মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:২৫ পি.এম
কুড়িগ্রামের উলিপুরে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ২৬ মামলার আসামি মো. নয়ন মিয়াকে (৩৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ উমানন্দ এলাকায় তার নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শওকত আলী।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নয়ন মিয়াকে তার বাড়ি থেকে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তিনি উলিপুর থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং বিভিন্ন থানার পুলিশের হাতে মাদকসহ একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
ওসি শওকত আলী বলেন, নয়ন মিয়ার বিরুদ্ধে ২৬টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়িতে কৃষিজমির মাঝখানে নির্মাণাধীন এন এস ব্রিকফিল্ড পুনরায় চালুর উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে। অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ব্রিকফিল্ডটির নির্মাণকাজ ও কার্যক্রম পুনরায় শুরুর চেষ্টা চলছে। এতে কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। ব্রিকফিল্ডটির কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন তাঁরা।
গতকাল সকালে উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হারুয়ালছড়ি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন, আলা উদ্দীন, নুরুল হকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
বক্তারা উল্লেখ করেন, কৃষিজমির মাঝখানে ইটভাটা স্থাপন ও চালু হলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। এতে স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়বেন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ইটভাটাটি চালুর চেষ্টা করা হলে তা আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে। কৃষিজমি ও জনস্বার্থ রক্ষায় তাঁরা অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সাল থেকেই একটি চক্র সেখানে ব্রিকফিল্ড নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির (বেলা) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বর্তমানে সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আবারও ব্রিকফিল্ড নির্মাণের কাজ চলছে। কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় এটি বন্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের নাজিরহাট-কাজিরহাট সড়কসংলগ্ন ফটিকছড়ি মৌজায় ২০১৮ সালে এন এস ব্রিকফিল্ড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে সময় স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের প্রতিবাদের পাশাপাশি বেলার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি আবারও ব্রিকফিল্ডটি চালুর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এর আগে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে ব্রিকফিল্ডটির যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নোটিশ দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেহও কৃষিজমির মধ্যে ইটভাটা স্থাপনকে কৃষির জন্য ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর মতে, এ ধরনের স্থাপনা কৃষি ও কৃষকের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ব্যাপারে ব্রিকফিল্ডের স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, একটি চক্র হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে তাঁর পিছু নিয়েছে। তিনি বলেন, আমি অবৈধ মদের ব্যবসাও করছি না গাজার ব্যবসা করছি না। বৈধভাবে আদালতসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমতি নিয়ে ব্রিকফিল্ডের কাজ শুরু করেছি। ব্রিকফিল্ড চালু করার জন্য আদালতের সকল আদেশের কপি আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবী, কৃষিজমি ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এন এস ব্রিকফিল্ডের কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। একই সঙ্গে আদালতের আদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর রাণীনগরে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপিত হয়েছে। এই উপলক্ষে মঙ্গলবার উপজেলা যুবদল র্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং দু:স্থদের মাঝে খাবার ও গাছের চারা বিতরণের অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
দুপুর ১২টায় উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়। র্যালিটি সদরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মোজাক্কির হোসেন। সঞ্চালনা করেন যুগ্ন আহ্বায়ক আতিকুল ইসলাম জেমস ও সিরাজ এ আলম সিরাজ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এছাহক আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেন, বিএনপির সদস্য এসএম আল-ফারুক জেমস, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল হক লিটন।
অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন উপজেলা যুবদলের যুগ্ন আহ্বায়ক ফরহাদ আলী মন্ডল, মাজেদুল ইসলাম, সদস্য আমিনুল ইসলাম টুটুল, উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান উজ্জল, সদস্য সচিব মাহমুদ হাসান বেলাল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শিমুল, উপজেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন টনিসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু মন্তব্য করেছেন যে, নিষিদ্ধ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ যদি বাড়াবাড়ি করে, তাহলে জনগণ তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দেবে। জাতীয়তাবাদী শক্তি দেশের বিরোধী সকল চক্রান্ত রুখে দিতে রাজপথে অবস্থান করবে।
দুলু আরও বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনের নামে গত ১৭ বছর ধরে বাংলাদেশকে শোষণ করেছে। বর্তমানে পাশের দেশে বসে তারা দেশের অশান্তি সৃষ্টির জন্য গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে দুলু বলেন, আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদী ও সালাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর মতো নেতাদের বিচারের নামে হত্যা করা হয়েছে। বিরোধী দল যেকোনো ছোটখাট বিষয় নিয়ে আন্দোলন শুরু করে, এবং আওয়ামী লীগ এই আন্দোলনকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। আন্দোলনে পড়ে তারা দেশের অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাবে। দুলু বলেন, জনগণ আমাদের ৫ বছরের জন্য ভোট দিয়েছে, আমরা বিএনপি সরকার ৫ বছর দেশ পরিচালনা করব, এরপর কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে। যদি আমরা ভালো কাজ করি, জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে, আর যদি খারাপ করি, তাহলে জনগণ আপনাদের ভোট দিতে পারে। অযথা আন্দোলনের নামে আওয়ামী লীগকে দেশ অশান্ত করার সুযোগ দিবেন না।
যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নাটোর জেলা যুবদল আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে দুলু এসব কথা বলেন। নাটোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স চত্বরে জেলা যুবদল সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিমের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জহির উদ্দিন জহিরের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নাটোর জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রহিম নেওয়াজ, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদ, যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম আফতাব, মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সদস্য নাসিম উদ্দিন নাসিম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দুলু আরো বলেন, বিএনপি ও দেশের মানুষের ভদ্রতা এবং নিরবতাকে পলাতক শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীরা দুর্বলতা হিসেবে মনে করে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশের মানুষ নিষিদ্ধ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগ ও তার নেতাকর্মীদের ভয় পায় না। আগামী দিনে তারা যদি কোনো বাড়াবাড়ি করে, তাহলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শরতের রোদ এবং ভোরের হালকা কুয়াশা শীতের আগমনী বার্তা জানাচ্ছে। এই ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাঠজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন কর্মযজ্ঞ। কোথাও ধানখেতের বুক চিরে নতুন মাটির গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, কোথাও টমেটোর কোমল চারা রোপণের ধুম চলছে, আবার কোথাও সারি সারি ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা হাতছানি দিচ্ছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারের চড়া দাম ধরতে দিনরাত ঘাম ঝরাচ্ছেন এ অঞ্চলের কৃষকেরা।
তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর মাঠে ইঁদুরের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কৃষকের মনে দানা বেঁধেছে গভীর শঙ্কা। চান্দিনার কৃষিতে এখন এক অদ্ভুত সমীকরণ—একদিকে আগাম সবজি তুলে বাজার মাতানোর সোনালি স্বপ্ন, অন্যদিকে অস্বাভাবিক ইঁদুর আতঙ্ক এবং বাড়তি খরচের কড়া ধাক্কা।
মৌসুমের শুরুতে বাজারে নতুন সবজির চাহিদা থাকে তুঙ্গে, দামও পাওয়া যায় দ্বিগুণ। এই সমীকরণকে পুঁজি করেই চান্দিনার মাঠের পর মাঠে শীতকালীন সবজি চাষের আয়োজন চলছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে চান্দিনায় ১ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে ৪৩ হাজার ৭৫৫ মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩১০ হেক্টর জমিতে আবাদের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাতাঘাসী, শুহিলপুর, মাধাইয়া, মহিচাইল, এতবারপুর, বাড়েরা, মাইজখার, চিলোড়া, এওয়াজবন্দ এবং পূর্ব অম্বরপুরের মাঠগুলো এখন যেন এক একটি সবজির ক্যানভাস।
কিন্তু কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, খেতে ভালো ফলন হওয়া মানেই শতভাগ সাফল্য নয়। দিনশেষে সার, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি এবং পরিবহন খরচ বাদ দিয়ে কৃষকের পকেটে কতটা থাকছে—তা-ই নির্ধারণ করে আসল লাভ-ক্ষতি।
উৎসবমুখর এই পরিবেশের মধ্যেই চান্দিনার কয়েকটি এলাকায় আমন ধানখেত এবং নতুন সবজি চারায় হানা দিয়েছে ইঁদুরের দল। চান্দিনা পৌরসভার তুলাতোলী, ছায়কোট, বড় গোবিন্দপুর এবং বাতাঘাসী ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামে ইঁদুরের আক্রমণ অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। ধানগাছ ও শিষ কাটার পাশাপাশি কেটে ফেলা হচ্ছে ভুট্টা, শিম, বরবটি এবং বেগুনের কচিপাতা।
বাতাঘাসী ইউনিয়নের উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক বাবুল মিয়া নিজের ৯০ শতক জমিতে এবার ভুট্টা চাষ করেছেন। খেতের অবস্থা বেশ চমৎকার হলেও তাঁর ঘুম হারাম করেছে ইঁদুরের উৎপাত।
তিনি বলেন "অন্যান্য বছর ইঁদুরের উপদ্রব কিছুটা কম থাকলেও এবার তা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। খেত বাঁচাতে নিয়মিত পাহারা দিচ্ছি, ফাঁদ পাতছি। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন ইঁদুর দমন করা যাচ্ছে না। ফসল কাটার আগে এভাবে ক্ষতি হতে থাকলে তো আসল খরচ তোলাই কঠিন হয়ে পড়বে।"
অন্যদিকে, শ্রীমন্তপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম আগাম বাজারের আশায় শিম চাষ করলেও তাঁর কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাঁর মতে, গত বছরের তুলনায় এ বছর সার, ওষুধ এবং শ্রমিকের মজুরি যেমন বেশি, তেমনি ইঁদুরের অতিরিক্ত উপদ্রব কৃষকদের কোণঠাসা করে তুলেছে।
উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং ইঁদুরের অস্বাভাবিক আক্রমণের মতো দ্বিমুখী সংকটের মাঝেও আশা হারাচ্ছেন না কৃষি কর্মকর্তারা।
চান্দিনা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, আগাম শীতকালীন সবজি চাষ চাষিদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। এর মাধ্যমে এ অঞ্চলের অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের ইঁদুর দমনসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং তদারকি প্রদান করা হচ্ছে।
তবে কেবল মাঠপর্যায়ের পরামর্শেই সংকট পুরোপুরি কাটবে না বলে মনে করছেন অভিজ্ঞরা। তাঁদের মতে, কৃষকেরা যাতে সঠিক সময়ে ইঁদুর দমনের আধুনিক উপায় এবং হালনাগাদ বাজারদর সম্পর্কে জানতে পারেন, সে বিষয়ে আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং সহযোগিতা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ