয়ে আশাবাদী, তবে প্রশ্ন ফাঁসের সিবিআই তদন্তসহ তাদের সমস্ত দাবি পূরণ না হলে তারা আরো কঠোর আন্দোলন করার ঘোষণা দিয়েছে। গত ২৫শে জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই ছাত্র আন্দোলন এখন বৃহস্পতিবার ১৩তম দিনে পদার্পণ করেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চার নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো অনশন করছেন।
দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো গত ২রা আগস্ট থেকে অনশন শুরু করেছেন এবং তার রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় তার শারীরিক অবস্থার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি মাহাতোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন, তাকে অন্তত জল পান করার জন্য অনুরোধ করেন এবং মাহাতো সেই অনুরোধ গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, ওয়াংচুক দিল্লিতে করকরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে ২৬ দিন অনশন করেছেন।
জেপিএসসি-জেএসএসসি রিফর্মস মঞ্চের মুখপাত্র জীবন কুমার বলেছেন, ‘আমাদের আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে এবং আমাদের দাবি আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে দুই নারীসহ আমাদের পাঁচ বন্ধু এই অনশনে যোগ দিয়েছেন।’
আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবি হলো ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাতিল করা। এই দাবির সঙ্গে পরঅঙ্ক্ষার কেলেঙ্কারির সিবিআই তদন্ত এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় ব্যাপক সংস্কারের দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। তারা এই বিষয়েও দাবি করছেন যে, পরীক্ষা বাতিলের পর ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকা উচিত।
আরও উল্লেখযোগ্য হলো, বিজেপি এই বিষয়টি বিধানসভায় তোলার ঘোষণা করেছে এবং ক্ষমতাসীন জেএমএম-নেতৃত্বাধীন সরকারের সহযোগী দল কংগ্রেসও ছাত্রদের সমর্থন জানিয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘ঝাড়খণ্ড, পাঞ্জাব, দিল্লি বা অন্য যেকোনো জায়গাই হোক না কেন, আমরা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আছি। আমরা ছাত্রছাত্রীদের পাশে আছি এবং তাদের সমস্যাগুলোর জন্য লড়াই চালিয়ে যাব।’
ছাত্র নেতা রাধে কুমার এবং রাহুল ক্রান্তি সতর্ক করেছেন যে, যদি তাদের দাবি পূরণ না হয় তবে ১০ই আগস্ট বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচির কথা মাথায় রেখে রাঁচি প্রশাসন ৬ই আগস্ট থেকে ১২ই আগস্টের মধ্যে বিধানসভা এলাকায় ১৪৪ ধারা বা নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
এদিকে, নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে সিআইডি তদন্ত জোরদার করেছে এবং এ পর্যন্ত ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাবেক জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল. খিয়াংতে-কেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
সেনাবাহিনী যেমন পেটে ভর দিয়ে চলে, প্রতিবাদও তেমনি চলে। যখন ঝাড়খণ্ডে কথিত পরীক্ষা অনিয়মের বিরুদ্ধে আন্দোলন জোরদার হচ্ছে, তখন মন্দির, মসজিদ ও গুরুদ্বারগুলোর পাশাপাশি সাধারণ লোকজনও রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে ১৩ দিন ধরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের খাবারের ব্যবস্থা করছেন।
এদিকে, ছয়জন বিক্ষোভকারী তাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন অব্যাহত রেখেছেন। গত কয়েকদিন ধরে প্রবল বৃষ্টির কারণে শহর ভিজে গেলেও ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-তে ব্যাপক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত হাজার হাজার মানুষের মনোবল ভাঙতে পারেনি। ছাত্ররা জানিয়েছে যে, ঝাড়খণ্ড গঠিত হওয়ার ২৬ বছর ধরে তারা অন্যায়ের সম্মুখীন হচ্ছে এবং এবার তারা তাদের অধিকার আদায়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতিহাসের নির্মম সত্য হলো—কোনো সাম্রাজ্য বাহ্যিক শক্তির চেয়ে বেশি ভেঙে পড়ে নিজের সীমাবদ্ধতার ভারে। রোম, ব্রিটিশ সাম্রাজ্য কিংবা সোভিয়েত ইউনিয়ন—প্রতিটি পতনের শুরু হয়েছিল সেই মুহূর্তে, যখন তাদের অপরাজেয়তার মিথে প্রথম ফাটল দেখা দিয়েছিল।
প্রশ্ন উঠছে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অনমনীয় প্রতিরোধ কি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ব আধিপত্যের সেই ফাটলের আরেকটি অধ্যায়?
ইরানকে দ্রুত নতজানু করার যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবতা তার উল্টো চিত্র দেখিয়েছে। প্রবল সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও তেহরান আত্মসমর্পণের পথ বেছে নেয়নি; বরং প্রতিরোধের ভাষাকেই রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে স্থাপন করেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনা ও যুদ্ধসামগ্রীর প্রত্যাহারের খবর নতুন কৌশলগত প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। এটি কি কেবল সামরিক পুনর্বিন্যাস, প্রত্যাহার, নাকি দীর্ঘমেয়াদি ইরানি যুদ্ধাস্ত্রের ব্যাপক চাপে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিফলন—সেই বিতর্ক চলতেই পারে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—আজকের বিশ্ব আর একক শক্তির নির্দেশে পরিচালিত হয় না। বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতা ক্রমেই দৃশ্যমান হচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে ইরানের প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র নিজেদেরকে এখনও বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক শক্তি মনে করলেও তাদের নিজেদের সেনা কমান্ডারদের দেয়া তথ্যমতে, ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু করেই তাদের সব ধরনের অস্ত্রের মজুদ প্রায় শেষের পথে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব বড় বড় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সেটি প্রচারিত হচ্ছে। তাই তার পতন এখন কি অনিবার্য—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বাস্তবসম্মত কিনা তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। কিন্তু ইতিহাসের গতিপথ আমাদের শেখায়, যখন কোনো পরাশক্তির প্রতিটি পদক্ষেপ আগের মতো অবাধ থাকে না, যখন প্রতিপক্ষ বারবার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়, তখন আধিপত্যের ভিত্তি ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থা তেমনটাই নির্দেশ করে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ তাই শুধু ক্ষেপণাস্ত্রের সংঘর্ষ নয়; এটি বিশ্ব ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্লিখনের সংগ্রাম।
যদি ইরান তার বর্তমান দৃঢ়তা, কৌশলগত ধৈর্য এবং প্রতিরোধের সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, এবং নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলী প্রস্তাবকে মেনে না নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রিক একমেরু বিশ্বব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে শুধু তাই নয় ভেঙে পড়তে পারে কয়েক দশকের বিশ্ব শাসন করা মার্কিন আধিপত্য।
আর যদি সেই চাপ ক্রমাগত বিস্তৃত হয়, তাহলে ভবিষ্যতের ইতিহাস হয়তো লিখবে—পারস্যের সিংহ খ্যাত ইরানের মত একটি দেশের অনমনীয় ও আপোসহীন মনোভাব ও প্রতিরোধেই বিশ্ব রাজনীতির দীর্ঘ কয়েক দশকের পরাশক্তির মানচিত্র বদলে দেওয়ার সূচনা করেছিল।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্তব্য করেছেন, ওলামায়ে কেরামকে শুধু মসজিদের ইমামতি করা ছাড়া অন্য কিছু করতে হবে না, বরং তাদের জাতির ইমামতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, যদি তারা সব ধরনের ভেদাভেদ ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার ইমামতির দায়িত্ব নেন, তাহলে আমরা তাদের নেতৃত্বে কাজ করার জন্য প্রস্তুত আছি।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গড়তে দেওবন্দী, আহলে হাদীস, সুন্নি, জামায়াতসহ সবাই একত্রে কয়েকটি বিষয়ের উপর ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টায় রাজধানীর পুরানা পল্টন ডিসিসি হলে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আয়োজনে ‘রক্তাক্ত জুলাই প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। আলোচনা সভার প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আল্লামা আবু জাফর কাসেমী বলেন, আমরা দেশকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করে কোনো লাভ পাইনি, এমনকি বাকস্বাধীনতাও পাইনি। সরকারের উচিত হচ্ছে, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর আমির মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি হারুন ইজহার, জাতীয় গণতান্ত্রীক পার্টির (জাগপার) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (অব.) মামহবুবুল আলম, লে. কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী, আলী মাকসুদ খান মামুন, রফিকুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাশেদ প্রধান মন্তব্য করেন, দেশে আজ বাক স্বাধীনতারও অভাব রয়েছে, তার প্রমাণ হচ্ছে নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীর উপর হামলাগুলো বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার জুলাই সনদ নয়, নিজেদের নোট বাস্তবায়ন করতে ব্যস্ত। সকলেই বলছেন, অভ্যুত্থান আসবে, কিন্তু আমি বলি, তা নয়, সামনে বিপ্লব আসবে।
বক্তাগণ বলেন, আমরা দেশটাকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করে আপাতত কিছুই পাইনি এবং সামনে কিছু পাবো বলে আশাও রাখতে পারছি না। দেশে তেল, গ্যাসসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ বিফল। আমাদের জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সব অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বিপ্লবের জন্য প্রস্তত থাকতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ