ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অলস বসে দেশের ১ কোটির বেশি কর্মহীন তরুণ


অলস বসে দেশের ১ কোটির বেশি কর্মহীন তরুণ

শহরের অলিতে-গলিতে অথবা গ্রামের চায়ের দোকানে এক কাপ চা হাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো তরুণদের আড্ডা আমাদের পরিচিত দৃশ্য। চোখে স্বপ্ন আর হাতে সার্টিফিকেট নিয়ে পড়াশোনা শেষ করা এই তরুণদের অলস সময় কাটানো ভাবনা আজ আর কেবল ব্যক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং দেশের জন্য এটি একটি গভীর ও নীরব সংকট হিসেবে গড়ে উঠেছে।

যে তরুণদের হাতের ছোঁয়ায় দেশের অর্থনীতির চাকা আরও দ্রুত বা রকেট গতিতে ঘোরানোর কথা ছিল, আজ তাদের একটি বিশাল অংশ সমাজ ও কর্মক্ষেত্রের মূল স্রোত থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমাদের অজান্তেই হারিয়ে যাচ্ছে দেশের বিশাল ও সম্ভাবনাময় তরুণ সমাজ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ রিপোর্টে এই উদ্বেগের চিত্র স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

বিবিএস বলছে, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ বর্তমানে কোনো কিছুতে যুক্ত নেই। পরিসংখ্যানের ভাষায় তাদের ‘নিট’ (NEET—Not in Education, Employment, or Training) জেনারেশন বলা হচ্ছে। অর্থাৎ, এই তরুণরা বর্তমানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নেই, চাকরিতে নেই, এমনকি কোন ধরনের কাজের প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন না। ফলে তারা সম্পূর্ণ বেকার ও অলস সময় কাটাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে, একটি উন্নয়নশীল দেশে এক কোটিরও বেশি তরুণশক্তি কিভাবে অবদানের সুযোগ না পেয়ে এভাবে হারিয়ে যেতে পারে? কেন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা বা কর্মসংস্থানের বাজার তাদের এই গোলকধাঁধা থেকে বের করে আনতে পারছে না?

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে ৩৪.২৬ শতাংশ বর্তমানে এই কর্মহীনতার সমস্যায় আটকা পড়েছেন। সংখ্যায় যা ১ কোটি ৮ লাখ ১১ হাজার ৪০৪ জন।

এভাবে মোহাম্মদ ইউসুফ, যে ঢাকায় বসবাস করে এবং পড়াশোনা শেষে চাকরির জন্য বিভিন্ন স্থানে সিভি পাঠানোর পরেও কোনো ভালো খবর পাচ্ছে না, তাঁর মতো তরুণদের বাস্তবতা একটি কঠিন চিত্র তুলে ধরে। ইউসুফ বলেন, ‘লেখাপড়া শেষ করে বছর ধরে ঘুরছি। মামা-খালু বা রেফারেন্স না থাকলে কোথাও ইন্টারভিউয়ের ডাকই পাওয়া যায় না। এখন না পারি বাবার কাছে টাকা চাইতে, না পারি কিছু করতে। সারাদিন ফেসবুকে স্ক্রল করে আর রাস্তার মোড়ে আড্ডা দিয়েই দিন চলে যায়।’

এভাবে ইউসুফের মতো প্রায় সোয়া কোটি তরুণ এভাবে উৎপাদনহীন থাকা সত্ত্বেও যেকোনো দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তবে এই সংকটের দুঃখজনক একটি দিক হলো নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য। পুরুষ তরুণদের মধ্যে যেখানে নিষ্ক্রিয়তার হার ১৩.২৮ শতাংশ, সেখানে নারীদের ক্ষেত্রে তা চারগুণ—যা উদ্বেগজনকভাবে ৫২.৭৬ শতাংশ। অর্থাৎ, দেশের ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের অর্ধেকেরও বেশি হারে শিক্ষা, চাকরি কিংবা দক্ষতার ট্রেনিং ছাড়াই দিন পার করছেন।

আরও পড়ুন: তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার

কিন্তু কেন নারীরা এভাবে মূল স্রোত থেকে ছিটকে পড়ছে? নাটোর সদরের ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ কৃষক শাহ আলমের অভিজ্ঞতা এই প্রশ্নের কিছু উত্তর দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘মেয়েটাকে অনেক কষ্ট করে এইচএসসি পাস করালাম। কিন্তু গ্রামে মেয়েদের জন্য কোনো কম্পিউটার, সেলাই বা কারিগরি কিছু শিখাবে, এমন ভালো সেন্টার বা উপায় নাই। বাইরে পাঠাতে পারার মতো নিরাপত্তাও পাই না। এখন ঘরে বসিয়ে রাখার ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

দেশের শীর্ষস্থানে থাকা গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম নারী শিক্ষার এই পরিস্থিতির গভীর সামাজিক ও কাঠামোগত কারণে অপরিসীম উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানাচ্ছেন, নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশ সোশ্যাল-বৈবাহিক কারণে চাকরির বাজারে আসতে পারে না। বাংলাদেশে এখনও পারিবারিক দায়িত্বগুলো নারীদের বহন করতে হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ‘চাকরির বাজারে নারীদের জন্য গ্লাস সিলিং তৈরি হয়ে গেছে। কিছু নির্দিষ্ট খাত ছাড়া নারীদের জন্য অন্যান্য পেশাগুলো উপযুক্ত মনে করা হয় না।' তিনি আরও জানান, নারীদের জন্য সমাজে সুসংগঠিত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোগত বৈষম্যের কারণে শহরের তুলনায় গ্রামীণ তরুণদের মধ্যে কর্মহীনতার মানসিকতা বেশি। বিবিএস জানিয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় কার্যহীনতার হার ৩৬.৯৬ শতাংশ। সেখানে মানসম্মত শিক্ষার অভাব, যথেষ্ট কাজের সুযোগের অভাব এবং আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের দুর্বলতা প্রান্তিক তরুণদের অলস বসে থাকতে বাধ্য করছে।

আরও পড়ুন: মানিকগঞ্জে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত, আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

অন্যদিকে শহরের তরুণদের জন্য কিছু সুযোগ থাকলেও সেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে মানসম্মত কাজের অভাব ও দক্ষতার ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেব দাঁড়িয়েছে। ১৫ থেকে ১৯ বছরের তরুণদের অনেকেই মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের পড়াশোনার পর ঝরে পড়ছে। অন্যদিকে, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা উচ্চশিক্ষা শেষ করে অথবা মাঝপথে পড়াশোনা থামিয়ে উপযুক্ত চাকরি না পেয়ে দীর্ঘমেয়াদী বেকারত্বের শিকার হচ্ছেন।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম দেশের এই সামগ্রিক কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের কর্মসংস্থানের বাজার একটি সুচালো পিরামিডের মতো দাঁড়িয়ে আছে—যার নিচের দিকে কিছু ছোট কাজ থাকলেও ওপরের দিকে মানসম্মত কাজের বড় অভাব রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিদেশের দিকে ঝুঁকছে তরুণরা। অনেকে জমি বিক্রি করে বৈধ-অবৈধভাবে বিদেশ চলে যাচ্ছে। যারা চলে যাচ্ছে, তারা অবশেষে হতাশায় উন্নত জীবনের আশায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।’

এই সংকট মোকাবেলা বলতে আসাদ সিদ্দিকী জানান, ‘১ কোটি ৮ লাখ তরুণের কর্মহীন অলস বসে থাকা কেবল সংখ্যার খেলা নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের প্রচ্ছন্ন অর্থনৈতিক ক্ষতি। এই বিশাল ‘নিট জেনারেশন’কে যদি দ্রুত মূলধারায় না আনা যায়, তবে সমাজে হতাশা ও অপরাধ প্রবণতা দুটোই বিপজ্জনকভাবে বাড়বে।’

আমরা প্রায়ই সভা-সমাবেশে দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে ‘জনশক্তিতে রূপান্তর’ করার স্লোগান শুনি। কিন্তু বাস্তবতার সাথে এর বোঝাপড়া কতটুকু? ড. মোয়াজ্জেম বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কার্যকর কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি মনে করেন, ‘প্রযুক্তির যুগে সত্যিকারভাবে সক্রিয় এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা কতটা কার্যকর, তবে সেই মূল সভা-সমিতি দিয়ে জনসংখ্যাকে জনশক্তি বলা কোনো মানে নেই।’

আরও পড়ুন: রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কায় তিনজন নিহত

বাংলাদেশের উন্নয়নশীল দেশে যে সম্ভাবনা রয়েছে, তার বিপরীতে কঠোর পরিশ্রমের প্রাপ্তি মোটেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ পরিস্থিতির জন্য নীতিনির্ধারণী দুর্বলতা দায়ী। যদি ১ কোটি ৮ লাখ তরুণকে কর্মমুখী দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করা যায়, তবে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল হবে।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কার্যকর উত্তরণের কিছু উপায় দেখিয়েছেন। প্রথমত, বেসরকারি খাতের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে; সরকার যত দ্রুত বিনিয়োগের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করবে, তত বেশি নতুন কাজের সুযোগ সৃষ্টি হবে। দ্বিতীয়ত, এসএমই ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, কার্যকর কারিগরি শিক্ষা দিতে হবে যা বর্তমান বৈশ্বিক চাহিদার সাথে মিলবে। সবশেষে, অর্থের পরিবর্তে শিশু বয়স থেকেই সামাজিক বৈষম্যের মানসিকতা দূর করা দরকার এবং নারীদের জন্য নিরাপত্তা ও সমসাময়িক সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তরুণদের অলস সময় কাটানো সাধারণ ঘটনা নয়। যদি অলস হাতগুলিকে দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তরিত করা সম্ভব হয়, তবে দেশের অর্থনীতি থেকে স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।

আরও পড়ুন: রংপুরে ডাম্পট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কায় ৩ জন নিহত, ১৮ আহত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আরইউজের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ পি.এম


সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আরইউজের

গণমাধ্যম সমাজ ও রাষ্ট্রের দর্পণ। একটি স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমই রাষ্ট্রের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম। তাই গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে নগরীর একটি রেস্টুরেন্টের কনফারেন্স রুমে রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের (আরইউজে) উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মুহা. আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্তর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গবেষক ও লেখক মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ, আরইউজের সাবেক সভাপতি সরদার আবদুর রহমান, ডা. নাজিব ওয়াদুদ এবং রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব অপু।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আরইউজের সহসভাপতি মঈন উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক ওমর ফারুক, দৈনিক খোলা কাগজের স্টাফ রিপোর্টার মাসুদ রানা রাব্বানী, দৈনিক আমার দেশের স্টাফ রিপোর্টার এম শামীম, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক সোহেল মাহবুব, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ জুলফিকার, কোষাধ্যক্ষ হাবিল উদ্দিন হাবিব, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আশিকুর রহমানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ জুন একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল কার্যকর হওয়ার পর দেশের অধিকাংশ সংবাদপত্রের প্রকাশনার অনুমতি (ডিক্লারেশন) বাতিল করে মাত্র চারটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত পত্রিকা চালু রাখা হয়েছিল। এর ফলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয় এবং গণমাধ্যমের বহুমাত্রিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। তারা এ ঘটনাকে দেশের সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
আলোচকরা আরও বলেন, পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন এবং মুক্ত মতপ্রকাশের পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সকলকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি, অতঃপর পদ স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ পি.এম


“চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির দুই নেতাকে গণপিটুনি, অতঃপর পদ স্থগিত

১৬ জুন, ২০২৬,অবৈধ আত্মঘাতি ড্রেজার (বালু উত্তোলন) ব্যবসায়ীর কাছ থেকে দাবিকৃত চাঁদার টাকা আনতে গিয়ে তারা গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বিএনপির দুই নেতা। এই ঘটনার পর তাদের দীর্ঘ সময় ধরে আটক করে রাখা হয়েছিলো। পরবর্তীতে লিখিত মুচলেকা দিয়ে জনতার রোষানল থেকে রেহাই পেয়েছেন ওই দুই বিএনপি নেতা।

কারণ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে অভিযুক্ত নেতাদের দলীয় পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন হোসেনের স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পদ স্থগিত হওয়া এবং গণপিটুনির শিকার ওই দুই নেতা হলেন- চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান, যিনি জাকির মোল্লা নামে পরিচিত, এবং একই ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।

একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ও বালু ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম বলেন, আত্মঘাতি ড্রেজার মেশিন দিয়ে তিনি বালু উত্তোলন করছিলেন। ওই সময় জাকির মোল্লা ও আব্দুল রাজ্জাক তার কাছে ১৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি করা চাঁদার টাকা নিতে তারা সোমবার (১৫ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় আসেন। পরে বিষয়টি জহিরুল স্থানীয়দের কাছে জানালে, উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দুই নেতাকে গণপিটুনি দিতে শুরু করেন এবং আটক করে রাখেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পরে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

জহিরুল ইসলাম আরো জানান, জাকির মোল্লা ও আব্দুল রাজ্জাকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি, খালের মাটি বিক্রি, সালিশ-বৈঠকের নামে অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে সাধারণ মানুষ তাদের দ্বারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলো।

বাবুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন বলেছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে ওই দুই নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, বিএনপিতে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো স্থান নেই। দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না।

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে অভিযুক্ত জাকির মোল্লা বলেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল বালু ব্যবসায় অংশীদার হওয়া। তাই তারা আমাদের ডেকে এনে চাঁদা দাবির মিথ্যে অভিযোগ lev ব্যবহার করে ফাঁসিয়ে দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার সাভার থানার ওসি হেলাল উদ্দিনকে বদলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৭ পি.এম


এবার সাভার থানার ওসি হেলাল উদ্দিনকে বদলি

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও তিন এসআইকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার পর,

থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিনকেও ঢাকা জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিনের সঙ্গে পৌরসভা এলাকার রাজাসন মহল্লার মাদক সম্রাট শামীম,

বেদে পল্লীর একাধিক মাদক ব্যবসায়ী ও দেওগা গ্রামের মাদক কারবারিদের সাথে সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সম্প্রতি ইয়াবা উদ্ধার ও বিক্রয়ের কেলেঙ্কারি ফাঁসসহ মাদককাণ্ডে জড়িত থাকার খবর,

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদন্তে উঠে আসায়,

জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই

পুলিশ পরিদর্শক হেলাল উদ্দিনকে বদলি করা হয়েছে। তবে, তার বিরুদ্ধে মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার

কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ না খেললেও পাকিস্তানের বলেই হবে প্রতিটি গোল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫৮ পি.এম


বিশ্বকাপ না খেললেও পাকিস্তানের বলেই হবে প্রতিটি গোল

ফিফা বিশ্বকাপে মাঠে মাঠে পাকিস্তানকে দেখা যাবে না। কিন্তু টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ, প্রতিটি গোল এবং শিরোপা নির্ধারণী মুহূর্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে পাকিস্তান তৈরি করা বল।

এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল 'ট্রিওন্ডা' তৈরি করেছে দেশটির সিয়ালকোটভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'ফরওয়ার্ড স্পোর্টস'।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা খাজা মাসুদ আখতার একসময় পাকিস্তান রেলওয়েতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৯১ সালে মাত্র ২০ জন কর্মী এবং একটি ছোট কক্ষ নিয়ে ফরওয়ার্ড স্পোর্টস শুরু করে ব্যবসা। আর ৩৫ বছর পর এখন প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় ২ কোটি ৫ লাখ ফুটবল উৎপাদন করে।

ফরওয়ার্ড স্পোর্টস টানা চতুর্থবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে।

এর আগে তারা ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপের 'ব্রাজুকা', ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের 'টেলস্টার ১৮' এবং ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের 'আল রিহলা' বলগুলোও তৈরি করেছিল।

দেশটি 'বিশ্বের ফুটবল কারখানা' হিসেবে পরিচিত এবং সিয়ালকোটে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ফুটবল তৈরি হয়। স্থানীয় ক্লাবের অনুশীলন বল থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ম্যাচ বল—সব ক্ষেত্রেই এই শহরের অবদান রয়েছে।

পাকিস্তান বছরে প্রায় ৪ কোটি ফুটবল রপ্তানি করে এবং প্রতিদিন সিয়ালকোটের কারখানাগুলো থেকে প্রায় ৩ লাখ ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করে খাজা মাসুদ আখতার পাকিস্তান রেলওয়েতে চাকরি শুরু করেন। পরে তার চাচার উৎসাহে ক্রীড়া সামগ্রী উৎপাদন শিল্পে যোগ দেন।

মুসলিম নেটওয়ার্ক টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, 'আমি কখনো ভাবিনি ফুটবল তৈরি করব। এ শিল্পে আমার কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না।

তবে প্রযুক্তিগত চিন্তাভাবনা ছিল এবং চাচার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে চ্যালেঞ্জটি গ্রহণ করি।'

প্রথমদিকে উৎপাদন ছিল মাসে মাত্র এক হাজার ফুটবল। প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকাও ছিল কঠিন।

ফরওয়ার্ড স্পোর্টসের সাফল্যের বড় মোড় আসে ১৯৯৪ সালে, যখন বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সামগ্রী নির্মাতা অ্যাডিডাস তাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব শুরু করে।

খাজা মাসুদ আখতার বলেন, 'অ্যাডিডাসের সঙ্গে কাজ শুরু করার পর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। কঠোর পরিশ্রম ও নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের মাধ্যমে আমরা বিশ্বমানের উৎপাদক হয়ে উঠেছি।'

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা

প্রথমে হাতে সেলাই করা ফুটবল উৎপাদন করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফরওয়ার্ড স্পোর্টস থার্মো-বন্ডেড প্রযুক্তি, মেশিন স্টিচিং, ল্যামিনেটেড ফুটবল প্রযুক্তি এবং সর্বশেষ সেন্সরযুক্ত 'ট্রিওন্ডা' বল উৎপাদনে সক্ষম হয়েছে।

একটি বিশ্বকাপ বল তৈরি করতে সাধারণত তিন থেকে চার বছর সময় লাগে। বলের গোলাকৃতি, স্থায়িত্ব, সেলাইয়ের নিখুঁততা এবং বিভিন্ন আবহাওয়ায় পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়।

ফরওয়ার্ড স্পোর্টসের কর্মীদের একটি বড় অংশ নারী। তাদের অবদানকে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি বলে মনে করেন খাজা মাসুদ আখতার।

নারীদের জন্য পরিবহন সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা এবং উন্নত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখনও ফুটবল তৈরির অনেক ধাপে দক্ষ কারিগরদের হাতে কাজ সম্পন্ন হয়।

আখতার বলেন, 'নারীরা আমাদের সাফল্যের বড় অংশ। সুযোগ ও সম্মান পেলে তারা অসাধারণ ফল দেখাতে পারে।'

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে পাকিস্তানের অবস্থান অনেক নিচে এবং দেশটি কখনো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলতে পারেনি। কিন্তু ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসরে তাদের অবদান অনন্য।

বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনো শিরোপা নির্ধারণী গোল হোক কিংবা টাইব্রেকারের নাটকীয় মুহূর্ত—সবকিছুর কেন্দ্রে থাকবে সিয়ালকোটে তৈরি একটি বল।

এ যেন বিশ্ব ফুটবলের এক অনন্য গল্প—যে দেশ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় না, সেই দেশই বিশ্বকাপের প্রতিটি মুহূর্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তৈরি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%