ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ট্রাম্পের সম্মতিতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি তৈরির কারখানা


ট্রাম্পের সম্মতিতে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি তৈরির কারখানা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি নির্মাতারা যদি কারখানা স্থাপন করে গাড়ি তৈরি করতে চান, তাহলে তিনি তাতে বাধা দেবেন না। তবে, মার্কিন আইনপ্রণেতা এবং গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি বড় অংশ চীনা গাড়ি নির্মাতাদের মার্কিন বাজারে প্রবেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

শুক্রবার ফক্স নিউজের ‘দ্য ইনগ্রাহাম অ্যাঙ্গেল’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, "যদি চীনা কোনো গাড়ি নির্মাতা যুক্তরাষ্ট্রে এসে কারখানা খুলে গাড়ি তৈরি করতে চান, তবে আমার আপত্তি নেই।" তিনি উল্লেখ করেন, জাপানের গাড়ি নির্মাতারাও যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা পরিচালনা করে, যা মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে। ট্রাম্পের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব কারখানায় মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হওয়া। তবে, তিনি চান না চীনা কোম্পানিগুলো মেক্সিকোতে গাড়ি তৈরি করে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পাঠাক। ট্রাম্প বলেন, "আমি চীনা গাড়ির বিরুদ্ধে নই। তবে চীনা গাড়ি যাতে মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সেটি আমি চাই।"

 

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে

দুই সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি বিক্রির সুযোগ দেওয়া নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের মার্কিন বাজারে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। বুধবার মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিসা স্লটকিন দাবি করেন, ট্রাম্প চীনের সঙ্গে বড় কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ি বিক্রির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন- এমন আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, "এ ধরনের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগতভাবে ভুল হবে।" তবে স্লটকিনের এই বক্তব্যকে ট্রাম্প "পুরোপুরি ভুয়া গুজব" বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, তার প্রশাসন চীনা গাড়িকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের বাইরে রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে চীনা গাড়ির ওপর ইতোমধ্যে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ২০২৫ সালের শুরুতে একটি নতুন বিধি জারি করে, যার ফলে চীনা গাড়ি নির্মাতাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রীবাহী গাড়ি তৈরি ও বিক্রির সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে, ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত গাড়ির সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে চীনা প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাশাপাশি, চীনে তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ১০০ শতাংশের বেশি শুল্ক রয়েছে, যা চীনা বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।

 

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী একটি জোট চীনা গাড়িকে মার্কিন বাজার থেকে স্থায়ীভাবে দূরে রাখতে নতুন আইন করার দাবি জানিয়েছে। গত সপ্তাহে অ্যালায়েন্স ফর অটোমোটিভ ইনোভেশন মার্কিন কংগ্রেসকে দ্রুত এ বিষয়ে আইন পাস করার আহ্বান জানায়। জোটটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছে জেনারেল মোটরস, ফোর্ড, টয়োটা, ফক্সওয়াগেন, হুন্দাই, হোন্ডা ও স্টেলান্টিসের মতো বড় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। তারা ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ প্রস্তাবিত আইন পাস করার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যালায়েন্স ফর অটোমোটিভ ইনোভেশনের প্রধান নির্বাহী জন বোজেলা কংগ্রেসের নেতাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, "চীনা গাড়ি নির্মাতারা সরকারি সহায়তা পাওয়া গাড়ি এবং ইন্টারনেট-সংযুক্ত সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতি বিশ্বের বিভিন্ন বাজারে দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে।" তার মতে, চীনা গাড়ি নির্মাতাদের এই বিস্তার যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্প ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

 

চীনা গাড়ি নিয়ে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে তিনি বলছেন, চীনা কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে এসে কারখানা করলে তাতে বাধা দেবেন না। অন্যদিকে, তার প্রশাসন ইতোমধ্যে চীনা গাড়ির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ ও উচ্চ শুল্ক বজায় রেখেছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, চীনা গাড়ি নির্মাতারা যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করে কারখানা তৈরি করলে এবং সেখানে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান হলে তিনি সেটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তবে, চীনা গাড়ি মেক্সিকোতে তৈরি করে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে তার অবস্থান কঠোর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার চার্জশিট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৫ পি.এম


শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে হত্যা ও হত্যাচেষ্টার চার্জশিট

জুলাই মাসে গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দুইটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৬৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ার কারণে ১০৫ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। মামলাগুলোর মধ্যে একটি নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলা এবং অন্যটি বাবুল মৃধা হত্যা মামলা। আলাদাভাবে এসব চার্জশিট আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।

নাদিম হত্যাচেষ্টা মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩০ জনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইব্রাহিম খলিল। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় এজাহারনামীয় ৬৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেন তিনি। গত ২৭ জুলাই ঢাকার সিএমএম আদালতে এ চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। মামলার শুনানি আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউশন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চার্জশিটের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসামির মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নাদিমের বাম হাঁটুতে গুলি লাগে। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়। একই দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বাবুল মৃধা যাত্রাবাড়ীর দনিয়া ও লাকি কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার ৫২ দিন পর ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিএমএইচে বাবুল মৃধা মারা যান। এ ঘটনায় তার স্ত্রী সীমা বেগম ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ ৩৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন যাত্রাবাড়ী থানার এসআই মাহমুদুল হাসান ইরফান। গত ১৩ আগস্ট তিনি ঢাকার সিএমএম আদালতে এ চার্জশিট জমা দেন। অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ার কারণে এ মামলায় ৩৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও এ মামলায় চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, যাত্রাবাড়ী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, এবং পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহজাদা।

অব্যাহতি সুপারিশপ্রাপ্ত উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আতিকুর রহমান, ৬৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য হাবিবুর রহমান, যাত্রাবাড়ী থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অর্থ দাস, রবিন খান ওরফে মেকআপ রবিন, মনির আহমেদ এবং লুৎফুর রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আট বছর ধরে চেষ্টা, পুল খেলায় এখনো ব্যর্থ হেইলি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:০৫ পি.এম


আট বছর ধরে চেষ্টা, পুল খেলায় এখনো ব্যর্থ হেইলি

মডেল হেইলি বিবার, পপ তারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে আট বছর ধরে দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন। তবে এই দীর্ঘ সময়ের পরেও তিনি একটি বিশেষ ক্ষেত্রে উন্নতি করতে পারেননি, যা তিনি মজার ছলে স্বীকার করেছেন। কাজটি হলো—পুল খেলা।

সম্প্রতি, এই দম্পতি তাদের অষ্টম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছেন। ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবি তাদের ঘরোয়া পরিবেশে পুল খেলতে দেখা যায়। ছবির মন্তব্যে, জাস্টিন বিবার তার স্ত্রীর প্রতি রোমান্টিক বার্তা দিয়ে ভালোবাসার কথা জানান। অন্যদিকে, হেইলি তার পুল খেলার দক্ষতা নিয়ে কৌতুক করে লিখেছেন, “আট বছর ধরে চেষ্টা করেও আমি পুল খেলায় জঘন্যই রয়ে গেলাম।”

এটি উল্লেখযোগ্য যে, ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটিতে তারা আইনিভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে, ২০১৯ সালে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বড় আয়োজনে বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেন। তাদের ঘরে ‘জ্যাক ব্লুজ’ নামের দুই বছরের একটি সন্তান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা সড়ক অবহেলায় বেহাল অবস্থা ভোগান্তির মধ্যে চলাচল করছেন এলাকাবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

‎জাকির হোসেন পাটোয়ারী রাজবাড়ী প্রতিনিধি

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা সড়ক অবহেলায় বেহাল অবস্থা ভোগান্তির মধ্যে চলাচল করছেন এলাকাবাসী

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের খালকুলা গ্রামের আমজেদ এর বাড়ি হইতে মোহন সেখ এর বাড়ি অন্য দিকে কল্যান দিঘি থেকে তোফাজ্জেল মন্ডল এর বাড়ি  পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরেও টেকসই সংস্কারের মুখ দেখেনি। ফলে বছরের পর বছর ধরে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে খালকুলা ও আশপাশের এলাকার হাজারো মানুষকে।

‎

‎সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বর্তমান অবস্থা এতটাই নাজুক যে প্রথম দেখায় এটি ধান রোপণের জন্য প্রস্তুত করা কোনো জমি বলে মনে হতে পারে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সড়ক কাদার সাগরে পরিণত হয়। কোথাও হাঁটুসমান কাদা, আবার কোথাও পা ফেললেই গভীর কাদায় আটকে যায়। এতে স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

‎

‎সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে খালকুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন এই কাদাময় পথ পাড়ি দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয় তাদের। অনেক সময় পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে বই-খাতা ও স্কুলের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষকেই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে।

‎

‎স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একটি গ্রামের রাস্তা নয়; বরং খালকুলা ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম। কৃষকরাও এই সড়ক ব্যবহার করে ধান, পাটসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাড়িতে আনা-নেওয়া করেন এবং বহরপুর রামদিয়া সোনাপুর হাটে বিক্রির জন্য পরিবহন করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে সড়ক দুইটি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ায় অনেককে বাধ্য হয়ে এক থেকে দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যাওয়ার মেইন সড়কে যেতে হয়।

‎

‎সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তায় দিয়ে হেটে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই, একজন কৃষক মাথায় পাট বহন করে কাদার মধ্যে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। এমন দৃশ্যই এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

‎

‎স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আশপাশের অধিকাংশ সড়কের সংস্কার কাজ সম্পন্ন হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বছরের পর বছর অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।

‎তারা দ্রুত সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসীর আশা, সড়কটির উন্নয়ন হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবে পুরো এলাকার মানুষ।

‎

‎এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

‎

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবীণ সাংবাদিক গাজী মো. মতিয়ার রহমানের ইন্তেকাল, আমতলী প্রেসক্লাবে শোকের ছায়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:২৯ পি.এম


প্রবীণ সাংবাদিক গাজী মো. মতিয়ার রহমানের ইন্তেকাল, আমতলী প্রেসক্লাবে শোকের ছায়া
আমতলী প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ, প্রবীণ সাংবাদিক ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খলিফা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক গাজী মো. মতিয়ার রহমান (প্রায় ৬৫) আর নেই। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার জনস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আকস্মিকভাবে তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।
 
দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন প্রবীণ এই সাংবাদিক। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে আমতলীর সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
 
সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজী মো. মতিয়ার রহমানের মরদেহ তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল আমতলী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আনা হয়। সেখানে সহকর্মী সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও তাঁর দীর্ঘদিনের শুভাকাঙ্ক্ষীরা শেষ বারের মতো তাঁকে দেখতে আসেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে সকাল ১০টায় আমতলী কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তাঁর প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
 
 জানাজায় সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
এরপর তাঁর মরদেহ নিজ বাড়ি গুলিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোজখালী গ্রামের খলিফা বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে খলিফা বাড়ি জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
 
আমতলী প্রেসক্লাবের সভাপতি  মো. রেজাউল করিম শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা আমতলী  প্রেসক্লাবের দীর্ঘদিনের একজন বিশ্বস্ত  সহযোদ্ধাকে হারালাম। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ও দায়িত্বশীল মানুষ ছিলেন।
 সাংবাদিকতার পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
 
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গাজী মো. মতিয়ার রহমান একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মরহুম গাজী নিজাম উদ্দিনের দুই ছেলে সন্তানের মধ্যে ছোট ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি আনম আমজাদিয়া আলিম মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খলিফা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি এলাকার মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। নিজ এলাকার বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর অবদান রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
 
ব্যক্তিজীবনে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা ও এক পুত্রসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে আমতলী প্রেসক্লাব, স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং তাঁর নিজ এলাকায় গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে। সহকর্মী ও এলাকাবাসী তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%