বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:০৩ এম
একসঙ্গে জন্ম নেওয়া তিন বোনের বেড়ে ওঠা হয়েছে একই ছাদের নিচে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। এবার সাফল্যের খতিয়ানেও নজির গড়েছে নাটোরের বড়াইগ্রামের এই তিন বোন।
তারা তিনজনই ২০২৫ সালের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে, জোনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। এই বৃত্তিপ্রাপ্ত তিন বোন হলেন- তনোয়া ফাতেমা, তাসমিয়া মরিয়ম ও আয়েশা সিদ্দিকা।
তাদের বাবা রেজাউল করিম সরকার, যিনি জোনাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, এবং মা শিল্পী খাতুন, একজন গৃহিণী। তাদের বাড়ি জোনাইল বাজারপাড়া এলাকায়। বর্তমানে তারা জোনাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
রেজাউল করিম সরকার, তাদের বাবা, জানিয়েছেন, তাদের একসঙ্গে জন্ম নেওয়া এবং একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। ছোটোবেলা থেকেই এই তিন বোনের লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ রয়েছে। তিনি নিজেও যতটুকু পারেন তাদেরকে সময় দেন, তাছাড়া তাদের মা-ও উচ্চশিক্ষিত এবং মেয়েদের পড়াশোনার যত্ন নেন। তিন বোন নিজেদের মধ্যে নিয়মিত লেখাপড়া করে এবং একে অপরকে সহযোগিতা করে।
রেজাউল করিম বলেছেন, ‘আল্লাহ তায়ালার রহমত, স্বজনদের অনুপ্রেরণা, তাদের আপ্রাণ প্রচেষ্টা আর শিক্ষকদের দিক নির্দেশনাই তাদের এ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।’
জোনাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা খাতুন কেয়া জানালেন, ‘তারা ছোটোবেলা থেকেই পড়াশুনায় যথেষ্ট ভালো। তারা খুব ভদ্র ও বিনয়ী। তাদের এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত খুশি। ভবিষ্যতে তারা আরও ভালো ফলাফল করবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিকভাবে অন্যতম বড় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। সেমিফাইনাল ঘিরে ফুটবল বিশ্বে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। এই দুই দলের লড়াইয়ে ইতিহাস, আবেগ ও স্মরণীয় ঘটনার এক দীর্ঘ অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।
১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায় গড়ে উঠেছিল। সেই ম্যাচে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা প্রথমে বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি করেন। পরে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে একক নৈপুণ্যের কারণে ইংল্যান্ডের একাধিক খেলোয়াড়কে কাটিয়ে অসাধারণ একটি গোল করেন। পরে এই গোলটি শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে পরিচিতি পায়।
এর চার বছর পর, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আবারও দুই দলের দ্বৈরথ নতুন নাটকীয়তার জন্ম দেয়। সেই ম্যাচে ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম আর্জেন্টিনার দিয়েগো সিমিওনের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পায়ে আঘাত করে লাল কার্ড দেখেন। ১০ জনের ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়। এই ঘটনাটি দুই দলের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নতুন এক অধ্যায় যোগ করে।
তবে এবারের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সামনে থাকবেন আর্জেন্টিনার আরেক মহাতারকা লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের হয়ে সিনিয়র পর্যায়ে এবারই প্রথমবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। অতীতের অনেক তারকার মতো মেসি মাঠের বিতর্কে খুব বেশি জড়াননি। তবে তার বিনয়ী আচরণ ও অসাধারণ ফুটবল দক্ষতার জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার লড়াইয়ে আবেগ নয়, বরং পারফরম্যান্সই হবে মূল বিষয়।
আর্জেন্টিনার শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে টুর্নামেন্টজুড়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছেন মেসি। ইংল্যান্ডের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডকে থামানো।
সেমিফাইনালের আগে সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচও দুই দলের ঐতিহাসিক দ্বৈরথের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তিনি ১৯৮৬ সালের ম্যারাডোনার বিতর্কিত হ্যান্ড অব গড গোলের কথা উল্লেখ করে ফক্স স্পোর্টসের স্টুডিওতে মেসির সাবেক বার্সা সতীর্থ হিসেবে বলেন, "ইংল্যান্ড হ্যান্ড অব গড দেখেছে। এবার তারা ঈশ্বরের বাঁ পায়ের জাদু দেখবে।"
ফুটবল ইতিহাসে মেসির ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার সুযোগ খুব কম এসেছে। ২০০৫ সালের নভেম্বরে জেনেভায় অনুষ্ঠিত একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার কাছাকাছি ছিলেন। কিন্তু জাতীয় দলে অভিষেক ম্যাচে হাঙ্গেরির বিপক্ষে লাল কার্ড পাওয়ায় সেই ম্যাচে খেলতে পারেননি। ওই ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-২ গোলে হেরেছিল।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলের জয়ের পর মেসি বলেন, "ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই বিশেষ একটি চ্যালেঞ্জ।" তিনি আরো জানান, টানা কঠিন ম্যাচের ধকল কাটিয়ে সেমিফাইনালের জন্য নিজেদের সেরা অবস্থায় প্রস্তুত করাই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টেস্ট র্যাংকিংয়ে জিম্বাবুয়ের অবস্থান সবার নিচে, ১০ নম্বরে। ওয়ানডে র্যাংকিংয়ে তারা ১১তম এবং টি-টোয়েন্টি র্যাংকিংয়ে ১২তম স্থান অধিকার করেছে। তবে, একের পর এক চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া দলটি র্যাংকিংয়ের শীর্ষ পাঁচে পৌঁছাতে চায়।
বুলাওয়েতে, জিম্বাবুয়ে আগে ব্যাটিং করে ১৭০ রান সংগ্রহ করে। এরপর বাংলাদেশকে অলআউট করে ১৩৮ রানে।
ম্যাচ শেষে দলের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা মন্তব্য করেন, 'এটা ১৫০-১৫৫ রানের উইকেট। তাই জয় নিয়ে আশাবাদী ছিলাম। দুই-একটি ভুল আমরা করেছি, তবে বোলিং ইউনিট দারুণভাবে খেলেছে। কিছু ভুল তো হবেই। আমরা তিন বিভাগেই ভালো খেলেছি। হেড কোচ বলছিলেন, আজ আমাদের পারফরম্যান্সকে দশে আট দেবে।'
দলের পেস ইউনিটের প্রশংসা করে তিনি যোগ করেন, 'উইকেট দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিং বান্ধব ছিল। আগামীতে আমরা এ বিষয়টি মাথায় রেখে খেলতে নামব। আমাদের পেসাররা বিশ্ব ক্রিকেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্ট্যান্ডার্ড ধরে রেখেছে। আমি খুবই খুশি। জয়ের চেয়েও বড় কথা হলো, আমরা যেভাবে খেলছি…'
জয়ের চেয়েও তিনি দলের উন্নতি নিয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত। অধিনায়ক সিকান্দার রাজা বলেন, 'টি-টোয়েন্টিতে প্রতিপক্ষকে অলআউট করা মানে আপনার দল সঠিক পথে আছে। বিশ্বকাপে আমরা সম্ভবত শীর্ষ সাতে শেষ করেছিলাম। তবে আমরা বিশ্বের শীর্ষ ৪-৫টি দলের একটি হতে চাই। আমাদের লক্ষ্য অনুযায়ী উন্নতি হচ্ছে, এটাই আমাকে খুশি করে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গভীর সমুদ্রে ইঞ্জিন বিকল হয়ে দুইদিন ধরে ভাসতে থাকা একটি ফিশিং বোটসহ মোট ১৯ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড।
কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি দ্বারা প্রকাশিত সংবাদটি অনলাইন ভার্সনে রয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন কর্তৃক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ৮ জুলাই 'এফবি মা-২' নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ১৯ জন জেলেকে নিয়ে হাতিয়া থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে যায়। কিন্তু ১৩ জুলাই ট্রলারটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে সেটি সাগরে ভাসতে থাকে। মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকার কারণে জেলেরা কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারেননি।
দুইদিন ভাসার পর বুধবার সকাল ১০টার দিকে ট্রলারটি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এলে একজন জেলে কোস্টগার্ডকে ঘটনা সম্পর্কে অবগত করে। খবর পেয়ে কোস্টগার্ডের স্টেশন ভাসানচর এবং অপারেশন 'সুরক্ষা'-এ নিয়োজিত জাহাজ বিসিজিএস কুতুবদিয়া দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
এই অভিযানে চট্টগ্রামের নরম্যান্স পয়েন্টের পশ্চিমে গভীর সমুদ্র এলাকা থেকে বিকল ট্রলারসহ ১৯ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শর্তে জেলেদের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া তাদের ট্রলারসহ মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বলেন, উপকূলীয় ও সমুদ্র এলাকায় জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস আটলান্টার ম্যাচ ঘিরে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তবে, মার্ক গেয়ি নিজের দলের ওপর কোনো চাপ দেখতে পাচ্ছেন না। ইংল্যান্ডের ২৬ বছর বয়সী ডিফেন্ডার বলেছেন, আর্জেন্টিনা যেহেতু বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, তাই চাপটা তাদেরই অবস্থান করছে।
বাংলাদেশ সময় ১৬ জুলাই দিবাগত রাত ১টায় বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে এসেছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ড তাদের ১৯৬৬ সালের সুখস্মৃতি পুনরাবৃত্তি করতে মুখিয়ে আছে।
ঘরের মাঠের সেই বিশ্বকাপের পর থেকে, বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ফাইনালে ইংল্যান্ড কখনোই ওঠতে পারেনি। ১৯৯০ ও ২০১৮ সালে তারা দুইবার সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত এসেছে, কিন্তু দুবারই হতাশার শিকার হয়েছে। ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে বিদায় জানাতে হয়েছিল ক্রোয়েশিয়াকে। সব মিলিয়ে, ৬০ বছর আগে অর্জিত সেই সাফল্যের পর, এবার তৃতীয়বারের জন্য তারা সেরা চারের লড়াইয়ে প্রবেশ করতে চলেছে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে লড়াইয়ের কারণে ১৯৮৬ বিশ্বকাপে দিয়েগো মারাদোনার সেই বিখ্যাত (একই সাথে কুখ্যাত) ‘হ্যান্ড অব গোল’ থেকে শুরু করে, ১২ বছর পরে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ড পাওয়া নিয়েও অনেক বিতর্ক তৈরি হচ্ছে এই ম্যাচের চারপাশে।
এই দুই দলের মধ্যে লড়াইয়ে নাটকীয়তা ও বিতর্কের অভাব ছিল না কখনো। সুতরাং, এই ম্যাচেও উভয় দলের ওপর স্নায়ুর চাপ থাকবে। তবে গেয়ি মনে করেন, তাদের দলটির ওপর চাপটা তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি বলেন, “আর্জেন্টিনার ওপর চাপ থাকবে, কারণ, তারা বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।”
কোয়ার্টার-ফাইনালে নওরয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিততে ইংল্যান্ড যথেষ্ট ভুগতে হয়েছে। এই কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ‘সেরা ম্যাচ’ খেলতে চান গেয়ি।
তিনি বলেন, “এটা জীবনের সেরা ম্যাচ। দেশের জন্য আপনি যা পারেন, সবই করতে হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ