ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা


বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের প্রথম ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত ক্যাম্পাস ঘোষণা

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়কে (ববি) আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের প্রথম ‘ফ্যাসিস্ট বাহিনী মুক্ত’ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৫তম সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।

জানা যায়, ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে গত ১৮ জুলাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের মুখে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকারের পেটোয়া বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনে দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ফ্যাসিস্টমুক্ত হয় ক্যাম্পাসটি। শিক্ষার্থীদের এই সাহসী প্রতিরোধই পরবর্তীতে বরিশালে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশীদ এবং সিন্ডিকেট সদস্য ও বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানান, সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি এখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও চ্যান্সেলর বরাবর পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন: পাবনায় শ্রমিক লীগ ও বিএনপির দুই নেতাকে গুলি করে হত্যা

বিডিপ্রতিদিন/কেকে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ ড্রাইভিং স্কুল মালিকদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৫ পি.এম


ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ ড্রাইভিং স্কুল মালিকদের

দেশের বৈধ ড্রাইভিং স্কুল মালিকরা গাড়ি চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স অনুমোদনসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় নিজেদের সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি দক্ষ চালক তৈরির প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক। তারা অবৈধ ড্রাইভিং স্কুলের বাণিজ্য বন্ধের জন্যও দাবি জানিয়েছেন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) ড্রাইভিং ট্রেনিং স্কুল সোসাইটির আয়োজনে এক আলোচনা সভায় এই দাবি উত্থাপন করা হয়। রাজধানীর মিরপুরের একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও দাবির কথা জানানো হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নুর নবী শিমু। তিনি উল্লেখ করেন, ‘দেশে দক্ষ গাড়ি চালক তৈরির লক্ষ্যে এবং সড়কে নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে আমাদের সংগঠন যুক্ত রয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমরা কাজ করবো। ড্রাইভিং স্কুল মালিকদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আমরা সরকারের কাছে লিখিতভাবে দাবি জানাবো।

সভায় সংগঠনের উপদেষ্টা জিয়াউল হক, ইন্সট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবুল বাশার, দুর্ঘটনা ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক আবেদ হোসেন পলাশ, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সভাপতি ইনজামামুল হক রামীম, সদস্য মাসুদুল ইসলাম কমল, কামাল হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, আনোয়ার হোসেন, লিটন হাবীবসহ অন্যান্য বক্তারা বক্তব্য রাখেন।

 

অনুষ্ঠানে তারা ড্রাইভিং স্কুল সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সরকারের কাছে বিভিন্ন দাবি জানাবেন বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়াও, ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি ড্রাইভিং স্কুল মালিকরা সারা দেশে একযোগে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে পুরান ঢাকায় যাওয়ায় পণ্যবাহী ৯ ট্রাক জব্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৪৯ পি.এম


নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে পুরান ঢাকায় যাওয়ায় পণ্যবাহী ৯ ট্রাক জব্দ

ঢাকা, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ : নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে পুরান ঢাকার নয়াবাজার এলাকায় প্রবেশ করায় শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধায় আমদানি করা প্রায় ৭৩ মেট্রিক টন পণ্যবাহী নয়টি ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইআইডির সহকারী পরিচালক কাজী আল মাসুম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৮ আগস্ট রাতে নয়াবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে বন্ড সুবিধার আওতায় আমদানি করা প্রায় ৭৩ মেট্রিক টন পণ্যবাহী নয়টি ট্রাক জব্দ করা হয়।

তিনি জানান, অভিযানের সময় ধাওয়া করলে একটি ট্রাক পালিয়ে যায়। এছাড়া আগে থেকে নির্ধারিত স্থানে রাখা আরও একটি ট্রাক শনাক্ত করা হয়। পরে জব্দ করা ট্রাকগুলো সিআইআইডির নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।

কাজী আল মাসুম বলেন, অভিযানের সময় পালিয়ে যাওয়া ট্রাকটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে ট্রাকটি শনাক্ত এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, ভারত থেকে খুলনার শ্রী ফ্লেক্সোপ্যাক লিমিটেডের নামে পণ্যগুলো আমদানি করা হয় এবং এগুলোর গন্তব্য ছিল খুলনার একটি বন্ডেড প্রতিষ্ঠান।

তিনি বলেন, ‘খুলনায় যাওয়ার নির্ধারিত রুট অনুসরণ না করে ট্রাকগুলো রুট পরিবর্তন করে পুরান ঢাকায় প্রবেশ করে। আমাদের ধারণা, স্থানীয় গুদামে পণ্য খালাস ও বিক্রির উদ্দেশ্যে এগুলো নেওয়া হচ্ছিল।’

সিআইআইডির এ কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম থেকে খুলনাগামী পণ্যবাহী যানবাহনের নির্ধারিত রুট হলো কাঁচপুর-সাইনবোর্ড-পোস্তগোলা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে-পদ্মা সেতু-খুলনা।

তিনি আরও বলেন, ট্রাকগুলো পোস্তগোলা থেকে নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে ঢাকার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শেষ পর্যন্ত নয়াবাজার এলাকায় প্রবেশ করে, যা খুলনাগামী স্বাভাবিক পরিবহন পথের বাইরে।

সিআইআইডি জানায়, জব্দ করা চালানে ডুপ্লেক্স বোর্ড ও অসম্পূর্ণ পণ্য ছিল। এসব পণ্য ভারতের মেহালি পেপার্স প্রাইভেট লিমিটেড থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মাধ্যমে আমদানি করা হয়।

কাজী আল মাসুম বলেন, তদন্তে ট্রাকগুলোর মালিকানা ও চলাচল, পণ্যের প্রকৃত গন্তব্য এবং আমদানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহনকারী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘যদি প্রমাণিত হয় যে বন্ডেড পণ্য অনুমোদিত উৎপাদন কার্যক্রমের বাইরে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, খালাস করা বা বিক্রি করা হয়েছে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কাস্টমস ও বন্ডসংক্রান্ত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও জানান, এর আগে একই ধরনের বন্ডেড পণ্য সরিয়ে নিয়ে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইমরানের মুক্তির দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জাভেদ মিয়াঁদাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫১ পি.এম


ইমরানের মুক্তির দাবিতে কান্নায় ভেঙে পড়লেন জাভেদ মিয়াঁদাদ

কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দীর্ঘদিনের সতীর্থ ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান জাভেদ মিয়াঁদাদ। ইমরানকে একজন ‘সৎ মানুষ’ উল্লেখ করে আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের সমাধান এবং তাকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তানি সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্ম ‘ন্যারেটিভস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরান খানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন ৬৯ বছর বয়সী মিয়াঁদাদ।

তিনি বলেন, কেউ আমাকে এটা বুঝিয়ে বলুন। সে কি পাকিস্তানকে খেয়ে ফেলবে? আমরা সবাই পাকিস্তানি। একসঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধান করা উচিত। পরিস্থিতিকে অযথা দীর্ঘায়িত করা ঠিক নয়।

ইমরানের সঙ্গে খেলোয়াড়ি জীবনে কোনো শত্রুতা বা বিরোধ ছিল না বলেও জানান পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। ইংল্যান্ডে একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলা এবং দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানোর স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি।

মিয়াঁদাদ বলেন, আমরা খুব ঘনিষ্ঠ ছিলাম। একসঙ্গে কাউন্টি ক্রিকেট খেলেছি, সময় কাটিয়েছি এবং একে অপরকে খুব ভালোভাবে বুঝতাম। একসঙ্গে আমরা পাকিস্তানকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছিলাম।

সাবেক সতীর্থের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলতে গিয়ে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মিয়াঁদাদ। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, আমার প্রার্থনা হলো, যা সঠিক, তা যেন প্রতিষ্ঠিত হয়। আপনারা আমার চোখে পানি এনে দিয়েছেন। আমি যা বলছি, হৃদয় থেকেই বলছি।

ইমরানের জন্য নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। মিয়াঁদাদের ভাষায়, আমি যদি কিছু করতে পারি, অবশ্যই করব। আমরা সবাই পাকিস্তানি। আমরা সবাই পাকিস্তানের পতাকা বহন করেছি। অন্য সব মতপার্থক্যের অবসান হওয়া উচিত।

ইমরান খানকে জাতীয় বীর হিসেবেও উল্লেখ করেন মিয়াঁদাদ। অতীতে ইমরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনা নিয়ে সমালোচনা করলেও এবার তার অবদান স্মরণ করার আহ্বান জানান তিনি।

‘যা ভুল, তা ভুলই। তবে অবশ্যই সে একজন জাতীয় বীর। আমি পাকিস্তান সরকারের কাছেও আবেদন জানাচ্ছি। আমরা অনেক সময় একসঙ্গে কাটিয়েছি এবং একসঙ্গে খেলেছি। আমি ইমরানকে খুব ভালোভাবে চিনি। সে একজন সৎ মানুষ, বলেন মিয়াঁদাদ।

ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পাকিস্তানের এই কিংবদন্তি ক্রিকেটার। তার আশঙ্কা, ইমরানের কিছু হলে দেশে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে।

মিয়াঁদাদ বলেন, আল্লাহ না করুন, তার কিছু হলে কী ঘটবে দেশে, তা কি কল্পনা করতে পারেন? পুরো পাকিস্তান কাঁদবে।

ইমরান খান ও জাভেদ মিয়াঁদাদের ক্রিকেটীয় বন্ধুত্বের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় ১৯৯২ বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে তৃতীয় উইকেটে দুজন মিলে ১৩৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন, যা পাকিস্তানের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

১৯৯২ সালে ইমরান খানের নেতৃত্বেই পাকিস্তান তাদের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতে। ক্রিকেট থেকে অবসরের পর রাজনীতিতে যোগ দিয়ে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৯শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৫২ পি.এম


শাড়িকাণ্ডে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

শাড়ি ফেরত না দেওয়া, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্তে অভিযোগগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত শেষে সম্প্রতি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। 

তবে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট নন মামলার বাদী ও ফ্যাশন ডিজাইনার আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া। তার দাবি, মামলার তদন্তের সময় হুমকির অডিও রেকর্ডিংসহ বিভিন্ন প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হলেও সেগুলো যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। এ কারণে তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে মামলাটি করেন আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া। আদালতের নির্দেশে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই।

বাদীর দাবি, তদন্তের সময় তিনি সাক্ষী, হুমকির অডিও রেকর্ডিংসহ বিভিন্ন প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দিয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেওয়ায় তিনি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।

আয়েশাহ আনুম ফায়যাহ সানায়া বলেন, ‘মামলার পর আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করে। আমি সাক্ষী, হুমকির অডিও রেকর্ডিংসহ সব প্রমাণ দিয়েছি। কিন্তু কোনো কারণ উল্লেখ না করে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এতে আমি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আইনজীবীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করব।’

বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় গণমাধ্যমকে জানান, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতউল্লাহর আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। ওই দিনই তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।

তার ভাষ্য, ‘তানজিন তিশার হুমকির অডিও রেকর্ডিং তদন্ত কর্মকর্তাকে শোনানো হলেও তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। আমরা আদালতে ন্যায়বিচার চাইব। আশা করছি, সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেবেন।’

মামলার নথি অনুযায়ী, বাদী একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং ঢাকার গুলশানের ১২৭ নম্বর রোডে তার একটি ফ্যাশন হাউজ ও স্টুডিও রয়েছে। অন্যদিকে তানজিন তিশা একজন মডেল ও অভিনেত্রী। বিভিন্ন ফ্যাশন ও অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অংশ নেওয়ার সূত্রে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তানজিন তিশা তার সাবেক ড্রাইভারের মাধ্যমে বাদীর কাছ থেকে একটি শাড়ি নেন। বাদীপক্ষের দাবি, শাড়িটির মূল্য ছিল ৭৫ হাজার টাকা এবং অনুষ্ঠান শেষে পরদিনই সেটি ফেরত দেওয়ার কথা ছিল। তবে শাড়িটি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

শাড়িটি ফেরত চেয়ে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিশাকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান বাদী। তবে উভয়ের মেসেঞ্জারের স্ক্রিনশট পর্যালোচনা করে তদন্ত কর্মকর্তা দেখতে পান, তিশা ওই বার্তাগুলো ‘সিন’ করেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যস্ততার কারণে তিশা নিয়মিত ফেসবুক মেসেঞ্জার ব্যবহার করতেন না।

এরপর ২০২৫ সালের ১৪ এপ্রিল বাদী তিশাকে পহেলা বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান। একই বছরের ১৮ মে একটি অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তাদের দেখা ও কুশল বিনিময়ও হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ফ্যাশন হাউজের ট্রায়াল রুম ও ব্যক্তিগত বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা এবং মনোমালিন্য তৈরি হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৫ নভেম্বর বাদী আবার তিশাকে মেসেঞ্জারে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার জন্য বার্তা পাঠান।

জবাবে তিশা শাড়িটির বিষয়ে জানতে চান এবং বাদী শাড়িটির ছবি পাঠান। পরে তিশা মেসেঞ্জারে কল করলেও বাদী তা রিসিভ করতে পারেননি। পরবর্তী কথোপকথনে তিশা শাড়িটির বিষয়টি মনে করতে পারছেন না এবং খুঁজে দেখে জানাবেন বলে জানান।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, তিশার দাবি অনুযায়ী তার সাবেক ড্রাইভারের শাড়িটি ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা ফেরত দেননি। পরে ওই ড্রাইভার চাকরি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।

এরপর ৭ নভেম্বর বাদী তিশাকে মেসেঞ্জারে ইংরেজিতে একটি বার্তা পাঠান। সেখানে আগের বার্তাগুলো দেখতে এবং শাড়িটি ফেরত দিতে বলেন তিনি। একই সঙ্গে তাকে হুমকি দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও উল্লেখ করেন।

জবাবে ১০ নভেম্বর তিশা মেসেঞ্জারে বাদীকে ব্যক্তিগত সমস্যা ও পেশাগত বিষয় আলাদা রাখার অনুরোধ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বার্তায় তিশা উল্লেখ করেন যে শাড়ির বিষয়ে তার লোকজন ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বাদীর লোকজন যেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

পরে ১২ নভেম্বর বাদী গুলশান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্ত প্রতিবেদনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি জানতে পেরে তিশা গুলশান থানা পুলিশের মাধ্যমে শাড়িটি ফেরত দিতে চাইলেও বাদী তা গ্রহণ না করে মামলা করেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে তানজিন তিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, বাদীর সঙ্গে একসময় তার খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এর আগে বাদীর কাছ থেকে আরও শাড়ি নিয়ে পরার পর সেগুলো ফেরত দিয়েছেন বলেও তিনি তদন্ত কর্মকর্তাকে জানান।

তিশার দাবি, দীর্ঘদিন বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা না হওয়ায় তিনি শাড়িটির কথা ভুলে গিয়েছিলেন। তার আগের ড্রাইভার শাড়িটি ফেরত না দিয়ে চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় বিষয়টি জটিল হয়।

মামলার বিষয়টি জানার পর তানজিন তিশা ডাকযোগে শাড়িটি ফেরত পাঠান। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তিনি শাড়িটি ডাকযোগে ফেরত দেন।

তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাদীকে নোটিশ দিয়ে এবং তদন্তের সময় সরাসরি ও মোবাইল ফোনে মামলার অভিযোগের পক্ষে দালিলিক সাক্ষ্য-প্রমাণ দিতে বলা হলেও তিনি কোনো দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে তিশা শাড়িটি ফেরত পাঠিয়েছেন।

এ কারণে শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি বলে মত দেন তদন্ত কর্মকর্তা।

হুমকির অভিযোগের বিষয়েও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর তিশার পাঠানো মেসেজের শেষাংশে শাড়িটি ফেরত দেওয়ার ঠিকানা জানতে চাওয়া এবং বাদীর সুন্দর জীবন কামনা করা হয়েছিল। ফলে ওই বার্তার মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সবশেষে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার বাদী ও বিবাদীকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বাদীর আনা অভিযোগের বিষয়ে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়নি।

তবে পিবিআইয়ের এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নয় বাদীপক্ষ। তাদের দাবি, মামলায় দেওয়া হুমকির অডিও রেকর্ডিংসহ অন্যান্য প্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ওই শুনানির পর মামলাটির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%