বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০২:২৪ পি.এম
ঢাকা, ৮ অক্টোবর, ২০২৬ : বুধবারের নোবেল রসায়ন পুরস্কার একটি ধারাবাহিক বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা উনিশ শতকে শুরু হয়েছিল এবং আধুনিক ওষুধ উৎপাদনে যুগান্তকারী সাফল্যের পথ তৈরি করেছে।
বিজ্ঞানীরা এই গবেষণার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অণুর কাঙ্ক্ষিত রূপ কীভাবে তৈরি করা যায়, তা আবিষ্কার করেছেন।
স্টকহোম থেকে এএফপি জানায়, রয়্যাল সোসাইটি অব কেমিস্ট্রির সাময়িকী ‘কেমিস্ট্রি ওয়ার্ল্ড’-এর সম্পাদক ফিলিপ ব্রডউইথ মন্তব্য করেন, ‘ওষুধ, এমনকি স্বাদ ও সুগন্ধির মতো জিনিস তৈরির ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
নোবেল কমিটির মতে, ফ্রান্সের অঁরি কাগান এবং জাপানের কেনসো সোয়াই কীভাবে একটি ‘রাসায়নিক রহস্যের’ সমাধান করেছিলেন, সেই পথের গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো হলো:
লুই পাস্তুর
১৮৪৮ সালে ফরাসি রসায়নবিদ লুই পাস্তুর টারটারিক অ্যাসিডের ওপর পোলারাইজড আলো ফেলেন। তিনি লক্ষ্য করেন, কিছু অণু আলোকে বাম দিকে বাঁকিয়ে দেয়, অন্যগুলো ডান দিকে।
এই দুই ধরনের বিপরীতমুখী বৈশিষ্ট্যকে ‘কাইরালিটি’ বলা হয় এবং একে অপরের দর্পণ-প্রতিচ্ছবি এই দুটি বিপরীত রূপকে ‘এনান্টিওমার’ বলা হয়।
পরবর্তী গবেষণায় দেখা যায়, জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে অ্যামিনো অ্যাসিড ও শর্করা এই দুই দর্পণ-প্রতিচ্ছবির মাত্র একটিমাত্র রূপে বিদ্যমান থাকে। তবে পরীক্ষাগারে তৈরি করলে উভয় রূপই পাওয়া যায়।
ব্রডউইথ বলেন, ‘অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, পরস্পরের দর্পণ-প্রতিচ্ছবি হওয়া অণুগুলো জৈবিক ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে।’
নোবেল কমিটি উল্লেখ করেছে, অনেক ওষুধের অণুর ক্ষেত্রে ‘একটি চিকিৎসাগত প্রভাব সৃষ্টি করে, অন্যটি অপ্রয়োজনীয় এবং কখনো কখনো ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।’
‘অপ্রতিসম’ বিক্রিয়া
পাস্তুরের আবিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে জার্মান রসায়নবিদ ভিলি মার্কভাল্ড ১৯০৪ সালে প্রথম ‘‘অপ্রতিসম’ রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটান।
তিনি একটি একমুখী অণুকে অনুঘটক হিসেবে ব্যবহার করে দেখতে পান, এর ফলে অন্যটির তুলনায় একটি এনান্টিওমার সামান্য বেশি উৎপন্ন হয়।
এই প্রভাবকে যদি বাড়ানো সম্ভব হয়, তাহলে কৃত্রিম রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে দর্পণ-প্রতিচ্ছবির মাত্র একটি রূপই উৎপন্ন করা সম্ভব হতে পারে—যেভাবে জীবন্ত প্রাণীর মধ্যে তা ঘটে।
গাণিতিক ভিত্তি
এরপর ১৯৫৩ সালে ব্রিটিশ পদার্থবিদ চার্লস ফ্র্যাঙ্ক সমমুখী কাইরালিটির একটি গাণিতিক ব্যাখ্যা দেন।
তার মডেল অনুযায়ী, একটি ‘দিকের’ সামান্য প্রাথমিক ভারসাম্যহীনতা নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সেই রূপটির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
এখন চ্যালেঞ্জ ছিল এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটানো, যা তার প্রস্তাবিত সব শর্ত পূরণ করবে।
কাগানের আবির্ভাব
১৯৮০-এর দশকে কাগাঁ একটি ‘কাইরাল’ অনুঘটকের গঠন পরিবর্তনের মাধ্যমে অণুগুলোর একটির উৎপাদন কীভাবে ব্যাপকভাবে বাড়ানো যায়, তা আবিষ্কার করেন।
তার উদ্ভাবিত ‘নন-লিনিয়ার’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আরও বিশুদ্ধ রাসায়নিক পদার্থ উৎপাদন সম্ভব হয়।
২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী উইলিয়াম নোলস ও ব্যারি শার্পলেস এবং জাপানের রিয়োজি নোরি ‘অ্যাসিমেট্রিক ক্যাটালাইসিস’ নিয়ে কাজের জন্য রসায়নে নোবেল পুরস্কার পান।
তবে ওই পুরস্কারে কাগাঁকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
সোয়াই : ‘স্ব-অনুঘটন’
কাগাঁর গবেষণায় অনুপ্রাণিত হয়ে কেনসো সোয়াই ১৯৯৫ সালে এই প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করেন।
তিনি এমন একটি অণু শনাক্ত করেন, যা অনুঘটককে নিজেই পুনরুৎপাদনে সহায়তা করতে পারে এবং ‘অটোক্যাটালাইসিস’ বা স্ব-অনুঘটন নামের একটি প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত অণুটির আরও বেশি উৎপাদন ঘটাতে পারে।
২০০৩ সালে সোয়াই এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া উদ্ভাবন করেন, যাতে উৎপন্ন রাসায়নিক পদার্থের ৯৯.৯৯ শতাংশই ছিল একটি মাত্র এনান্টিওমার।
নোবেল কমিটি বলেছে, ‘জীবন নিজেকে বাদ দিলে এর আগে কেউ কখনো এমন কৃতিত্ব অর্জন করেনি।’
‘সোয়াই বিক্রিয়া এখন পর্যন্ত পরিচালিত সবচেয়ে দর্শনীয় রাসায়নিক পরীক্ষাগুলোর একটি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট বি-টু বা ক্রিটিক্যালিটিতে যাওয়ার অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বাডরা) এই অনুমোদন প্রদান করবে।
এই পর্যায়ে প্রথমবারের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন ঘটানো হবে। এর ফলে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদ উপায়ে শক্তি বা বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পূর্বে এই ইউনিটের সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনজীবনে ভোগান্তি লাঘবে সকলের দৃষ্টি এখন এই নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দিকে। সবার মনে একটাই প্রশ্ন—কবে নাগাদ আসবে এই বিদ্যুৎ?
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অনুযায়ী, রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মিত এই প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ‘স্টেজ বি-ওয়ান’ মোটামুটি সফলভাবে শেষ হয়েছে। সর্বশেষ স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন ভালভ পরীক্ষার জটিলতাও কেটে গেছে।
পরবর্তী ধাপ হচ্ছে বি-টু। এই ধাপে পারমাণবিক চুল্লিকে প্রাথমিক অপারেশনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়। এরপর ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ চেইন রিঅ্যাকশন বা পরমাণুর বিভাজন তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চুল্লিতে ধীরে ধীরে স্থায়ী ও নিরাপদভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।
এই ধাপে সফলভাবে এগিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াটে পৌঁছালে বাণিজ্যিকভাবে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন বলেন, ‘আমরা বাডরাকে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছি। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাব। আগের সব কাজ এখন সম্পূর্ণ। বাডরার পারমিশন পেলেই ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তী পর্যায়ে (বি-টু) প্রবেশ করব।’
এদিকে, রূপপুরের সব নথিপত্র পর্যালোচনা করে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, রূপপুর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আটটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের কাজও ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন বর্তমানে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, কারণ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ওডেসা সমুদ্রবন্দরের মূল কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। বন্দরের অচল অবস্থার কারণে দেশটি ইতোমধ্যেই ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
রুশ সংবাদ সংস্থা তাস (TASS)-এর সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে বাণিজ্যিক পণ্যবাহী জাহাজগুলো দীর্ঘদিন ধরে ওডেসা, চর্নোমোরস্ক এবং ইউঝনি বন্দর এড়িয়ে চলছে। বর্তমানে এসব বন্দরে কেবল ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর সাথে যুক্ত বা অনুমোদিত জাহাজগুলোকে ভিড়তে দেখা যাচ্ছে। ফলে সার্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
বিকল্প রুট হিসেবে ইউক্রেন বর্তমানে দানিউব নদীর ওপর অবস্থিত ইজমাইল বন্দর এবং রোমানিয়ার কনস্টান্টাইন বন্দর ব্যবহার করে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করছে। তবে বিকল্প এই দুই বন্দর মিলে ইউক্রেনের পূর্বের মোট রপ্তানি সক্ষমতার সর্বোচ্চ এক-তৃতীয়াংশ (এক-তৃতীয়াংশ) সামাল দিতে পারছে।
এই পরিবহণ সংকটের সরাসরি প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ইউক্রেন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪৪ শতাংশ কৃষি পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ ইউক্রেন থেকে মেটালার্জিক্যাল পণ্যের রপ্তানি একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, কৃষি ও ধাতু—এই দুই খাত মিলিয়ে ইউক্রেনের মোট বার্ষিক রপ্তানির প্রায় ৬৫ শতাংশ সরবরাহ হতো, যা থেকে বছরে প্রায় ২৬ বিলিয়ন (২,৬০০ কোটি) ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় হতো। গত ২২ জুলাই থেকে ওডেসা বন্দরের এই স্থবিরতা অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: তাস।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে পুলিশ ফখরুল হাসান ফরহাদ (৪৪) নামের এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টায় ৫ তলা একটি বাসার ছাদের টিনশেড ঘর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার পর নিহতের বোন ও ভগ্নিপতিকে আটক করেছে শাহজাহানপুর থানার পুলিশ। লাশ উদ্ধারের সময় দেখা যায়, তার গলায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
শাহজাহানপুর থানার উপপরিদর্শক এসআই মেহেদী হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ফখরুল হাসান ফরহাদ উত্তর শাহজাহানপুর এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদ ও মৃত ফাতেমা বেগমের ছেলে। তিনি বেকার ছিলেন, তবে তার স্ত্রী সাদিয়া আক্তার সন্ধ্যা একটি পাঞ্জাবি কারখানায় কাজ করেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং ফিরে এসে তার স্বামীর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।
নিহতের আত্মীয় আরমিনা অভিযোগ করেন, ‘আমার খালু ফখরুল হাসানকে তার বোন নিপা ও বোনজামাই সুজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন। খালু যে বাসায় থাকেন, সেটি তার নানাবাড়ি থেকে পাওয়া সম্পত্তি। তাদের কোনো সন্তান নেই। খালু মারা গেলে সম্পত্তি তারা পেয়ে যাবে। এ জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
আরমিনা আরও জানান, এর আগে এই সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়েছিল।
এই ঘটনায় নিহতের বোন ও বোন জামাইকে আটক করেছে শাহজাহানপুর থানার পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানী মোহাম্মদপুরে ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নির্ধারিত সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ১২ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য নতুন দিন ধার্য করেছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চ প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই তারিখ নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউশনের পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, তাসমিরুল ইসলাম, মার্জিনা রায়হানসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসিকিউশন জানায়, আজ রাষ্ট্রপক্ষে দশম সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার কথা ছিল। নির্ধারিত তারিখ থাকায় সাক্ষীও ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তবে অন্য একটি মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণের কারণে সময় চাওয়া হয়। পরে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১২ অক্টোবর নতুন তারিখ ঠিক করে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর নানক ও তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে নবম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ মাহামুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী। তার ভাই সৈকত ২০২৪ সালের ৭ জুলাই মোহাম্মদপুর নূরজাহান রোডে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।
মামলায় চার আসামি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, আনসার সদস্য ওমর ফারুক এবং যুবলীগকর্মী ফজলে রাব্বি।
নানক ও তাপসসহ পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, এডিসি রওশুনুল হক, এমএ সাত্তার, তোফায়েল, তারেকুজ্জামান, আরিফুর রহমান তুহিন, আহাদ হোসাইন, মো. ইউনূস, মোল্লা রুবেল, আজিজুল হক, রিয়াজ মাহমুদ, হৃদয়, মাইনুল ইসলাম, শেখ বজলুর রহমান, জহির উদ্দিন, আয়মান, সেন্টু মিয়া এবং ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।
এর আগে, ১০ মে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে ২৮ জনের বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।
প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এতে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন এবং আহত হন আরো অনেকে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ