০৭:৫৬ পি.এম
রোগীর স্বজনদের সাথে বাকবিতণ্ডার পর নিউরো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে, যা তুলকালাম পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। প্রতিবাদস্বরূপ, ইন্টার্ন ডাক্তাররা আজ সোমবার বিকেল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেন, ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে পড়ে।
ইন্টার্ন ডাক্তাররা দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি নিয়ে অনড় অবস্থান গ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে জেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক মোকাররম হোসেন, যুবদল নেতা রেজা, মাসুদ হোসেন, এবং দিনাজপুর মোটর বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাইয়ুমসহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে আনা হলে তিনি নির্দেশ দেন যে দোষীরা যে দলেরই হোক, মামলা দায়ের সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সাথে হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আলোচনা করেন। পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক প্লাবনসহ আরও দুইজনকে আটকের বিষয়টি আলোচিত হয়।
ইন্টার্ন ডাক্তাররা দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা, আটক এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস পাওয়ার পর সাময়িকভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। তবে সন্ধ্যার সামান্য আগে আটক নেতাদের থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে হাসপাতালের বাইরে নেতা-কর্মীরা সমবেত হন। এক পর্যায়ে স্বেচ্ছাসেবক নেতা প্লাবনকে নিয়ে মিছিল সহকারে নেতা-কর্মীরা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
আরও পড়ুন: বি আর বি ক্যাবল, ৪৮ বছর বিশ্বাসের পথে সমৃদ্ধির যাত্রা
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, দিনাজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক প্লাবনের ভাইয়ের স্ত্রী চিকিৎসাধীন ছিলেন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। রোগীর অবস্থার অবনতিকে কেন্দ্র করে স্বজনদের সাথে ইন্টার্ন ডাক্তারদের বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় মোবাইলে ছবি ধারণকে কেন্দ্র করে দুই নারী চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে স্বজনরা জানান।
অন্যদিকে, ইন্টার্ন নারী চিকিৎসকরা তাদের অপদস্ত করার ছবি ধারণের কথা বলেন। সূত্রের মতে, এসময় নিউরো ডা. মনজুর মোর্শেদ উপস্থিত হলে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। প্রতিবাদে ইন্টার্ন ডাক্তাররা দায়ীদের বিচার দাবি ও নিরাপত্তার দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দেন। পরিচালকের কক্ষে আলোচনা ও বাকবিতণ্ডার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়। এসময় স্বেচ্ছাসেবক নেতা প্লাবনকে হাসপাতাল চত্বরেই আটকে রাখা হয়। মন্ত্রীদের আশ্বাস ও উপস্থিত নেতাকর্মীদের অনুরোধে ইন্টার্ন ডাক্তাররা সাময়িকভাবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
পরবর্তীতে হাসপাতালে থাকা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা প্লাবনকে থানায় নিয়ে যাওয়ার খবরে হাসপাতালের বাইরে দলের নেতা-কর্মীরা সমবেত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে প্লাবনকে নিয়ে নেতা-কর্মীরা উল্লাস করতে করতে হাসপাতাল চত্বর ত্যাগ করেন।
এ ব্যাপারে হাসপাতাল পরিচালকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এজাহারের প্রস্তুতি চলছে বলে ফোন কেটে দেন। এক মিনিট পরেই কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে প্লাবনকে ছেড়ে দেয়া বা নিয়ে যাওয়ার বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এজাহারে নাম নেই তাই তাকে আটক বা ছেড়ে দেয়ার প্রশ্ন আসে না।
আরও পড়ুন: রাঙামাটিতে বাস থেকে ১৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার, আটক ২
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন