মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:০২ পি.এম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্তব্য করেছেন যে, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) পরিচালনা বোর্ডের ৪৯তম সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী, যিনি বোর্ডের চেয়ারম্যান।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাদের উদ্ভাবন ও গবেষণালব্ধ অর্জনের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা হবে। কারণ বিজ্ঞানীরা তাদের মেধা, শ্রম, সময় ও নিষ্ঠা ব্যয় করে নতুন প্রযুক্তি ও জ্ঞান সৃষ্টি করেন। এসব কাজের স্বীকৃতি না পেলে ভবিষ্যতে গবেষণার প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, রোগ প্রতিরোধ, উন্নত জাত উদ্ভাবন, নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। গবেষণা কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও বাস্তবমুখী করতে হবে, যাতে এর সুফল সরাসরি খামারি ও উদ্যোক্তারা পান। গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে দ্রুত সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রাণিসম্পদ খাত আজ যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তার পেছনে গবেষকদের দীর্ঘদিনের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে উদ্ভাবনী গবেষণাকে উৎসাহিত করতে বিজ্ঞানীদের জন্য প্রণোদনা ও স্বীকৃতির সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।’
সভায় পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) মো. মাহমুদুল হোসাইন খান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, বিএলআরআইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ছাদেক আহমেদ, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ আবদুস সামাদ, বোর্ডের সদস্য ডা. মো. সফিউল আহাদ সরদার এবং বোর্ডের সদস্যসচিব ও বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকসহ পরিচালনা বোর্ডের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বিএলআরআইয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক, আর্থিক ও গবেষণাসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী যুবদল।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালিহাতী উপজেলা যুবদল, কালিহাতী পৌর যুবদল ও এলেঙ্গা পৌর যুবদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিকেলে কালিহাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কালিহাতী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মোল্লা। বক্তব্য দেন উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হাসমত আলী রেজা, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক, ফিরোজ মিয়া, কোকডহড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফুর রহমান মিথুন, কালিহাতী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক জনি রহমান, পৌর যুবদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার শহিদুল ইসলাম খোকন, বল্লা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হায়দার আলী ও নাগবাড়ি ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বাছেদ।
এ সময় বক্তারা দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে কালিহাতী উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়ের যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন। সাক্ষাৎটি আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত হয়।
একই দিন পুলিশ সদরদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সাক্ষাতের তথ্য জানানো হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহাবলয়ে অনুষ্ঠিত এ দ্বিপক্ষীয় সাক্ষাৎকালে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত রাশিয়ান নাগরিকদের নিরাপত্তা বিধান এবং পুলিশের ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি ডিভিশনের সার্বিক কার্যক্রমে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আরো পড়ুন
ডিআইজিসহ পুলিশের ৩১ পদে রদবদল
রাশিয়ার নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ভূমিকার জন্য তিনি আইজিপিকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে পারস্পরিক প্রযুক্তিগত ও পেশাগত সহযোগিতা আরো জোরদার করার ব্যাপারে আগ্রহ ব্যক্ত করেন।
আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রাশিয়ান রাষ্ট্রদূতের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান।
পেশাগত মানোন্নয়নে আইজিপি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর জোর দেন। তিনি দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত ডায়ালগ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উত্তম চর্চা এবং পারস্পরিক তথ্য বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা সম্পর্কিত আধুনিক ও উচ্চতর বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তাদের রাশিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।
আরো পড়ুন
ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাবরেজিস্ট্রার আটক
এ ছাড়া ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের (সিপিএইচ) চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক সক্ষমতা বাড়াতে রাশিয়ান সরকারের কারিগরি ও অবকাঠামোগত সহায়তা চান আইজিপি।
দ্বিপক্ষীয় এ সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চপদস্থ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঠিকাদারি কাজে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় ছাত্রদল ও ছাত্র ফেডারেশনের নেতা-কর্মীরা। তবে কর্মসূচি চলাকালে একদল ঠিকাদার ও তাঁদের অনুসারীরা বাধা দিয়ে মানববন্ধন পণ্ড করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন আয়োজকেরা।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের ‘দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে জেলা ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম সাকিব অভিযোগ করেন, শহিদুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের ৯ নম্বর সদস্য। তাঁর দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলী দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছেন। সম্প্রতি বরিশালের ১০ নম্বর ওয়ার্ডে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কথিত ‘গুপ্ত মিছিলেও’ তিনি অর্থায়ন করেছেন বলে অভিযোগ করেন সাকিব।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধিকাংশ ঠিকাদারি কাজ একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদারি বলয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মোমেন সিকদার নামের এক ঠিকাদারকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে কমিশন নেওয়া এবং পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী প্রভাব খাটাচ্ছেন। এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত কার্যালয়ে অবস্থান করে কমিশন ভাগ-বাটোয়ারার অভিযোগও করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কর্মসূচির একপর্যায়ে মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আয়োজকদের দাবি, যুবদলের সাবেক নির্বাহী সদস্য ও ঠিকাদার মোমেন সিকদার, ছাত্রদল নেতা সানমুন, নির্বাহী প্রকৌশলীর গাড়িচালক ইব্রাহিম এবং অফিস সহকারী তন্ময় ঘটনাস্থলে এসে মানববন্ধনের ব্যানার কেড়ে নেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে মানববন্ধন চলাকালে মোমেন সিকদারকে কর্মসূচির ব্যানার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে এবং ‘এই ছবি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করবেন, চাঁদাবাজি করবেন, সেটা হবে না’—এমন বক্তব্য দিতে দেখা যায়। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা সেখান থেকে সরে যান বলে আয়োজকদের দাবি।
তবে মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার ও যুবদল নেতা মোমেন সিকদার। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে যাওয়ার সময় তিনি কয়েকজনকে ব্যানার নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। ব্যানারে নির্বাহী প্রকৌশলীর ছবি দেখে তিনি শুধু সেখানে কেন দাঁড়ানো হয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন। মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে খুদেবার্তার মাধ্যমে সাংবাদিকের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় জানিয়ে পুনরায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর কার্যালয়ের সামনে কারা মানববন্ধন করেছেন সে বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
মানববন্ধনে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি সোহেল খান, ১০ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুম্মান স্বাধীন, ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বেল্লাল হোসেন, মো. রাব্বিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে টানা তিন দিন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামসহ কয়েকজন প্রকৌশলী ঠিকাদারদের সঙ্গে সিলেটে ভ্রমণে যান বলে জানা যায়। ওই সময়ে অধিদপ্তরের কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি সামনে এলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর কথোপকথনের একটি অডিও ক্লিপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অডিও নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হলেও এর সত্যতা ও প্রেক্ষাপট স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনার স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী এন আকন্দ কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসায় এক ছাত্রীর সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। মো. এহসানুল হক নামের ওই শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে আপত্তিকর অবস্থার দৃশ্য ধরা পড়ার পর তাঁকে মাদরাসা ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। পরে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
মাদরাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শিক্ষক এহসানুল হক প্রায় আট বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির অনার্স শাখায় নন-এমপিও প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মাদরাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন মঙ্গলবার বিকেলে বলেন, গত ২০ আগস্ট শিক্ষকদের একটি সভা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষক সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটরে একটি কক্ষে এক শিক্ষক ও বোরকা পরা এক নারীকে দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাঁরা ফুটেজটি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে এহসানুল হককে ডেকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়। প্রথমে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ফুটেজ দেখানোর পর নিজের ভুল স্বীকার করে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান বলে জানান অধ্যক্ষ।
অধ্যক্ষ বলেন, ঘটনার কয়েক দিন পর ২৬ আগস্ট তাঁকে সিসিটিভি ফুটেজের ডাউনলোড করা ভিডিও দেখানো হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি অনার্স বিভাগের চেয়ারম্যানকে ডেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদরাসায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাঁর ব্যবহৃত কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয় এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
পরে ১ সেপ্টেম্বর মো. এহসানুল হক পদত্যাগপত্র জমা দেন। অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি সভা করে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, বিষয়টি মাদরাসার গভর্নিং বডি এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
তবে ওই ঘটনায় জড়িত বলে ধারণা করা ছাত্রীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। অধ্যক্ষের ধারণা, তিনি অনার্স অথবা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী হতে পারেন। বিষয়টি নিয়ে ওই শিক্ষার্থী বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজা বলেন, বিষয়টি জানার পর মাদরাসার অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই ছাত্রীকে শনাক্ত করতে পারেননি। তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে তদন্ত বা বিচারের মুখোমুখি না করে চাকরি থেকে বিদায় করে দেওয়া দুঃখজনক ও কাম্য নয়। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষকে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এন আকন্দ কামিল মাদরাসায় এমন অভিযোগের ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
প্রতিবেদকের নোট: অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. এহসানুল হকের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের তথ্যের মধ্যে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ