ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
গোদাগাড়ী

বছর না ঘুরতেই ইকোপার্কের ওয়াকওয়ে ধসে পড়েছে


বছর না ঘুরতেই ইকোপার্কের ওয়াকওয়ে ধসে পড়েছে

রাজশাহী গোদাগাড়ীতে সরমংলা ইকোপার্কের ওয়াকওয়ে ধসে পড়েছে। উদ্বোধনের পর বছর না ঘুরতেই গত মঙ্গলবার বৃষ্টিতে ধসে পড়েছিল সুরক্ষা দেয়ালসহ পার্কটির দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে।

২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট প্রকল্পটির ভেতর থাকা লেকের ওয়াকওয়ে উদ্বোধন করা হয়েছিল। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর ব্যবস্থাপনায় লেকে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। কিন্তু টেকসই ও নিরাপদ সুরক্ষা দেয়াল না দিয়ে, নতুন মাটির ওপর জোড়াতালির কাঠামো নির্মাণ করায় সেটি ধসে পড়ে লেকের ভেতর চলে গেছে।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা। যেকোনো মুহূর্তে পুরো কাঠামোটি খালের ভেতর বিলীন হয়ে যাবে বলে তাদের মনে আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: চৌদ্দগ্রামে এক মোটরসাইকেল রাইডারকে পিটিয়ে হত্যা

জানা গেছে, ২০০৩ সালে গোদাগাড়ী উপজেলার ডাইংপাড়া মোড় থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার পূর্বে ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন করে পাশে গড়ে তোলা হয়েছিল ঘন বনায়ন। পরে সেই স্থানেই গড়ে তোলা হয় সরমংলা ইকো পার্ক। আম, জাম, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের ছায়ায় ঘেরা মনোরম পরিবেশের কারণে এটি পর্যটকদের কাছে ‘গ্রিন হাউস’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।

পার্কের মূল আকর্ষণ হলো সাসটেইনেবল এনভায়রনমেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় পদ্মা নদী থেকে ৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ভূ-গর্ভস্থ পাইপ লাইনের মাধ্যমে লেকে পানি সঞ্চালন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দর্শনার্থীরা যেখানে লেকের পাড়ে বসে এই পানি আসার দৃশ্য ও ছায়াঘেরা পরিবেশ উপভোগ করতেন, সেখানে এখন শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন দৃশ্যমান।

এ ব্যাপারে গোদাগাড়ী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-এর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ জানান, সৌন্দর্য বর্ধনের কাজে মূল প্রকল্পের কোনো বাজেট ছিল না। পাইপলাইনের কাজের সময় ঠিকাদারের মাধ্যমে আলাদাভাবে তারা এই কাজটি করিয়ে নিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: মাদারীপুরে তাইজুল হত্যা: অর্ধশতাধিক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

ওয়াকওয়ে ও সুরক্ষা দেয়াল ধসে পড়ার কারণ হিসেবে উপজেলা প্রকৌশলী দাবি করেন, ভারি বৃষ্টির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে কাজে গাফিলতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্যাকুলিনের অসংলগ্ন পোশাকের দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক, ভিডিওটি ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


জ্যাকুলিনের অসংলগ্ন পোশাকের দৃশ্য নিয়ে বিতর্ক, ভিডিওটি ভাইরাল

বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন। এবার নতুন সিনেমা ‘ওয়েলকাম টু জঙ্গল’-এর ‘জুগনি’ গানে তার এক মুহূর্তকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি প্রকাশিত ‘জুগনি’ গানে সংগীতশিল্পী সোনু ঠুকরাল এবং বি প্রাকের সঙ্গে পারফর্ম করতে দেখা যায় জ্যাকুলিনকে। গানটির একটি অংশে তার পোশাক কিছুটা সরে যাওয়ায় একটি বিব্রতকর দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই ভিডিও এবং স্ক্রিনশটগুলো দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাল হয়ে যায়।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে অনিচ্ছাকৃত পোশাকজনিত দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন, আবার কেউ নির্মাতাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত প্রচারের উদ্দেশ্যে এমন দৃশ্য রাখা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, অনেকেই শিল্পীর ব্যক্তিগত মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে এই ধরনের ভিডিও ছড়িয়ে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন।

যদিও এই বিতর্কের মধ্যে সিনেমাটির নির্মাতারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। জানা গেছে, গানটির সংশ্লিষ্ট দৃশ্যটি পরে সম্পাদনা করে ব্লার করা হয়েছে। তবে, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি।

উল্লেখযোগ্য যে, গত কয়েক বছর ধরে নানা ব্যক্তিগত এবং আইনি বিতর্কের কারণে জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক চর্চার সৃষ্টি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ তাঁতশিল্পকে ধ্বংস করেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ তাঁতশিল্পকে ধ্বংস করেছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, একসময় পাকিস্তানের অর্থনীতি ছিল তাঁদের অর্থনীতির ভিত্তি। কিন্তু স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ এই শিল্পকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র গত ১৭ বছর নয়, তাদের জন্মলগ্ন থেকেই দেশের ক্ষতি করে যাচ্ছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে বহু লোক প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকেই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জের মিরপুরে অবস্থিত তাঁত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বেসিক সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব বিষয় তুলে ধরেন।

মন্ত্রী আরও জানান, তাঁতশিল্পের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, নারীরা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এই খাতে ক্ষুদ্র উদ্যোগ থেকে শুরু করে বড় উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পতনের পর নির্বাচনে কাউকে ভয়ভীতি দেখানো হয়নি এবং ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়নি। সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার গঠিত হয়েছে।

এ সময় তিনি মন্তব্য করেন, সমাজের নিকৃষ্ট মানুষেরা আওয়ামী লীগ করে, ভদ্রলোকরা আওয়ামী লীগে নেই। সরকারে থাকার মানে এই নয় যে কেউ বড় হয়ে গেছে। দেশের কল্যাণে কাজ করা উচিত এবং খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। তিনি বলেন, তাঁতিদের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত তাঁতিদের আরও সহায়তা করা হবে এবং তাদের সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, তাঁতশিল্পের পাশাপাশি দেশের বন্ধ পাটকলগুলি বেসরকারি বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি লিজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সিরাজগঞ্জে দীর্ঘ দিন বন্ধ থাকা জাতীয় জুট মিলও দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করা হবে। তিনি পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য উৎপাদন ও শিল্পায়নের জন্য বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়, এবং এখানে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ আরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুলাউড়ায় ফেরার পর স্টেশন রোডের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন এমপি শওকতুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২০ পি.এম


কুলাউড়ায় ফেরার পর স্টেশন রোডের উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করলেন এমপি শওকতুল ইসলাম

জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষ করার পর কুলাউড়ায় ফিরে তিনি উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিতে মাঠে নামলেন মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শওকতুল ইসলাম।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) কুলাউড়া পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রোডের চলমান উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে এমপি শওকতুল ইসলাম নির্মাণকাজের অগ্রগতি, কাজের গুণগত মান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প সম্পন্ন করার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। তিনি সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশ্যে বলেন, "জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা যাবে না।"

তিনি আরও বলেন, "কুলাউড়ার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে একটি আধুনিক ও টেকসই সড়কব্যবস্থা গড়ে তুলতে চলমান উন্নয়নকাজের মান নিশ্চিত করা হবে।"

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্টেশন রোড কুলাউড়া শহরের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। উন্নয়নকাজ শেষ হলে যান চলাচল সহজ হবে এবং সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে কি যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনাম যুদ্ধের মত লজ্জা জনক পরিণতি বরণ করতে যাচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


ইরানে কি যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনাম যুদ্ধের মত লজ্জা জনক পরিণতি বরণ করতে যাচ্ছে?

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে যুদ্ধের প্রতিটি নতুন অধ্যায় শুধু একটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নয়, বরং দীর্ঘদিনের বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যকেও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযান ও পরবর্তী সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রত্যাশিত ফল বয়ে আনতে পারেনি এবং বর্তমান ইরানের সামরিক শক্তি ও প্রযুক্তি দেখে এমনটা আশঙ্কা হচ্ছে ভবিষ্যতেও সেটা পারবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র যে বিশ্ব পরাশক্তি হিসেবে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বিশ্বে দাদাগিরি করে আসছে তাকে হয়তো শেষ পর্যন্ত লেজ গুটিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিদায় নিতে হবে। ইরানের ধারাবাহিক পাল্টা প্রতিরোধ, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনার বিস্তার প্রমাণ করেছে—শুধু সামরিক শক্তির প্রদর্শন দিয়ে এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়।

যুদ্ধবিরতি ভেঙে পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি, ঘাঁটি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কোটি কোটি ডলার মূল্যের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান নজরদারি ড্রোন, রিফুয়েলিং ট্যাংকার এবং সামরিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি ও ধ্বংসের চিহ্ন থেকে এটা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও যত আগ্রাসি হবে তাদের ধ্বংস ততই সন্নিকটবর্তী হবে। এই বাস্তবতায় অনেক বিশ্লেষককেই প্রশ্ন করতে বাধ্য করছে—এই যুদ্ধের রাজনৈতিক ও সামরিক মূল্য শেষ পর্যন্ত কতটা বহন করতে পারবে ওয়াশিংটন নাকি বিশ্ব আধিপত্য থেকে ইরান যুদ্ধের কারণেই ছিটকে পড়বে?

বিশ্বের একক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইরানকে ঘিরে বর্তমান সংঘাত দেখিয়ে দিচ্ছে, আগের মতো একতরফাভাবে শক্তি প্রয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত ফল আদায় করা এখন আর সহজ নয়। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, ততই সেই বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভাবমূর্তি ক্ষয় হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে।

ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা, জাতীয় ঐক্য এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা সামরিক প্রস্তুতি এই যুদ্ধকে দ্রুত নিষ্পত্তির সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে। ফলে হামলা-পাল্টা হামলার এই চক্র অব্যাহত থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিও আরও বড় সংকটে পড়তে পারে।

এই কারণেই এখন প্রশ্নটি কেবল ইরানকে ঘিরে নয়; প্রশ্নটি যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়েও। যদি ওয়াশিংটন সত্যিই তার আন্তর্জাতিক মর্যাদা, কৌশলগত অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে চায়, তবে সামরিক অভিযানের পরিবর্তে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের পথেই ফিরে আসা হবে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।

যুদ্ধের আগুন যত জ্বলবে, ততই ক্ষয় হবে উভয় পক্ষের। কিন্তু ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—কখন অস্ত্র থামাতে হয়, সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত একটি পরাশক্তির প্রকৃত প্রজ্ঞার পরিচয় দেয়। আজ মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যে ধোঁয়া উড়ছে, তা হয়তো কেবল একটি যুদ্ধের নয়; এটি বহু দশকের প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক শক্তির কাঠামো পুনর্বিন্যাসেরও পূর্বাভাস। যদি সেই বাস্তবতা সত্যিই সামনে এসে থাকে, তবে শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে সংঘাতের অবসানই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বিচক্ষণ পথ।

ইতিহাসও এমন সতর্কবার্তা দেয়। ভিয়েতনাম, আফগানিস্তান কিংবা ইরাক যুদ্ধে বিশ্ব পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের—প্রযুক্তিগত ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য দিয়ে, নিজেদের সামরিক বাহিনীর সৈন্যদের অগণিত সংখ্যক মৃত্যু সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ধ্বংস সহ চরম পরিণতি বরণ করে অপমান নিয়ে ঐ রাষ্ট্রগুলো ছাড়তে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে প্রশ্ন উঠতেই পারে—ইরান কি আরেকটি ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী ভাবে ভিয়েতনামের মত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৈন্যদের জন্য ভয়ংকর পরিণতি ও মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হতে যাচ্ছে?
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%