ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ধর্ষণ-হত্যা: সাক্ষ্যগ্রহণে যে বর্ণনা দিলেন রামিসার মা-বাবা


ধর্ষণ-হত্যা: সাক্ষ্যগ্রহণে যে বর্ণনা দিলেন রামিসার মা-বাবা

রাজধানীর পল্লবীর একটি ঘটনাতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় যে মামলা করা হয়েছে, সেই মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন ভিকটিমের মা পারভিন বেগম, বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা, বোন রাইসা আক্তারসহ মোট ১০ জন সাক্ষী।

সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিনে, মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তাঁরা সাক্ষ্য দেন।

সাক্ষ্যগ্রহণে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, ‘১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টায় আমি অফিসে যাওয়ার উদ্দেশে বের হই। আমার অফিস বনানীর কাকলী। ১০টা থেকে সোয়া ১০টার মধ্যে আমার স্ত্রী পারভীনা আক্তারের ফোন পাই। আমাকে বাসায় আসতে বলে। বাসায় এসে দেখি মেইন গেটের সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে আছে। এরপর আমি দৌড় দিয়ে ফ্ল্যাটের সামনে যাই। সেখানে অনেক লোক জড়ো হয়ে আছে।’

আরও পড়ুন: ছলিম ও তার স্ত্রীর ২৭ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী পাশের ফ্ল্যাটের (আসামিদের) দরজার কড়া নাড়ছে। সবাই মিলে ডাকাডাকি করছে। তখন আমি নিচে গিয়ে একটা হাতুড়ি আনি। ডোর লক হাতুড়ি দিয়ে ভাঙার চেষ্টা করি। তাতে লকটা ভেঙে খুলে যায়। সবাই মিলে পুরো দরজাটাই ভেঙে ফেলি। পরে আমরা ভেতরে যাই। ঢুকে দেখি ফ্ল্যাটের কমন রুমের ফ্লোরে সামান্য অল্প একটু রক্ত পড়ে রয়েছে। তখন স্বপ্না চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিল। কিছু বলছিল না। এক পর্যায়ে তাদের (আসামিদের) বেডরুমের দরজা সবাই মিলে ভাঙি। টয়লেটে বালতিতে মেয়ের বিচ্ছিন্ন মাথা দেখে আমি জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এরপর কী হয়, আর কিছু বলতে পারি না।’

জেরায় আসামি পক্ষের আইনজীবী প্রশ্ন করেন, ‘এই ঘটনা কি আপনি নিজ চোখে দেখেছেন?’ তখন রামিসার বাবা বলেন, ‘আমি যতটুকু দেখেছি ততটুকুই বলেছি।’

সাক্ষ্যগ্রহণে রামিসার মা পারভিন বেগম বলেন, ‘আনুমানিক ১০টা, আমি তখন রান্না করছিলাম। দুই মেয়ের পার্শ্ববর্তী চাচার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। গিয়েছে কি না আমি বুঝতে পারিনি। এরপর রান্নাঘর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। আমি মনে করি, পাশের ফ্ল্যাটে (আসামিদের) কোনো বাচ্চা হয়তো চিৎকার দিচ্ছে। এদিকে, আমি অপেক্ষা করছি রামিসা এখনো আসছে না কেন। কখন আসবে। কিছুক্ষণ পর বড় মেয়ে একাই বাসায় ফিরে। আমি ওকে রামিসার কথা জিজ্ঞেস করলে বলে, রামিসা আমার সঙ্গে যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশপাশ খোঁজ করেও পাচ্ছিলাম না রামিসাকে। সবাইকে রামিসার কথা জিজ্ঞেস করি। কিন্তু সবাই বলে, দেখিনি। নিচে একটা অফিসের কাজ চলছিল। সেখানে ঢুকে দেখি, মেয়ে আছে কি না। এরপর দোতলায় খুঁজি। সেখানেও নেই। আমার পাশের ফ্ল্যাটে দরজায় কড়া নাড়ি। কিন্তু কেউ সাড়া দিচ্ছিল না। হঠাৎ চোখ পড়ে দরজার সামনে মেয়ের একটা স্যান্ডেল। তখন আমার ভাবনায় আসে, মেয়েকে কি এখানে আটকে রেখছে। আমার শব্দ শুনে পাঁচতলা থেকে আসমা নামের এক নারী নেমে আসেন। ধীরে ধীরে আশপাশের লোকজনও চলে আসে। তাদেরকে জানাই রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমার স্বামীকেও ফোন দেই। অনেকে চেয়ার নিয়ে ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছে কিন্তু দেখতে পাচ্ছে না।’

আরও পড়ুন: ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

পারভিন বেগম আরও বলেন, ‘পরে দরজা ভেঙে সবাই ভেতরে ঢুকি। তখন রাজু নামের একটি ছেলে ভিডিও করছিল। স্বপ্না হাটাহাটি করছিল। বেডরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে বাথরুমে অসংখ্য রক্ত দেখতেই পাই। এরপর রামিসার বিচ্ছিন্ন মাথাও দেখি। পুলিশ এসে রামিসার জামা ও মরদেহ উদ্ধার করে। স্বপ্নাকে আমি অনেকবার বলেছি, বোন দরজাটা খুইলা দে, খুইলা দে। কিন্তু ও খোলে নাই। আমি ওকে কোনো প্রশ্ন করতে পারিনি। উপস্থিত লোকজনই ওকে প্রশ্ন করেছে। পরে আমি তাদের কাছ থেকে শুনতে পাই, সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালাইছে।’

কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সোহেল রানার দিকে আঙ্গুল তুলে রামিসার মা বলেন, ‘হত্যা ও করেছে। সে-ই ধর্ষণ করছে।’

এদিকে, রামিসার বোন রাইসা আক্তার শিশু সাক্ষী হওয়ায় ক্যামেরা ট্রায়ালে সাক্ষ্যগ্রহণ চলে। পরে সাক্ষ্যগ্রহণে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘পাশের বাসায় নাশতা করার সময় এক প্রতিবেশী দেখেন, একজন খালি গায়ে সেই ফ্ল্যাটের জানালা দিয়ে নেমে দৌড়ে চলে যাচ্ছে। আমি অনেকবার চোর চোর করে চিৎকার করি। কিন্তু কোনো রেসপন্স পাইনি। কিছুক্ষণ পর মানুষের চিৎকার শুনে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে রামিসার মরদেহ দেখতে পাই। পরে মানুষের কাছে আমি ঘটনার বর্ণনা জানতে পারি।’

এদিন সকাল পৌনে ৯ টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতে তোলা হয়।

আরও পড়ুন: মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সচিব পদায়ন নিয়ে জুডিসিয়াল সার্ভিসের ৩ সদস্যের বিরুদ্ধে রুল

এর আগে সোমবার দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

গত ১৯ মে সকালে পাশের ফ্ল্যাটে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের ভেতরে থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০ মে সোহেল আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিনব কায়দায় চোরাচালান, ৭ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:২৭ পি.এম


অভিনব কায়দায় চোরাচালান, ৭ লাখ টাকার ভারতীয় মাদক জব্দ

অভিনব কায়দায় চোরাচালানের ঘটনায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে সাড়ে ৯টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা চন্ডিদ্বার ও কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সালদানদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ভারতীয় মাদক জব্দ করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, আটক করা মালামালের মূল্য অন্তত ছয় লাখ ৯৩ হাজার টাকা।

জানা গেছে, বিজিবি-বিওপির টহলদলের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদক এবং এনার্জি ড্রিংকস আটক করা হয়েছে।

অভিযানের সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের তল্লাশি করে অভিনব কায়দায় লুকায়িত অবস্থায় ১০ কেজি গাঁজা, ৬১৪ পিস মেহেদী এবং ১৪৫ বোতল ভারতীয় রেডবুল এনার্জি ড্রিংক উদ্ধার করা হয়।

এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বিজিবি সুলতানপুর-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, বিজিবি সর্বদা সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, পusher, নারী-শিশু পাচার, মাদক এবং চোরাচালান প্রতিরোধে আভিযানিক কার্যক্রম ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদালতে সোহেলকে দেখিয়ে রামিসার মা বললেন ‘হত্যা ও করছে, ধর্ষণও করছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩১ পি.এম


আদালতে সোহেলকে দেখিয়ে রামিসার মা বললেন ‘হত্যা ও করছে, ধর্ষণও করছে’

আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামি সোহেল রানা কে দেখিয়ে রাজধানীর মিরপুরে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু রামিসার মা পারভীন আক্তার বলেন, ‘হত্যা ও করছে, ধর্ষণও করছে।’

রামিসার হত্যা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের দিন মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় এভাবেই বলেন তিনি।

সাক্ষ্যগ্রহণে রামিসার মা পারভিন বেগম বলেন, ‘আনুমানিক ১০টা, আমি তখন রান্না করছিলাম। দুই মেয়ের পার্শ্ববর্তী চাচার বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। আমি বুঝতে পারিনি, গিয়েছে কি না। এরপর রান্নাঘর থেকে আমি চিৎকারের শব্দ শুনতে পাই। আমি মনে করি, পাশের ফ্ল্যাটে (আসামিদের) কোনো বাচ্চা হয়তো চিৎকার দিচ্ছে। এদিকে, আমি এখনও অপেক্ষা করছি রামিসা এখনো আসছে না কেন। কখন আসবে। কিছুক্ষণ পর বড় মেয়ে একাই বাসায় ফিরে। আমি ওকে রামিসার কথা জিজ্ঞেস করলে সে বলে, রামিসা আমার সঙ্গে যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আশপাশ খোঁজ করেও পাচ্ছিলাম না রামিসাকে। সবাইকে রামিসার কথা জিজ্ঞেস করি। কিন্তু সবাই বলে, দেখিনি। নিচে একটা অফিসের কাজ চলছিল। সেখানে ঢুকে আমি দেখি, মেয়ে আছে কি না। এরপর দোতলায় খুঁজি। সেখানেও নেই। আমি পাশের ফ্ল্যাটে দরজায় কড়া নাড়ি। কিন্তু কেউ সাড়া দিচ্ছিল না। হঠাৎ আমার চোখ পড়ে দরজার সামনে মেয়ের একটা স্যান্ডেল। তখন আমার ভাবনায় আসে, মেয়েকে কি এখানে আটকে রেখেছে। আমার শব্দ শুনে পাঁচতলা থেকে আসমা নামের এক নারী নেমে আসেন। ধীরে ধীরে আশপাশের লোকজনও চলে আসে। তাদেরকে জানাই যে, রামিসাকে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি তখন আমার স্বামীকেও ফোন দিই। অনেকে চেয়ার নিয়ে ওপর দিয়ে উঁকি দিচ্ছে কিন্তু তারা দেখতে পাচ্ছে না।’

পারভিন বেগম বলেন, ‘পরে দরজা ভেঙে সবাই ভেতরে ঢুকি। তখন রাজু নামের একটি ছেলে ভিডিও করছিল। স্বপ্না হাটাহাটি করছিল। বেডরুমের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকলে বাথরুমে অসংখ্য রক্ত দেখতেই পাই। এরপর রামিসার বিচ্ছিন্ন মাথাও খুঁজে পাই। পরে পুলিশ এসে রামিসার জামা ও মরদেহ উদ্ধার করে।’

এসময় কাঠগড়ায় দাঁড়ানো থাকা স্বপ্নাকে দেখিয়ে রামিসার মা বলেন, ‘তারে আমি অনেকবার বলেছি, বোন দরজাটা খুইলা দে, খুইলা দে। কিন্তু ও খোলে নাই। আমি ওকে কোনো প্রশ্ন করতে পারিনি। উপস্থিত লোকজনই ওকে প্রশ্ন করেছে। পরে আমি তাদের কাছ থেকে শুনতে পাই, সোহেল রানা গ্রিল কেটে পালাইছে।’

এরপর কাঠগড়ায় দাঁড়ানো সোহেল রানাকে দেখিয়ে পারভীন বেগম বলেন, ‘হত্যা ও করছে, ধর্ষণও করছে।’

এদিকে পারভীন বেগম ছাড়াও শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ও বোন রাইসা আক্তারসহ ১০ জন সাক্ষী।

এদিন সকাল পৌনে ৯টায় মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতে তোলা হয়।

এর আগে সোমবার দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, হত্যা ও মরদেহ গোপনের অভিযোগে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই দিন বিকেলে মামলার বাদীসহ ১৭ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করা হয়।

গত ১৯ মে সকালে পাশের ফ্ল্যাটে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমের ভেতরে থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ২০ মে সোহেল আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রেন্ডারগাস্টের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উইন্ডিজকে প্রথমবার হারাল আয়ারল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৩৫ পি.এম


প্রেন্ডারগাস্টের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে উইন্ডিজকে প্রথমবার হারাল আয়ারল্যান্ড

নারীদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর কৃতিত্ব অর্জন করল আয়ারল্যান্ড। আইরিশদের এই জয়ের নায়ক হলেন ওরলা প্রেন্ডারগাস্ট, যিনি ব্যাটে-বলে অসাধারন পারফরম্যান্স উপস্থাপন করেছেন।

ত্রিদেশীয় সিরিজের এই ম্যাচে, আইরিশ অধিনায়ক প্রেন্ডারগাস্ট প্রথমে বল হাতে চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়ে শিকার করেন ২টি উইকেট। এরপর তিনি রান তাড়ায় নেমে অপরাজিত ৭১ রানের ঝড়ো ইনিংস উপহার দেন। তার অসাধারণ করে তোলা এই নৈপুণ্যে, আয়ারল্যান্ড ডিএলএস পদ্ধতিতে মাত্র ১ রানে জয় লাভ করে, যা তাদের ফাইনালে ওঠার পথে বেশ এগিয়ে দিয়েছে।

এদিন ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শীঘ্রই বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। পাওয়ারপ্লেতেই অ্যাভা ক্যানিংয়ের করা তোপে তারা দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে। শীর্ষ সারির ব্যাটাররা মাত্র পাঁচ ওভারের মধ্যেই ফিরে যাওয়ার কারণে দলটি বড় চাপের মধ্যে পড়ে। স্টেফানি টেইলর হালকা ইনজুরিতে মাঠ ছাড়ার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। ইনিংসের অর্ধেক সময়ের আগে স্কোর দাঁড়ায় ৫৩/৪ (কার্যত ৫ উইকেট হারানো)। তখন বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনার স্থায়ী ইতি ঘটে।

কিন্তু, জ্যানিলিয়া গ্লাসগো ও শেমেইন ক্যাম্পবেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। তারা কয়েকটি বাউন্ডারি মেরে ইনিংসে গতি আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু লেট ওভারে ক্যাম্পবেল আউট হলে আবারও ধস নেমে আসে। প্রেন্ডারগাস্ট ডেথ ওভারে দুটি উইকেট নেন। এরপর লোয়ার অর্ডারের কিছু বাউন্ডারির সাহায্যে দলটি কোনোমতে ১৪০ রান সংগ্রহ করে।

১৪১ রানের লক্ষ্যে আয়ারল্যান্ড যখন খেলতে নামে, তখন তারা শুরুতেই বড় ধাক্কা খায়। শানিশা হেক্টর প্রথম চার বলের মধ্যেই দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন। তখন ক্রিজে এসে পৌঁছান প্রেন্ডারগাস্ট। নিজের ২৪তম জন্মদিনে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন তিনি এবং রেবেকা স্টোকেলকে সঙ্গে নিয়ে দলকে টেনে তোলেন।

কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ নতুন করে ম্যাচে ফিরে আসে দ্রুত তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে। ফলে আয়ারল্যান্ড ৬৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। এরপরও প্রেন্ডারগাস্ট আক্রমণ অব্যাহত রাখেন। ১৪ ওভারে আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৯৫/৫, যেখানে তার একক সংগ্রহ ছিল ৭১ রান।

শেষ মুহূর্তে নাটকীয়তা বাড়ে। তখন বৃষ্টি এসে হানা দেয়, এবং ডিএলএস হিসাব অনুযায়ী আয়ারল্যান্ড তিন রানে পিছিয়ে ছিল। ম্যাচের শেষদিকে আম্পায়াররা পরিস্থিতি দেখে আরও একটি বল করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই বলটি লুইস লিটলের ব্যাটের কানায় লেগে ৪ হয়। এরপর বৃষ্টি আরও বেড়ে গেলে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। ম্যাচ শুরু না হওয়ার কারণে আয়ারল্যান্ডকে জয়ী ঘোষণা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিমানে ঘর ছেড়েছিলেন, ৩৮ বছর পর ফিরলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২ই জুন, ২০২৬ ইং

০১:৪০ পি.এম


অভিমানে ঘর ছেড়েছিলেন, ৩৮ বছর পর ফিরলেন

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দি গ্রামে এখন আনন্দ, কান্না এবং বিস্ময়ের পরিবেশ বিরাজমান। ৩৮ বছর আগে যে ব্যক্তি সামান্য অভিমান করে ঘর ছেড়ে ছিলেন, তার জন্য একসময় স্বজনদের চিন্তা ছিল বড্ড বেশি। ধরে নেওয়া হয়েছিল, তিনি আর হয়তো পৃথিবীতে নেই। তবে সময়ের সব হিসাব ভুল প্রমাণিত করে সোমবার (১ জুন) বিকেলবেলা সেই হারিয়ে যাওয়া মানুষটি নিজের জন্মভিটায় ফিরে এসেছেন।

ফিরে আসা এই প্রবীণ ব্যক্তির নাম জবেদ আলী (৬৬)। তিনি বামন্দি গ্রামের মৃত তোফাজ্জল মণ্ডলের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে জানা যায়, সোমবার বিকেলে গ্রামের রাস্তার ধারে এক বৃদ্ধকে ধীরে ধীরে হেঁটে আসতে দেখা যায়। তার বয়সের ভারে ন্যুব্জ শরীর এবং মুখে সময়ের গভীর চিহ্ন ছিল। প্রথমে কেউ তাকে চিনতে পারেনি, কিন্তু বাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতেই ঘটে এক অবিশ্বাস্য ব্যাপার। দীর্ঘদিনের অপেক্ষায় ক্লান্ত স্ত্রী রুশিয়া খাতুন প্রথমে হতভম্ব হয়ে যান। কয়েক মুহূর্ত তাকিয়ে থাকার পর তিনি চিনতে পারেন সেই চেনা মুখটিকে। এরপর তিনি চিৎকার করে ওঠেন, ‘ওই তো আমার মানুষ!’

তার সেই চিৎকার শুনে ছুটে আসেন পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা। মুহূর্তের মধ্যেই কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে বাড়ির আঙিনা। কেউ তার হাত ধরে কাঁদছেন, আবার কেউ বুকে জড়িয়ে ধরে হারিয়ে যাওয়া সেই দীর্ঘ সময়কে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে পারিবারিক কলহের কারণে অভিমান করে জবেদ আলী চার বছরের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম এবং স্ত্রী রুশিয়া খাতুনকে রেখে হঠাৎ বাড়ি ছাড়েন। এরপর বছরাত্তর ধরে সম্ভাব্য সব জায়গায় তার খোঁজ করতে গিয়ে স্বজনরা কোনো সন্ধান পাননি। কখনো দেশের অন্য জায়গায় থাকার খবর পাওয়া গেছে, আবার কখনো তার মৃত্যুর গুজব এসেছে স্বজনদের কাছে। প্রতিটি খবরের পেছনে ছুটে বেড়িয়েছেন তারা, কিন্তু প্রতিবারই তারা ফিরে পেয়েছেন হতাশাই।

দীর্ঘ এই অপেক্ষায় পথচেয়ে থাকতে থাকতে একসময় জবেদ আলীর মা ও দাদি পৃথিবী ত্যাগ করে চলে যান। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জবেদ আলীর স্ত্রী রুশিয়া খাতুন বলেন, ‘প্রথম কয়েক বছর প্রতিদিন মনে হতো, আজ হয়তো ফিরে আসবে। মানুষ বলতে শুরু করেছিল যে, সে আর বেঁচে নেই, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি নি। আজ যখন সামনে দেখলাম, মনে হলো আল্লাহ আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, চার বছরের সেই শিশু ছেলে জাহাঙ্গীর এখন প্রবাসী। বাবার ফিরে আসার খবর পেয়েই সে বিদেশ থেকে কান্নায় ভেঙে পড়েছে এবং দ্রুত দেশে ফিরে বাবাকে জড়িয়ে ধরার অপেক্ষায় রয়েছে।

গ্রামের প্রবীণরা জানান, জবেদ আলী যুবক বয়সে শুধুমাত্র একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন না, তিনি এলাকায় লাঠিখেলায় অসাধারণ সুনাম অর্জন করেছিলেন। এছাড়া যাত্রাপালার মঞ্চে তার অভিনয় দেখতে দারুণ দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসত।

জবেদ আলীর চাচাতো ভাই বক্কার আলী জানান, ‘জবেদ ভাইয়ের হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমাদের গ্রামের ইতিহাসের অংশ হয়ে গিয়েছিল। নতুন প্রজন্ম শুধুমাত্র তার গল্প শুনেছে। আজ সেই গল্পের মানুষটিকে বাস্তবে দেখে সবাই বিস্মিত।’

নিজের জীবনের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং ভবঘুরে জীবন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চোখের জল থামাতে পারেননি জবেদ আলীও। তিনি বলেন, ‘অভিমান করেই চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু যতদূরেই গেছি, পরিবারের কথা আমার ভুলে যায়নি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুর এবং শ্রমিকের কাজ করেছি। মানুষের ভিড়ে থেকেও আমি ভীষণ একা ছিলাম। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝেছি, সংসারের ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। তাই শেষ বয়সে সমস্ত অভিমান মুছে নিজের মানুষের কাছে ফিরে এলাম।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%