ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়াই সরকারের লক্ষ্য: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী


ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়াই সরকারের লক্ষ্য: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দেশের সরকারের উদ্দেশ্য কাউকে জরিমানা বা কারাদণ্ড দেওয়া নয়; বরং মানুষের জীবন রক্ষা করা এবং ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলা।

আজ (শুক্রবার) সারাদেশে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত টাস্কফোর্স কমিটির উদ্যোগে রাজধানী ঢাকা এলাকার বনানীর ১৮, ২১ ও ২৪ নম্বর সড়কে বিভিন্ন বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা অনুসন্ধান ও ধ্বংস কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নগরবাসী যদি সচেতন হয়ে নিজ বাড়ি, আঙিনা, ছাদ এবং ফুলের টবগুলোতে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করে, তবে ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। তিনি ছাদ, আঙিনা কিংবা যেকোনো স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত ফেলে দেওয়ার জন্যও আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বর: জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে একদলীয় শাসন থেকে মুক্তির দিন

তিনি আরও বলেন, বাড়ির ছাদের ফুলের টব, ডাবের খোসা, রঙের কৌটা কিংবা অন্য যেকোনো পাত্রে যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবার সতর্কতা অত্যন্ত প্রয়োজন। নাগরিকদের সচেতনতা বিবেচনা করে তিনি জানান, ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ার ক্ষেত্রে এটি হচ্ছে সবথেকে কার্যকর উপায়।

মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের কাজ হচ্ছে ঢাকার নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে শহরটিকে ডেঙ্গুমুক্ত করা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আঞ্চলিক ও ওয়ার্ড কার্যালয়গুলো থেকে নাগরিকদের বিনামূল্যে মশার লার্ভা ধ্বংসকারী ট্যাবলেট সংগ্রহ করা যাবে। তিনি নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে এসব ট্যাবলেট ব্যবহার করে লার্ভা ধ্বংসের আহ্বান জানান।

এ সময়, তিনি ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-কে নির্মাণাধীন ও আবাসিক ভবনগুলোতে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সদস্যদের নোটিশ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

আরও পড়ুন: আজ বাংলাদেশে প্রথম নারী চিকিৎসক জোহরা বেগম কাজীর মৃত্যুবার্ষিকী

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে, তিনি জানালেন, সরকারি কোয়ার্টারগুলোতেও একই ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থায় মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

অভিযান শেষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস মন্তব্য করেন, নগরবাসী সচেতন না হলে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নির্মূল করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন বাসাবাড়ি, স্থাপনা, রেস্তোরাঁ সহ বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বাসাবাড়িতে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলছে।

ইমরুল কায়েস আরো বলেন, টানা তিন দিনের অভিযানে বনানী এলাকার সরকারি কোয়ার্টার ও আশপাশের প্রায় ৫০ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এটি নাগরিক সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।

আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা

অভিযানের অংশ হিসেবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও স্টিকার লাগিয়ে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তাদের নিরলস পরিশ্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান।

অভিযানের সময়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আজিজুন নেছা, বনানী সোসাইটির সহ-সভাপতি ড. তানভীর আহমেদ খান, সাধারণ সম্পাদক ইরফান ইসলাম, জয়েন্ট ট্রেজারার ডা. শাহেদ হায়দার চৌধুরী, ম্যানেজার সৈয়দ মোস্তাক উদ্দীন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলামসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বগুড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক বিপ্লব গড়ে তোলার আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৫ পি.এম


বগুড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক বিপ্লব গড়ে তোলার আহ্বান

বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা দেশে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধ করতে দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে সামাজিক বিপ্লব ও যুদ্ধ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁর মতে, মাদক বর্তমানে বাংলাদেশের জন্য একটি সর্বগ্রাসী ও ‘বার্নিং ইস্যু’। শুধু জেলা প্রশাসন, পুলিশ কিংবা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দিয়ে এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের সমাজ ও পরিবারকে সচেতন করতে হবে এবং সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।

আজ সকালে বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ‘বিশ্বের মাদক সমস্যা : চলমান সংকট, নতুন চ্যালেঞ্জ এবং উদ্ভাবনী সমাধান’ নামক প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল ৯:৩০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে বটতলায় বেলুন উড়িয়ে দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এরপর একটি মাদকবিরোধী বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শহর প্রদক্ষিণ করে।

সভায় জানানো হয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে জেলাজুড়ে সপ্তাহব্যাপী নানা মুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে মাদকবিরোধী স্টিকার ও পোস্টার লাগানো, লিফলেট বিতরণ, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা। এ ছাড়াও বগুড়ার ১২টি উপজেলার ১৩টি স্থানে বৃক্ষরোপণ, মাদকবিরোধী মাইকিং এবং ১৪টি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মাধ্যমে ফ্রি কাউন্সেলিং সেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাদশা আরও বলেন, ‘সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনে ৩৫০ জন সংসদ সদস্যই মাদকের ভয়াবহতার চিত্র তুলে ধরেছেন। মাদক আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করার একটি পরিকল্পিত হাতিয়ার। বর্তমানে শহর থেকে গ্রামেও এটি ছড়িয়ে পড়েছে। তাই প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করার। এখানে কোনো ছাড় নেই।’

তিনি বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসককে ২১টি ওয়ার্ডে দ্রুত মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের অনুরোধ জানান এবং মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা স্থানীয় যুবক তানভীরের উদাহরণ টেনে তাকে ধন্যবাদ জানান।

বগুড়া জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মাদকবিরোধী অভিযানের সুনির্দিষ্ট চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালে জেলায় ১, ৮০৩টি অভিযান পরিচালনা করে ৭০২টি মামলায় ৭৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৮৩৮টি অভিযানে ৩৩৬টি মামলায় ৩৫০ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জনকারীদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে বগুড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহা. জিল্লুর রহমান সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রায়হান উদ্দিন মোরাদ এবং সিভিল সার্জন ড. মো. খুরশীদ আলম। সভায় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, शिक्षक-শিক্ষার্থী, ইমাম, এনজিও প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে ছয় মাসে ৭৬৬ জন মাদক কারবারি গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৭ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে ছয় মাসে ৭৬৬ জন মাদক কারবারি গ্রেফতার

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ গত ছয় মাসের সময়কাল জুড়ে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে এবং মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ৭৬৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন থানা পুলিশ এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশ মিলিতভাবে মুন্সীগঞ্জের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় অবৈধ মাদক উদ্ধারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করেছে। এসব অভিযানের ফলে গত ছয় মাসে উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩ হাজার ১১৩ পিস ইয়াবা, ৭১ কেজি ৮৮৩ গ্রাম গাঁজা, ১৬৬ গ্রাম হেরোইন, ৩৪ বোতল ফেনসিডিল, ৬২ গ্রাম আইস, ৩১ লিটার বিদেশি মদ, ৩১৫ ক্যান বিয়ার এবং ১২টি গাঁজা গাছ।

এ সময় পুলিশের হাতে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৭৬৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া এই সকল ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় মাদক আইনে মোট ৫৫৯ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, লৌহজংয়ের বেদে পল্লি শিগগিরই মাদক স্পট হিসেবে গড়ে উঠেছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পিপিএম বাসসকে জানান, 'মাদকের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। পুলিশের অবস্থান কঠোর। মাদক নিয়ন্ত্রণে জেলায় গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। মাদকের বিষয়ে কোনো আপোষ নেই। যিনি মাদকের সাথে জড়িত, তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার শোক স্মরণ করতে রাজধানীতে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার শোক স্মরণ করতে রাজধানীতে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনার শোক স্মরণ করতে রাজধানীতে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের হয়। পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে শুরু হওয়া এ মিছিলের মাধ্যমে প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয় কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা এবং ইয়াজিদের নির্মমতা। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারীরা অন্যায়ের কাছে কখনো মাথা নত না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

চৌদ্দশ বছর পেরিয়ে গেলেও কারবালার শোক যেন আজও অম্লান। ইমাম হোসাইন ও তার সঙ্গীদের আত্মত্যাগের স্মরণে ১০ মহররম শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার হোসেনি দালান থেকে বের হয় এই তাজিয়া মিছিল।

মাতম ও শোকগাঁথার মধ্য দিয়ে স্মরণ করা হয় কারবালার সেই নির্মম হত্যাকাণ্ডকে। হাজারো মানুষ কালো পোশাক পরে, মাথায় কালো পতাকা বেঁধে এবং খালি পায়ে শোক মিছিলে অংশ নেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা শোকের প্রতীক আলম, নিশান এবং দুলদুল ঘোড়া নিয়ে আসেন।

শোক, ইতিহাস ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে মুখর এই মিছিল পুরান ঢাকার দীর্ঘ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও বহন করে। আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতীকী শোকের আয়োজনের মাধ্যমে কারবালার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেয়ার বিষয়টি দেখা যায়।

ইসলামি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী, ১৪০০ বছর আগে মহররমের ১০ তারিখে ইরাকের কারবালায় ইয়াজিদের বাহিনীর হাতে শহীদ হন মহানবীর দৌহিত্র ইমাম হোসাইন এবং তার পরিবারের সদস্যরা। সেই ঘটনার স্মরণেই শতাব্দির পর শতাব্দি ধরে পালিত হয়ে আসছে আশুরা।

হোসেনি দালান থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি পুরান ঢাকার বকশিবাজার, আজিমপুর ও নিউমার্কেট হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে শেষ হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গুমে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না, যত প্রভাবশালীই হোক: মির্জা ফখরুল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৬শে জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


গুমে জড়িত কেউই ছাড় পাবে না, যত প্রভাবশালীই হোক: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, সামনের দিনগুলোতে গুমের মতো ঘটনার সঙ্গে আর জড়াতে চান না।

তিনি উল্লেখ করেছেন, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল এই মন্তব্য করেছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম গুমের শিকার পরিবারগুলোর দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বয়ে চলা স্বজন হারানোর বেদনা তুলে ধরে বলেছেন, গুম হওয়া ঘটনাগুলোর সঙ্গে আমরা আর সম্পৃক্ত হতে চাই না। তিনি উল্লেখ করেন, এটি মানবতার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ (ক্রাইম অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটি)। এর প্রকাশ্যে বিচার এবং শাস্তি হওয়া উচিত।

তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করে বলেন, এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত যত বড় প্রভাবশালীই হোক, কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, দ্রুত বিচার এগিয়ে যাবে এবং এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

এছাড়া তিনি বলেন, ‘যদি মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধাদের ভাতার ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে গুম হওয়া পরিবারের কেন হবে না? আমরা এ বাজেটেই তা রাখার চেষ্টা করব। আমরা আর গুম হয়ে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে চাই না। যারা এ অপরাধে জড়িত, প্রকাশ্যে তাদের বিচার-শাস্তি হতে হবে।’

এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, একে একে প্রত্যেকে ধরা পড়বে। বিচার হবে।’

সভায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘এখন কান্নার সময় নয়, এখন বিচার-অধিকার-রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আদায় করার সময়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালী করতে হবে। ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা এবং বাজেট বাড়ানোর দাবি আসছে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানালে, ‘জিয়াউল আহসানের সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়ার জন্য এক মাস কাজ করতে হয়েছে। ৪২ পরিবারের গুমের তদন্ত শুরু হয়েছে। আশা করি এক মাসের মধ্যে শেষ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে এক বছর হায়াত দিলে, মায়ের ডাকের গুম সংক্রান্ত মামলাগুলোর বিচার শেষ করবো। ট্রাইব্যুনালে জুলাই-গুমসহ ৮০ মামলার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%