সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৩৯ পি.এম
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী এবং পুরস্কৃত চলচ্চিত্র প্রযোজক জেমিমা গোল্ডস্মিথ আবারও বিয়ে করেছেন। ৫২ বছর বয়সী জেমিমা, ৬২ বছর বয়সী আইরিশ-অস্ট্রেলীয় কোটিপতি ক্যামেরন ও’রেইলিকে বিয়ে করেন।
সপ্তাহান্তে তাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উপস্থিত ছিলেন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন। জেমিমার পরিবারের সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিয়ের আনন্দের মুহূর্তগুলো শেয়ার করেছেন।
জেমিমার ভাই বেন গোল্ডস্মিথ বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার স্ত্রী জেমিমা জোনস ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “জেমিমা ও ক্যামেরনের বিয়ে উদ্যাপন করছি। কী আনন্দের দিন!”
ছবিতে বেন এবং জেমিমা জোনসকে একটি বড় পাথরের ভবনের পাশে সাজানো বাগানে দেখা যায়। তবে নবদম্পতিকে ছবিতে দেখা যায়নি।
কে এই ক্যামেরন ও’রেইলি?
ক্যামেরন ও’রেইলি প্রয়াত অ্যান্থনি ও’রেইলির পুত্র। তার বাবা ছিলেন একজন খ্যাতনামা মিডিয়া ব্যবসায়ী এবং আয়ারল্যান্ডের সাবেক আন্তর্জাতিক রাগবি খেলোয়াড়।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ক্যামেরন প্রথমে বাবার মিডিয়া ব্যবসায় কাজ শুরু করেন। পরে তিনি প্রাইভেট ইকুইটি ব্যবসায় যুক্ত হন।
২০০৩ সালে তিনি বেয়ার্ড ক্যাপিটাল নামে একটি প্রাইভেট ইকুইটি ফান্ড প্রতিষ্ঠা করেন এবং সুইজারল্যান্ডের মিটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডিস+গিয়ার কিনে নেন। পরবর্তীতে তিনি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী হন। ২০১১ সালে তোশিবা ২.৩ বিলিয়ন ডলারে প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ করে।
জেমিমা এবং ক্যামেরনের পরিচয় ঘটে চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র নির্মাণের কাজের সূত্রে। প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর আগে তারা বেশ কিছুদিন বন্ধু ছিলেন বলে জানা গেছে।
একজন ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, তারা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্পর্কে ছিলেন। ক্যামেরন ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখতে পছন্দ করেন বলেও ওই সূত্রটি জানায়।
চলতি বছরের মে মাসে তাদের বাগদানের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে। এর আগে তাদের সম্পর্ক বেশিরভাগ সময় আড়ালে ছিল।
১৯৯৫ সালে ইমরান খান এবং জেমিমা বিয়ে করেন। নয় বছরের সংসারের পর ২০০৪ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। এরপর জেমিমা দুই ছেলেকে নিয়ে যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন।
ক্যামেরনের চার সন্তান রয়েছে। অন্যদিকে, ইমরান খানের সঙ্গে জেমিমার দুই ছেলে—সুলাইমান ও কাসিম।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমাগত বিস্তৃত হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলছে। বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামা করছে, যা এই বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনকে সচল রাখতে সহায়তা করছে।
গত মাসে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের জন্য পর্যায়ক্রমে ডলারের দাম বাড়ানো এবং টাকার মান কমানো হয়েছিল, যদিও বাজারে চাহিদামতো বৈদেশিক মুদ্রার জোগান ছিল। हाल ही में ডলারের দাম কিছুটা কমে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, জুলাই মাসের শুরুতে আন্ত ব্যাংকে ডলারের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দাম ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায় স্থিতিশীল ছিল। এরপর সেটি বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় পৌঁছেছিল। তবে আজকের বাজারে এটি ১২৩ টাকা ১৬ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী আজকের (১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সর্বনিম্ন মুদ্রা বিনিময় হারের একটি সার্বিক চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো—
মুদ্রার নাম বাংলাদেশি টাকা
ইউএস ডলার : ১২৩ টাকা ১৬ পয়সা
ইউরো : ১৪২ টাকা ৮৪ পয়সা
পাউন্ড : ১৬৬ টাকা ৪৮ পয়সা
কানাডিয়ান ডলার : ৮৮ টাকা ৭৭ পয়সা
অস্ট্রেলিয়ান ডলার : ৮৮ টাকা ২৮ পয়সা
চায়নিজ ইয়েন : ১৮ টাকা ৩৫ পয়সা
সিঙ্গাপুরি ডলার : ৯৭ টাকা ১৯ পয়সা
ভারতীয় রুপি : ১ টাকা ২৮ পয়সা
মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত : ৩০ টাকা ৩৪ পয়সা
সৌদি রিয়াল : ৩২ টাকা ৯১ পয়সা
কাতারি রিয়াল : ৩৩ টাকা ৮৫ পয়সা
কুয়েতি দিনার : ৩৯৯ টাকা ৯২ পয়সা
আরব আমিরাতের দিরহাম : ৩৩ টাকা ৬২ পয়সা
*মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং প্রবাস আয়ের (রেমিট্যান্স) প্রবাহ ইতিবাচক থাকায় খোলাবাজার ও অফিশিয়াল রেটের মধ্যকার ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে।
আইএমএফের শর্ত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সম্প্রতি ডলারের দাম কিছুটা বেড়েছিল, তবে বর্তমানে সেটি কিছুটা কমে এসেছে। আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তিদায়ক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পাওলি দাম এবার একেবারেই ভিন্ন লুকে হাজির হয়েছেন। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের নতুন সিরিজ ‘দ্য রেভল্যুশনারিজ’-এ তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
নিখিল আদভানি পরিচালিত এই সিরিজটি শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছে।
ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবীদের সশস্ত্র প্রতিরোধ, তাঁদের আদর্শ, সাহস ও আত্মত্যাগের গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে এই পিরিয়ড ড্রামা। সিরিজটির মূল কাহিনি চার বিপ্লবীকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে। এতে পাওলি দাম, টোটা রায়চৌধুরী, কাশিশ সালুজাসহ আরও অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। জেনারেল ডায়ারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন জেসন শাহ।
সিরিজটির মুক্তির দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুটিংয়ের বেশ কিছু মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেছেন পাওলি দাম। ছবিগুলোতে ‘দ্য রেভল্যুশনারিজ’-এর সেটের নেপথ্যের নানা দৃশ্য উঠে এসেছে। অভিনেত্রীর নতুন লুক ও চরিত্রও দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য রেভল্যুশনারিজ’-এর অন্যতম আকর্ষণ এর ব্যতিক্রমী কাস্টিং। রাসবিহারী বসুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ভুবন বাম। শচীন্দ্রনাথ সান্যালের ভূমিকায় রয়েছেন রোহিত সরফ। প্রতিভা লাহিড়ীর চরিত্রে দেখা গেছে প্রতিভা রান্তাকে। কিংবদন্তি বিপ্লবী বাঘা যতীনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন গুরফতেহ পীরজাদা।
ঐতিহাসিক সময়ের আবহে পাওলি দামের নতুন রূপ ইতোমধ্যেই দর্শকদের আগ্রহ তৈরি করেছে। এবার পর্দায় তাঁর অভিনয় ও চরিত্রায়ণ কতটা চমক দেখাতে পারে, সেটিই দেখার অপেক্ষা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এশিয়া কাপের ট্রফি গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট দল, এক বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রধান ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
গত বছর পাকিস্তানকে হারিয়ে পুরুষদের এশিয়া কাপের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হলেও, ভারত এখনও ট্রফিটি গ্রহণ করতে পারেনি। ফাইনালের পর নাকভি ট্রফি নিয়ে মাঠ ত্যাগ করেন এবং পরে সেটি এসিসির দপ্তরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি, শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে ভারত নারী এশিয়া কাপের শিরোপা অর্জন করেছে। তবে, পুরুষ দলের মতো এবারও নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে আপত্তি জানায় ভারতীয় নারী দল। ফলে, তারা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেনি।
‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিসিসিআই আগে থেকেই এসিসির কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছিল যে, ভারত চ্যাম্পিয়ন হলে নাকভির উপস্থিতিতে ট্রফি গ্রহণ করবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুরস্কার মঞ্চে ট্রফি আনা হয়নি।
বিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি দেবজিৎ সাইকিয়া জানিয়েছেন, ভারত আশা করেছিল যে, এসিসির অন্য কোনো কর্মকর্তার মাধ্যমে তাদের ট্রফি হস্তান্তর করা হবে। এ ক্ষেত্রে, এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদ আল জারুনির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিল ভারতীয় নারী দল।
তবে সাইকিয়ার দাবি, নাকভি সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এরপর আনুষ্ঠানিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বয়কট করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে সাইকিয়ার বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রায় দেড় বছর আগে পুরুষদের এশিয়া কাপের সময় নেওয়া অবস্থানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই ভারত এবারও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি। দেশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই বলেও তিনি জানান।
সাইকিয়া বলেন, "আমরা এসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যানকে ট্রফি হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তা মেনে নেওয়া হয়নি। ফলে, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়া ছাড়া আমাদের সামনে অন্য কোনো উপায় ছিল না।"
তবে, সাইকিয়া আশা প্রকাশ করেছেন যে, ট্রফি শেষ পর্যন্ত বিসিসিআইয়ের হাতে আসবে। তিনি বলেন, "কোনো এক পর্যায়ে পুরুষ ও নারী দুই দলের এশিয়া কাপের ট্রফিই বিসিসিআইয়ের হাতে ফিরে আসবে।"
এদিকে, নারী এশিয়া কাপে দারুণ সাফল্যের জন্য ভারতীয় দলকে অভিনন্দন জানিয়েছে বিসিসিআই। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "দেশের মানুষ ভারতীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানিতে চাকরি খোঁজার জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদানকারী ‘অপরচুনিটি কার্ড’-এর আওতায় আট দেশের নাগরিকদের জন্য রয়েছে কিছু বিশেষ সুবিধা। এই সুবিধার আওতায় থাকা দেশের নাগরিকদের জন্য জার্মানিতে প্রবেশের পূর্বে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আলাদা ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশটিতে পৌঁছানোর পর স্থানীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে বসবাসের অনুমতি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে এই সুবিধাটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশসহ তালিকার বাইরে থাকা অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জার্মানিতে যাওয়ার আগে অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, জাপান, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও এই সুবিধার আওতায় রয়েছেন।
ভিসামুক্ত প্রবেশের অর্থ এই নয় যে, জার্মানিতে পৌঁছানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ড পাওয়া যাবে। আবেদনকারীকে জার্মান সরকারের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
দেশটিতে পৌঁছানোর পর প্রথমে বাসস্থানের ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। জার্মান কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী, বাসস্থানে ওঠার দুই সপ্তাহের মধ্যে ঠিকানা নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এরপর জার্মানিতে প্রবেশের ৯০ দিনের মধ্যে স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে।
জার্মান কর্তৃপক্ষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বড় শহরগুলোর অভিবাসন দপ্তরে সাক্ষাতের সময় পেতে দেরি হতে পারে।
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়মটি ভিন্ন। তাদের জার্মানিতে যাওয়ার আগে অপরচুনিটি কার্ডের ভিসার আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ ভিসা ছাড়া জার্মানিতে গিয়ে পরে দেশটিতে বসে অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদন করার সুযোগ বাংলাদেশিদের নেই।
সুতরাং, জার্মানিতে গিয়ে চাকরি খোঁজার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের ভ্রমণের আগে ভিসাসহ প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
অপরচুনিটি কার্ডের মূল উদ্দেশ্য হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দক্ষ ও যোগ্য কর্মীদের জার্মানিতে এসে চাকরি খোঁজার সুযোগ দেওয়া। আগেই চাকরির চুক্তি না থাকলেও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে যোগ্য ব্যক্তিরা জার্মানিতে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে পারেন।
সাধারণভাবে অপরচুনিটি কার্ড সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য দেওয়া হয়। যোগ্যতা অর্জনের জন্য দুটি প্রধান পথ রয়েছে। একটি হলো জার্মানিতে স্বীকৃত বিদেশি পেশাগত বা একাডেমিক যোগ্যতা থাকা। অন্যটি পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা, যেখানে আবেদনকারীকে অন্তত ছয় পয়েন্ট অর্জন করতে হয়।
পয়েন্ট নির্ধারণের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতা, জার্মান বা অন্য ভাষায় দক্ষতা, বয়স এবং কাজের অভিজ্ঞতা সহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়।
অপরচুনিটি কার্ডের জন্য শুধু শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা থাকা যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে জার্মানিতে অবস্থানের সময় নিজের খরচ চালানোর সক্ষমতার প্রমাণও দিতে হবে।
২০২৬ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মাসে ন্যূনতম ১ হাজার ৯১ ইউরোর সমপরিমাণ অর্থের ব্যবস্থা থাকার প্রমাণ প্রয়োজন হতে পারে।
জার্মানিতে পৌঁছানোর পর অপরচুনিটি কার্ডধারীরা নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে কাজ করার সুযোগ পাবেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য চাকরির উপযুক্ততা যাচাইয়ের জন্য পরীক্ষামূলক কাজের সুযোগও রয়েছে।
আট দেশের নাগরিকদের জন্য প্রক্রিয়াটি তুলনামূলক সহজ হলেও ভিসামুক্ত প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা রয়েছে। স্থানীয় অভিবাসন দপ্তরের নিয়ম ও আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়ায় পার্থক্য থাকতে পারে।
জার্মান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুক্তরাজ্যস্থ দূতাবাসের নির্দেশনায় বার্লিনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার কথা বলা হয়েছে। নির্দিষ্ট ধরনের ভিসা ছাড়া জার্মানিতে গিয়ে স্থানীয়ভাবে অপরচুনিটি কার্ডের আবেদন করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন আবেদনকারীরা।
এ কারণে ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বিদেশি নাগরিকবিষয়ক দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে আবেদন গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জার্মানিতে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের আকৃষ্ট করার অন্যতম উদ্যোগ হিসেবে অপরচুনিটি কার্ড চালু করেছে দেশটি। এর মাধ্যমে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা জার্মানিতে গিয়ে নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজতে পারেন। তবে ভিসামুক্ত প্রবেশের এই সুবিধা সীমিত কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য; বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে জার্মানিতে যাওয়ার আগে অপরচুনিটি কার্ডের ভিসা নেওয়ার নিয়ম বহাল রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ