১০:০২ পি.এম
লিবিয়ার অন্ধকার টর্চার সেলে আটকা পড়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৬ যুবক, যাঁরা অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার প্রলোভন তুলে মানবপাচারকারী চক্রের হাতে জিম্মি রয়েছেন। তাঁদের মুক্ত করার জন্য পরিবারের কাছে দাবি করা হচ্ছে দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ। মুক্তিপণ না দিলে চলেছে নির্মম নির্যাতন, এবং সেই নির্যাতনের ভিডিও স্বজনদের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
যুবকরা হলেন- মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২০), মানিকুল ইসলাম (২০), মো. সোহেল (২৭), তাজ মোহাম্মদ (২৫), ফয়সাল (২০) এবং লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসান (২১)।
আরও পড়ুন: বরিশালে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সশস্ত্র মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণে মামলা গ্রেপ্তার নেই
মানিকুল ইসলামের মা জানান, আমি সম্পত্তি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম, যাতে সে পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু দালাল মানিক ইতালির প্রতারণার মাধ্যমে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেখানে প্রতিদিন আমার ছেলের ওপর নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে। খাবারও ঠিকভাবে দেওয়া হচ্ছে না। মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থার ভিডিও আমাদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এরপর আমার ছেলেকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে ২৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। আমি সরকারের কাছে বিনীত দাবি জানাচ্ছি, আমার ছেলেকে নিরাপদে ফেরত দিন।
মানিকুলের বাবা মাহবুবুর রহমান এবং মেহেদী হাসানের বাবা শাহ আলম জানান, প্রায় ৮-৯ মাস আগে দিশাবন্দ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে তার ভাই সামছুল আলমকে ২০ লাখ ও ১৮ লাখ টাকা করে মোট ৩৮ লাখ টাকা দেওয়া হয় ইতালি পাঠানোর জন্য। কিন্তু ইতালি নেওয়ার বদলে তাঁদের লিবিয়ায় আটকে রেখে চরম নির্যাতন করা হচ্ছে। গত ১৫-২০ দিন ধরে এদের একটি গোপন আস্তানায় আটকে রেখে প্রতি যুবকের জন্য ২৫ লাখ টাকা করে মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে পাচারকারীরা। নির্যাতনের লোমহর্ষক দৃশ্য ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপে স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে টাকা আদায়ের জন্য মানসিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে।
ফয়সালের বাবা ছিদ্দিকুর রহমান জানিয়েছেন, আমার সন্তান জীবিত না মৃত - এ বিষয়ে দালাল মানিক আমাকে নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। তবে তাঁর সঙ্গে থাকা আমাদের এলাকায় ছেলেরা জানিয়েছে, আমার সন্তানকে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এখন তারা জানাচ্ছে, লাশ দেশে আনতেও দালাল চক্রকে ১৭ লাখ টাকা দিতে হবে। আমি, একজন অসহায় বাবা হিসেবে, আমার সন্তানের মরদেহটি অন্তত দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখতে চাই।
যুবকদের জিম্মি ও নির্যাতনের লোমহর্ষক ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর গত ১০-১২ দিন ধরে অভিযুক্ত দালাল সামছুল আলমসহ তার পরিবারের সব সদস্য ঘরবাড়ি ছেড়ে পলাতক। লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল দালাল মানিকও এখন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ফোন ধরছেন না। নিঃস্ব পরিবারগুলো ইতোমধ্যে প্রিয়জনদের অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন দিয়েছেন এবং সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: বান্দরবানে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বিষয়টি সম্পর্কে জানান, অবৈধ পথে কে, কীভাবে কোন দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়েছেন সেই বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্য বা লিখিত অভিযোগ পায়নি। তবে অভিযোগ পেলে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন