০৫:২৬ পি.এম
খুলনা মহানগরীতে বৃষ্টির পানি নিস্কাশনে প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতকরণ এবং অপসরণের উদ্দেশ্যে আজ শনিবার সকালে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় নগর ভবনের জিআইজেড মিলনায়তনে। সভায় সভাপতিত্ব করেন কেসিসি’র প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। এ সভায় কেসিসি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই জলাবদ্ধতার কারণে যা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে, সেই জন্য কেসিসি’র পক্ষ থেকে নগরবাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ করা হয়।
অতীতে বৃহস্পতিবার এবং শুক্রবারের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে, খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, যা শহরের অন্যান্য এলাকার মতো। তাই নগরীর ৬টি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ভবিষ্যতে করণীয় নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই জরুরি সভাটি আহবান করা হয়।
সভায় কেসিসি’র প্রশাসক জানিয়েছেন, বৃষ্টি হলেই নগরীর কিছু এলাকার নিমজ্জিত হওয়ার বিষয়টি কেসিসি’র জন্য বিব্রতকর। এ কারণে, নতুন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। শুক্রবার জলাবদ্ধ ৬টি এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, অন্যান্য এলাকার পানি দ্রুত নেমে যায়, কিন্তু মুজগুন্নী এলাকার পানির নিষ্কাশন হচ্ছে না। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, সেই লক্ষ্যে করণীয় নির্ধারণে তিনি বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
সভায় কেসিসি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. মাসুদ করিম-এর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়, পাশাপাশি মুজগুন্নী, লবনচরা ও রয়্যাল মোড়কে কেন্দ্র করে ৩টি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়াও ওয়ার্ড পর্যায়ে মনিটরিং কমিটি গঠন করে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতাসমূহ চিহ্নিত করে মূল কমিটির কাছে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়। প্রাপ্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে পূর্ত বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় যথাসময়ে স্লুইচগেট বন্ধ ও খোলা রাখা, ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের প্রতিবন্ধকতাসমূহ চিহ্নিত করে অপসারণের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বক্স কালভার্টগুলো জেট মেশিনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নকরণসহ এক্সেভেটর ও ট্রাকসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়।
সভায় জানানো হয়েছে, ‘জলাবদ্ধতা দূরীকরণে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হলে নগরীর মোট ড্রেনেজ নেটওয়ার্কের ২৫% সম্পন্ন হবে। ভবিষ্যতের পরিকল্পনার মধ্যে তিনটি পাম্প হাউজ নির্মাণ, ড্রেন পরিষ্কারের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় এবং জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করার জন্য বৈদ্যুতিক স্লুইচ গেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সভায় প্রশাসক চলমান ড্রেনেজ প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিরূপণ এবং প্রকল্প সমাপ্ত হওয়ার পর কি সুবিধা পাওয়া যাবে যে বিষয়ে আলোচনা করেন এবং ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে নতুন প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশ দেন। এছাড়াও, তিনি ড্রেন ও খালের ওপর থেকে অবৈধ দখলদারদের সরে যাওয়া এবং ড্রেনে বর্জ্য না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, বাজেট কাম একাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামান, নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. মাসুদ করিম, আর্কিটেক্ট রেজবিনা খানম, কঞ্জারভেন্সী অফিসার মো. অহিদুজ্জামান খান এবং অন্যান্য ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগণ।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন