ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছে: প্রধানমন্ত্রী


সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা, ৬ নভেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করেছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং দেশের সেনাবাহিনীর গৌরবকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী এই বক্তব্যটি আগামীকাল ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে প্রদান করেন। তিনি দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে জাতীয়ভাবে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ওয়াকফের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করার সময় একটি প্রবাদবাক্য মনে রাখতে হবে—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একত্রিত হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, ঠিক সেভাবেই ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।

আরও পড়ুন: জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখতে হলে ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তাঁবেদার অপশক্তির বিরুদ্ধে সিপাহি-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান—ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রতিটি বিপ্লব ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই। তা হলো, স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি স্বনির্ভর ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠন।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী চক্রান্ত নস্যাৎ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সংঘটিত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবের এই ঐতিহাসিক দিনে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণের দীপ্ত উচ্চারণ হোক—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

আরও পড়ুন: মাইশার মৃত্যুর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, বিশেষজ্ঞ দল আসছে

৭ নভেম্বরের বৈপ্লবিক চেতনা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে উঠবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৬ কোটি ৮০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৩৯ পি.এম


গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৬ কোটি ৮০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ, পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি হামলার ফলে ৬ কোটি ১০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখ টন ধ্বংসস্তূপ জমা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এই ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বিপজ্জনক বর্জ্য ও ক্যানসার সৃষ্টিকারী অ্যাসবেস্টস অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে উপত্যকাটিতে ভয়াবহ পরিবেশ ও মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাতে পরিবেশের শোষণ রোধে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয় ফিলিস্তিনের পরিবেশ মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞের কারণে গাজাজুড়ে ৬১ থেকে ৬৮ মিলিয়ন টন ধ্বংসস্তূপ জমেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ টন বিপজ্জনক বর্জ্য এবং অন্তত ৫০ হাজার টন অ্যাসবেস্টস রয়েছে।

অ্যাসবেস্টস হলো এক ধরনের আঁশযুক্ত পদার্থ, যা ক্যানসার সৃষ্টি করতে পারে। অতীতে এটি নির্মাণ ও ভবনের তাপ নিরোধক উপকরণ হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, ইসরাইলি হামলায় গাজার ৮২ শতাংশ কৃষিজমি, জলপাই ও অন্যান্য ফলের ৯৭ শতাংশ গাছ এবং পানি ও পয়োনিষ্কাশন অবকাঠামোর ৮৪ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে।

পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ফলে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত বর্জ্যপানি গাজার রাস্তাঘাট ও জলাধারে গিয়ে পড়ছে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। পাশাপাশি উপত্যকাটির বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেকনাফে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত, আটক নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


টেকনাফে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য নিহত, আটক নেই

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলায় সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির সময় এক সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় পাহাড়ে চলছে যৌথ বাহিনীর টহল অভিযান। তবে এ ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দুর্গম পাহাড়ে তিনজনের অজ্ঞাত নামা লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়েছে। তাদের লাশ উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকালে হ্নীলা ইউনিয়নে নয়াপাড়া ও লেদা ক্যাম্পের পূর্বে পাহাড়ের ঝিরিতে ওই সব লাশের সন্ধান পায় পুলিশ।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তারা ওই পাহাড়ে তিনজনের লাশ থাকার খবর পেয়েছেন। লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। যদি রাতে সম্ভব না হয়, তবে সকালে উদ্ধার করা হবে। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, পাহাড়ে অবস্থানরত সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। অপরাধী যে-ই হোক পার পাওয়ার সুযোগ নেই।

আইএসপিআর জানিয়েছে, ৫ নভেম্বর টেকনাফের হ্নীলার গহীন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।

এই তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল আনুমানিক বিকাল ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

এ সময় সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে আইএসপিআর জানিয়েছে।

গোলাগুলির একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য রামুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এমএইচ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারীর নিরাপত্তায় পুরুষ বডিগার্ড: ইসলাম কী নির্দেশ করে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


নারীর নিরাপত্তায় পুরুষ বডিগার্ড: ইসলাম কী নির্দেশ করে?

বর্তমান সময়ে অনেক নারী নিজেদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুরুষ বডিগার্ড বা নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করেন। যদিও জীবনের সুরক্ষা ও আত্মরক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, ইসলামি শরিয়তে নিরাপত্তার প্রকৃতি ও সীমা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়েছে।

বডিগার্ড নিয়োগের উদ্দেশ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলেও, একজন অনাত্মীয় (গাইরে মাহরাম) পুরুষ বডিগার্ডের দ্বারা নারীর শরীর স্পর্শ করা কতটুকু বৈধ, তা সঠিকভাবে জানা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামে, একজন নারীর জন্য যেকোনো অনাত্মীয় পুরুষকে 'গাইরে মাহরাম' হিসাবে বিবেচনা করা হয়। নিরাপত্তার কারণে কোনো পুরুষকে বডিগার্ড হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার অনুমতি থাকলেও, বডিগার্ড হওয়ার কারণে তিনি 'মাহরাম' বা রক্তের সম্পর্কের মধ্যে পড়েন না। শরিয়তের দৃষ্টিতে, তিনি সাধারণ পরপুরুষের মতোই গণ্য হবেন। তাই, পর্দা, দৃষ্টি সংযত রাখা এবং দৈহিক দূরত্বের সাধারণ বিধানগুলো বডিগার্ডের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে নিযুক্ত হলেও, পুরুষ বডিগার্ডের দ্বারা নারীর শরীর স্পর্শ করা সাধারণ অবস্থায় সম্পূর্ণ হারাম এবং নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে, পরপুরুষের জন্য কোনো পরনারীর শরীর স্পর্শ করা মারাত্মক গুনাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে নারীদের কাছ থেকে বাইআত বা শপথ নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও কোনো নারীর হাত স্পর্শ করেননি। তাই কেবল ‘পাহারা দেওয়া’ বা ‘বডিগার্ড হিসেবে নিয়োজিত থাকা’র অজুহাতে শরীরের স্পর্শকে বৈধ মনে করার সুযোগ ইসলামে নেই।

তবে ইসলাম একটি বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। যদি কখনো এমন চরম জরুরি পরিস্থিতি বা আক্রমণ ঘটে যেখানে নারীর প্রাণনাশের বা অপহৃত হওয়ার প্রত্যক্ষ আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, তখনই জীবন ও সম্ভ্রম রক্ষার্থে বডিগার্ড তাকে টেনে সরিয়ে নেওয়া বা রক্ষা করার উদ্দেশ্যে ন্যূনতম স্পর্শ করতে পারবেন। ইসলামি ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, জরুরি অবস্থায় নিষিদ্ধ বিষয়কে সাময়িকভাবে শিথিল করা হয় (الضرورات تبيح المحظورات)। তবে আক্রমণ বা প্রাণনাশের প্রত্যক্ষ ঝুঁকি ছাড়া সাধারণ সময়ে চলাফেরা, গাড়িতে ওঠানামা বা ভিড় ঠেলে পথ চলার সময় পুরুষ বডিগার্ডের শরীর স্পর্শ করা নাজায়েজ।

নারীদের দৈনন্দিন নিরাপত্তা ও পর্দার বিধান দুটিকে একসাথে রক্ষা করার জন্য সবচেয়ে উত্তম ব্যবস্থা হলো নারী বডিগার্ড নিয়োগ করা। এতে করে যেকোনো শারীরিক সহায়তা বা তল্লাশির প্রয়োজন হলে কোনো ধর্মীয় বিধান লঙ্ঘিত হবে না। আর যদি পুরুষ বডিগার্ড রাখতেই হয়, তবে তাকে এমনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে যেন দৈহিক স্পর্শ ছাড়াই এবং পর্দার মার্জিত দূরত্ব বজায় রেখে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন।

একজন নারী নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য পুরুষ বডিগার্ড রাখতে পারেন, তবে বডিগার্ডের জন্য তার শরীর স্পর্শ করা ইসলামি বিধান অনুযায়ী বৈধ নয়। নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার যেমন সত্য, ঠিক তেমনি ধর্মীয় সীমানা ও নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিয়ম মেনে ও স্পর্শ এড়িয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একজন সচেতন মুসলিম নারীর প্রধান দায়িত্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৭:৪১ পি.এম


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরামর্শ দিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার প্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

শুক্রবার সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

বিদ্যুৎমন্ত্রী বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আজকে সারা বিশ্বে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকটের মধ্যেও আমরা দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে বিদেশ থেকে বেশি দাম দিয়ে গ্যাস কিনছি। আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলাম, তখন গ্যাসের দাম ছিল ১২ ডলার, আর এখন সেই গ্যাসের দাম বেড়ে ৩২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আমরা এই কয় মাসে ভর্তুকি দিয়েছি ৪৭ হাজার কোটি টাকা।’

তিনি আরও বলেন, ‘এভাবে যদি আমরা ভর্তুকি দিতে থাকি, তবে সামাজিক প্রকল্পগুলো—যেমন রাস্তাঘাটের কাজ করা, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া, স্কুল ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করা—এসবের খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। আপনারা যদি সহযোগিতা না করেন, তবে এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।’

মন্ত্রী সৌরবিদ্যুতের সুবিধা এবং জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান হিসেবে এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা একটা সহজ পদ্ধতি পেয়েছি—আল্লাহর দেওয়া সূর্য। এই সূর্যের আলো থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। আমি আপনাদের সহযোগিতা চাই, ঘরে ঘরে সোলার বসান। তাহলে বিদ্যুতের বিলও দেওয়া লাগবে না, প্রিপেইড মিটারের জন্য ঘুরতেও হবে না, কাউকে কিছু বলাও লাগবে না। আপনার বিদ্যুৎ আপনার পছন্দমতো আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।’

নামাজ শেষে তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সবাইকে নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল কায়েস, কামারখন্দ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান ফেরদৌস, সাধারণ সম্পাদক রেজাতে রাব্বি উথান প্রমুখ।

এমই

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%