ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রাজিল ম্যাচে জাপানের সেরা তারকাকে পাচ্ছে না দল


ব্রাজিল ম্যাচে জাপানের সেরা তারকাকে পাচ্ছে না দল

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের তীর্থে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হচ্ছে জাপান। তবে, ম্যাচটির আগে সামুরাই ব্লুরা একটি বড় দুঃসংবাদ শুনেছে।

হাঁটুর চোটের কারণে দলের অন্যতম সেরা তারকা তাকেফুসা কুবোকে তারা পাচ্ছে না।

সোমবার (২৯ জুন) হিউস্টনে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচের পূর্বে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাপানের প্রধান কোচ হাজিমে মরিয়াসু। তিনি জানান যে, কুবো এখনও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি, তাই ব্রাজিলের বিপক্ষে তাকে মাঠে নামানো হবে না।

আরও পড়ুন: ম্যাক্স গ্রুপের উদ্যোগে ৩৫তম জাতীয় সাঁতার প্রতিযোগিতা শুরু কাল

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে, নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে বাঁ হাঁটুর মেনিস্কাসে চোট পান ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। এরপর, তিউনিসিয়া ও সুইডেনের বিপক্ষে তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন। রোববার, দলে অনুশীলন না করে আলাদাভাবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালানোর পরেও জাপান নকআউট ম্যাচের জন্য তাকে ঝুঁকি নিতে চায় না।

মরিয়াসু বলেন, ‘কুবো এখনো ব্যক্তিগতভাবে দৌড় ও ফিটনেস অনুশীলন করছে। তাই ব্রাজিলের বিপক্ষে সে খেলতে পারবে না।

আমরা সবাই চাই, সে দ্রুত সুস্থ হয়ে ফিরে আসুক।’

কুবোকে ছাড়াই গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্সআপ হয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে জাপান। তবে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে একটি কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন মরিয়াসু।

আরও পড়ুন: শিশুকে মাটিতে আছাড় মেরে হত্যার দায়ে ইতালি প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলমের যাবজ্জীবন

তিনি বলেন, ‘ব্রাজিল সবসময়ই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। অনেকেই আমাদের আন্ডারডগ বলবে।

কিন্তু, আমরা ভয় পাচ্ছি না। গত বছরও কেউ আমাদের জয়ের সম্ভাবনা দেখেনি, তবুও আমরা তাদের হারিয়েছিলাম। এবারও ইতিহাস বদলানোর বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামব।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মা-বাবাকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই কানাডার হয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫২ পি.এম


মা-বাবাকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই কানাডার হয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি

দৃশ্যটি এমন একটি অনুভূতির চিত্র, যা মনে হয় কল্পনার কাহিনী থেকে এক্ষুনি বাস্তবে উঠে এসেছে। ভেন্যুও ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম, যেখানে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় উৎসব-ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ম্যাচের ঘড়ির চলছিল ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তের খেলা, স্কোরবোর্ডে তখন ০-০ ড্র ছিল।

ঠিক সেই মুহূর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বল পান কানাডার স্টিফেন ইউস্তাকিও। চোখের পলকে বাজপাখির মতো ডাইভ দিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকান গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামসকে পরাস্ত করে তিনি বলটিকে জালে পাঠান। আর এই এক গোলের মাধ্যমে কানাডা ইতিহাস গড়ে, প্রথমবার বিশ্বকাপের শেষ ১৬ বা নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়।

এই রুদ্ধশ্বাস জয় দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে ইউস্তাকিও প্রথম নকআউট ম্যাচের এক অসাধারণ সমাপ্তি হাজির করেন। ২৯ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডারের ক্যারিয়ারে এটি সম্ভবত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দামি ও স্মরণীয় গোল।

বিশ্বকাপের মঞ্চে কানাডাকে ইতিহাস উপহার দেওয়া এই মহানায়ককে ফুটবলে একজন খেলোয়াড় বললে ভুল হবে। স্টিফেন ইউস্তাকিও একজন জীবনের চরম ট্র্যাজেডিকে জয় করা লড়াকু সৈনিক। ২০২৬ বিশ্বকাপের লস অ্যাঞ্জেলেসের ঐ রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে গোল করার সময়, তাঁর হৃদয়ে বাবা-মাকে হারানোর একটি গভীর বেদনা লুকিয়ে ছিল। ২০২৩ সালে পোর্তোর ম্যাচ চলাকালীন তাঁর মায়ের মৃত্যু এবং ঠিক এক বছর পরে বাবার আকস্মিকভাবে চলে যাওয়া, এই দুটো বড় আঘাত তিনি বুক চেপে সহ্য করেছেন। কিন্তু তিনি ভেঙে পড়েননি, বরং সেই গভীর শোককে নিজের সবচেয়ে বড় শক্তিতে পরিণত করেছেন।

পিঠাপিঠি বাবা-মায়ের মৃত্যু ও জীবনের ট্র্যাজেডি সম্পর্কে: ২০২৩ সালের এপ্রিলে সান্তা ক্লারার বিপক্ষে পোর্তোর এক হোম ম্যাচ চলাকালীন ইউস্তাকিওর মা এসমেরালদা ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর এক বছরের মাথায়, হঠাৎই হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তার বাবা। তবে এই শোকের কিছুদিন আগেই ইউস্তাকিও এবং তাঁর প্রেমিকা কনস্টান্টার কোল একটি কন্যাসন্তান, বেনেদিতাকে স্বাগত জানান।

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ম্যাচশেষের আবেগঘন সাক্ষাৎকারে ইউস্তাকিও বলেন, 'আমি যা কিছু করি, সবকিছু আমার পরিবারের জন্য; আমার বাবা-মা, আমার প্রেমিকা, আমার মেয়ে, আমার ভাই এবং দেশের বন্ধুদের জন্য-এই সবার জন্য।'

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে 'স্পোর্টস নেট কানাডা'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউস্তাকিওর বড় ভাই ও ইন্টার টরন্টো এফসির প্রধান কোচ মাউরো ইউস্তাকিও বলেন, তাঁরা দুই ভাই এই গভীর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার এবং বাবা-মায়ের জীবনকে সম্মান দেখানোর জন্য সচেতন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মাউরো আবেগের সঙ্গে বলেন, 'আমাদের বাবা-মা... তারা আমাদের ডানা দিয়েছিলেন। তাই এখন উড্ডয়নের দায়িত্বটা আমাদের নিজেদেরই।'

সাবেক ফুটবলার থেকে কোচে রূপান্তর করা মাউরো সেই সাক্ষাৎকারে আরও জানান, ওন্টারিওর লিমিংটনে একটি বৃহৎ পর্তুগিজ কমিউনিটি ছিল, যেখানে সব পরিবার এক সঙ্গে জড়ো হতো এবং তাঁর ও স্টিফেনের মতো শিশু-কিশোররা নিয়মিত ফুটবল খেলত। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বয়সভিত্তিক পর্যায়ে কানাডার হয়ে নিজের যাত্রা শুরু করে ইউস্তাকিও, খেলেছিলেন ২০১২ সালের 'এজিএস কাপ'-এ। কিছুদিন পর, পর্তুগালের হয়ে অনূর্ধ্ব-২১ দলে কিছু ম্যাচ খেলেন, খেলেছেন ২০১৯ ইউয়েফা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাই পর্বেও।

কিন্তু ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি পাকাপাকিভাবে কানাডার সিনিয়র জাতীয় দলের হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। একই বছরের অক্টোবরে কনকাকাফ নেশনস লিগের ম্যাচে জাতীয় দলে ডাক পান। ২০২১ সালের কনকাকাফ গোল্ড কাপে প্রথম আন্তর্জাতিক গোল করেন এই মিডফিল্ডার। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ, ২০২৩ সালের কনকাকাফ নেশনস লিগের ফাইনাল এবং পোর্তোর হয়ে ২০২৫ ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও মাঠে নামেন।

রবিবারের ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক আলফোনসো ডেভিস ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন, তাই দলের অন্তর্বর্তীকালীন অধিনায়কের দায়িত্ব ইউস্তাকিওর উপর ছিল। ম্যাচ শেষে তিনি মন্তব্য করেন, 'এই জয়টা পাওয়ার জন্য আমরা জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছি। আমরা আসলেই এই ঐতিহাসিক জয়টা সব কানাডিয়ানের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে চাই।'

দলের লড়াকু মানসিকতা নিয়ে তিনি প্রকাশ করেন, 'আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস হারাইনি এবং পুশ করে গেছি। আমরা তো এর চেয়ে ভালো অন্য কোনো সমাপ্তির কথা ভাবতেই পারতাম না।'

সহ-আয়োজক কানাডার হয়ে তাঁর ৬১তম ম্যাচে এসে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ গোলটি করেছেন ইউস্তাকিও। সেই ঐতিহাসিক জয়সূচক গোলটি সম্পর্কে তিনি বলেন, 'গোলটি সত্যিই অসাধারণ ছিল। কিন্তু সত্যি বলতে, যখন আমি শটটি নিচ্ছিলাম, আমার মনে হচ্ছিল পুরো দেশবাসী আমার সঙ্গে শটটি নিয়েছে। যেন সবাই সেই শটটিকে অল্প অল্প করে শক্তি জুগিয়েছে, আর বলটি জালে আছড়ে পড়েছে।'

শেষ ৩২-এর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে বিদায় করে কানাডা এবার শেষ ষোলোর প্রতিপক্ষের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামীকাল নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো ম্যাচের জয়ী দলের সঙ্গে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানে ৩৬ বেসামরিক নিহত, আহত ১৬৩ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিনিধি

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৪ পি.এম


পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানে ৩৬ বেসামরিক নিহত, আহত ১৬৩ জন

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬ : আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের তিনটি প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছে।

তালেবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টের এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘গত রাতে চালানো হামলায় নারী ও শিশুসহ ৩৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি শহীদ হয়েছেন। এছাড়া আরও ১৬৩ জন আহত হয়েছেন।’ কাবুল থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসা শেষে আবারও কারাগারে ফিরলেন দীপু মনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৬ পি.এম


চিকিৎসা শেষে আবারও কারাগারে ফিরলেন দীপু মনি

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে আবারো কারাগারে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক। সোমবার সকালে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দীপু মনিকে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। এরপর, হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর, তাকে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। মেডিসিন বিভাগে দীপু মনির প্রাথমিক চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আবারো কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এর আগে, দীপু মনিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ফজলুল হক জানান, কারাগারে দীপু মনির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৯ আগস্ট দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেসপার ৮০তম জন্মদিনে নস্টালজিক উৎসবে রঙিন রোম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:৫৮ পি.এম


ভেসপার ৮০তম জন্মদিনে নস্টালজিক উৎসবে রঙিন রোম

 

মহাকাব্যিক রোমান্টিক সিনেমা ‘রোমান হলিডে’ গ্রেগরি প্যাক আর অড্রে হেপবার্নকে অমরত্ব দিয়েছে, বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দিয়েছিল দুই চাকার এক স্কুটারকেও। ১৯৫৩ সালে সাংবাদিক গ্রেগরির ভেসপার পেছনে বসে রাজকুমারী হেপবার্নের রোমের বিখ্যাত রাস্তা ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্য এখনও কোটি কোটি মানুষকে নস্টালজিক করে।

সেই যা ভেসপার দুরন্ত গতি, তা থামেনি। এখন আধুনিক সব মোটরসাইকেলের ভিড়েও ভেসপা টিকে আছে তার আভিজাত্য এবং আইকনিক স্টাইল নিয়ে; কোটি মানুষের নস্টালজিয়ার প্রতীক হয়ে।

১৯৪৬ সালে প্রথম ভেসপা বের হয়েছিল রাস্তায়। তারপর ১৯৫৩ সালে রোমান হলিডের পর্দা ধরে বিশ্বজোড়া খ্যাতি অর্জন করেছে।

সেই ভেসপার ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ঐতিহাসিক রোমকে রঙিন সাজে ফুটিয়ে তুলা হয়েছিল। চারদিনের এ উৎসবে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে ভেসপাপ্রেমীরা জড়ো হয়েছেন। বৃহস্পতিবার শুরু হয়ে রবিবার শেষ হয়েছে এই বর্ণাঢ্য ভেসপা উৎসব। শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভেসপার গ্র্যান্ড র‌্যালি।

সেদিন রোমের আইকন কলোসিয়াম এবং রোমান ফোরামের আশেপাশের রাস্তা ভেসপায় সয়লাব হয়ে গিয়েছিল। ১০ হাজারেরও বেশি ভেসপাপ্রেমী তাদের প্রিয় বাহন নিয়ে র‌্যালিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ভেসপার পরিচিত খটখট আওয়াজে সেদিন আড়ালে ছিল বিলাসবহুল সব গাড়িও।

ভেসপার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিয়াজিও এবং ভেসপাপ্রেমীদের বৈশ্বিক সংগঠন ভেসপা ওয়ার্ল্ড ক্লাব এই উৎসবের আয়োজন করেছে। ঐতিহাসিক রোম শহরের পৌর প্রশাসন এই আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি স্টেডিয়াম অফ দ্য মার্বেলস-এ ফিতা কেটে উৎসবের উদ্বোধন করেছেন, এরপর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভেসপাপ্রেমীরা নাচ, গান, স্লোগান দিয়ে, পতাকা উড়িয়ে উৎসবে যোগ দেন। অনেকেই নজর দিয়েছে সরাসরি উপহারের দোকানের দিকে। সেখান থেকে তারা ভেসপা জ্যাকেট, টুপি, ভেসপা কম্বল, ভেসপা পানির বোতল এবং ভেসপার ছাতা কিনেছেন। যারা প্রথমে এসেছেন, তাদের বেশিরভাগের নজর ছিল সীমিত সংস্করণের হেলমেটের দিকে, যাতে লেখা ছিল ‘৮০ ইয়ার্স অফ অ্যান আইকন’।

একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ভেসপার কিছু ক্লাসিক দৃশ্য প্রদর্শিত হয়েছিল—মাঠে ফুল নিয়ে পিকনিক করা দম্পতি, বিকিনি ও বিচবল নিয়ে সমুদ্র সৈকতে ছুটি কাটানো বা ভূমধ্যসাগরীয় রোদের নিচে রোড ট্রিপ প্রভৃতি। এর পাশাপাশি এমন কিছু দৃশ্যও ছিল যা কেউ কল্পনাও করবে না, যেমন ১৯৬৩ সালে অভিযাত্রী সোরেন নিলসেনের ভেসপায় চড়ে সুমেরু বৃত্তে পৌঁছানো।

ভেসপার জন্মদির বৃহস্পতিবার থেকেই নানা প্রান্ত থেকে আসা ভেসপাপ্রেমীরা রোমে জড়ো হচ্ছিলেন। এটি বদলে দিচ্ছিল রোমের পরিচিত চেহারা। শহরের সমস্ত রাস্তাঘাট নানান রঙের ভেসপা এবং একই রঙের টি-শার্ট পরা মানুষের সয়লাবে ভরে গিয়েছিল। স্টেডিয়াম অফ দ্য মার্বেলস-এর বাইরের পার্কিং লটে আট দশকের সব মডেলের ভেসপার সারি দেখতে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ। রোমের মোড়ে মোড়ে সুন্দর করে সাজানো ভেসপা খটখট আওয়াজ মুহূর্তে মানুষকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ষাটের দশকে। ঐতিহাসিক এ শহরে নস্টালজিয়ার টান মিলিত হয়ে তৈরি করছে অন্যরকম এক সুর।

ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন, জামানি, জাপানসহ বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মানুষ রোমে এসেছেন ভেসপার আহবানে, একটি ভালোবাসার টানে। ফ্রান্স থেকে এসেছেন অবসরপ্রাপ্ত নাটালি ডুনান্ড। তিনি ভেসপার ৮০তম জন্মদিনের সাথে সাথে নিজের ৬১তম জন্মদিনও উদযাপন করছেন। তিনি বলেন, ‘ভেসপার প্রতি এই ভালোবাসা আসলে ইতালীয় শৈলী, স্বাধীনতা আর ষাটের দশকের প্রতি টান থেকে। আমি এটি খুব ভালোবাসি।’ ডুনান্ডের প্রিয় বাহনের পেছনে বসেছিল তার পোষা কুকুরটিও। আট বছর বয়সী মেয়েকে পেছনে বসিয়ে টোকিও থেকে এসেছেন এক ভেসপাপ্রেমী। আলাদা করে অনেকের নজর কেড়ে নিয়েছে জার্মানি থেকে আসা এক ব্যক্তি। তার বাম পায়ের পেশিবহুল গোড়ালিতে ভেসপা লোগোর ট্যাটুর পাশে সুন্দর হাতের লেখায় লেখা ছিল, ‘লা দোলচে ভিটা’, যার অর্থ ‘মধুময় জীবন’।

ভেসপা মানে শুধু নস্টালজিয়া নয়, যারা ষাটের দশকে জন্ম নেননি, তাদের মধ্যে থেকেও ভেসপা ভালোবাসা দেখা যায়। এটি যেন ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা। অনেকেই বলছেন, তারা বড় মোটরসাইকেল ছেড়ে হালকা এবং সহজে নিয়ন্ত্রণযোগ্য ভেসপা বেছে নিয়েছেন। কারণ এটিকে চালাতে কোনো ঝামেলা নেই। ৫৯ বছর বয়সী ট্রাক ড্রাইভার অ্যান্ড্রু ওয়ালটন ২০ বছর আগে প্রথম ভেসপা কিনেছিলেন এবং তারপর তিনি অন্য দিকে নজর দেননি। তিনি বলেন, ‘শুধু উঠুন, মোচড় দিন আর চলতে শুরু করুন। একদম সহজ কাজ।’ তিনি নিউক্যাসল থেকে আট দিন ধরে ভেসপা চালিয়ে রোমে এসেছেন উৎসবে যোগ দিতে। প্রথমে ফেরি দিয়ে রটারড্যাম, পরে জার্মানির রাইন নদী হয়ে অস্ট্রিয়ার রোমান্টিক রোড এবং সবশেষে ইতালির উপকূল ধরে নিচে নেমে এসেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও অল্পকিছু মানুষ ভেসপার প্রেমে মজেছন। এটি এমন এক টান, যে একবার পড়লে আর ফিরে যাওয়া হয় না। ইন্ডিয়ানার ১০৮ বছর পুরোনো এক গাড়ি ডিলারশিপের মালিক বার্ক স্যান্ডম্যান দুই দশক আগে প্রথম ভেসপা কিনেছেন। আশেপাশে এর কোনো বিক্রেতা না দেখে তিনি সরাসরি ভেসপা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেন। এরপর থেকে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এক হাজারেরও বেশি ভেসপা বিক্রি করেছেন এবং নিজের জন্য রেখেছেন ১৫টি। ভেসপা ভিলেজে দাঁড়িয়ে স্যান্ডম্যান বলেন, ‘ভেসপা নিয়ে কেউ কখনো কোনো খারাপ কথা বলে না। সত্যি বলতে, এটি অবিশ্বাস্য। যারা অন্য ব্র্যান্ড ছেড়ে ভেসপা ব্যবহার শুরু করে, তারা আগে পেছনে ফিরে তাকায় না। এর মধ্যে অন্যরকম একটা ব্যাপার আছে। এবং সবাই ইতালীয় জিনিস পছন্দ করে। ইউরোপ থেকে ফিরে এসে অনেকেই এই ভেসপা প্রেমে পড়ে যান।’

চার চাকার জগতে ফোক্সওয়াগনের বিটলের যে মর্যাদা, দুই চাকায় ভেসপা তেমনি। আবেগ, ভালোবাসা এবং স্মৃতির এক রোমান্টিক রসায়ন। একবার কেউ ভেসপায় চড়লে তা আর ছাড়তে পারেন না, অন্তত ভুলতেও পারেন না।

ভেসপার শুরুর গল্পটা বেশ মজার। ভেসপার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিয়াজিও আসলে বিমান বানাত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পিয়াজিও উদ্যোক্তারা দেখতে পান, তাদের কারখানা ধ্বংস হয়ে গেছে। এখানে আবার বিমান বানানো সম্ভব নয়। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পিয়াজিও আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসেন এবং বানান দুই চাকার ভেসপা। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বানানো সেই ভেসপাই পিয়াজিওকে আবার খ্যাতির আকাশে তুলে দেয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির অর্থনীতিতে গতি আনতেও এই দুই চাকার ভেসপার অবদান কম নয়।

পিয়াজিওর বিপণন বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেভিড জানোলিনির জানান, ‘প্রথম দিকে নারীদেরই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল, কারণ তারা দীর্ঘ স্কার্ট পরেও পা না দেখিয়ে এটি সহজেই চালাতে পারতেন। এর গঠন, এর মার্জিত রূপ এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় ভঙ্গিটি পুরুষের চেয়ে নারীর সাথেই বেশি মানানসই।’ তবে ভেসপার প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণ হয়নি। নারীরা তো বটেই, বিশ্বের কোটি পুরুষের হৃদয়ও জয় করেছে ভেসপা। ষাটের দশকে প্রেমিকাকে কল্পনায় অড্রে হেপবার্ন ভেবে ভেসপায় ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন দেখেননি, এমন রোমান্টিক পুরুষ খুঁজে পাওয়া ভার। জানোলিনি জানান, গত ৮০ বছরে পিয়াজিও বিশ্বজুড়ে ২ কোটি ভেসপা বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের ১১০টি দেশে এটি বিক্রি হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%