বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:৪৮ পি.এম
মানিকগঞ্জে স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌতুক মামলা করার অভিযোগে মোসা. লাভলী আক্তারকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী মো. আরিফুল ইসলাম রতনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে মামলার বাদী ও আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নম্বর আদালতের বিচারক দোলন বিশ্বাস। আদালত লাভলী আক্তারকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশও দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২১ সালের ২২ জানুয়ারি মো. আরিফুল ইসলাম রতনের সঙ্গে লাভলী আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের মধ্যে নানা কারণে বিরোধ দেখা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালের ১৫ মার্চ স্বামী ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে লাভলীকে মারধর করে বাড়ি থেকে নতুন করে বের করে দিয়েছেন—এমন অভিযোগ এনে যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা করেন লাভলী।
মামলাটিতে বাদীসহ মোট তিনজন সাক্ষ্য প্রদান করেন। পরে আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার সময় আদালতে প্রমাণিত হয়, বাদীর আরজিতে যে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, সেই ঘটনার প্রায় সাত মাস আগেই মামলার অভিযুক্ত রতন বিদেশে চলে যান। এজন্য বাদীপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে আদালত রতনকে বেকসুর খালাস দেন এবং একই সঙ্গে লাভলী আক্তারকে মিথ্যা মামলা দায়েরের দায়ে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন।
বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. আজিজ উল্লাহ। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন কহিনুর। রায়ের পর লাভলী আক্তারের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট সমাপ্তি আক্তার বলেন, ১০ দিনের সাজা হওয়ায় আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। পরে আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে এক মাসের মধ্যে আপিল করার শর্তে এক হাজার টাকা বন্ডে লাভলী আক্তারের জামিন মঞ্জুর করেন।
এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল ইসলাম মন্তব্য করেন, মিথ্যা মামলা করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি সংকুচিত করার জন্য এ ধরনের রায় গুরুত্বপূর্ণ। যদিও কারাদণ্ডের পরিমাণ কম, তবে এটি একটি বার্তা হিসাবে কাজ করবে—মিথ্যা মামলা দায়ের করলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হতে পারে মামলা বাদীকেও। একটি দৃষ্টান্ত সৃষ্টির ফলে সমাজে ঢালাওভাবে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
জজ কোর্টের অ্যাডভোকেট আবুল বাশার শুভ জানান, এই বার্তাটি সারাদেশে প্রচার করা উচিত। কারণ মিথ্যা মামলা মিথ্যা। এটি করা একেবারেই ঠিক নয়। এতে লাভের তুলনায় সামাজিক ক্ষতির পরিমাণই বেশি। তাই মিথ্যা মামলা এড়ানোর স্বার্থে এই মামলাটিকে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট চলতি মাসের শেষে দায়িত্ব ছাড়তে যাচ্ছেন। যদিও তিনি প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন, তবে তিনি ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করবেন। বুধবার (১০ আগস্ট) ট্রাম্প এ বিষয়ে ঘোষণা দেন।
লিভিট এই পদে বসার সময় ২৮ বছর বয়সী ছিলেন, এবং তিনি প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দেশটির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি। ট্রাম্পের প্রতি তার দৃঢ় আনুগত্য এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে তীব্র ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়ার জন্য তিনি প্রচারের আলোতে ছিলেন। তিনি নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরতেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে ট্রাম্প জানান যে, লিভিট তার পরিবারের সঙ্গে, বিশেষ করে দুই সন্তানের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর জন্য দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদ ছাড়ার পর তিনি ট্রাম্পের ‘আউটসাইড অ্যাডভাইজার’ হিসেবে কাজ করবেন এবং রিপাবলিকান পার্টির ভেতরে একজন প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারবেন।
গত মে মাসে লিভিট তার দ্বিতীয় সন্তান ভিভিয়ানার জন্মের ঘোষণা দেন। মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে কিছু সপ্তাহের মধ্যে তার দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত আসে। লিভিট বলেন, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার পাশাপাশি দুই সন্তানের জন্যও পর্যাপ্ত সময় দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।
ট্রাম্পের সঙ্গে লিভিটের রাজনৈতিক সম্পর্ক অনেক পুরানো। ২০২১ সালে শেষ হওয়া ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস অফিসে কাজ করেছিলেন। পরে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্পের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রেস সেক্রেটারি হওয়ার পর লিভিট হোয়াইট হাউসের নিয়মিত ব্রিফিংকে পুনরায় সক্রিয় করেন। তবে তার সময়ে হোয়াইট হাউস ও সাংবাদিকদের সম্পর্কের ধরনে বড় একটি পরিবর্তন আসে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ঘোষণা করেন যে, ওভাল অফিস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্পের কাছাকাছি থেকে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ কোন সাংবাদিকরা পাবেন, তা হোয়াইট হাউস নিজেই নির্ধারণ করবে। একই সময়ে ডানপন্থী ও ট্রাম্পপন্থী গণমাধ্যমগুলোকেও সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়, ফলে প্রচলিত সংবাদমাধ্যমগুলোর উপস্থিতি কমে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
নিউ হ্যাম্পশায়ারে বেড়ে ওঠা লিভিটের পরিবার সেখানে একটি আইসক্রিমের দোকান চালাত। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ২০১৭ সালে ট্রাম্পের সমালোচনার প্রতিবাদ জানিয়ে একটি পত্রিকায় চিঠি লিখে তিনি আলোচনায় আসেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ের পর ২০২২ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে কংগ্রেসের একটি আসনে নির্বাচন করেন লিভিট। তবে সেই নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। প্রচারে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন এবং আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অধিকারের পক্ষে অবস্থান ছিল তার অন্যতম প্রধান বিষয়।
এরপর ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে টেলিভিশন বিতর্ক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে তিনি প্রশংসা অর্জন করেন।
দায়িত্ব ছাড়ার পরেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন লিভিট। তিনি বলেছেন, তার রাজনৈতিক লড়াই নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে, তবে সেই লড়াই এখনো শেষ হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় মোহাম্মদ রাব্বি (২৭) নামের এক যুবককে নিহত করেছে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে এলাকার বিক্ষুব্ধ মানুষেরা।
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। এর আগে, একই দিন বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে, দুর্বৃত্তরা রাব্বিকে তার দোকানের ভেতরে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।
স্থানীয় পুলিশ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাব্বির বাড়ি ময়মনসিংহ নগরের মাসকান্দা এলাকায় অবস্থিত। তিনি মাসকান্দার অবস্থানরত ময়মনসিংহ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে একটি কম্পিউটার-ফটোকপির দোকান পরিচালনা করতেন। আজ বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে নিজের দোকানের ভেতরে দুর্বৃত্তরা রামদা দিয়ে কুপিয়ে রাব্বিকে হত্যা করে।
রাব্বির স্বজনাদের দাবি অনুযায়ী, পূর্ববিরোধের কারণে একই এলাকার ফজলুল হক, সাব্বির ও লিটনসহ অন্যরা রাব্বির হত্যা ঘটনার সাথে জড়িত। এদিকে, এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাসকান্দা এলাকার অভিযুক্তদের বাড়ি-ঘরে আগুন দেয় রাব্বির পক্ষের ক্ষুব্ধ লোকজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে, সরকার এবার এই চাল রপ্তানিতে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। সম্প্রতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রতীকী ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের বাজারে সুগন্ধি চালের চাহিদা ও দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যার ফলস্বরূপ এবার এই চাল রপ্তানিতে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আগে থেকে অনুমোদন দেওয়া রপ্তানি কোটা পুনর্বিবেচনা করে তা কিছুটা কমানো বা সমন্বয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে, রপ্তানির অনুমতি প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃতপক্ষে কত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করেছে তা জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করা হয়েছে।
প্রকাশিত চিঠিতে বলা হয়েছে, সুগন্ধি চালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির বিষয় বিবেচনা করে, আগে দেওয়া রপ্তানি অনুমোদনের পরিমাণ হ্রাস বা সমন্বয় করা অপরিহার্য। এজন্য অনুমতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তাদের প্রকৃত রপ্তানির পরিমাণের বিস্তারিত তথ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষভাবে, যেসব প্রতিষ্ঠান অনুমতি পাওয়ার পরও নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারেনি অথবা আংশিক রপ্তানি করেছে, তাদের অব্যবহৃত কোটা পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে।
গত ২ আগস্ট, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সুগন্ধি চালের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সেই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের সময় চালের উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, বাজার পরিস্থিতি ও রপ্তানির প্রকৃত চিত্র পর্যালোচনা করা হয়েছিল।
সভায় জানানো হয়, অনুমতি পাওয়া অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী চাল রপ্তানি করতে পারেনি। কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিক রপ্তানিও করেছে। যার ফলে, অনুমোদিত কোটা ও প্রকৃত রপ্তানির মধ্যে একটি বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে। এই কারণেই প্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রকৃত রপ্তানির হালনাগাদ তথ্য সংগ্রহ করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
আগেই, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রথম দফায় গত ১৩ মে ২১১টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৬৭টিসহ মোট ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৪৫ হাজার ২৭০ টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানা গেছে, দেশের শীর্ষ ১০টি বড় মিল মালিকদের কাছে বিপুল পরিমাণ সুগন্ধি চাল মজুদ রয়েছে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন যে, তারা বাজারে প্রয়োজন অনুযায়ী চাল না ছেড়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।
এসব বিষয় পর্যালোচনার পর, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত মুনাফা করার প্রবণতা ঠেকাতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কঠোর তদারকির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতোমধ্যে, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সহযোগিতায় বাজার মনিটরিং আরও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে, রপ্তানির অনুমতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো যারা নির্ধারিত পরিমাণ সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানি করতে পারেনি, তাদের অব্যবহৃত কোটা বরাবর রাখার যৌক্তিকতাও পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে প্রকৃত রপ্তানির তথ্য বলা হয়েছে। এসব তথ্য যাচাই করার পর অনুমোদিত রপ্তানি কোটা কমানো বা সমন্বয়ের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বিজেপি সাংসদ নগেন্দ্র রায়কে দেওয়া ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রত্যাহার করে নিয়েছে। অনন্ত মহারাজ, যিনি পরিচিত, সুভাষচন্দ্র বসুকে ‘যুদ্ধাপরাধী ও দেশদ্রোহী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এই কারনে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার তার সম্মাননা ফিরিয়ে নিয়েছে।
গত ১৯ জুলাই কোচবিহারের দিনহাটায় একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় অনন্ত মহারাজ নেতাজির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ গড়ে তোলার মতো কোনো ক্ষমতা কি নেতাজির ছিল?’ তার এই বক্তব্যে রাজ্যজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কলকাতা শহরের শ্যামবাজারে নেতাজির মূর্তির পাদদেশে বড় ধরনের প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। কিন্তু সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে, অনন্ত মহারাজ গত সোমবার শিলিগুড়ির ফুলবাড়ির জাবরাভিটায় একটি অনুষ্ঠানে আরো তীব্র ভাষায় নেতাজিকে আক্রমণ করেন। শিলিগুড়ির অনুষ্ঠানে তিনি নেতাজিকে ‘যুদ্ধাপরাধী এবং দেশদ্রোহী’ বলে আখ্যা দেন।
অনন্ত মহারাজ এর দাবী, ভারতের স্বাধীনতায় নেতাজির কোনো অবদান নেই। দুইটির প্রকাশ্য বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দলমত নির্বিশেষে এক আবেগের নাম। বিজেপির সাংসদরাও অনন্ত মহারাজের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
উত্তরবঙ্গের একদল বিজেপি বিধায়ক ও মন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করে অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান। রাজ্য বিজেপি দ্রুত এই মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখে এবং এটিকে অনন্ত মহারাজের ‘ব্যক্তিগত বক্তব্য’ বলে ঘোষণা করে। তবে তীব্র সমালোচনার মুখেও, অনন্ত মহারাজ নিজের বক্তব্যে অনড় থেকে বলেন, তিনি নিজে কোনো মনগড়া কথা বলেননি। বরং সরকারি আর্কাইভ এবং ঐতিহাসিক বইয়ের রেকর্ড অনুসারেই বক্তব্য রেখেছেন।
অনন্ত মহারাজের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বুধবার নেতাজিকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, এই আইন সাংসদ, বিধায়ক কিংবা সরকারি কর্মকর্তা; সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন পুলিশকে কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ দেন, তখন অনন্ত মহারাজ কটাক্ষের সুরে পাল্টা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ভালো কথাই বলেছেন। আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত।’ তিনি একইসাথে দাবি করেন, সরকার যদি মনে করে এই নথিপত্রগুলো ভুল, তবে ইতিহাস বা আর্কাইভের সেই রেকর্ডগুলো বদলানোর উদ্যোগ সরকারেরই নেওয়া উচিত, কারণ তিনি শুধু নথিতে যা আছে তাই বলেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপি সাংসদের সম্মাননা ফিরিয়ে নেয়ার ঘোষণা আসে। সম্মাননা প্রত্যাহারে রাজ্য সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি এমন কিছু তথ্য ও পরিস্থিতি সামনে এসেছে যা নগেন্দ্র রায়ের এই সম্মাননা ধরে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।’ বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হয়েছে যে, নগেন্দ্র রায়ের কাছে বঙ্গবিভূষণ সম্মানটি থাকা এই পুরস্কারের মর্যাদা, গৌরব ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকার অবিলম্বে নগেন্দ্র রায়কে দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মাননা প্রত্যাহার ও বাতিল ঘোষণা করছে।’
উত্তরবঙ্গের কোচবিহারের সাংসদ অনন্ত মহারাজ রাজবংশী সম্প্রদায়ের একজন প্রভাবশালী নেতা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মমতা ব্যানার্জির সরকারের আমলে তাঁকে এই বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ