ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তরুণদের মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি রোধে বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ইউজিসি সদস্য


তরুণদের মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি রোধে বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ইউজিসি সদস্য

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : তরুণ সমাজকে মাদক ও ইন্টারনেটের ক্ষতিকর আসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে সরকার শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমুখী ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে, বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

আজ (মঙ্গলবার) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে আয়োজিত 'মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি, ক্যারিয়ার নির্বাচনে বিভ্রান্তি: সমাধান যে পথে' শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান। বাংলাদেশ অ্যান্টি ড্রাগ ফেডারেশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে।

মাদক সমস্যা দূরীকরণে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সামাজিক প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে অধ্যাপক মামুন বলেছেন, মাদকসেবীদের প্রতি আমাদের সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত চক্র ও মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠোর মোকাবিলা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারকে সর্বোচ্চ কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীপুরের অফিসপাড়ায় পাখির কলতানে সজীব পরিবেশ, প্রশাসনের সংরক্ষণ উদ্যোগ

কেবল সচেতনতামূলক কার্যক্রমে তরুণদের আসক্তি থেকে দূরে রাখা কঠিন, উল্লেখ করে ইউজিসির এই সদস্য বলেন, তরুণদের জন্য আনন্দময় ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষাক্রমে 'এডুকেশন উইথ হ্যাপিনেস' কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া শিশু-কিশোর ও তরুণদের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে 'নতুন কুঁড়ি' কর্মসূচি এবং 'প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ'সহ নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে, যা তরুণদের ইতিবাচক মানসিকতা গঠনে সহায়ক হবে।

তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ তুলে ধরে অধ্যাপক মামুন জানালেন, যুবসমাজের বেকারত্ব দূর করতে নির্দিষ্ট মেয়াদে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারি-বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এসব সরকারি সুযোগ-সুবিধা পূর্ণ ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তিনি তরুণ সমাজের প্রতি আহ্বান জানান।

দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক তরুণ অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: রাঙ্গামাটিতে শুরু হলো ‘প্রবারণা পূর্ণিমা’ উপলক্ষে বৌদ্ধদের ধর্মীয় উৎসব

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাবা-মায়ের স্নেহ ছাড়াই বেড়ে ওঠা ৯ কিশোরের এসএসসিতে সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৪ পি.এম


বাবা-মায়ের স্নেহ ছাড়াই বেড়ে ওঠা ৯ কিশোরের এসএসসিতে সাফল্য

পঞ্চগড়, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : কারও বয়স তখন ছিল মাত্র ৬ বছর। কেউ হারিয়েছেন বাবাকে, আবার কেউ মাকে, এবং কারও জীবনে বাবা-মা দুজনেরই কোনো স্মৃতি নেই। কেউ পরিবার থেকে হারিয়ে গেছেন, আবার কেউ দারিদ্র্যের কারণে ঠাঁই নিতে বাধ্য হয়েছেন অনাথ আশ্রমে। আপনজনের স্নেহ ও ভালোবাসা, পাড়া-প্রতিবেশীর পরিচিত মুখ কোনোটিই তাদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠেনি।

তবে জীবন তাদের থামিয়ে রাখতে পারেনি। চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় পঞ্চগড়ের আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে বেড়ে ওঠা ৯ কিশোর উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে কিছুর চোখে পরিবারকে খুঁজে পাওয়ার স্বপ্ন, আবার কারও স্বপ্ন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার। এসএসসি পাসের আনন্দের মধ্যে কোথাও যেন মিশে রয়েছে স্বজন হারানোর দীর্ঘশ্বাস।

যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা হলেন সাকিব হাওলাদার, সুমন মিয়া, আল-আমিন, সাকিব, নিরব ইসলাম, জুয়েল হাওলাদার, মেহেদি হাসান, আনিছুর ইসলাম ও আলিউল ইসলাম। এরা সবাই পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের জলাপাড়া গ্রামে অবস্থিত আহছানিয়া মিশন শিশু নগরী। এটি একটি প্রতিষ্ঠান যা অনাথ, ছিন্নমূল, বঞ্চিত ও হারিয়ে যাওয়া পথশিশুদের নিরাপদ আশ্রয় প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে সেখানে ১৬০ জন শিশু রয়েছে।

শিশু নগরীতে গিয়ে দেখা যায়, দুটি বড় ভবনের মাঝে বিশাল এক খেলার মাঠ। মাঠজুড়ে শিশুদের হাসি-खিলখিল। কারও হাতে বই, কেউ ব্যস্ত খেলায়। এর মধ্যেই সদ্য এসএসসি দীপ্তি লাভ করা নয় জন কিশোরের মুখে ছিল অন্যরকম উচ্ছ্বাস।

সুমন মিয়া বলেন, ৬ বছর বয়সে তিনি পরিবার থেকে হারিয়ে যান। এরপর একটি সেন্টারে থাকার পর ২০১৫ সালে আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে আসেন। দীর্ঘ ১০ বছর এখানেই কাটিয়েছেন তার শৈশব ও কৈশোর।

সুমন জানালেন, “৬ বছর বয়সে পরিবার থেকে হারিয়ে গেছি। কোথা থেকে হারিয়েছি, সেটাও মনে নেই। পরে একটি সেন্টারে ছিলাম। সেখান থেকে মালেক স্যারের মাধ্যমে ২০১৫ সালে এখানে আসি। এখানে ১০ বছর পড়াশোনা করার পর এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছি। খুব ভালো লাগছে।”

কথা বলার এক সময় পরিবারের প্রসঙ্গ এলে সুমনের কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে। তিনি বলেন, “হয়তো আমার পরিবার আমার সঙ্গে থাকলে তারাও অনেক খুশি হতো। তারা বেঁচে আছে, নাকি মারা গেছে, তাও জানি না। আমার পরিবারের কোনো ঠিকানা নেই।”

নিরব হাসানও প্রায় ১০ বছর ধরে শিশু নগরীতে আছেন। এখান থেকেই পড়াশোনা করে তিনি পঞ্চগড় সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেছেন।

নিরব বলেন, “আমি ১০ বছর ধরে আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীতে আছি। এখান থেকে পড়াশোনা করে এসএসসি পাস করেছি। আমি খুব খুশি।” ভবিষ্যতে কী হতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে তার সহজ উত্তর, “বড় হয়ে একজন ভালো মানুষের মতো মানুষ হতে চাই।”

আনিছুর ইসলামের বাবার মৃত্যু হয়েছিল শিশু বয়সেই। সংসারের অভাবের কারণে তার মা তার পড়াশোনার খরচ চালাতে পারছিলেন না। পরে পরিচিতদের মাধ্যমে আহছানিয়া মিশনের কথা জানতে পেরে তাকে এখানে ভর্তি করা হয়।

আনিছুর বলেন, “ছোটবেলায় আমার বাবা মারা যান। পরে এই মিশনের কথা জানতে পেরে আমাকে এখানে পাঠান। প্রায় ১১ বছর ধরে এখানে আছি। এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ ৪ পেয়েছি।”

মেহেদি হাসানের বাবাও ছোটবেলায় মারা যান।স্বামীর মৃত্যুর পর সংসার চালানোর পাশাপাশি মায়ের পক্ষে ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মেহেদি বলেন, “বাবা ছোটবেলায় মারা গিয়েছে। তখন মা সংসার চালাতে পারছিলেন না, আমাকে পড়াশোনাও করাতে পারছিলেন না। পরে এখানে নিয়ে আসেন। স্যাররা পড়াশোনা, খাওয়া-দাওয়া ও থাকার সব ব্যবস্থা করেছেন। এখানে থেকেই এসএসসি পরীক্ষা দিতে পেরেছি। সবার দোয়া ও আল্লাহর রহমতে ভালো ফল করেছি। প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি শিশু নগরীতে আছেন।”

আল-আমিন ইসলাম ৭ বছর বয়সে হারিয়ে যান। এরপর আর খুঁজে পাননি বাবা-মাকে। এসএসসি পাসের আনন্দের দিনেও সেই শূন্যতার কথা মনে পড়ে তার।

আল-আমিন বলেন, “আজকের ফলাফল শুধু আনন্দের নয়, এর সঙ্গে একটা কষ্টও আছে। যদি আজ আমার বাবা-মা আমার পাশে থাকতেন, তাহলে ভালো লাগত। অন্যদের বাবা-মা সন্তানদের পরীক্ষা দেওয়ার সময় পাশে থাকেন, ফলাফল হলে খুশি হন। আমিও তো তাদের ছেলে। আমি পাস করেছি তারা যদি জানতে পারত, তারাও নিশ্চয়ই খুশি হতো।”

ভবিষ্যৎ নিয়ে তার স্বপ্নও স্পষ্ট। আল-আমিন বলেন, “বড় হয়ে একজন সুনাগরিক হতে চাই। সৎভাবে চলতে চাই। যে কাজই করি, সততা নিয়ে করবো। সবসময় সত্যের পথে চলবো।”

আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সমাজকর্মী ইউসুফ আলী বলেন, “দেশের বিভিন্ন রেলস্টেশন, ফেরিঘাট, নদীভাঙনকবলিত এলাকা ও হতদরিদ্র পরিবার থেকে আসা শিশুদের এখানে আশ্রয় দেওয়া হয়। যাদের বাবা-মা নেই কিংবা যারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, তাদের শিক্ষা ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।”

তিনি বলেন, “আমরা শিশুদের কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলছি। এবারের ফলাফলও ভালো হয়েছে। এভাবেই শিশুরা এখানে সুরক্ষিতভাবে বেড়ে উঠছে।”

আহছানিয়া মিশন শিশু নগরীর সেন্টার ম্যানেজার দীপক কুমার রায় বলেন, “২০১২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এতিম ও পথশিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থানসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। গত ৫ বছরে আমাদের এখান থেকে ৪৮ জন শিশু এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। অনেকেই জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারও ভালো ফল হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া ও মোবাইল ব্যবহারের কারণে অনেক শিশুর পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। এখানে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ নেই। ফলে শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে। তাদের নিয়মিত মনিটরিং করা হয়। স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হয়। শিশুদের ভালো ফলের পেছনে নিয়মিত পড়াশোনা, পর্যবেক্ষণ ও স্কুলের শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি।”

দীপক কুমার রায় আরো জানান, “২০২১ সাল পর্যন্ত দাতা সংস্থার অর্থায়নে শিশু নগরীর কার্যক্রম চললেও বর্তমানে ঢাকা আহছানিয়া মিশনের নিজস্ব অর্থায়নে শিশুদের লালন-পালন ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।”

তিনি আরো বলেন, “সামাজিক সুবিধায় অবস্থানশীল ব্যক্তি ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে এই শিশুদের আরও ভালোভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। আমরা চাই, এখান থেকে বের হয়ে তারা দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে সমাজে ফিরে যাবে এবং সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গাদের জন্য সুইডেনের আরও সহায়তা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৭ পি.এম


রোহিঙ্গাদের জন্য সুইডেনের আরও সহায়তা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : বাংলাদেশে আরও বেশি সহায়তা চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সুইডিশ সহায়তা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবর্তনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান।’

একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়েছে, আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর অফিসে বাংলাদেশের জন্য নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকায় এই ইস্যুকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে রাখতে সুইডেনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা বাড়ানোর জন্য সুইডেনের প্রতি আহ্বান জানান। সুইডেনের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং পুনর্বাসনের উপর গুরুত্ব দিতে বলেন এবং রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য কাজ করার সূচনাও করেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন ও কারিগরি সহায়তা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সুইডেনকে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে সরকার দক্ষ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে নানা স্থানে নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সুইডেনসহ ইউরোপের অন্যান্য বাজারে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন বাড়ছে।

তিনি সুইডেন সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান উন্নয়নে এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে। সুইডেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যার সঙ্গে সুইডেনের ‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কৌশল’ রয়েছে।

তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে এবং তৈরি পোশাক ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে সুইডিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যাদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী। রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত অভিবাসন সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, অসাধু মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ে কিছু নির্দোষ মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন।

উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর এবং কার্যকর পদক্ষেপ চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং পাচারকারীদের প্রলোভনই অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণ।

এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারণাসহ বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও এবং বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে বোর্ড গঠনের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে বোর্ড গঠনের দাবি

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর জন্য দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়েছে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (এএফডব্লিউএ) বাংলাদেশ কমিটির পক্ষ থেকে।

১১ আগস্ট মঙ্গলবার, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত একটি সমাবেশে তারা এই দাবি রেখেছেন।

সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে, ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি দিয়ে একজন পোশাক শ্রমিকের নিজের ও পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন পূরণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

এএফডব্লিউএ বাংলাদেশ কমিটির আহ্বায়ক কাজী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে এবং সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়নের সঞ্চালনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে নেতারা উল্লেখ করেছেন, দেশের রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থানে তৈরি পোশাক শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিশেষ করে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এই শিল্পের অবদান উল্লেখযোগ্য।

কিন্তু লাখ লাখ শ্রমিকের সৃষ্ট শ্রমে শিল্পে বিপুল সম্পদ সৃষ্টি হলেও শ্রমিকরা তার ন্যায্য অংশ পাচ্ছেন না।

শ্রমিকদের নেতারা বলেন, খাদ্য, বাসাভাড়া, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ওষুধসহ প্রায় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। কিন্তু সে অনুযায়ী শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পায়নি। ফলে সংসারের খরচ মেটাতে অনেক শ্রমিককেই অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে এবং একাধিক শ্রমিক ঋণগ্রস্ত হচ্ছে।

সরকারি কর্মচারীদের প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের সঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ১২ হাজার ৫০০ টাকার তুলনা করে নেতারা বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হলে পোশাক শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

বর্তমান আগস্ট মাসের মধ্যেই গার্মেন্টস খাতে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সমাবেশের পরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ রয়েছে মজুরি বোর্ডে স্বাধীন শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব, জীবনযাত্রার প্রকৃত ব্যয় বিবেচনায় মজুরি নির্ধারণ, চাকরি ও কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, সামাজিক সুরক্ষা এবং ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিনির্ভর ব্যবসা চলবে না: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


বিএনপি সরকারের অধীনে স্বজনপ্রীতিনির্ভর ব্যবসা চলবে না: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি সরকারের অধীনে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষণমূলক বা স্বজনপ্রীতিভিত্তিক ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত যৌথ মতবিনিময়সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এখানে কে কার সঙ্গে পরিচিত, তা বিবেচ্য নয়। সে যিনি মন্ত্রী হোক বা যত প্রভাবশালী লোকই হোক না কেন, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পৃষ্ঠপোষণ পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।

মন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে ও পরবর্তীতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। ব্যবসার সু-বান্ধব পরিবেশ তৈরি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রফতানি বৃদ্ধি এবং ইজ অব ডুইং বিজনেস বা সহজ ব্যবসা পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাজেটে ডিরেগুলেশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রমে জটিলতা ও সময়ক্ষেপণ কমানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনবিআর ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এই সভায় দীর্ঘদিনের রেগুলেশন জটিলতা এবং বন্দরে বাড়তি খরচের সমস্যা সমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে।

আমির খসরু বলেন, কাস্টমসের জটিলতা ও বন্দরের অতিরিক্ত খরচের প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে এবং দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সময়সীমা বেঁধে সিদ্ধান্তগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাহসের সঙ্গে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে পণ্য খালাস ও রপ্তানির সময় নাটকীয়ভাবে কমে আসবে।

এদিন কাস্টমস চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অবৈধ ও আটকে থাকা কনটেইনার দ্রুত নিলাম বা নিষ্পত্তির মাধ্যমে বন্দর এলাকা জটমুক্ত করার বিষয়েও সভায় বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

একই দিন, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভূমিকা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামকে ঘিরে সংস্থাটির বিশাল উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজেরা ফিলিপাইন থেকে চট্টগ্রামে এসে স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এডিবি চট্টগ্রামকে কেবল একটি লজিস্টিকস হাব হিসেবে নয়, বরং আগামী দিনে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

মন্ত্রীর মতে, বন্দরকে কেন্দ্র করে এই আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন চট্টগ্রামের জন্য এক বিশাল সুখবর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%