ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি: শিল্পমন্ত্রী


দেশের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি: শিল্পমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ জুন, ২০২৬ : শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক)-এর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং দেশের বর্তমান শিল্প ও দক্ষ জনশক্তির চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিটাকের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হচ্ছে। এ কর্মসূচিতে সরকারের বিনিয়োগের বিপরীতে উচ্চমাত্রার সুফল পাওয়া যাচ্ছে।’

রাজধানীতে বিটাকের ২০তম ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ ও নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথাগুলো বলেন।

আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স

বিটাকের মহাপরিচালক মো. ফিরোজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্প সচিব আব্দুন নাসের খান।

মন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশে এমন অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, যেগুলোর সুস্পষ্ট উদ্দেশ্য কিংবা প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। কিন্তু বিটাকের এ প্রকল্পটি ব্যতিক্রম। এ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৬ হাজার তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। যা তাদের কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, তিন মাসের প্রশিক্ষণ শুধু কারিগরি দক্ষতা অর্জনের সুযোগই তৈরি করে না, বরং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলে। যা তাদের সারাজীবনের সম্পদ হয়ে থাকবে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ প্রকল্পের সম্প্রসারণ অথবা নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে হাজার হাজার উদ্যমী তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: আনোয়ারায় কেইপিজেড ও চায়না ইকোনমিক জোন পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী

তিনি জানান, প্রশিক্ষণের গুণগত মানের প্রমাণ হিসেবে বিশেষ করে নারী প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানের হার অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ১৬৫ জন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সবাই ইতোমধ্যে চাকরির সুযোগ পেয়েছেন।

শিল্প সচিব বলেছেন, বিটাকের কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার আগেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীদের চাকরি পাওয়া এ কর্মসূচির সফলতার বড় প্রমাণ।

তিনি আরও বলেন, অনেক প্রশিক্ষণার্থী ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেও চাকরি পাননি। কিন্তু বিটাকের স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরপরই তারা চাকরির সুযোগ পেয়েছেন। এটি বিটাকের প্রশিক্ষণের প্রতি নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের আস্থারই প্রতিফলন।

আব্দুন নাসের খান বলেন, বিটাকের চলমান দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প আগামী বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। প্রশিক্ষণার্থীদের কর্মসংস্থানে এ প্রকল্পের ইতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় এর মেয়াদ বৃদ্ধি অথবা একই ধরনের নতুন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করবে।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

সচিব আরও বলেন, বিটাকে শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্যোক্তাও তৈরি করা হচ্ছে। উন্নত প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে অনেক প্রশিক্ষণার্থী নিজস্ব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য উৎসাহিত হচ্ছেন। যা ভবিষ্যতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পেট্রোলের দাম কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের, না মানলে ‘বড় বিপদের’ হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৫ পি.এম


পেট্রোলের দাম কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের, না মানলে ‘বড় বিপদের’ হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেট্রোলের খুচরা দাম অবিলম্বে কমানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে বিক্রেতাদের বড় ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করতে হবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য জানায়।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, পেট্রোল বিক্রেতাদের কোনো অজুহাত ছাড়াই দ্রুত দাম কমাতে হবে। তিনি আরও বলেন, 'যদি খুচরা বিক্রেতারা তা না করে, তাহলে তাদের সামনে বড় ধরনের সমস্যা অপেক্ষা করছে। প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৫০ ডলারে নামিয়ে আনতে কাজ শুরু করুন।'

ট্রাম্প বলেন, খুচরা বিক্রেতাদের এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে মার্কিন ভোক্তাদের স্বার্থে দ্রুত জ্বালানির দাম কমানো উচিত। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে রাজ্যটির পেট্রোলের ওপর আরোপিত কর কমানোর আহ্বান জানান।

তিনি দাবি করেন, খুব শিগগিরই এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, যেখানে জ্বালানির মূল্যের চেয়ে করের পরিমাণ বেশি হয়ে যাবে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, 'এটি যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণ কেউই মেনে নেবে না।'

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম, যিনি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির অন্যতম সমালোচক, ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছেন।

অন্যদিকে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি, ২০১৫ সালে বড় আকারে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করার জন্য জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহেও ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন যে বড় তেল কোম্পানিগুলো কম দামে অপরিশোধিত তেল কিনলেও সেই অনুপাতে পাম্পে পেট্রোলের দাম কমাচ্ছে না। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি বলেন, 'দাম দ্রুত কমছে। অন্য কথায়, গ্রাহকদের ঠকানো হচ্ছে।' এজন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এ বক্তব্য একটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে ট্রাম্পের দাবি, ইরান-সংকটের অবসানের পর জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে। ফ তারপরও অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন যে, এ সংঘাতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে এবং জ্বালানির মূল্য পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক নাও হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৮ হাজারের বেশি ভবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৭ পি.এম


ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৫৮ হাজারের বেশি ভবন

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পে ৫৮ হাজারের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে থাকতে পারে। মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার স্যাটেলাইট তথ্যের প্রাথমিক বিশ্লেষণে এমনটি দেখা গেছে। ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৭০০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া হাজার হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এটি এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হতে যাচ্ছে। ওরেগন স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক কোরি শের ও জ্যামন ভ্যান ডেন হোক জানান, ২৫ জুন সংগ্রহ করা স্যাটেলাইট রাডার তথ্য বিশ্লেষণ করে তারা অনুমান করেছেন যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রায় ৫৮ হাজার ৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তারা ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার সেন্টিনেল-১ স্যাটেলাইটের উচ্চ-রেজোলিউশনের রাডার চিত্র ব্যবহার করে এই হিসাব করেছেন।

গবেষকদের মতে, এটি একটি প্রাথমিক মূল্যায়ন এবং এখনো মাঠপর্যায়ে যাচাই করা হয়নি। তাই এই সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে নয়, বরং একটি প্রাথমিক ধারণা হিসেবে দেখা উচিত। অন্যদিকে, দেশটির জাতীয় সংসদের সভাপতি জর্জ রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৮৫৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ১৮৯টি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। নাসা বলেছে, তাদের স্যাটেলাইটগুলো ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে উদ্ধারকর্মীদের পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় সহায়তা করছে।

বিবিসি ও রয়টার্স জানিয়েছে, গত সপ্তাহের দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা পৌঁছেনি। ফলে স্থানীয় বাসিন্দারাই নিজেদের উদ্যোগে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরনগরী লা গুয়েরায় মানুষ লোহার রড, হাতুড়ি ও গাঁইতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ খুঁড়ে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন। এখনও কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৈকতে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৯ পি.এম


সৈকতে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি, প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বিশ্বের longest সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের ভিড় জমে। কিন্তু ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতের মধ্যে মাত্র ২ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে লাইফগার্ড সেবা। বাকি অংশে কোনো লাইফগার্ড, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা পতাকা না থাকায় ১৫-২০টি জনপ্রিয় পয়েন্টে সমুদ্রস্নানে নেমে পর্যটকরা চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন। এর ফলে বারবার নিখোঁজ ও প্রাণহানির মতো দুর্ঘটনা ঘটছে।

পর্যাপ্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না বাড়ালে কক্সবাজার সৈকতে ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।

কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত; মেরিন ড্রাইভ থেকে পর্যটকরা ঘুরতে নেমে পড়েন পাথুরে সৈকত, ইনানী জেটি কিংবা পাতুয়ারটেকে। আর বালিয়াড়ি পেরিয়ে অনেক পর্যটক নেমে পড়েন সমুদ্রস্নানে। কিন্তু ইনানী সমুদ্রসৈকতের তিনটি পয়েন্টে নেই কোনো লাইফ গার্ড সেবা। নেই কোনো ধরণের সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা নিরাপত্তা চিহ্নিত পতাকা; যার কারণে সমুদ্রস্নানে নেমে পড়ে ঘটছে প্রাণহানি বা নিখোঁজের ঘটনা।

পর্যটকদের অভিযোগ, সৈকতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং নিরাপদে সমুদ্রে নামার নির্দেশনা সংবলিত পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড এবং সতর্কতামূলক পতাকা নেই। তারা জানান, অনেক পর্যটক সমুদ্রের আচরণ সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার কারণে ঝুঁকিতে পড়ছেন।

ইনানী সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটক শফিউল আলম বলেন, ‘কক্সবাজার থেকে ইনানী সৈকতে আসার পথে বিভিন্ন স্থানে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি মেনে সমুদ্রে নামার বিষয়ে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড চোখে পড়েছে। কিন্তু ইনানী সৈকতের আশপাশে এ ধরনের কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড তেমন দেখা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বেড়াতে আসেন। তাই পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সৈকতের বিভিন্ন স্থানে জোয়ার-ভাটা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি এবং নিরাপদে সমুদ্রে নামার নির্দেশনা সম্বলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করা জরুরি।’

তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর প্রতি এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

গাজীপুর থেকে ইনানী সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটক তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘সৈকতের এই অংশে এখন পর্যন্ত আমরা কোথাও লাল-হলুদ সতর্কতামূলক পতাকা দেখতে পাইনি। একইভাবে জোয়ার-ভাটার সময়সূচি বা কখন সমুদ্রে নামা নিরাপদ, আর কখন ঝুঁকিপূর্ণ-এ ধরনের কোনো নির্দেশনাও চোখে পড়েনি।’

তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের সতর্ক করার জন্য কোথায় সমুদ্রে নামা যাবে, কোথায় নামা যাবে না কিংবা কোন সময় জোয়ার বা ভাটা থাকবে—এসব তথ্য সম্বলিত দৃশ্যমান সাইনবোর্ড বা সংকেত থাকা উচিত। কিন্তু আমি যতক্ষণ এখানে আছি, ততক্ষণে এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা দেখতে পাইনি।’

ঢাকার বনানী থেকে ইনানী সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটক রোকেয়া বেগম বলেন, ‘সমুদ্রে নামার সময় কিছুটা ঝুঁকি অনুভব হয়। কারণ জোয়ার—ভাটার সময়সূচি বা সমুদ্রের আচরণ সম্পর্কে অনেক পর্যটকেরই ধারণা থাকে না।’

তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের সচেতন করতে সৈকতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী বা লাইফগার্ড থাকা জরুরি। পাশাপাশি নিরাপত্তা—সংক্রান্ত নির্দেশনা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা আরও জোরদার করা উচিত।’

রোকেয়া বেগম আরও বলেন, ‘আমরা যারা ঢাকা বা দেশের অন্যান্য এলাকা থেকে বেড়াতে আসি, তাদের অনেকেই সমুদ্রের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত নই। তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত ও কার্যকর করা হলে পর্যটকদের জন্য সৈকতটি অনেক বেশি নিরাপদ হয়ে উঠবে।’

পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন বিপুল পর্যটক আসলেও লাইফগার্ড, বিচকর্মী ও দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে।

ইনানী এলাকার পর্যটন ব্যবসায়ী সিয়াম আহমেদ বলেন, ‘ইনানী সৈকতে প্রতিদিনই প্রচুর পর্যটকের সমাগম হয়, বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে। কিন্তু সেই তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও উদ্ধারসেবা পর্যাপ্ত নয়। সৈকতের বিভিন্ন স্থানে ২০০ থেকে ৩০০ মিটার পরপর বিচকর্মী বা লাইফগার্ড মোতায়েন থাকলে নতুন ও সাঁতার না—জানা পর্যটকদের আগেই সতর্ক করা সম্ভব হতো। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসত।’

একই এলাকার পর্যটন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ইনানী সৈকতে তাৎক্ষণিক উদ্ধার ব্যবস্থার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটলে ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিচকর্মী বা ফায়ার সার্ভিসকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। তবে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করা যায় কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।’

লাইফ গার্ড সংস্থা জানায়, সীমিত উদ্ধার সরঞ্জাম রাখলেও সৈকতের বড় অংশজুড়ে পর্যাপ্ত লাইফগার্ড নেই। মাত্র কয়েকটি পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে, যা ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের জন্য যথেষ্ট নয়।

সি সেফ লাইফগার্ড সংস্থার সুপারভাইজার মো. ওসমান গনি বলেন, ‘আমাদের উদ্ধার সরঞ্জাম বলতে মূলত রেসকিউ টিউব এবং রেসকিউ বোর্ড রয়েছে। রেসকিউ বোর্ডটি হাতে প্যাডেল করে পরিচালনা করা হয়। এই দুটি সরঞ্জাম দিয়েই আমরা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সি সেফ লাইফগার্ডই একমাত্র সংস্থা, যারা লাবণী, সুগন্ধা এবং কলাতলী—এই তিনটি পয়েন্টের কিছু অংশে দায়িত্ব পালন করছে। কিন্তু সমুদ্রসৈকতের দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০ কিলোমিটার। সৈকতজুড়ে বিভিন্ন স্থানে পর্যটকরা নামলেও সব এলাকায় পর্যাপ্ত লাইফগার্ড নেই।’

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফগার্ড সদস্য এবং আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের প্রয়োজন। বর্তমানে এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে, যা দ্রুত পূরণ করা জরুরি। এসব ঘাটতি দূর করা গেলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে বলে জানান মো. ওসমান গনি।

পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে। সমুদ্রে নামার আগে কোথায় নামা নিরাপদ, কোন এলাকায় ঝুঁকি রয়েছে—এসব বিষয় সম্পর্কে জেনে এবং সতর্কতা মেনে চললেই অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।’

এ দিকে সৈকতের বিস্তৃতি বেশি হওয়ায় সার্বক্ষণিক নজরদারি করা সম্ভব হয় না। পর্যাপ্ত লাইফ গার্ড থাকলে দুর্ঘটনার সময় দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং প্রাণহানি কমানো যাবে বলে মনে করে ইনানী ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান।

তিনি বলেন, ‘ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিদিন সকাল, দুপুর এবং বিকেলে হ্যান্ড মাইক ব্যবহার করে সমুদ্র সৈকতে আসা পর্যটকদের সতর্ক করা হয়। আমরা তাদের নিরাপদভাবে সমুদ্রে নামার বিষয়ে ব্রিফ করি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানাই।’

তবে সৈকতটি অনেক বিস্তৃত হওয়ায় কে কোথা থেকে সমুদ্রে নামছে, তা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা সম্ভব হয় না। এরপরও আমরা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি বলে জানান।

তিনি আরও বলেন, সৈকতে পর্যাপ্ত রেসকিউ টিম থাকলে দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। কেউ পানিতে বিপদে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করা গেলে প্রাণহানির ঝুঁকিও অনেক কমে আসবে বলে জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান।

সি-সেফ লাইফগার্ড সংস্থা জানায়, গেলো ১২ বছরে সমুদ্রে গোসলে নেমে মৃত্যু হয়েছে ৭৬ জনের, জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে এক হাজার ২৪ জনকে। আর এখনো হদিস মেলেনি দুই পর্যটকের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমি আমেরিকাবিরোধী নই, তবে নতজানুও হবো না: ইতালির প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


আমি আমেরিকাবিরোধী নই, তবে নতজানুও হবো না: ইতালির প্রধানমন্ত্রী

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, 'আমি আজ আমেরিকা-বিরোধী নই; আবার গতকালও আমি কারও সামনে নতজানু ছিলাম না।' তিনি এই মন্তব্যটি সোমবার ইতালির রেতে ৪ চ্যানেলের '১০ মিনিট' অনুষ্ঠানে ইতালি-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে কথা বলার সময় করেছেন। মেলোনি বলেন, 'আমি এমন একজন ব্যক্তি যিনি বিশ্বাস করেন যে পশ্চিমারা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আরও শক্তিশালী হয় এবং একটি ঐক্যবদ্ধ পশ্চিমা বিশ্বে ইতালি আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। আমি এই লক্ষ্যের জন্যই কাজ করেছি এবং কাজ করে যাচ্ছি। তবে এর পাশাপাশি, দৃঢ় সম্পর্ক সবসময় স্পষ্টবাদিতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে এবং আমি একজন স্পষ্টভাষী মানুষ।'

তিনি উল্লেখ করেছেন যে একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে তার সম্পর্ক ভাল ছিল। মেলোনি ট্রাম্পের অভিষেকের সময় উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন নীতির প্রশংসাও করেছেন। তবে, ইরানে মার্কিন আগ্রাসনের সময় ন্যাটোর সহায়তা না পাওয়ায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন।

জি-৭ সম্মেলনের সময় ইতালির লা ৭ চ্যানেলকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ট্রাম্প মেলোনির ছবি তোলার জন্য মিনতির বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং তিনি বলেন, 'মেলোনি আমার সাথে একটা ছবি তোলার জন্য বারবার মিনতি করেছিলেন। তিনি আমার সাথে ছবি তুলতে এতটাই মরিয়া ছিলেন যে আমি হয়তো ছবি তুলতামই না, কিন্তু তাঁর জন্য আমার মায়া লেগেছিল।'

এ মন্তব্যের পর মেলোনি কড়া প্রতিক্রিয়া দেখান এবং ট্রাম্পের কথাকে গালগল্প বলে উড়িয়ে দেন। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়াতে তার পূর্ব নির্ধারিত যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেন। ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে মেলোনির ছবি তোলার বিষয়টি আবারও উল্লেখ করেন, যা উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%