শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০৫ এম
এর আগে তিনি বহুবার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছেন। তবে এবারের সংবাদ সম্মেলনটি কিছুটা ভিন্ন। জার্মানির নতুন কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ জাতীয় দলের সংবাদ সম্মেলনে প্রথমবারের মতো দল ঘোষণা করতে এসেছিলেন।
এটি স্মরণীয় হয়ে রইল একটি বিশেষ কারণে। বর্তমানে খেলোয়াড় এবং কোচদের মধ্যে রাজনৈতিক আলোচনা দেখা যায় না। সেখানে তিনি পরে এলেন একটি ক্যাপ পরে, যেখানে একটি স্পষ্ট বার্তা ছিল। এরপর সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বেও তিনি রীতিমতো বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
সাবেক লিভারপুল কোচ কালো একটি ক্যাপ পরে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন। ক্যাপটিতে লেখা ছিল, আইনের ভন ৮৩ মিলিওনেস। এর অর্থ হলো, ৮ কোটি ৩০ লাখ মানুষের একজন।
তিনি উল্লেখ করেন, জার্মানির ফুটবল দল দেশের জনগণের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে, যাতে জাতীয় গর্ব ভুল মানুষের হাতে চলে না যায়। সম্প্রতি অভিবাসনবিরোধী কট্টর ডানপন্থী দল এএফডি একটি রাজ্য নির্বাচনে বড় জয় লাভ করেছে। সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করেই তিনি এমন মন্তব্য করেন।
গত ৬ সেপ্টেম্বর পূর্ব জার্মানির স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে প্রায় চুয়াল্লিশ শতাংশ ভোট পেয়েছে এএফডি। এখানেই শেষ নয়। আগামী রোববার বার্লিন এবং মেকলেনবুর্গ-ভরপমার্ন রাজ্যের নির্বাচনে তাদের ভালো ফল পাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
গত জুলাই মাসে জার্মানির দায়িত্ব গ্রহণ করেন ক্লপ। এর আগে চারবারের বিশ্বকাপজয়ী দলটি টানা তৃতীয়বার বড় টুর্নামেন্ট থেকে তাড়াতাড়ি বিদায় নিয়েছিল। ঊনষাট বছর বয়সী এই কোচ লিভারপুল, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড এবং মাইনৎসের দায়িত্বে থাকার সময়ও সামাজিক নানা বিষয়ে কথা বলেছেন।
তিনি সরাসরি এএফডির নাম না নিয়ে যা বলেছেন, তা রীতিমতো বিস্ফোরক। তিনি ‘ভুল মানুষ’ বলে আখ্যা দেন স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে বিজয়ী এএফডিকে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই না জাতীয় গর্ব ভুল মানুষের হাতে চলে যাক। খুব বেশি দিন আগে নয়, অনেক কিছু ঘটেছে। একটি ভোট হয়েছে, যা হয়তো কারও কাছে ঠিক মনে হয়েছে, কিন্তু অন্যরা হয়তো ভেবেছেন, হায় ঈশ্বর, এখানে কী হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন খেলাধুলার মানুষ হিসেবে আমি চাই, আমাদের পতাকাটা আবার ফিরিয়ে নিতে। যখন আমরা এই পতাকা নাড়াই, তখন কেউ যেন না ভাবে তোমার কী হয়েছে। বরং তারা যেন ভাবে, তুমি খুশি, এবং তুমি বোঝো কতটা ভাগ্যবান যে এই সুন্দর দেশে জন্মেছ, অথবা এখানে এসে থাকছ।’
জাতীয় গর্বের প্রসঙ্গে ক্লপ বলেন, তিনি নিশ্চিত নন যে এই শব্দটি এখনো ভুল বোঝাবুঝি ছাড়া ব্যবহার করা যায় কিনা, বা করার অনুমতি আছে কিনা। তিনি বলেন, ‘আমি জার্মান হওয়ার কারণে গর্বিত হতে পারি, আবার একই সঙ্গে খোলা মনের, বৈচিত্র্যময়, সদয় এবং বন্ধুত্বপূর্ণও হতে পারি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢালিউডের অভিনেত্রী আফিয়া নুসরাত বর্ষা বেশ কিছুদিন ধরে সিনেমা থেকে দূরে রয়েছেন। যদিও তার ক্যারিয়ার দীর্ঘ, তবে তিনি তেমন সফলতা অর্জন করতে পারেননি। গত বছর তিনি জানিয়েছিলেন, পারিবারিক কারণে অভিনয় থেকে বিরতি নেবেন। এরপর থেকে তাকে নতুন কোনো কাজের মধ্যে দেখা যায়নি। তবে সামাজিক মাধ্যমে তিনি ভক্ত ও অনুরাগীদের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
আফিয়া নুসরাত বর্ষা ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কখনোই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেননি। ২০১১ সালে তিনি চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তারা সুখে সংসার করছেন এবং তাদের সুখী দাম্পত্য জীবন প্রায়ই একটি সুন্দর সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এবার বর্ষা সামাজিক মাধ্যমে সম্পর্ক স্থায়ী করার একটি টোটকা শেয়ার করেছেন। তার পোস্টে পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।
অভিনেত্রী তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন— "যে কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে আপনাকে সেই সম্পর্কে ইনভেস্ট করতে হবে।" তিনি আরও বলেন, "এই ইনভেস্টমেন্ট বলতে শুধু টাকা-পয়সা বোঝায় না।" বর্ষা বলেন, "অবশ্যই জীবনে চলার জন্য টাকা-পয়সার প্রয়োজন আছে, কিন্তু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার জন্য সবসময় অর্থই বড় বিষয় নয়।"
তিনি জানান, "আমার কাছে সম্পর্কের আসল ইনভেস্টমেন্ট হচ্ছে— আপনার সময়, আপনার ব্যবহার, আপনার যত্ন এবং পারিবারিকভাবে একজন মানুষকে নিজের জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে নেওয়া।" বর্ষা বলেন, "আপনি যদি সত্যিই জানেন যে, ‘এই মানুষটা আমার জীবনে সারাজীবন থাকবে’ অথবা আপনি তাকে আপনার জীবনে রাখতে চান, তাহলে তাকে আপনার পরিবার ও পারিবারিক বন্ধনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন।"
তিনি আরও বলেন, "কারণ একটা সময় যখন একজন মানুষের সঙ্গে পরিবারের সামাজিকতা, সম্মান, মায়া, দায়বদ্ধতা এবং আত্মিক একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে যায়, তখন সেই জায়গা থেকে সরে আসার আগে মানুষ অন্তত একবার হলেও চিন্তা করে— আমি চলে গেলে কী হবে? এই সম্পর্কগুলোর কী হবে? আমার কাছে এটাই সম্পর্কের একটা বড় ইনভেস্টমেন্ট।"
অভিনেত্রী বর্ষা বলেন, "তাই আমি সবসময় বলি— আপনি যদি কারও সঙ্গে কোনো সম্পর্ক সত্যিই টিকিয়ে রাখতে চান, তাহলে সেখানে আপনাকে ইনভেস্ট করতে হবে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন, "শুধু অর্থ দিয়ে নয়— সময়, ব্যবহার, আন্তরিকতা এবং আপনার পরিবারকে সেই সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে।"
বর্ষা পরামর্শ দেন, "আপনার বাবা-মা কিংবা পরিবারের বড়দের সঙ্গে আপনার পছন্দের মানুষটাকে পরিচয় করিয়ে দিন, তাকে পারিবারিকভাবে আপন করে নিন।" কারণ, তিনি বলেন, "কোনো সম্পর্ক যখন শুধু দুজন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং পরিবারের মানুষের সঙ্গেও একটা বন্ধন তৈরি হয়, তখন সেই সম্পর্কের সঙ্গে মায়া, সম্মান এবং দায়বদ্ধতাও তৈরি হয়।" বর্ষা শেষ পর্যন্ত বলেন, "আর সে কারণেই কোনো সম্পর্ককে সত্যিকার অর্থে দীর্ঘস্থায়ী করতে চাইলে শুধু ভালোবাসা যথেষ্ট নয়— সেখানে সময়, যত্ন, সম্মান, ব্যবহার এবং পারিবারিক বন্ধনেরও ইনভেস্টমেন্ট দরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রোবট তৈরি করছে রোবট—এটি একটি কল্পবিজ্ঞানের গল্পের মতো শোনালেও, চীন এই প্রযুক্তিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। লিউঝৌ শহরে একটি নতুন কারখানায় হিউম্যানয়েড রোবটের সাহায্যে প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে শিল্পকারখানায় ব্যবহারের উপযোগী রোবট উৎপাদন করা হচ্ছে।
চীনের রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউবিটেক রোবোটিকস গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে এই কারখানাটি স্থাপন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এ কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা সর্বোচ্চ ১০ হাজার রোবট।
১৪ হাজার বর্গমিটার আয়তন এবং ১৩ দশমিক ৮ মিটার উচ্চতার এই কারখানায় মূলত ইউবিটেকের ওয়াকার এস ও ক্রুজার সিরিজের শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করা হয়। উৎপাদন ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য এখানে ‘স্মার্ট ব্রেন’ নামে একটি ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইউবিটেকের মতে, এই ব্যবস্থা উৎপাদন পরিকল্পনা, যন্ত্রাংশ স্থানান্তর এবং প্রস্তুত পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ তদারকি করে। প্রতিটি রোবটকে একটি স্বতন্ত্র সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়, যা উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে তার অবস্থান ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে সহায়তা করে।
কারখানার ভেতরে উপকরণ খালাস, সংরক্ষণ, পণ্য পরিবহন এবং উৎপাদন লাইনের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের কাজ করছে ক্রুজার ওয়াই১ ও ক্রুজার এস২ মডেলের রোবট। অর্থাৎ, কিছু রোবট নতুন রোবট তৈরির প্রক্রিয়াকেও সহায়তা করছে।
চূড়ান্ত সংযোজন পর্যায়ে হিউম্যানয়েড রোবটের পাশাপাশি সহযোগী রোবোটিক বাহু, চালকবিহীন লজিস্টিক যান, শক্তি-সহায়ক যন্ত্র এবং ঘূর্ণনশীল কর্মমঞ্চ ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে একই উৎপাদন লাইনে বিভিন্ন ধরনের রোবট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, আলাদা সংযোজন লাইন স্থাপনের প্রয়োজন পড়ছে না।
বাজারে পাঠানোর আগে প্রতিটি হিউম্যানয়েড রোবটকে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এরপর ৩৬০ ডিগ্রি ভিজ্যুয়াল পরিদর্শনের মাধ্যমে রোবটের বাহ্যিক অবস্থা যাচাই করা হয়।
কারখানার স্বয়ংক্রিয় গুদামে মাত্র ৬৫ বর্গমিটার জায়গায় ১১২টি হিউম্যানয়েড রোবট সংরক্ষণ করা যায়। সেখানে স্বয়ংক্রিয় নির্দেশিত যান, চালকবিহীন ফর্কলিফট এবং অন্যান্য লজিস্টিক যন্ত্রাংশের মাধ্যমে রোবট ও প্রয়োজনীয় উপাদান সংযোজন, পরীক্ষা ও সংরক্ষণ এলাকার মধ্যে স্থানান্তর করা হয়।
চীনে দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়া রোবট শিল্পের মধ্যে এই কারখানার কার্যক্রম শুরু হলো। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে চীনে ৯৮ হাজার ৬৭৭টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে দেশটিতে মোট ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার বৈদ্যুতিক যান (ফুল ইলেকট্রিক ভেহিকেল-এফইভি) সরকারি প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানির গাড়ি কেনায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। অর্থ বিভাগ এসব গাড়ির স্পেসিফিকেশন ও বাজারদর বিবেচনায় সর্বোচ্চ মূল্যসীমা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে সরকারি গাড়ি কেনায় জ্বালানিনির্ভরতার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যান ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।
অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৪ শাখার ১৬ সেপ্টেম্বরের একটি চিঠিতে এ মূল্যসীমা জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, রাষ্ট্রায়ত্ত ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত স্পেসিফিকেশনের এফইভি কেনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত দাম অনুসরণ করতে হবে।
নির্ধারিত তালিকায় সাধারণ কারের সর্বোচ্চ মূল্য ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে মোটর পাওয়ার কমপক্ষে ৯৫ কিলোওয়াট, ব্যাটারি সক্ষমতা ৬০ কিলোওয়াট/ঘণ্টা এবং একবার চার্জে কমপক্ষে ৪০০ কিলোমিটার চলার সক্ষমতা থাকতে হবে। এছাড়া, ব্যাটারির ওয়ারেন্টি কমপক্ষে আট বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রেড-৩ ও তদনিু কর্মকর্তাদের জন্য বৈদ্যুতিক জিপের সর্বোচ্চ দাম ৫৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রেড-২ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য জিপের মূল্যসীমা ৭৫ লাখ টাকা। বিআরটিএর বিধান অনুযায়ী বৈদ্যুতিক মোটরযানের জন্য আলাদা শনাক্তকরণ ও কিলোওয়াটভিত্তিক নিবন্ধনের ব্যবস্থা রয়েছে।
অর্থ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুমোদিত মূল্যসীমা অতিক্রম না করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। এর ফলে সরকারি গাড়ি কেনায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিদ্যুৎচালিত পরিবহণ ব্যবহারের পরিধি বাড়ানোর নতুন সুযোগ সৃষ্টি হলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে দুই গ্রুপের ঠিকাদারি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ বিএনপির তিন নেতাকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দোসর উল্লেখ করে ‘গায়েবি’ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে ঠিকাদার মো. আব্দুল কাদের সিকদার সাতকানিয়া থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় বিএনপি নেতা এমএ হাশেম রাজু ছাড়া আরও দুজনকে সাক্ষী রাখা হয়েছে। মামলার ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে সাতকানিয়া থানার ১১ নম্বর কালিয়াইশ ইউনিয়নের চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের কার্যালয়ের সামনে। অথচ এমন কোনো ঘটনাই সেখানে ঘটেনি।
এদিকে, মিথ্যা মামলা গ্রহণের এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাতকানিয়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি জেলা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এজাহারে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, নাশকতার উদ্দেশে লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল এবং বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়।
এজাহারে চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন-গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি নেতা আফিল উদ্দিন আহমদ, চন্দনাইশ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ইলিয়াছ বাবুল এবং ঠিকাদার কামাল উদ্দিন চৌধুরী বাচা। এছাড়া অজ্ঞাত আরও অনেকে রয়েছেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আসামিরা চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের কার্যালয়ের সামনে দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিলের আয়োজন করেন। তারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অর্থায়নে সহায়তা, আসামিদের আশ্রয়দান ও প্ররোচিত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে ওই কর্মসূচি পালন করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে সড়ক বিভাগের কার্যালয়ের মূল ভবনে থাকা প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুর করে উল্লাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
মামলার নেপথ্যে সওজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ :
অভিযোগ রয়েছে বিএনপির একপক্ষের এই ‘গায়েবি’ মামলার উদ্দেশ্য চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের ঠিকাদারি কাজে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
সওজ ও আশপাশের প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য মতে, মামলায় যে ঘটনাস্থল দেখানো হয়েছে, ওই স্থানে এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। পুরোটাই ‘কাল্পনিকভাবে’ সাজানো হয়েছে ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগে বিএনপির দুপক্ষে কাজের ভাগ-বাটোরায়া নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ ঠিকাদার সমিতি’ এবং ‘চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ ঠিকাদার কল্যাণ সমিতি’ নামে দুটি আলাদা সমিতিও রয়েছে। সড়ক বিভাগের কোটি কোটি টাকার ঠিকাদারি কাজ নিয়ন্ত্রণ ও ভাগ-বাটোয়ারার সুবিধার্থে স্থানীয় বিএনপির দুপক্ষ নিজেদের মতো করে এসব সমিতি গড়ে তুলেছে।
একটি সমিতির নেত্বত্বে রয়েছেন চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ হাশেম রাজু এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী। অন্য সমিতির সভাপতি বিএনপি নেতা আফিল উদ্দিন আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি সাতকানিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস বাবুল।
জানা যায়, সোমবার দুপুর ২টার দিকে এমএ হাশেম রাজুর নেতৃত্বাধীন সমিতি সড়ক বিভাগ কার্যালয়ের মাঠে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। অন্যদিকে, ওইদিন রাতে আফিল উদ্দিনের নেতৃত্বে অপরপক্ষের নেতাকর্মীরা সড়ক বিভাগ কার্যালয়ের একটি কক্ষে ছোট পরিসরে আলোচনা সভা করে। ওইদিন বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে কিছুই ঘটেনি। অথচ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ডাহা মিথ্যা মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ইলিয়াস বাবুল বলেন, ‘বিএনপি করার কারণে ১৭ বছর আওয়ামী লীগের আমলে অনেক গায়েবি মামলার আসামি হয়েছি। এখন বিএনপির আমলে আরেকটি ‘গায়েবি’ মামলার আসামি হলাম। অথচ আমি আজীবন আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম সহ্য করেছি। সোমবার রাতের সেই আলোচনা সভায় আমি উপস্থিতই ছিলাম না।’
সাতকানিয়া থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি সোমবার করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।’
জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বিষয়টি খতিয়ে দেখতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এবং সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ