০৩:৪২ পি.এম
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধে অক্ষমতা থাকায় সদ্য সন্তান হারানো এক প্রসূতিকে হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ওই নারীকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে সক্ষম করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার ল্যাম্ব হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারী বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের সোনাপুকুর মাঝাপাড়া গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রী। পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছয় দিন বয়সী অসুস্থ নবজাতককে নিয়ে গত বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। হাসপাতালের নারী ও শিশু ওয়ার্ডে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে শিশুটি মৃত্যুবরণ করে।
স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসা বিল পরিশোধ করতে অক্ষম হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রসূতি মাকে একটি কক্ষে আটকে রাখে। তবে নবজাতকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটির জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করতে হয়।
আরও পড়ুন: দুমকীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালিতে মোঃ কামরুল ইসলাম মুন্না
ঘটনার খবর পাওয়ার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাদ্দাম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করেন। একই সময়ে কয়েকজন সাংবাদিক হাসপাতালের দিকে যাবার প্রস্তুতি নিলে ইউএনও তাদের সেখানে না যাওয়ার অনুরোধ জানান এবং বলেন, তিনি বিষয়টি দ্রুত দেখছেন।
পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ১ ঘণ্টার মধ্যে প্রসূতি মাকে ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ইউএনও। পাশাপাশি উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধের জন্য সহায়তার আশ্বাস দেওয়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেন বলেন, দরিদ্র রোগীদের জন্য বিনা খরচে অথবা বিশেষ ছাড়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সদ্য সন্তান হারানো এক মাকে চিকিৎসা বিলের কারণে আটকে রাখা মানবিকতার পরিপন্থী। বিষয়টি জানার পর দরকারি ব্যবস্থা অতি দ্রুত নেওয়া হয়েছে।
ল্যাম্ব হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাইমন এই বিষয়ে জানান, রোগীকে আটকে রাখার ঘটনা সঠিক নয়। চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ পরিশোধের বিষয়ে আলোচনা চলছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বিল পরিশোধে সহায়তার আশ্বাস পাওয়ার পর রোগীকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: বরগুনায় হাউজি-লটারির প্রস্তাব, প্রশ্নের মুখে চেম্বার অব কমার্স ও জেলা প্রশাসন
তবে রোগীর স্বজনরা দাবি করেছেন, চিকিৎসা বিল পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত প্রসূতি মাকে হাসপাতাল ছাড়তে দেওয়া হয়নি। ঘটনার পর স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা সাংবাদিকদের তৎক্ষণিক উদ্যোগ এবং উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, অসহায় মানুষের পাশে প্রশাসনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন