ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গদর বন্দর প্রকল্পের স্বপ্ন পূরণের আগেই নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চাপে মুখ থুবড়ে পড়েছে


গদর বন্দর প্রকল্পের স্বপ্ন পূরণের আগেই নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক চাপে মুখ থুবড়ে পড়েছে

পাকিস্তানের গদর বন্দর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বেলুচিস্তান প্রদেশে অবস্থিত এই বন্দরকে ঘিরে পাকিস্তানের ‘বাণিজ্যিক দুবাই’ হয়ে ওঠার যে স্বপ্ন প্রচার করা হয়েছিল, সেই বাস্তবতা এখন অনেক ভিন্ন।

২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে, তৎকালীন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে ৪৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই মেগা প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) এবং বেইজিংয়ের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পটি এক দশক অতিক্রম করলেও এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে বড় আঞ্চলিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে বন্দরটির সম্ভাবনার যে কথা বলা হয়েছিল, তার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গদর প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার লোয়ি ইনস্টিটিউটের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বন্দরটি থেকে চীনের প্রত্যাশিত বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সুফল এখনো পাওয়া যাচ্ছে না। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং চীনের নিজস্ব অর্থনৈতিক চাপের কারণে গদরে বেইজিংয়ের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহও কমে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে

তবে, এর অর্থ এই নয় যে, চীন গদর থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। বরং নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অবস্থান, দুর্বল স্থানীয় অবকাঠামো এবং পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকটের কারণে প্রকল্পটির বাণিজ্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা সীমিত করার দিকে এগোচ্ছে বেইজিং।

কৌশলগত দায়বদ্ধতা?

২০১৫ সালে সিপিইসির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাকিস্তান সফরের সময় গদরকে পশ্চিম চীনের সঙ্গে আরব সাগরের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। বন্দরটির অবস্থান পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী হওয়ায় এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গদরকে চীনের কাশগরের সঙ্গে সড়ক, রেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর মাধ্যমে যুক্ত করার কথা ছিল। চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চায়না ওভারসিজ পোর্ট হোল্ডিং কোম্পানিকে দীর্ঘমেয়াদি ইজারায় বন্দর পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন

একই সঙ্গে সিপিইসির আওতায় সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দর ও শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন অবকাঠামোতে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

তবে সিপিইসির বড় চ্যালেঞ্জ কী?

প্রকল্পটির প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা পরিস্থিতি। পাকিস্তানের বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিতভাবে চীনা নাগরিক এবং সিপিইসি-সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসছে।

২০২৪ সালের মার্চে গদর পোর্ট অথরিটি কমপ্লেক্সে হামলা এবং একই বছরের অক্টোবরে করাচি বিমানবন্দরের কাছে চীনা নাগরিকদের ওপর আত্মঘাতী হামলা নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করে।

আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন

পরে চীনা নাগরিক ও প্রকল্পগুলো রক্ষায় পাকিস্তান বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুললেও বিস্তীর্ণ ও অস্থিতিশীল বেলুচিস্তানে অবকাঠামো সুরক্ষা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকি

ভৌগোলিক অবস্থানও গদরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। চীন পর্যন্ত স্থলপথে পণ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল অতিক্রম করতে হয়।

কারাকোরাম মহাসড়কের কিছু অংশ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪ হাজার ৬০০ মিটারেরও বেশি উচ্চতায় অবস্থিত। সেখানে ভূমিধস, তুষারধস এবং চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে সমুদ্রপথের তুলনায় দীর্ঘ স্থলপথে জ্বালানি পরিবহনের অর্থনৈতিক কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আরও পড়ুন: হলুদ বিন্দু দেখে খননে ২ কোটি টাকার স্বর্ণের খণ্ড উদ্ধার

বাণিজ্যিক বাস্তুতন্ত্রের অভাব

একটি বন্দরকে সফল বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করতে শুধুমাত্র জেটি ও ক্রেন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পর্যাপ্ত পণ্য পরিবহন, নিয়মিত জাহাজ চলাচল, শিল্প, গুদাম, সড়ক-রেল যোগাযোগ এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। গদর এখনো এমন বাণিজ্যিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারেনি।

লোয়ি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত কার্গো না থাকায় বড় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো দুবাই, সালালাহ ও করাচির মতো প্রতিষ্ঠিত বন্দরকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে গদর এখনো মূলত রাষ্ট্রনির্ভর বা বিশেষায়িত কার্গোর ওপর নির্ভরশীল।

স্থানীয় বিরোধ ও নতুন চীনা নীতি

আরও পড়ুন: ফ্লাভিও বলসোনারোর পাসপোর্ট বাতিল

বন্দর এলাকার বাইরেও গদর শহরে পানি ও বিদ্যুতের ঘাটতি রয়েছে। স্থানীয় জনগণের একাংশও দীর্ঘদিন ধরে পানি, বিদ্যুৎ, মাছ ধরার অধিকার এবং বন্দরকেন্দ্রিক বিধিনিষেধ নিয়ে আন্দোলন করে আসছে। হক দো তেহরিকসহ বিভিন্ন আন্দোলনে স্থানীয় মানুষের অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে।

ফলে চীনের বিদেশি বিনিয়োগ নীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। বড় আকারের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের পরিবর্তে এখন আর্থিকভাবে টেকসই ও তুলনামূলক ছোট প্রকল্পে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বেইজিং। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিকভাবে দুর্বল গদরে নতুন করে বড় বিনিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তবে গদরের গুরুত্ব শুধুমাত্র বাণিজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হরমুজ প্রণালির নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে ভারত মহাসাগরের পশ্চিমাঞ্চলে চীনের নৌ-লজিস্টিকসের জন্য বন্দরটির সম্ভাব্য কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। তবে এটিকে চীনের নৌঘাঁটিতে রূপান্তর করা হচ্ছে—এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

পাকিস্তানের পিছুটান

আরও পড়ুন: ভারতের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের ২২২৭ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন

লোয়ি ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে চীন গদরের বাণিজ্যিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কমিয়ে একটি ছোট, কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এবং কৌশলগত ও লজিস্টিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী স্থাপনায় পরিণত করতে পারে।

ফলে গদর চীনের কৌশলগত হিসাব থেকে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে পাকিস্তানের ‘বাণিজ্যিক দুবাই’ বা ‘সিঙ্গাপুর’ হয়ে ওঠার যে স্বপ্নকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটির প্রচার করা হয়েছিল, বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক ভিন্ন হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতি প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০২ পি.এম


রাষ্ট্রপতি প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানালেন

চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের কারণে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রবীণদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

১ অক্টোবর ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রদত্ত এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘চিকিৎসাবিজ্ঞানের অভাবনীয় অগ্রগতি এবং জীবনমানের উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে, পৃথিবীর সব দেশেই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। দীর্ঘায়ুর এই যুগ প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, আবাসন ও কর্মসংস্থান ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে চিন্তার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।’

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘দ্য এইজ অব লংজিবিটি : রিথিংকিং সিস্টেমস ফর লংগার লাইভস’ বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ১ অক্টোবর ২০২৬ এ দেশেও ‘আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস’ পালিত হচ্ছে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল প্রবীণ নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও গভীর শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, এবারের দিবসের প্রতিপাদ্যটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অংশ হিসেবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়া অনিবার্য। তাই প্রত্যেক মানুষের বার্ধক্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫(ঘ) অনুচ্ছেদে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বয়স্ক ভাতা খাতে ৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে এবং সুবিধাভোগীর সংখ্যা ও ভাতা প্রদানের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।

তিনি জানান, প্রবীণদের কল্যাণ ও উন্নয়নে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের কল্যাণ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে বলে রাষ্ট্রপতি মনে করেন।

প্রবীণদের অবদান উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তারা কেবল অতীতের গল্প নন; তারা বর্তমানের শিকড় এবং ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। তাদের শ্রম, ঘাম, মেধা, ত্যাগ ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই আজকের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে।

তিনি আরো বলেন, প্রবীণদের একটি বড় অংশ অবনতিশীল স্বাস্থ্য, আর্থিক অনিশ্চয়তা ও নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছেন। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর প্রতি যত্নশীল দৃষ্টিভঙ্গি অপরিহার্য।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও জনহিতৈষী সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ এবং প্রতিটি পরিবার প্রবীণদের কল্যাণে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসবে।

তিনি বলেন, প্রবীণদের প্রতি ভালোবাসা, তাদের হাসিমুখ ও নিরাপদ বার্ধক্য নিশ্চিত করা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ ও বিশ্বের সব প্রবীণ ব্যক্তির সুস্বাস্থ্য ও শান্তিময় জীবন কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প সুন্দর পিচাইকে কেন ‘দানব’ বললেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


ট্রাম্প সুন্দর পিচাইকে কেন ‘দানব’ বললেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে একটি চমৎকার দুপুরের খাবারের আয়োজন করেছিলেন। খাবার শেষে সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেওয়ার সময় গুগলের প্রধান নির্বাহী সুন্দর পিচাইকে নিয়ে তিনি একটি মজার মন্তব্য করেন।

হঠাৎ করে ট্রাম্প সুন্দর পিচাইকে ‘দানব’ বলে উল্লেখ করেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে তার সফল ও ঝামেলাহীন জীবনের প্রশংসাও করেন। ট্রাম্পের মুখে এমন অদ্ভুত মন্তব্য শুনে উপস্থিত সবাই বিস্মিত হন, এবং ভিডিওতে দেখা যায় যে সুন্দর পিচাইও হাসিমুখে তার মন্তব্যের একটি চমৎকার উত্তর দেন।

এটি ঘটে যখন ট্রাম্প সুন্দর পিচাইকে কিছু বলার জন্য ডাকেন। তিনি বলার জন্য ডাকতে গিয়ে নিজেই থেমে গিয়ে বলেন, এই লোকটা একটা দানব, আর কেউ তাকে সেভাবে চেনেই না। কী দারুণ একটা জীবন! দানব হয়েও তাকে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। আপনার শুধু এটুকুই জানা দরকার—সুন্দর! সুন্দর হলো তার নাম...।

ট্রাম্পের এ মজার মন্তব্যের জবাবে সুন্দর পিচাই মুচকি হেসে বলেন, আশা করি এটি আমার সম্পর্কে বলা অন্য যেকোনো কথার চেয়ে বেশ ভালো একটা ট্যাগলাইন হবে...।

এদিকে এই হাস্যরসের বাইরেও অনুষ্ঠানে প্রযুক্তি জগতের বড় বড় নেতারা একত্রিত হয়েছিলেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ট্রাম্পের সঙ্গে গুগলের সুন্দর পিচাই, মাইক্রোসফটের সত্য নাদেলা, মেটার মার্ক জাকারবার্গ, ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার প্রধানরা একটি বড় চুক্তিতে সই করেছেন।

‘দ্য হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড অন সুপার ইন্টেলিজেন্স’ নামের এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো, উন্নত প্রযুক্তি যেন নিরাপদে মানুষের উপকারে আসে এবং কোনো ঝুঁকি তৈরি না করে।

অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই জানান, গুগল গত দুই বছরে তাদের এআই প্রযুক্তির পেছনে শত শত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রাখবে। মানুষের জীবন সহজ করা এবং প্রযুক্তির ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা টিকিয়ে রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। এই চুক্তির মাধ্যমে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কড়া নিয়ম মেনে ও যাচাই-বাছাই করে এআই মডেলগুলো তৈরি করতে সম্মত হয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেরপুরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ২৯৪ সেবাপ্রার্থীর সমস্যা উপস্থাপন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


শেরপুরে জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে ২৯৪ সেবাপ্রার্থীর সমস্যা উপস্থাপন

শেরপুর, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ একটি গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই গণশুনানির আয়োজন করা হয়, যেখানে শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।

গণশুনানিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আগত মোট ২৯৪ জন সেবাপ্রার্থী তাদের সমস্যা ও আবেদন উপস্থাপন করেন। এসময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৬৯ জনকে মোট ৮০ হাজার নয়শ’ টাকা নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

এছাড়া, গণশুনানিতে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন সহায়তার জন্য আবেদন গ্রহণ করেন। এর মধ্যে সেলাই মেশিনের জন্য ৫ জন, ঢেউটিনের জন্য ১৬ জন, ঘরের জন্য ৪ জন, ভ্যানগাড়ির জন্য ১ জন, হুইলচেয়ারের জন্য ৪ জন, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার জন্য ১০ জন, চাকরির জন্য ২ জন এবং নলকূপের জন্য ১ জনের আবেদন গ্রহণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বালিয়াডাঙ্গীতে তিন অসচ্ছল পরিবারের মেয়ের যৌতুকমুক্ত গণবিবাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ জিয়াউর রহমান ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:০৬ পি.এম


বালিয়াডাঙ্গীতে তিন অসচ্ছল পরিবারের মেয়ের যৌতুকমুক্ত গণবিবাহ

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ১৩ কনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্টের (GRT) অর্থায়নে তিন অসচ্ছল পরিবারের মেয়ের যৌতুকমুক্ত গণবিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) ওয়েল বিং বাংলাদেশ সোসাইটির (WBS) তত্ত্বাবধানে এবং ইমপ্লিমেন্টর হাফেজ মাওলানা মো. শরিফুল ইসলামের মাধ্যমে এ গণবিবাহের আয়োজন করা হয়।
গণবিবাহে রাবেয়ার সঙ্গে নুরনবী, রুখসানার সঙ্গে সাগর এবং পারুলের সঙ্গে মাসুদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তিনটি বিয়েই কোনো ধরনের যৌতুক ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে তিন কনের জন্য ঘর সাজানোর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র ও সামগ্রী প্রদান করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিয়ের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সামগ্রীই কনেদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, পুরো আয়োজনটি ছিল সম্পূর্ণ যৌতুকমুক্ত। তিন পরিবারের কাউকেই বিয়ের জন্য কোনো ধরনের অর্থ ব্যয় করতে হয়নি। বিবাহের যাবতীয় খরচ গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট বহন করেছে।
বিবাহ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ১৩ কনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এতে কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিয়ে শেষে নবদম্পতিদের জন্য দোয়া মাহফিল ও অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।
ইমপ্লিমেন্টর হাফেজ মাওলানা মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, “গ্লোবাল রিলিফ ট্রাস্ট সারা বাংলাদেশে অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের গণবিবাহের আয়োজন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে তিনটি অসচ্ছল পরিবারের মেয়ের বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত একজন বলেন, “অর্থের অভাবে অনেক অসচ্ছল পরিবার মেয়েদের বিয়ে দিতে সমস্যায় পড়েন। এ ধরনের উদ্যোগ তাদের জন্য সহায়ক। ভবিষ্যতেও আরও অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হবে—এটাই প্রত্যাশা।”
আয়োজকরা জানান, অসচ্ছল পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং যৌতুকমুক্ত বিয়ের মাধ্যমে সামাজিকভাবে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করাই এ ধরনের উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%