বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৮:৩৯ এম
প্রিয়তমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আংটি বাড়িয়ে ধরে প্রশ্ন করে, উইল ইউ ম্যারি মি? (তুমি কি আমায় বিয়ে করবে?)। প্রিয়তমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার এটি একটি চিরন্তন পদ্ধতি।
যুগ যুগ ধরে কোটি কোটি মানুষ এইভাবে প্রস্তাব দিয়েছেন এবং প্রেয়সীর হৃদয় জিতেছেন। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ আছেন, যারা নারীর হৃদয় জয় করার জন্য বা প্রস্তাব দেওয়ার মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে নানারকম পাগলামি করেন। স্কাইডাইভিং করে বাতাসে ভাসতে ভাসতে, স্কুবা ডাইভিং করে সাগরের অতলে ডুবতে ডুবতে বা পাহাড়ের চূড়ায় উঠে, আগ্নেয়গিরি লাভার সামনে দাঁড়িয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার অনেক অ্যাডভেঞ্চারাস উদাহরণ রয়েছে। তবে বুধবার দুপুর ১২টার দিকে নিউইয়র্কবাসীরা যে দৃশ্যটি দেখলেন, সেটি ঝুঁকি বিবেচনায় মানুষের মনে বহু দিন থাকবে।
নিউইয়র্কবাসীরা একা নন, বরং বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের সুবাদে বিশ্বের কোটি মানুষ দেখেছে এই শ্বাসরুদ্ধকর অভিনব প্রপোজালের চিত্র।
গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা নাগাদ ব্যস্ত নিউইয়র্কবাসীরা আচমকা দেখলেন আইকনিক এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের ১০২ তলার উপরে ব্রডকাস্ট এন্টেনার চূড়ায় মিলেছে দুইজন মানুষ। তাঁরা কোনোরকম নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়া ১ হাজার ৪৫৪ ফুট উঁচুতে ব্রডকাস্ট অ্যান্টেনার চূড়ায় একটি ব্যানার টানাচ্ছিলেন। তাদের দুঃসাহসিক কাণ্ডকারখানা দেখে নিচের অনেকের শ্বাস রাখা দায় হয়ে উঠে।
মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় তাদের সেই ছবি। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশের বিশেষ রেসকিউ টিম, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন নিয়ে ছুটে আসেন। সাংবাদিকরা হেলিকপ্টার নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হন। নিচে যখন হুলুস্থুল, তখনো কালো পোশাক এবং মুখোশ পরা তাদের কোনো হেলদোল ছিল না। ব্যানার টানানোর পর তারা ধীরেসুস্থে কিছুটা নেমে এসে একটি প্লাটফর্মে দাঁড়ান। সেখানে পুরুষটি সেই চিরাচরিত ভঙ্গিতে হাঁটু গেড়ে বসে নারীটিকে প্রস্তাব দেন।
নিশ্চয়ই তিনি হ্যাঁ বলেছেন, কারণ পুরুষটি উঠে দাঁড়ালে তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করেন ও চুমু খান। পুরো দৃশ্যটাই গোটা বিশ্ব সরাসরি দেখেছে। সবচেয়ে বেশি মানুষের কাছে দেখা প্রপোজালের বিশ্বরেকর্ডে এই ঘটনাটির কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবে বলে মনে হয় না। দুপুর ১টার দিকে পুলিশ সদস্যরা নিজেদেরও ঝুঁকি নিয়ে চূড়ায় উঠলেন এবং তাদের নিচে নামিয়ে আনেন।
ব্রডকাস্ট অ্যান্টেনার চূড়ায় তাদের টানানো কালো ব্যানারে বড় বড় সাদা অক্ষরে লেখা ছিল, ‘যখন ক্ষমতার লোভের চেয়ে ভালোবাসার শক্তি বড় হবে, তখন পৃথিবী শান্তি ফিরে পাবে।’ চারপাশে যুদ্ধের দামামায় শান্তির এ বাণী হয়তো অনেকের মনে স্বস্তি আনবে। তবে পুলিশ অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় যাওয়ার জন্য এই দুঃসাহসী রোমান্টিক জুটিকে হেফাজতে নিয়েছে। এত সুরক্ষিত একটি ভবনের চূড়ায় তারা কিভাবে এবং কখন উঠলেন, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
নিচে নেমে আসার পর দেখা গেল যে এই জুটি আগে থেকেই বিখ্যাত। তারা নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় ডকুমেন্টারি ‘স্কাওয়াকার্স: এ লাভ স্টোরি’র প্রধান চরিত্র রাশিয়ার বিখ্যাত রুফটপার অ্যাঞ্জেলা নিকোলাউ এবং ইভান বীরকুস। তারা শান্তি এবং ভালোবাসার বাণী নিয়ে এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিংয়ের চূড়ায় চড়ে বসেছিলেন।
কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার ‘কেউ কথা রাখেনি’ কবিতায় বলেছেন, ‘ভালোবাসার জন্য আমি হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছি/দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে বেঁধেছি লাল কাপড়।’ অ্যাঞ্জেলা এবং ইভান কবির কল্পনাকেও হার মানালেন। ১ হাজার ৪৫৪ ফুট উপরে উঠে ভালোবাসা আর শান্তির বাণীর ব্যানার টানানো তাদের জন্য দুরন্ত ষাঁড়ের চোখে লাল কাপড় বাঁধার চেয়ে কম ঝুঁকিপূর্ণ ছিল না। সত্যিই তারা ভালোবাসার জন্য হাতের মুঠোয় প্রাণ নিয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা ত্যাগ করে তেহরানের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে সফরে বের হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল থেকে তিনি ইরানের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
জানা গেছে, উনি জানাজায় অংশগ্রহণ শেষে আগামী ৪ জুলাই দেশে ফিরে আসবেন।
উল্লেখযোগ্য যে, আয়াতুল্লাহ খামেনি ১৯৩৯ সালের ১৯ এপ্রিল উত্তর-পূর্ব ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর বয়স ছিল ৮৬ বছর মৃত্যুর সময়ে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর পরিবর্তিত শাসনব্যবস্থায় তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ১৯৮০ সালে তিনি অল্প সময়ের জন্য প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সূচনা পর তিনি ইসলামী বিপ্লবী বাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর বিশেষজ্ঞ পরিষদ তাঁকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে নির্বাচন করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আরব সাগরের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি সামরিক হেলিকপ্টার জরুরি অবতরণ করেছে। এই ঘটনার ফলে হেলিকপ্টারটির চারজন ক্রুর মধ্যে তিনজনকে জীবিত উদ্ধার করা গেছে, কিন্তু একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধার করতে সমুদ্রে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চলছে। বুধবার সংবলিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড উল্লেখ করেছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিমানবাহী রণতরী জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ-এ দায়িত্ব পালনরত একটি সি হক হেলিকপ্টার আরব সাগরে জরুরি অবতরণ করে। তবে এ ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের শত্রুপক্ষের হামলা বা আক্রমণের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি এমন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া তিন ক্রুকে দ্রুত বিমানবাহী রণতরীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা স্থিতিশীল অবস্থায় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের অধীনে রয়েছেন।
অন্যদিকে, নিখোঁজ ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করার জন্য ওই এলাকায় নৌবাহিনীর একাধিক ইউনিট যৌথভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। একইসঙ্গে, কী কারণে হেলিকপ্টারটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়েছিল, তা জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্তকাজ শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করা হবে না।
সূত্র : এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আফগানিস্তানে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এটি বুধবার রাত ১০টা ২৭ মিনিটে স্থানীয় সময় অনুভূত হয়। ভারতের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা এ বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রদান করেছে।
একটি পৃথক বিবৃতিতে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশের জুর্ম জেলা। তবে এ ঘটনার ফলে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে আফগানিস্তান উচ্চ ভূকম্পনপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এর ফলে দেশটিতে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত ২৭ জুন আফগানিস্তানে ৬ দশমিক ২ মাত্রার এক ভূমিকম্প হয়েছিল। সেদিনও কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
দেশটিতে সর্বশেষ প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হানে ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর। ওই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৩। এতে বাড়িঘরের ছাদ ও দেয়াল ধসে সাতজন মারা যায় এবং ১৫০ জন আহত হন। সূত্র : এনডিটিভি ও আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির ব্যাপারে কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এই বক্তব্য তিনি বুধবার (১ জুলাই) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত ইম্প্রুভমেন্ট অব আরবান পাবলিক হেলথ প্রিভেন্টিভ সার্ভিস প্রজেক্ট (আইইউপিএইচপিএসপি) আয়োজিত সেমিনারে প্রদান করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ইতোমধ্যে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ধারাবাহিকভাবে তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এই জাতীয় কমিটির প্রথম সভা ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমি আশা প্রকাশ করছি যে, আইইউপিএইচপিএসপি এই কাজের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া সত্ত্বেও মশার লার্ভা এখনও তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যাবশ্যক। সচেতনতার জন্য কোনো বিকল্প নেই। এর সাথে সাথে অনলাইন প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রতিরোধমূলক আচরণ গড়ে ওঠে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। তিনি একটি পরিচ্ছন্ন শহর ও সুস্থ-সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান। তার নেতৃত্বে আমরা সম্মিলিতভাবে এই লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাব।
সভায় অন্যান্য বক্তারা উল্লেখ করেন, আইইউপিএইচপিএসপি বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক পরিচালিত একটি জনস্বাস্থ্য উন্নয়ন প্রকল্প। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো— শহরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোগ প্রতিরোধের সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনা আরো শক্তিশালী করা। বিশেষ করে নগর এলাকায় প্রতিরোধমূলক জনস্বাস্থ্য সেবা সম্প্রসারণ এবং ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রকল্পটি কাজ করছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান এনডিসি, আইইউপিএইচপিএসপির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ্ খান এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ