ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু


বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ যুবকের মৃত্যু

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় পৃথক দুটি ঘটনায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরের সময় উপজেলার রহমতপুর ও দেহেরগতি ইউনিয়নে এ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। নিহতদের এক জন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি এবং অপরজন নির্মাণ শ্রমিক।

জানা গেছে, উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের লোহালিয়া পাঁচ রাস্তা এলাকার যে বাড়িতে কাশেম খান থাকেন সেখানে বৈদ্যুতিক কাজ করার সময় মো. শুভ (২০) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তিনি উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের অধিবাসী মোহাম্মদ জসিমের ছেলে।

স্বজনরা জানিয়েছেন, দুপুরের কিছুক্ষণ আগে শুভ একটি বাড়িতে বিদ্যুতের লাইন মেরামত ও সংযোগ দেওয়ার কাজ করছিলেন। কাজের এক পর্যায়ে তিনি অসাবধানতাবশত বিদ্যুতায়িত হয়ে গুরুত্বর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন: চাঁদা না পেয়ে শ্রমিকদের ওপর হামলা, গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি, থানায় অভিযোগ

অন্যদিকে, দেহেরগতি ইউনিয়নের বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সেতু (দোয়ারিকা সেতু) সংলগ্ন রাকুদিয়া এলাকায় সুগন্ধা নদীর ভাঙনরোধ প্রকল্পে কাজ করার সময় নির্মাণ শ্রমিক আল-আমিন (২৮) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। তিনি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামের আব্দুল কাদের গাজীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী অপর নির্মাণ শ্রমিক আল মামুন জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের ব্লক নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন আল-আমিন। দুপুর ১২টার দিকে ব্লক তৈরির কাজে ব্যবহৃত ভাইব্রেটর মেশিন চালানোর সময় বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে আল-আমিন গুরুত্বর আহত হন। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকেও বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, মৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নথিভুক্ত না থাকার কারণে এবং প্রয়োজনীয় আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ছাড়াই তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে স্বজনদের কাছে।

আরও পড়ুন: বেগম খালেদা জিয়ার নামে সিলেটের পুরানো কারাগারে জায়গায় পার্ক নির্মাণ হচ্ছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“কলাপাড়ায় মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজি, তিনজনকে কারাদণ্ড”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৯ পি.এম


“কলাপাড়ায় মহাসড়কে যানবাহন থামিয়ে চাঁদাবাজি, তিনজনকে কারাদণ্ড”

১৬ জুন, ২০২৬: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পণ্যবাহী যানবাহন থামিয়ে অবৈধ চাঁদা তোলার দায়ে তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ কুয়াকাটাগামী মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে এই তিন জনকে আটক করা হয়। কর্তৃপক্ষের কাছে হাজির করার পর, নির্বাহী ম্যজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেকের ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযুক্ত ইউনুচকে এক মাসের এবং অপর দুই সহযোগী কামাল ও মোঃ শাকিলকে এক সপ্তাহ করে বিনাশ্রমের কারাদণ্ড দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে চাঁদা আদায় করছিল এই চক্রটি। এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চাঁদাবাজ চক্রের তিনজনকে আটক করা হয় এবং রাতেই দণ্ডপ্রাপ্ত তিনজনকে কলাপাড়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাদকের টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে নির্যাতন, কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


মাদকের টাকা না পেয়ে বাবা-মাকে নির্যাতন, কারাদণ্ড

মাদকসেবী ছেলের দাবিকৃত নেশার টাকা দিতে দেরি হলে বাবা ও মাকে অমানুষিক নির্যাতন করার ঘটনায় বরিশালের গৌরনদী পৌর এলাকার হরিসেনা গ্রামে বিকাশ চন্দ্র বালা (২৬) নামের এক মাদকসেবী ছেলেকে কারাদন্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে।

দন্ডপ্রাপ্ত বিকাশ ওই গ্রামের বিপুল চন্দ্র বালার ছেলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গৌরনদী সার্কেলের উপ-পরিদর্শক ফাইজুল ইসলাম হৃদয় হাওলাদার বলেছেন, দীর্ঘদিন থেকে মাদকাসক্ত বিকাশ বালা মাদকের টাকা জোগাড় করতে না পারলেই তার বসতঘর ভাংচুরসহ মা ও বাবাকে মারধর করে আসছিলো। তাকে সুস্থ্য করার জন্য ছয় মাস একটি রিহ্যাব সেন্টারে রাখা হয়েছিলো। কিন্তু সেখান থেকে বের হয়ে তিনি (বিকাশ) এলাকার কিছু মাদকসেবীদের প্ররোচনায় পুনরায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। এর আগে বিকাশের মা ও বাবা তাদের জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে ছিলেন। কিন্তু সেখান থেকেও মাদকাসক্ত বন্ধুদের প্ররোচনায় বিকাশ দেশে ফিরে আসেন।

তিনি আরও জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে মাদক সেবনের তথ্য পেয়ে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর সহযোগিতায় হরিসেনা গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিকাশ বালাকে একশ’ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। পরে আটককৃত বিকাশকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং পাঁচ হাজার টাকার অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অলস বসে দেশের ১ কোটির বেশি কর্মহীন তরুণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ পি.এম


অলস বসে দেশের ১ কোটির বেশি কর্মহীন তরুণ

শহরের অলিতে-গলিতে অথবা গ্রামের চায়ের দোকানে এক কাপ চা হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো তরুণদের আড্ডা আমাদের পরিচিত দৃশ্য। চোখে স্বপ্ন আর হাতে সার্টিফিকেট নিয়ে পড়াশোনা শেষ করা এই তরুণদের অলস সময় কাটানো ভাবনা আজ আর কেবল ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং দেশের জন্য এটি একটি গভীর ও নীরব সংকট হিসেবে গড়ে উঠেছে।

যে তরুণদের হাতের ছোঁয়ায় দেশের অর্থনীতির চাকা আরও দ্রুত বা রকেট গতিতে ঘোরানোর কথা ছিল, আজ তাদের একটি বিশাল অংশ সমাজ ও কর্মক্ষেত্রের মূল স্রোত থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমাদের অজান্তেই হারিয়ে যাচ্ছে দেশের বিশাল ও সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ রিপোর্টে এই উদ্বেগের চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বিবিএস বলছে, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ বর্তমানে কোনো কিছুতে যুক্ত নেই। পরিসংখ্যানের ভাষায় তাদের ‘নিট’ (NEET—Not in Education, Employment, or Training) জেনারেশন বলা হচ্ছে। অর্থাৎ, এই তরুণরা বর্তমানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নেই, চাকরিতে নেই, এমনকি কোন ধরনের কাজের প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন না। ফলে তারা সম্পূর্ণ বেকার ও অলস সময় কাটাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, একটি উন্নয়নশীল দেশে এক কোটিরও বেশি তরুণশক্তি কিভাবে অবদানের সুযোগ না পেয়ে এভাবে হারিয়ে যেতে পারে? কেন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বা কর্মসংস্থানের বাজার তাদের এই গোলকধাঁধা থেকে বের করে আনতে পারছে না?

বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ৩৪.২৬ শতাংশ বর্তমানে এই কর্মহীনতার সমস্যায় আটকা পড়েছেন। সংখ্যায় যা ১ কোটি ৮ লাখ ১১ হাজার ৪০৪ জন।

এভাবে মোহাম্মদ ইউসুফ, যে ঢাকায় বসবাস করে এবং পড়াশোনা শেষে চাকরির জন্য বিভিন্ন স্থানে সিভি পাঠানোর পরেও কোনো ভালো খবর পাচ্ছে না, তাঁর মতো তরুণদের বাস্তবতা একটি কঠিন চিত্র তুলে ধরে। ইউসুফ বলেন, ‘লেখাপড়া শেষ করে বছর ধরে ঘুরছি। মামা-খালু বা রেফারেন্স না থাকলে কোথাও ইন্টারভিউয়ের ডাকই পাওয়া যায় না। এখন না পারি বাবার কাছে টাকা চাইতে, না পারি কিছু করতে। সারাদিন ফেসবুকে স্ক্রল করে আর রাস্তার মোড়ে আড্ডা দিয়েই দিন চলে যায়।’

এভাবে ইউসুফের মতো প্রায় সোয়া কোটি তরুণ এভাবে উৎপাদনহীন থাকা সত্ত্বেও যেকোনো দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তবে এই সংকটের দুঃখজনক একটি দিক হলো নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য। পুরুষ তরুণদের মধ্যে যেখানে নিষ্ক্রিয়তার হার ১৩.২৮ শতাংশ, সেখানে নারীদের ক্ষেত্রে তা চারগুণ—যা উদ্বেগজনকভাবে ৫২.৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ, দেশের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের অর্ধেকেরও বেশি হারে শিক্ষা, চাকরি কিংবা দক্ষতার ট্রেনিং ছাড়াই দিন পার করছেন।

কিন্তু কেন নারীরা এভাবে মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়ছে? নাটোর সদরের ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ কৃষক শাহ আলমের অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নের কিছু উত্তর দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘মেয়েটাকে অনেক কষ্ট করে এইচএসসি পাস করালাম। কিন্তু গ্রামে মেয়েদের জন্য কোনো কম্পিউটার, সেলাই বা কারিগরি কিছু শিখাবে, এমন ভালো সেন্টার বা উপায় নাই। বাইরে পাঠাতে পারার মতো নিরাপত্তাও পাই না। এখন ঘরে বসিয়ে রাখার ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

দেশের শীর্ষস্থানে থাকা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম নারী শিক্ষার এই পরিস্থিতির গভীর সামাজিক ও কাঠামোগত কারণে অপরিসীম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানাচ্ছেন, নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশ সোশ্যাল-বৈবাহিক কারণে চাকরির বাজারে আসতে পারে না। বাংলাদেশে এখনও পারিবারিক দায়িত্বগুলো নারীদের বহন করতে হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ‘চাকরির বাজারে নারীদের জন্য গ্লাস সিলিং তৈরি হয়ে গেছে। কিছু নির্দিষ্ট খাত ছাড়া নারীদের জন্য অন্যান্য পেশাগুলো উপযুক্ত মনে করা হয় না।' তিনি আরও জানান, নারীদের জন্য সমাজে সুসংগঠিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোগত বৈষম্যের কারণে শহরের তুলনায় গ্রামীণ তরুণদের মধ্যে কর্মহীনতার মানসিকতা বেশি। বিবিএস জানিয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় কার্যহীনতার হার ৩৬.৯৬ শতাংশ। সেখানে মানসম্মত শিক্ষার অভাব, যথেষ্ট কাজের সুযোগের অভাব এবং আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের দুর্বলতা প্রান্তিক তরুণদের অলস বসে থাকতে বাধ্য করছে।

অন্যদিকে শহরের তরুণদের জন্য কিছু সুযোগ থাকলেও সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে মানসম্মত কাজের অভাব ও দক্ষতার ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেব দাঁড়িয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ বছরের তরুণদের অনেকেই মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনার পর ঝরে পড়ছে। অন্যদিকে, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা উচ্চশিক্ষা শেষ করে অথবা মাঝপথে পড়াশোনা থামিয়ে উপযুক্ত চাকরি না পেয়ে দীর্ঘমেয়াদী বেকারত্বের শিকার হচ্ছেন।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম দেশের এই সামগ্রিক কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কর্মসংস্থানের বাজার একটি সুচালো পিরামিডের মতো দাঁড়িয়ে আছে—যার নিচের দিকে কিছু ছোট কাজ থাকলেও ওপরের দিকে মানসম্মত কাজের বড় অভাব রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিদেশের দিকে ঝুঁকছে তরুণরা। অনেকে জমি বিক্রি করে বৈধ-অবৈধভাবে বিদেশ চলে যাচ্ছে। যারা চলে যাচ্ছে, তারা অবশেষে হতাশায় উন্নত জীবনের আশায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

এই সংকট মোকাবেলা বলতে আসাদ সিদ্দিকী জানান, ‘১ কোটি ৮ লাখ তরুণের কর্মহীন অলস বসে থাকা কেবল সংখ্যার খেলা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন অর্থনৈতিক ক্ষতি। এই বিশাল ‘নিট জেনারেশন’কে যদি দ্রুত মূলধারায় না আনা যায়, তবে সমাজে হতাশা ও অপরাধ প্রবণতা দুটোই বিপজ্জনকভাবে বাড়বে।’

আমরা প্রায়ই সভা-সমাবেশে দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে ‘জনশক্তিতে রূপান্তর’ করার স্লোগান শুনি। কিন্তু বাস্তবতার সাথে এর বোঝাপড়া কতটুকু? ড. মোয়াজ্জেম বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কার্যকর কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি মনে করেন, ‘প্রযুক্তির যুগে সত্যিকারভাবে সক্রিয় এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা কতটা কার্যকর, তবে সেই মূল সভা-সমিতি দিয়ে জনসংখ্যাকে জনশক্তি বলা কোনো মানে নেই।’

বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে যে সম্ভাবনা রয়েছে, তার বিপরীতে কঠোর পরিশ্রমের প্রাপ্তি মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ পরিস্থিতির জন্য নীতিনির্ধারণী দুর্বলতা দায়ী। যদি ১ কোটি ৮ লাখ তরুণকে কর্মমুখী দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা যায়, তবে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হবে।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কার্যকর উত্তরণের কিছু উপায় দেখিয়েছেন। প্রথমত, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে; সরকার যত দ্রুত বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে, তত বেশি নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দ্বিতীয়ত, এসএমই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, কার্যকর কারিগরি শিক্ষা দিতে হবে যা বর্তমান বৈশ্বিক চাহিদার সাথে মিলবে। সবশেষে, অর্থের পরিবর্তে শিশু বয়স থেকেই সামাজিক বৈষম্যের মানসিকতা দূর করা দরকার এবং নারীদের জন্য নিরাপত্তা ও সমসাময়িক সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তরুণদের অলস সময় কাটানো সাধারণ ঘটনা নয়। যদি অলস হাতগুলিকে দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়, তবে দেশের অর্থনীতি থেকে স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আরইউজের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ পি.এম


সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আরইউজের

গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই রাষ্ট্রের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম। তাই গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্তর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, আরইউজের সাবেক সভাপতি সরদার আবদুর রহমান, ডা. নাজিব ওয়াদুদ এবং রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব অপু।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আরইউজের সহসভাপতি মঈন উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক, দৈনিক খোলা কাগজের স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ রানা রাব্বানী, দৈনিক আমার দেশের স্টাফ রিপোর্টার এম শামীম, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক সোহেল মাহবুব, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ জুলফিকার, কোষাধ্যক্ষ হাবিল উদ্দিন হাবিব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আশিকুর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল কার্যকর হওয়ার পর দেশের অধিকাংশ সংবাদপত্রের প্রকাশনার অনুমতি (ডিক্লারেশন) বাতিল করে মাত্র চারটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা চালু রাখা হয়েছিল। এর ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় এবং গণমাধ্যমের বহুমাত্রিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তারা এ ঘটনাকে দেশের সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
আলোচকরা আরও বলেন, পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন এবং মুক্ত মতপ্রকাশের পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সকলকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%