সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:২১ পি.এম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছে। অধিবেশনটি সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যখন সারাদেশে সারের ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে সেই সময় একটি প্রভাবশালী মহল জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ভাগড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধে একটি সারের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। জানা যায়, জামালপুর সদর উপজেলার মৌজা ভাগড়া ২য় খন্ড জেএল নং- ২২৮, আরওআর- ১১৭, বিআরএস- ১৩৯ নং খতিয়ানভুক্ত পর্চার আরওআর ২২নং দাগ, বিআরএস ৪১৮নং দাগ এর ১৯২ শতাংশের কাতে যাহার উত্তরে- বাসু, তৎদক্ষিণে- ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য মিনিতা, পূর্বে- কাঁচা রাস্তা, পশ্চিমে- ৩২ ফুট ৮ ইঞ্চি তৎ পশ্চিমে- মিনিতা এই চৌহুদ্দির মধ্যে ০৬ শতাংশ ভূমি ১ম শ্রেণির মাজিষ্ট্রেট-নোটারী পাবলিক কার্যালয়, জামালপুরের মাধ্যমে গত ১৭/০১/২০২৬ইং তারিখে ৪ লক্ষ টাকা জমির দাম নির্ধারণ করে ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করে বায়না দলিলমূলে ভাগড়া গ্রামের মোঃ ইব্রাহিম খানের পুত্র মোঃ কামরুজ্জামান একই গ্রামের অকিল হাউই এর কন্যা নির্মলা দালবত এর কাছ থেকে ক্রয় করে নেন। বাকী ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করে জমি লিখে নেওয়ার কথা ছিল। উক্ত বায়না দলিলে সাক্ষী হিসেবে ছিলেন, সবিতা, মিনিতা, জানেশ গং। কিন্তু উক্ত জমি নির্মলা দালবত লিখে না দিয়ে উল্টো তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানী করার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় গত ২৮ আগস্ট কামরুজ্জামানের সারের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তালাবদ্ধ করে দেয়। এতে করে বিপাকে পরেন স্থানীয় প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক। উল্লেখ্য, নোটারী পাবলিকের আগেও নির্মলা দালবত মোঃ কামরুজ্জামানকে একটি বায়না দলিলও প্রদান করেন। যেখানে তিনি নগদ ১ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা গ্রহণ করেছেন। সেই দলিলে স্বাক্ষী হিসেবে রয়েছেন মিনিতা গং। উক্ত বায়না দলিলটি লিপিবদ্ধ করেছিলেন, সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের মহুরি মোঃ আশরাফ আলীর পুত্র মোঃ আবুল কালাম আজাদ। বায়না দলিল করে মোঃ কামরুজ্জামান উক্ত জমিতে একটি দোকান দিয়ে সারের ব্যবসা শুরু করেন। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও নির্মলা দালবত জমি লিখে না দেওয়ার কারনে গত ২৭ আগস্ট শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। লিখিত অভিযোগ পেয়ে শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ মাসুদ মিয়া নির্মলা দলবতের নিকট অভিযোগের বিষয়ে সমন পাঠান এবং ০৩ সেপ্টেম্বর উক্ত সমনের জবাব দেওয়ার নির্দেশনা দেন। সমন জারি হওয়ার পর নির্মলা দালবত ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে গত ২৮ আগস্ট মোঃ কামরুজ্জামানের সারের দোকানটি তালাবদ্ধ করে দেয়। এ ঘটনায় গত ২৮ আগস্ট জামালপুর সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কামরুজ্জামান। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনা তদন্ত করতে গেলে স্থানীয় প্রভাবশালীরা কামরুজ্জামানকে হত্যা ও গুমের হুমকি দেয়। যার কারনে কামরুজ্জামান গত ৩০ আগস্ট জামালপুর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন, যার নং- ২১০৫। সাধারণ ডায়েরী করার পর তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসে কামরুজ্জামানকে যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই তাকে হত্যা করা হবে। নিরুপায় হয়ে গত ০১ সেপ্টেম্বর জামালপুর পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন কামরুজ্জামান। এ বিষয়ে কামরুজ্জামান বলেন, আমি নির্মলা দালবতের নিকট থেকে বায়না সূত্রে জমি ক্রয় করে সেখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। তারা আমাকে জমি লিখে দিচ্ছে না। যার কারনে আমি ইউপি পরিষদে আবেদন জানাই। আবেদন করার পর তারা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা দেয় এবং আমাকে হত্যার হুমকি দেয়। এ নিয়ে জামালপুর সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উভয় পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে উপস্থিত হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। কিন্তু তারা সে নির্দেশনা অমান্য করে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যা সহ গুম করার হুমকি দেয়। যার কারনে পরবর্তীতে আমি পুলিশ সুপারের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আমি বর্তমানে পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লালমনিরহাটের পাটগ্রামে আলোচিত শিশু ধর্ষণ মামলায় মোক্তার আলী নামে এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে লালমনিরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিত্যানন্দ সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এ সাজা দেওয়া হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে পাটগ্রাম উপজেলার একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ১১ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়। শিশুটির বাবা দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাতেন। অভিযুক্ত মোক্তার আলী তাদের প্রতিবেশী হওয়ায় শিশুটি তাকে ‘দাদু’ বলে ডাকত। সেই পরিচিতির সুযোগ নিয়ে আসামি শিশুটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হলে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আলকাছ হোসেন ২০২০ সালের ২৬ মে পাটগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করে পুলিশ এবং তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, ১১ বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। এ রায়ের মাধ্যমে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিশুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর বার্তা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন যে, "সবাই সবার পেশাকে সম্মান জানালে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মর্যাদার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।" তিনি আরও বলেন, ‘নিজের অধিকার তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে, যখন আমরা অন্যের অধিকারকে সম্মান জানাব।’
রাজধানীর বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভ্যাল হলে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজি’র বার্ষিক সায়েন্টিফিক সম্মেলন ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী সম্মেলনে চিকিৎসকদের বিশ্বমানের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়ে তা প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের চক্ষু চিকিৎসাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, "দেশের চক্ষু চিকিৎসাসেবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য রোগীদের বিদেশ গমনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।" তিনি জানান, আগামী ৫০ বছর সেবা দিতে পারে এমন দীর্ঘমেয়াদি ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
এ সময় মন্ত্রী চিকিৎসকদের বিভিন্ন জাতীয় নীতিনির্ধারণী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমে সরকারকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।
মন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।" তিনি বলেন, চক্ষুজনিত রোগে আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা গেলে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সহজতর হবে।
এ সময় তিনি জনকল্যাণে মরণোত্তর চক্ষু ও অঙ্গদানের মতো মহৎ উদ্যোগের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে চিকিৎসকদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, দেশের ৫ শতাংশ শিশু জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন চক্ষুজনিত সমস্যা নিয়ে জন্মায়, যার একটি বড় অংশই চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য। একই সঙ্গে তারা স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১.০২ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ বরাদ্দ আরো বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, দিনব্যাপী আয়োজিত এই বিজ্ঞান সম্মেলনে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ৩৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তাদের গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাপত্র উপস্থাপন করবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ এন্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর, অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের সভাপতি ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. জিন্নু রাইন (নিউটন)।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. মো. জানে আলম মৃধা এবং সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবিদ কামাল।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ একাডেমি অব অফথালমোলজির সাধারণ সম্পাদকসহ দেশ-বিদেশ থেকে আগত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী সংগঠনের নেতা এবং চিকিৎসা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় মূল হোতা সহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, হামলাকারীরা সবাই নেশাগ্রস্ত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আপন এবং জিহাদ অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ। তাদের পূর্ববর্তী অপরাধের রেকর্ড খুব খারাপ। তারা ওই অঞ্চলের কিশোর গ্যাং লিড করে এবং মাদকের সাথে জড়িত। হামলাকারীরা ‘সবাই নেশাগ্রস্ত’ ছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আজ সোমবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন র্যাব-১০ এর অধিনায়ক মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘চার জনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি এবং তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক সম্পৃক্ততা আমরা পেয়েছি। একই ঘটনায় র্যাব-৪ আরো চারজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
ফলে, আমরা এজাহারনামীয় মোট ১৫ জনের মধ্যে র্যাব ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’
ঘটনার বিবরণে র্যাব জানায়, শনিবার রাতে একটি অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের মালিককে মারধর করার সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। প্রাইভেটকারে থাকা ৫ জন গ্যারেজ মালিককে হামলা করলে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। ওই সময় গ্যারেজের মালিককে মারধরকারীদের সঙ্গে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
এসআই আলতাফ হোসেন পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। এতে আসামিরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে তার ছেলের পোশাক কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হয়।
র্যাব জানায়, এরপর তারা ১৫ থেকে ২০ জন সহযোগীকে ডেকে এনে কারখানার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে বেধড়ক মারধর করে এবং কারখানার ভেতরে থাকা মেশিন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
এক প্রশ্নের জবাবে র্যাব কর্মকর্তা বলেন, আসলে পুলিশ কর্মকর্তা সেখানে কোনো টার্গেট ছিলেন না। কারণ আলতাফ হোসেন উনি এসবিতে চাকরি করেন বা করতেন এবং সিভিল পোশাকে ছিলেন। তিনি পুলিশ এবং একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব মনে করে মানবিকভাবে একজন বৃদ্ধ মানুষকে আঘাত করা থেকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এটি নিতান্তই বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা।
র্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, হামলাকারীদের বেশিরভাগই কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট এবং মাদক সংক্রান্ত বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হতে পেরেছি। আলাউদ্দিন নিজে আলতাফের উপরে আঘাত করেছে। জিহাদ নিজে চাকু দিয়ে আঘাত করে জখম করেছে। আপন ওই গ্যাংয়ের মূল হোতা, তার বিরুদ্ধে তিনটি মাদক মামলা রয়েছে। সে এসএস পাইপ দিয়ে আলতাফের মাথায় আঘাত করে। ইমরান গণপিটুনিতে অংশ নেয়।
এ সময় র্যাব কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৯ ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমলযোগ্য অপরাধ হলে শুধু পুলিশ নয়, সাধারণ মানুষও অপরাধীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করতে পারে।’
এছাড়া, কোনো সমস্যা হলে নাগরিকদের এগিয়ে না এসে ছবি তোলা ও ভিডিও করার প্রবণতায় হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের মানসিকতা মানুষের 'নৈতিক স্খলনের বহিঃপ্রকাশ'।
এদিকে এসআই আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় মূল হোতা সহ এজাহারনামীয় ৯ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাভার মডেল থানা থেকে রিমান্ড আবেদন করে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। সাভারের আমিনবাজার ও মুন্সীগঞ্জ সদর থানাধীন লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মূলহোতা জহিরুল ইসলামকে ১০ দিনের এবং বাকি ৮ জনকে ৭ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলো- সাভারের আমিন বাজার এলাকার মোজাম্মেলের ছেলে আলাউদ্দিন (২৬), সামসুলের ছেলে আপন (৩০), সামসুলের ছেলে জিহাদ (২০), মৃত নজরুলের ছেলে ইমরান (২৬), মৃত আব্দুল জলিলের ছেলে নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. বজলু শেখের ছেলে মো. রাকিব মিয়া (২৮), মৃত হালিম মিয়ার ছেলে ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) এবং মো. জিন্নত আলীর ছেলে মো. ওয়াসিম (৪০)।
এদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় তিনটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ