০৭:২৯ পি.এম
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ডাকযোগে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে বিএনপি নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মীর খোরশেদ আলমসহ মোট ১৩ জনকে হত্যার হুমকি দেওয়ার একটি অভিযোগ সাম্প্রতিক সময়ে উঠে এসেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে, তার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একটি বড় পার্সেলের মাধ্যমে কাফনের কাপড়সহ একটি বেনামি চিঠি পৌঁছেছে। এই চিঠিতে মীর খোরশেদ আলমকে উদ্দেশ্য করে লেখা রয়েছে, 'এই চিঠি পাওয়ার পর তোর জীবনে যা আছে করার করে নে। এরপর মাত্র কয়েকদিন বেঁচে থাকবি। আগুন নিয়ে খেলার পরিণাম বুঝবি।'
এছাড়া চিঠিতে আরও কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে তাদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখিত নামগুলোর মধ্যে আছেন— আনোয়ার হোসেন, মাহমুদ হোসেন, মিসির আলি, আব্দুল গফুর, মিজান কন্ডাক্টর, বজলু, সৈয়দ শিব্বির, আনাস, তালহা, তানজিল এবং নোমান।
আরও পড়ুন: কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনহার মিয়া জনগণের সেবা ও এলাকার উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ
চিঠিতে আওয়ামী লীগের কিছু নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের চেয়ারম্যান বানানোর ব্যাপারে কিছু লেখা রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা মীর খোরশেদ আলম মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এবং ঘটনার বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে, তিনি ফেসবুকের মাধ্যমে চিঠি প্রেরণকারীকে সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানিয়েছেন।
মাধবপুর মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরাশউদ্দিন মন্তব্য করেন যে, সাধারণত এ ধরনের কাজ নিজেদের লোকজনের মধ্যেই ঘটে থাকে। তিনি বলেন, আতঙ্ক সৃষ্টি করা হতে পারে এর উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব উসকে দেওয়ারও চেষ্টা থাকতে পারে। আমরা আশা করি পুলিশ ও সাংবাদিকরা অনুসন্ধান চালিয়ে প্রকৃত ঘটনা বের করবে।
স্থানীয় যুবদল নেতা খিজির খান সোহেল বলেন, মীর খোরশেদ আলম একজন ত্যাগী নেতা। যদি তাকে ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করা হয়, তবে দলীয়ভাবে তা মোকাবিলা করা হবে।
আরও পড়ুন: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জুয়ার আসর থেকে তিন জুয়াড়ি গ্রেপ্তার
অভিযোগের বিষয়ে মীর খোরশেদ আলম জানান, তিনি জেনে কারও কোনো ক্ষতি করেননি। তিনি বলেন, কারও ক্ষোভ থাকলে সরাসরি কথা বলা উচিত। অনেক সময় তার সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রকাশিত হলে তিনি প্রতিক্রিয়া দেখান না।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মীর খোরশেদ আলম মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং আদাউর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
আরও পড়ুন: মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান সিরাজগঞ্জে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন