বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
০৩:২৩ পি.এম
মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পরিচালিত বিশেষ অভিযানে তিন কেজি গাঁজাসহ অজিত পাত্র (৪৮) নামের একজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বুধবার (২২ জুলাই) রাতে সদর উপজেলার ১২ নম্বর গিয়াসনগর ইউনিয়নের প্রেমনগর চা বাগান (সমাধি টিলা) এলাকায় তার নিজের বসতঘরে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য এই তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের এসআই হীরক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে একটি টিম অজিত পাত্রের বসতঘরের দক্ষিণ কক্ষে অভিযান পরিচালনা করে। এসময় একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে তিন কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি গাঁজাগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ সুদীপ্ত শেখর ভট্টাচার্য বলেছেন, সিডিএমএস যাচাই করে অজিত পাত্রের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ সুপারের নির্দেশিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে মাদকের বিরুদ্ধে ডিবির এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিরাজগঞ্জ জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে বাবলু মিয়া (৫২) নামে একজন আওয়ামী লীগ নেতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে।
বাবলু মিয়া সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাহুকা ইউনিয়নের পূর্ব বাহুকা গ্রামের মৃত রমজান আলীর ছেলে। তিনি রতনকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক পদে ছিলেন।
সিরাজগঞ্জ জেলা সুপার মো. রফিকুল ইসলাম এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাবলু মিয়া একটি রাজনৈতিক মামলায় এক মাস আগে জেল হাজতে এসেছিলেন। বুধবার সন্ধ্যা দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সিলেট আদালত চত্বরে আবারও হামলার শিকার হন শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন। কারাগার থেকে হাজিরার উদ্দেশ্যে আদালতে তাকে আনা হলে একদল জনতা তার ওপর হামলা চালায়।
এই সময় তাকে মারধর শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১০টায় সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চত্বরে এই ঘটনা ঘটে। এর আগেও একই আদালত প্রাঙ্গণে জাকিরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল।
পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে আসামি জাকিরকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে নেওয়া হয়। আদালত চত্বরে তিনি আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন নিহত ফাহিমার স্বজন এবং এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা। প্রিজন ভ্যান থেকে আদালত ভবনের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তারা জাকিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালান এবং মারধর করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এসে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জাকিরকে আদালতের ভেতরে নিয়ে যান।
তবে হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফাহিমার এক চাচা। তিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামিপক্ষের দিকে ঝুঁকে থাকছেন। এর ফলে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আমাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলেন, ‘জাকিরকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আনা-নেওয়া করা হয়। তারপরও কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। অভিযুক্ত জাকির একই গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা এবং শিশু ফাহিমার চাচা। গত ৬ মে শিশু ফাহিমা আক্তার (৪) নিখোঁজ হয়। দুই দিন পর ৮ মে ভোররাতে তার মরদেহ গ্রামের একটি ডোবার পাশ থেকে উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জাকির প্রথমে মরদেহ ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সেটি ডোবার পাশে ফেলে রেখে যান। স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মরদেহ উদ্ধারের তিন দিনের মাথায় গত ১১ মে রাতে শিশু ফাহিমাকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মধ্যেই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি হিসেবে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে লাশ গুমাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের পর জাকির পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে সম্প্রতি আদালতে হাজিরার সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, পুলিশ তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ওই জবানবন্দি আদায় করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারের অনিয়মের অভিযোগ, চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ পাঁচ দাবিতে প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তা (সিএমও) ড. শামসুর রহমানকে অবরুদ্ধ করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তার কক্ষে তালা দিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
জাকসুর স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক হুসাইন মুবারক বলেন, ‘প্রধান মেডিক্যাল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। এ ছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই তাকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দাবিগুলো হলো—আগামী সাত দিনের মধ্যে চার জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ, ছয় জন ডিপ্লোমা নার্স নিয়োগ, মেডিক্যালের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ আরো ১০টি কক্ষ বৃদ্ধি, অপারেশন থিয়েটারের আধুনিকায়ন, নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স চালু এবং মেডিক্যাল সেন্টারের পরিচালক হিসেবে একজন শিক্ষককে দায়িত্ব প্রদান।’
হুসাইন মুবারক আরো বলেন, ‘প্রশাসন এসব বিষয়ে তদন্ত করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া এবং দাবিগুলো বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা না পেলে পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে পুরো মেডিক্যাল সেন্টার তালাবদ্ধ করে চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাবাকে হারানো এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইসমাইল ইকের পাশে দাঁড়িয়েছে বাগেরহাট জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ইসমাইল ইকনের হাতে নগদ অর্থ, চেক ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন।
এ সময় তিনি সংগ্রাম করে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসমাইল ইকনের বিষয়ে জানতে পেরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে জেলা প্রশাসন সব সময় থাকবে। ইতোমধ্যে ইসমাইলকে নগদ অর্থ, চেক ও খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ভবিষ্যতে তার পড়ালেখা চালিয়ে যেতে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কাইসার কামাল, বাগেরহাটের লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সামাজিক সংগঠনও ইসমাইল ইকন ও তার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের দেওয়া আর্থিক ও মানবিক সহায়তা পরিবারটিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস জুগিয়েছে।
এইচএসসি শিক্ষার্থী ইসমাইল ইকন বলেন, আমাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে সহযোগিতা করা হয়েছে।
এছাড়া শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আমার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তিনি জানান, পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকের চাকরিতে ছুটির ব্যবস্থা করে দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, বাবার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়ে ইকনের ব্যাংকের এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রামের গল্প দেশজুড়ে আলোচনায় আসে। সংবাদটি প্রকাশের পর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও হৃদয়বান মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের সহায়তায় ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন ইসমাইল ইকন ও তার পরিবার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ