মোহাম্মদ নূর সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২৭ পি.এম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার দুইদিন পর মাহি আহমদ (৬) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় শিবগঞ্জ বাজারের খাশিয়াপাড়া খেয়াঘাট নামক এলাকায় ইটাখলা নদীতে মাহির লাশ ভেসে উঠলে স্থানীয় লোকজন দেখতে পেয়ে তাঁরা লাশটি উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহান আহমদ, সকালে স্থানীয়রা শিশুটির লাশ পানিতে ভাসমান অবস্থান দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্ব) দুপুরে উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের মোজাহিদপুর (বুধরপুর) গ্রামের মিশুক চালক আক্তার মিয়ার ছেলে মাহি আহমদ স্থানীয় ইটাখলা নদীর পানিতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে ফায়ার সার্ভিসের একদল ডুবুরি ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান চালিয়েও ছেলেটির কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজের দুইদিন পর আজ সকালে নদীর পানিতে শিশুর লাশ ভেসে উঠে।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ), বরিশালে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) কলেজের শিক্ষক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ্।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. জুলফিকার আলী হায়দার।
সরকারি ব্রজমোহন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শেখ মো. তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ এবং মানবতার কল্যাণে তাঁর অনুপম শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
বক্তারা মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে মানবিক মূল্যবোধ, ন্যায়, শান্তি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নে সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অধিক দামে ইউরিয়া সার বিক্রি ও অবৈধ পরিবহনের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৫ বস্তা সার জব্দ করেছে। একই সাথে আইন লঙ্ঘনের কারণে দুটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানকে ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় জনতা খবর পেয়ে সার পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়ির চালক ও ক্রেতাদের আটক করে পুলিশে দেয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে ঝগড়ারচর উত্তর বাজার এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, ভেলুয়া ইউনিয়নে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী নতুন ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। এর মধ্যেই মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্স থেকে ১৫ বস্তা এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজ থেকে ১০ বস্তা-মোট ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার অবৈধভাবে বেশি দামে বিক্রি করে পরিবহন করা হচ্ছিল। স্থানীয় কৃষকরা বিষয়টি টের পেয়ে সারবহনকারী গাড়ি সহ চালক ও ক্রেতাদের আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন।
আটক হওয়া ক্রেতারা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার জাদুরচর ইউনিয়নের সায়দাবাজ এলাকার স্থানীয় কৃষক বলে জানা গেছে। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে সার কিনতে গেলে সেখানে 'সার নেই' বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। বাধ্য হয়ে তারা শ্রীবরদীর ঝগড়ারচর বাজারে এসে সার সংগ্রহ করেন। তারা আরও জানান, ঝগড়ারচর বাজারের মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্স ও চঞ্চল এন্টারপ্রাইজ থেকে সরকারি নির্ধারিত মূল্য প্রতি বস্তা ১ হাজার ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪৫০ টাকা দামে মোট ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার কেনেন। পরে ভটভটি গাড়িতে করে বাড়ি ফেরার সময় স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মেসার্স সারোয়ার জাহান অনিক ট্রেডার্সকে ১৫ হাজার টাকা এবং চঞ্চল এন্টারপ্রাইজকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা ২৫ বস্তা ইউরিয়া সার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার জিম্মায় রাখা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসিব-উল-আহসান। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান আকন্দ এবং শ্রীবরদী থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ভেলুয়া ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ব্যবসায়ী মুরাদুজ্জামান ও তার জামাতা সারোয়ার জাহান অনিক নতুন সার ডিলারশিপ পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন এবং ডিলারশিপ নিশ্চিত করতে তারা বিপুল অংকের (প্রায় ৬০ লাখ টাকা) লেনদেন করেছেন বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, ডিলারশিপ অনুমোদনের আগে যদি সার অনিয়ম, চড়া দামে বিক্রি ও পাচারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে ডিলারশিপ পাওয়ার পর সাধারণ কৃষকদের সার বিতরণ ব্যবস্থার কী অবস্থা হবে? এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারির দাবি জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে চার মিনিটের মধ্যে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোরে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোপালচরণ এলাকায় এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে, হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, ভোর ৪টা ২৬ মিনিটে সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজার বাসভবনের সামনে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। এর দুই মিনিট পর, ৪টা ২৮ মিনিটে গোপালচরণ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর, ৪টা ৩০ মিনিটে স্কুলের দক্ষিণ পাশে তৃতীয় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিস্ফোরণের সময় 'জয় বাংলা' স্লোগান দেওয়া হয়। পরপর বিকট শব্দে আশপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবু সোলাইমান সরকার সাজা বলেন, "ফজরের আগে প্রথমে আমার বাড়ির সামনে বিকট শব্দ হয়। এর কিছুক্ষণ পর স্কুলের সামনে এবং পরে স্কুলের দক্ষিণ পাশের রাস্তায় আরও দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। পরপর তিনটি বিকট শব্দে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এই এলাকায় আগে কখনো ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। শব্দ শুনে ঘর থেকে বের হয়ে আশপাশের লোকজনকেও বাইরে দেখতে পাই। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে এসে ককটেলের খোসাগুলো নিয়ে যায়।"
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ্ বলেন, "খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে বোমাসদৃশ্য ককটেলের খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পিরোজপুরের নেছারাবাদে বলদিয়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক মো. সাইদুর রহমান সাইদকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার উড়িবুনিয়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়। এরপর আজ রোববার সকালে পিরোজপুর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট উপজেলার সমুদয়কাঠি এলাকায় সংঘটিত একটি সহিংসতার ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। পরদিন ১৬ আগস্ট নেছারাবাদ থানায় মামলাটি দায়ের করেন সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের যুবদল নেতা এইচ এম শাকিল আহম্মেদ। এই মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সাবেক চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ওই মামলার ১৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নেছারাবাদ থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান বলেন, সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি নির্দিষ্ট মামলা রয়েছে। মামলার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং রোববার সকালে পিরোজপুর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে গ্রেফতারকৃত সাইদুর রহমানের পরিবারের দাবি, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করতে এ মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তবে পরিবারের এমন দাবির বিষয়ে জানতে মামলার বাদী এইচ এম শাকিল আহম্মেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ